06/09/2026
সমুদ্রের পাড়ে বন্দরের কাছে গিয়ে পরির গাড়ি থামে! চারদিকে কালো অন্ধকার, পুরনো কন্টেইনার, পরিত্যক্ত জাহাজ। বাতাসে পঁচা মাছ আর ডিজেলের গন্ধ। এটা তুরস্কের সবচেয়ে ভয়ংকর বন্দর — **ব্ল্যাক পোর্ট**। যেখানে দিনের বেলাতেও কেউ আসে না।
পরিদের গাড়ির ওপর পাশে এসে দাঁড়ায় অনেকগুলো কালো গাড়ি। একটা, দুটো না — প্রায় বিশটা কালো রেঞ্জ রোভার। সবগুলোর হেডলাইট একসাথে জ্বলে ওঠে, আলো সরাসরি পরিদের গাড়ির কাচে।
ধপ... ধপ... ধপ...
সবগুলো গাড়ির দরজা একসাথে খোলে। কালো স্যুট, কালো মাস্ক পরা প্রায় ৫০ জনের বেশি লোক, সবার হাতে অটোমেটিক রাইফেল। তাদের মাঝখান থেকে হেঁটে আসে এতো দিনের অজানা শক্র কিন্তু যাকে পরি খুব ভালো করে চিনে শক্র মুখে হাসি।
— "ওয়েলকাম, মাফিয়া কুইন। তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। অবশেষে নিজের ইচ্ছেতেই আমার ফাঁদে পা দিলে
হঠাৎ চারপাশে শুধু ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যায় পিছনে পরি-ভিরাজের পরিবারের ৫০টা গাড়ি এসে দাঁড়ায়।
পরি আস্তে করে গাড়ির দরজা খুলে নামে সাথে ভিরাজ ও নেমে দাঁড়ায় । পরি কালো গাউন পড়নে, খোলা চুল, সমুদ্রের বাতাসে দাঁড়িয়ে থাকা পরিকে দেখে মনে হচ্ছে সাক্ষাৎ মৃত্যু দাঁড়িয়ে আছে।
এতক্ষণ হাসি খুশি মুখে দাঁড়িয়ে থাকা আনহা ইলদিজ এর মুখে হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসে। আনহা ইলদিজ সামনে ওনার পিছনে আরো দুজন হুডি পড়া মানুষ দাঁড়িয়ে আছে যাদের মুখ দেখা যাচ্ছে না। পরি হাসি মুখে এসে মামনীর সামনে দাঁড়ায় ভিরাজ পরির হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে।
একে একে মোয়াজ ইলদিজ, রাওহা ইলদিজ, রাইমা শেখ, আখিল, রোজা ইলদিজ, রেহাম শাহ,ওয়ালিদ শাহ, ফেরিনা শাহ, আরিফ শেখ, নাদিয়া শেখ,মারিয়া শেখ, আসিফ, রামিজ , আয়াজ, ইমা, আরশি, আহিল, সহ সবাই গাড়ি থেকে বের হয়ে দাঁড়ায়। ইয়ান গাড়ি থেমে বের হয়ে দৌড়ে নিজের মায়ের সামনে এসে দাঁড়ায় ! আনহা ইলদিজ ইয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। ইয়ান উদ্বিগ্ন হয়ে মাকে প্রশ্ন করে
-" আম্মু ওরা তোমাকে কিডন্যাপ করেছে তা-ই না.?
