16/01/2026
বাল্মীকি রামায়ণের উত্তরকাণ্ডের ৩৪তম সর্গ অনুসারে বালী এবং রাবণের যুদ্ধ ও রাবণের পরাজয়ের কাহিনীটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। নিচে এই ঘটনার সবিস্তার বর্ণনা দেওয়া হলো:
১. রাবণের কিষ্কিন্ধা আগমন
****************************
রাবণ তখন বিশ্বজয়ে মত্ত। তিনি বরুণ দেব, যমরাজ এবং অনেক শক্তিশালী রাজাকে পরাজিত করে দম্ভে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।
নারদ মুনির কাছে তিনি কিষ্কিন্ধার রাজা বালীর অসীম শক্তির কথা জানতে পারেন। রাবণ স্থির করেন বালীকে পরাজিত করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন। তিনি তার পুষ্পক রথে চড়ে কিষ্কিন্ধায় পৌঁছান।
২. বালীর উপাসনা ও রাবণের ধূর্ততা
**********************************
রাবণ যখন কিষ্কিন্ধায় পৌঁছান, তখন বালী সেখানে ছিলেন না। বালীর মন্ত্রী ও ভ্রাতা সুগ্রীব রাবণকে জানান যে, বালী বর্তমানে দক্ষিণ সমুদ্রের তীরে তার সন্ধ্যা-আহ্নিক (উপাসনা) করছেন। রাবণ কালক্ষেপণ না করে দক্ষিণ সমুদ্রের দিকে উড়ে যান।
সেখানে গিয়ে রাবণ দেখেন, বালী একমনে ধ্যানমগ্ন হয়ে উপাসনা করছেন। রাবণ ভাবলেন, এই সুযোগে পেছন থেকে অতর্কিতে আক্রমণ করে বালীকে পরাস্ত করবেন। রাবণ নিঃশব্দে বালীর পেছনে গিয়ে তাকে দুই হাতে জাপটে ধরার চেষ্টা করেন।
৩. বালীর অবিশ্বাস্য শক্তি প্রদর্শন
********************************
বালী ছিলেন অত্যন্ত সজাগ। রাবণের পায়ের শব্দ এবং গায়ের গন্ধেই তিনি তার উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ধ্যানের ব্যাঘাত ঘটালেন না।
* বগলে বন্দি: রাবণ যখনই তাকে পেছন থেকে ধরতে গেলেন, বালী বিজলির গতিতে ঘুরে রাবণের হাত দুটি ধরে ফেললেন এবং তাকে নিজের বগলের নিচে (কক্ষে) চেপে ধরলেন।
* চটপট চলন: রাবণ শত চেষ্টা করেও সেই শক্তিশালী বাহুপাশ থেকে বের হতে পারছিলেন না। বালী রাবণকে ওভাবেই বগলে চেপে ধরে আকাশপথে উড়তে শুরু করেন।
৪. চার সমুদ্র ভ্রমণ
*******************
বালী তার প্রতিদিনের নিয়ম অনুযায়ী চার সমুদ্রের তীরে গিয়ে উপাসনা করতেন।
* প্রথমে তিনি দক্ষিণ সমুদ্র থেকে পশ্চিম সমুদ্রে গেলেন।
* সেখান থেকে উত্তর এবং সবশেষে পূর্ব সমুদ্রের তীরে গেলেন।
এই দীর্ঘ সময় ধরে রাবণ বালীর বগলে বন্দি হয়ে ঝুলে ছিলেন। রাবণের বিশটি হাত এবং দশটি মাথা থাকা সত্ত্বেও তিনি বালীর প্রবল চাপের সামনে ছিলেন অসহায়। রাবণের নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং তার শরীরের অলঙ্কার ও মুকুট খসে পড়ছিল।
৫. দম্ভ চূর্ণ ও মিত্রতা
********************
উপাসনা শেষ করে বালী যখন কিষ্কিন্ধার উপকণ্ঠে একটি উদ্যানে নামলেন এবং রাবণকে মুক্ত করলেন, তখন রাবণের অহংকার ধুলোয় মিশে গেছে। রাবণ অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে বালীর প্রশংসা করেন।
রাবণ বালীকে বলেছিলেন:
"হে বানররাজ! আপনি অসীম শক্তিশালী। আমি ইন্দ্র ও যমকেও ভয় পাই না, কিন্তু আপনার কাছে আমি পরাস্ত। আমি আপনার সাথে অগ্নিসাক্ষী রেখে বন্ধুত্ব করতে চাই।"
বালী রাবণের প্রস্তাব গ্রহণ করেন। তাঁরা অগ্নিকুণ্ড জ্বালিয়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং অঙ্গীকার করেন যে, এখন থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখ, মিত্র ও শত্রু—সবই এক হবে।
৬. যুদ্ধের ফলশ্রুতি
*******************
এই ঘটনার পর থেকে রাবণ কোনোদিন বালীর বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস করেননি। এমনকি লঙ্কায় থাকার সময়ও তিনি বালীর শক্তির কথা মনে করে তটস্থ থাকতেন। পরবর্তীতে রাম যখন বালীকে বধ করেন, তখনই কেবল রাবণের সেই ভয় দূর হয়েছিল।
বালী ও রাবণের এই যুদ্ধের কাহিনীটি কেবল একটি বীরত্বগাথা নয়, এর গভীরে জীবন ও রাজনীতির কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিহিত রয়েছে। এই কাহিনী থেকে আমরা প্রধানত নিচের শিক্ষাগুলো পেতে পারি:
১) "আপনার চেয়েও শক্তিশালী কেউ না কেউ পৃথিবীতে সব সময় বিদ্যমান।" নিজের শক্তি নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই মানুষের পরাজয় ডেকে আনে।
২) বিপদের মুখেও যদি কেউ নিজের লক্ষ্যে স্থির ও শান্ত থাকে, তবে সে শত্রুকে অতি সহজেই পরাস্ত করতে পারে।
৩) বালী দেখিয়েছিলেন যে শারীরিক শক্তি কেবল আস্ফালনের জন্য নয়, বরং তা আত্মরক্ষা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য।
৪) প্রতিপক্ষ যদি আপনার চেয়ে বেশি যোগ্য বা শক্তিশালী হয়, তবে তাকে ঘৃণা না করে তার গুণকে স্বীকার করা এবং তার থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।
৫) অসৎ উপায়ে বা নীতিহীনভাবে কাউকে জয় করার চেষ্টা করলে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই লজ্জিত হতে হয়।
৬) প্রতিপক্ষকে কখনও ছোট করে দেখতে নেই, কারণ ছোট একটি ভুলও বড় পরাজয়ের কারণ হতে পারে।
***** এই রকম সনাতন শাস্ত্রীয় গল্প পড়তে চাইলে, লাইক, কমেন্ট করে
""সনাতন ধর্ম হিন্দু জাতি """ পেজের সাথে থাকুন।
আর শেয়ার করে সকল সনাতনীদের পড়ার সুযোগ করে দিন।
fb.com/stars
আর উপরের লিঙ্কে ক্লিক করে স্টার পাঠিয়ে সাপোর্ট করবেন।
এই অনুরোধ রইলো।*****
***" জয় সনাতন ধর্মের জয় "***
***" জয় হিন্দু জাতির জয় "***
___________________*******_________________