আনহা ইলদিজ চুপ ইয়ান আবার ও বলে -------
-" কথা বলো আম্মু ওরা তোমাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে হ্যাঁ তাদের হাতিয়ার ব্যবহার করতে.?তুমি এদিকে চলে এসো আম্মু ওরা তোমার ক্ষতি করবে
বলে ইয়ান নিজের মায়ের হাত ধরে টান দেয় কিন্তু আনহা ইলদিজ অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ইয়ান নিজের হাতের দিকে তাকায় আবার মায়ের দিকে তাকায়। ইয়ানের ভীষণ ভয় হচ্ছে ওর ভিতরে থাকার হৃদপিণ্ড অতিরিক্ত লাফাচ্ছে... ওর মন অনেক আজেবাজে ইঙ্গিত দিচ্ছে যেগুলো ও বিশ্বাস করতে চাচ্ছে না।
ইয়ান পরি কে চিনে পাঁচ বছর, ইয়ানে সাথে পরির পরিচয় যত বছর পরির সাথে আনহা ইলদিজ এর সম্পর্ক ও তত বছর। আনহা ইলদিজ পরি কে সব সময় মায়ের মতো আদর যত্ন করছে ! পরি যখন মায়ের ভালোবাসার জন্য ব্যাকুল হয়ে যেত তখন আনহা ইলদিজ ওর মামনী ওকে সান্তনা দিত আদর করে বুকে টেনে নিতো। ইয়ান পরি কে উনি এক প্লেটে পযন্ত কতো খাইয়ে দিয়েছে তার হিসাব নেই ।তাহলে চোখের সামনে কী.?
এই পাঁচ বছরে ইয়ান আর পরি অনেক চেষ্টা করছে শত্রুকে খুঁজে বের করার কিন্তু পাইনি। ইয়ান বুকের বা পাশে ধরে আবার ও মা কে উদ্দেশ্য করে বলে________
-" মা তুমি আসলে কে....?
ইয়ানের প্রশ্ন টা আনহা ইলদিজ এর বুকে গিয়ে লাগে উনি মলিন হেসে উওর দেয় ------
" তোমার জন্মদাত্রী মা কিন্তু
-" আজ তোমাকে মায়ের মতো লাগছে না আজরাইলের মত লাগছে মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে তুমি আমার প্রাণটা কেড়ে নেবে।
ইয়ান নিজের মনের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছে তবে ওর মন একটাই উত্তর দিচ্ছে তোর মায়ের তোর ভালোবাসার মানুষের ক্ষতি করেছে ও আসল শত্রু উনিয়ে তোর পরি কে বারবার আঘাত করেছে যাকে বাঁচাতে তুই মরতে রাজি তাকে মারতে চাই তোর মা নিজের জন্মদাত্রী মা।
-" পরির জন্য তুমি কী...?
আনহা ইলদিজের মুখের মলিন হাসি এখন আক্রোশে রূপ নেয় রেগে উত্তর দেয়
" আমি ওর জন্য জম, ওর জন্য মৃত্যু, আমি ওর জন্য আজরাইল, আমি ওর ধ্বংসকারী আর আমি ওর চিরশত্রু শুধু ওড়না ওর পুরো পরিবারের শত্রু যাদের আমি চিরকাল ধরে ঘৃণা করি।
কিছুক্ষণ সবাই চুপ আনহা ইলদিজ আবার বলে
" আমি পরি কে ধ্বংস করবো আমি ওর ধ্বংসকারী ওকে ধ্বংস পরিবার কে শেষ করবো
এতোক্ষণ চুপ থাকা পরি এবার উচ্চ সুরে হেসে উঠে। রোজা ইলদিজ এসে পরি স্পর্শ করে পরি মায়ের হাত সরিয়ে দিয়ে আরেকটু সামনে এগিয়ে গিয়ে বলে__
~" মাফিয়া কুইন পরি কে ধ্বংস করা অসম্ভব কারণ আমি ধ্বংসের ভয় পাইনা যারা আমাকে ধ্বংস করতে আসে তাদেরকে কৌশলে ধ্বংস করাই আমার কাজ।
মোয়াজ ইলদিজ বলে
" তুমি আমাদের সাথে বেইমানি করছো আনহা.?
রোজা ইলদিজ শান্ত কন্ঠে প্রশ্ন করে
-" কেনো এমন করলে.? তুমি কি এত বছর ধরে আমাদের ক্ষতি করে আসছো.? তুমি কি সেই যাকে আমরা এতদিন ধরে খুঁজেছি.? কেনো করলে এমন
" তোমাদের ধ্বংস করতে
--" আমার মেয়ে কে আমার কোল থেকে কী তুমি কেঁড়ে নিয়েছো.?
এই একটা প্রশ্নের উত্তর পেলে আর কোন প্রশ্নই থাকবে না কারণ রোজা ইলদিজ এর ধারণা শুরুটা সেখান থেকে হয়েছে। আনহা ইলদিজ বলে
-------" শুনতে যখন চেয়েছেন তাহলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই শুনুন
মোয়াজ ইলদিজ বলে
-" হ্যা প্রথম থেকে শুরু করো তবে মিথ্যে বলবে না, কারণ মিথ্যে শুনলে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না এতে অনেক কষ্টে তোমাকে চোখের সামনে সহ্য করছি এতক্ষণে তোমার আকাশ পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল
আনহা ইলদিজ হেসে উঠে কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তারপর বলতে শুরু করে —
— "সবে মাত্র কলেজ শেষ করে ভার্সিটিতে উঠেছি, এমন সময় আমার বাবা মারা যায়। বাবা মারা যায়নি, বাবাকে খুন করা হয়। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে আমার মাও স্ট্রোক করে মারা যান। বাবার খুনিকে খোঁজার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কারণ যে বাবাকে খুন করেছে সে প্রভাবশালী ছিল, তার পরিবার কিংবা তার কাছে যাওয়ার সাধ্য আমার ছিল না। কারণ একটা কথা খুব ভালো করে বুঝি, ক্ষমতাশালী লোকের সাথে যুদ্ধ করতে ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। আমি বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলাম, আমার ভাই বোন কেউ ছিল না। হঠাৎ করে বাবা মাকে হারিয়ে দিশেহারা অবস্থা আমার, কিন্তু জীবন থেমে থাকে না, নিজের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে এসে পড়ে। তখনকার সময় পার্ট টাইম জব করে নিজের পড়াশোনা আর খাবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো আমাকে, একটা টাইম পর পড়াশোনা বন্ধ করে দেই।"
এইটুকু বলে আনহা আবার সেই রহস্যময় হাসিটা হাসলো।
— "একদিন আমার রেস্তোরাঁয় সেই খুনির ছেলে ইয়াজাহ ইলদিজ আসে। হ্যা, আমার বাবার খুনি ছিলো মোয়াজ ইলদিজ। হঠাৎ তার ছেলেকে দেখে আমার মাথায় আবার সেই প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে, কিন্তু অস্ত্র দিয়ে লড়াই করার মত ক্ষমতা আমার ছিল না, তাই তাকে আমার প্রেমের জালে জড়িয়েছি। যদিও কাজটা এত সহজ ছিল না। সেদিন সে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেলে আমি তার পিছু নিলাম! গোটা একটা দিন তার পিছু ঘুরেছি, সে কোথায় যায়, কোন ভার্সিটিতে পড়ে, কোন বন্ধুদের সাথে মিশে, কোন রাস্তা দিয়ে বাড়ি থেকে ভার্সিটিতে যায় সব খেয়াল রাখলাম। সে যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে ওই রাস্তায় বাসা নিলাম, যাতে তার সাথে প্রতিনিয়ত আমার দেখা হয়। যদিও সে গাড়িতে করে চড়তো, বড় বাবার একমাত্র ছেলে বলে কথা।
কথাটা বলে আনহা ইলদিজ আবার হাসলো।
পরি তখন মোয়াজ ইলদিজ, রাওহা ইলদিজ, ওয়ালিদ শাহ, ফেরিনা শাহ, আরিফ শেখ ও নাদিয়া শেখ এর জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করে, অন্যদের জন্য করতে চাইলে তারা বাধা দেয় কারণ এই মুহূর্তটা আরামের সময় না।
আনহা আবার শুরু করে, তার চোখ দুটো তখন জ্বলছে —
— "ছলে বলে কৌশলে অনেক কষ্টে তাকে নিজের প্রেমে জড়িয়েছি। ওর সাথে সম্পর্কটা আমাদের বেশ ভালই যাচ্ছিল। ভেবেছি ওকে দিয়ে ওর পরিবারে ঢুকবো, কিন্তু সেটা হলো না। ও তার বাবাকে যথেষ্ট ভালোবাসতো আর সম্মান করতো, বাবা মার কথা ছাড়া কিছুই করত না, এক কথায় বাবা মায়ের ভদ্র ছেলে ছিল। প্রেমের বছর না ঘুরতেই আমি প্রেগনেন্ট হয়ে যাই। সত্যি বলতে আমি সন্তানটাকে নষ্ট করতে চাইলেও ইয়াজাহ চাইতো না, তাই তো ওর জোরাজোরিতে এক সময় আমি ওকে বিয়ে করতে বাধ্য হই। ও সত্যি আমাকে খুব ভালোবাসতো। তারপর আমার কোলজুড়ে একটি ছেলে সন্তান আসলো, তার নাম দেওয়া হলো হুমাইফ ইয়ান বা ইয়ান ইলদিজ। যদিও ছেলের নামের পিছনে এই নাম লাগাতে আমার ২৬ বছর সময় লেগেছে। এর ভিতর আমি অনেক চেষ্টা করি ওই বাড়িতে যাওয়ার, কিন্তু কোনভাবেই সম্ভব হয়নি। আমার স্বামী কোনদিন রাজি ছিল না ঐ বাড়িতে নেওয়ার জন্য। সব সময় বলতো তোমার যা প্রয়োজন আমি তো সব কিছু দিচ্ছি, তাহলে ওখানে কেন যেতে হবে? সময় হলে যাবে, এখনো সময় হয়নি। আমিও তার কথা মেনে নিতাম, কারন একটা সময় আমি স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে ছিলাম, সুখ আমাকে প্রতিশোধ ভুলিয়ে দিয়েছিল।
"কিন্তু নিয়তির হয়তো আমার এই সুখ সহ্য হয়নি। একটা এক্সিডেন্টে ও মারা যায়। তখন আমি আমার ছেলেকে নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ি। ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে আশ্রয়ের আশায় ইলদিজ বাড়িতে গেলে আমাকে রাস্তার ফকিরের মত তাড়িয়ে দেয় তারা। ভেবেছে আমি সম্পত্তির লোভে গিয়েছি। কিন্তু সত্যিটা হলো সেদিন আমি সত্যিই মা হিসেবে সন্তানের আশ্রয়ের জন্য গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি আশ্রয় পাইনি, পেয়েছি অবহেলা, অবজ্ঞা, অপমান। শুধু সেই দিন না, তারপর আমি বহুদিন গিয়েছি সেই বাড়ির দরজায়, আবার ফিরে এসেছি। অনেকের মাধ্যমে খোঁজ দিয়েছি, কিন্তু ওনারা বিশ্বাস করলেন না।
"এবার আর আমি আগের মত ভুল করিনি। আগেরবার শান্তির জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এবার ক্ষমতার পিছে ছুটেছি। যাদের জন্য আমার এ কষ্টের দিন, তাদের ধ্বংস দেখতে চেয়েছি। হয়ে উঠেছি এক মাফিয়া। নিজেকে মাফিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমার দশ বছর সময় লেগেছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো ১০ বছর পর আমার সাথে এক্সিডেন্ট হয় এক পাগলের, আর সেই পাগল ছিল ইয়াজাহ ইলদিজ। ও-কে কেউ প্রতিনিয়ত ইনজেকশন দিয়ে পাগল বানিয়ে রাখতো। সেদিন হয়তো ও অন্ধকার রুম থেকে পালিয়ে আসার সময় আমার গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট হয়। সেদিন আমার কাছে আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো আনন্দ লেগেছে। ইয়াজাহ কোমায় চলে গিয়েছিল, তারপর আমি আর ওকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করিনি, বরং অসুস্থ হতে শুরু করলে আমিও ওকে ইনজেকশন দিয়ে অসুস্থ বানিয়ে রাখতাম, কারণ আমার আর ওর ভালোবাসা প্রয়োজন ছিল না, প্রয়োজন ছিল শুধু সম্পদের।
"কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তখন, যখন জানতে পারি মোয়াজ ইলদিজ তার পারিবারিক সকল সম্পত্তি দুই নাতি-নাতনির নামে উইল করে দিয়েছে। এমনকি তার নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকেও তার নাতনিকে ৮০% দিয়েছে। উনার তো সম্পত্তির অভাব নেই, উনি নিজেও জানে না যে উনি কত টাকার মালিক।
"আমার নেক্সট টার্গেট হয় এইজেল ইলদিজ পরি। আগে ওকে সরাতে হবে, তারপর ওর ভাই ও পরিবারকে সরাবো। আমি এবার খুব সুক্ষ্মভাবে চাল চালতে থাকি। আমি তাদের টার্গেট করি যারা শাহ ও ইলদিজ পরিবারের শত্রু। খুঁজে খুঁজে অনেককে বের করি। তারা অনেকেই দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, এমনকি পরিবারের মানুষ বললেও চলে। আবার বাইরে অনেক শত্রুকেও টার্গেট করি। জানতে পারি এই মেয়ে হওয়ার পর থেকেই নাকি তাকে খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় শাহ পরিবারেরও ৫০% সম্পত্তির মালিক এইজেল ইলদিজ পরি। একসাথে আমরা সকল শত্রুরা মিলে কাজ শুরু করি, ইকরামুল মির্জা, ফখরুল মুন্সি, রাইকা, আজহার ও শাহ পরিবারের কিছু ব্যক্তিগত শত্রু, যারা এখনো পৃথিবীতে বেঁচে নেই। ইস্তাম্বুলেরও কিছু ছিল, যাদের কেউ বেঁচে নেই, কারণ কয়েকদিন আগে পরি-ভিরাজ খুন করেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলো ১৮ জন, যারা সবাই ইলদিজ পরিবারের ধ্বংস দেখতে চেয়েছিলো।
"পরিকে ভারত থেকে সুইজারল্যান্ড নেওয়া হয়, সেখান থেকে আজহার ও ফখরুল মিলে বাংলাদেশে রাখা হয়, যেন ও বড় হওয়ার পর ওর সকল সম্পত্তি আমাদের নামে লিখে দিতে পারে। প্ল্যান ঠিক ভাবেই চলছিল, কিন্তু মাঝখান দিয়ে ওই ফখরুল মুন্সির বউ সব ভেস্তে দেয়। ও এতটাই অত্যাচার করে যে ও মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে যায়। পরিকে আমরা ইস্তাম্বুল নিয়ে আসি, কিন্তু আমরা কি আর জানতাম যে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হবে। ও এখান থেকে পালিয়ে যায়। ব্যাস, আমরা হারিয়ে ফেলি আমাদের সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসকে। এর ভিতর অসংখ্যবার মোয়াজ ইলদিজ, রাওহা ইলদিজ, রোজা ইলদিজ, রেহাম শাহ ও রামিজকে খুন করার চেষ্টা করি, কিন্তু কোনোভাবেই সফল হতে পারি না। সম্পত্তির লোভ আর প্রতিশোধের আগুন আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল দিন দিন। কত মানুষের সাথে যে হাত মিলিয়েছি শুধুমাত্র এই পরিবারকে খুন করার জন্য, তার কোনো হিসাব নেই। আমি শুধু এই পরিবারের ধ্বংস দেখতে চেয়েছিলাম। সবার সঙ্গে আমি হাত মিলাতাম, প্ল্যান করতাম, কিন্তু তাদের সামনে আমি কখনই আসতাম না। আমি থাকতাম পিছনে, তাইতো একে একে সব শত্রু মারা গেল, আমি আজ পর্যন্ত বেঁচে ছিলাম শুধু নিজের বুদ্ধির জোরে।
"এভাবে কেটে যায় অনেকগুলো বছর, কিন্তু পাঁচ বছর আগে পরির সন্ধান মেলে। অনেক দেরি হয়ে যায়, ছোট্ট পরি আর থাকে না, ও বদলে যায়। ওর কথা, ওর দক্ষতা, ওর দৃষ্টি সবকিছু অন্যরকম হয়ে যায়। তার ভিতর আবার আমার ছেলে ওর প্রেমে পাগল হয়। আমি নতুন প্ল্যান সাজাই ইয়ানের সাথে ওর বিয়ে দেওয়া নিয়ে, তখন পর্যন্তও পরির স্মৃতি ছিল না। কিন্তু আবারো সব বদলে যায়। পরির স্মৃতি ফিরে আসে, নিজের পরিবারকে খুঁজে পায়, পরিচয় জানতে পারে। ইয়ানকে সাথে নিয়ে আমার অগোচরে ইয়াজাহকে খুঁজে বের করে। এমনকি ভিরাজকে ভালোবেসে বিয়ে করে ফেলে। সবকিছু ঠিক করে এনে আবার যখন সব ধ্বংস হয়ে যায়, তখন আমি আরো রেগে যাই। তবে এর ভিতর একটা ভালো কাজ হয়েছে, আমি সেই কাঙ্ক্ষিত ইলদিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারি।
এতটুকু বলে আনহা চুপ করে। তার মুখে এখনো সেই রহস্যময়, ভয়ংকর হাসি।
ইয়ান বালু-মাটিতে বসে মায়ের সব কথা শুনছিল! ও সম্পূর্ণ কথা শুনে যা বুঝতে পেরেছে, এতদিন যে বোকাসোকা মাকে চিনতো, আসলে ওর মা এমন না। ওর মা ওর চাইতেও ভয়ঙ্কর। ওর মা শুধু পরিকে ধ্বংস করতে চায়নি, ওকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। এই পরিকে বাঁচানোর জন্য ইয়ান কতই না আঘাত পেয়েছে, অথচ সেই আঘাতকারী ছিল তার মা।
তখনই পরি চিৎকার করে বলে ওঠে —
~" মামাকে কেনো খুন করেছো...?"
এই কথাটা শুনে সবার মাথা যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল সবাই তো এতদিন ভেবেছে ইয়াজাহ ইলদিজ এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে কিন্তু ওনাকে যে আনহা খুন করেছে সেটা তো কেউ টের পায়নি এমনকি সন্দেহ পর্যন্ত করেনি ও এজন্যই তারা সেদিন গাড়ির ভিতর ড্রাইভার মৃত ছিল। আনহা বলে
-" ওকে আর আমার প্রয়োজন ছিল না সুস্থ হয়ে উঠছিল সুস্থ হয়ে উঠতো তাহলে সবাইকে সবকিছু পড়ে যেত মেরে দিয়েছি।
ইয়ান আর সহ্য করতে পারে না জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে বলে
---" প্লিজ আম্মু আর বলবে না প্লিজ প্লিজ প্লিজ আমি তোমার এই ভয়ংকর গল্প আর শুনতে চাই না এই গল্প শোনার আগে আমার মৃত্যু হলো না কেন
ও কান্না করতে থাকে আর বলে
--" তুমি এতদিন মুখোশ পরে ছিলে মুখোশের আড়ালে তুমি ভয়ংকর তোমাকে আমি চিনি না তুমি আমার মা না তখন এমন হতে পারে না তুমি আমার বাবাকে হত্যা করেছ তোমাকে ঘৃণা করি তোমার মত মা আমার প্রয়োজন নেই আমি তোমাকে চোখের সামনে দেখতে চাই না প্লিজ চলে যাও তুমি আর কথা বলোনা আমি নিতে পারছি না
রামিজ ইয়ানের কাদে হাত রাখে, ইয়ান রামিজ কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করে দেয়। ভিরাজ আজার শেখ কে উদ্দেশ্য করে বলে
-" তুমি কেন আমাদের সাথে বেইমানি করেছ চাচ্চু আমরা তোমার কি ক্ষতি করেছি বলে ফেল
এতক্ষণ হুডির আড়ালে লুকিয়ে থাকা আজহার সে কি বার সবার সামনে এসে দাঁড়ায় উনার পিছনে এসে দাঁড়ায় একজন মহিলা যার পরিচয় এখনো অজানা।
-" সংক্ষিপ্ত শুনতে চাও ডিটেলসে
---" সত্যি বলতে ডিটেলসে হোক বা সংক্ষিপ্ত কোনভাবেই শোনার ইচ্ছে নেই কিন্তু কি করব একটু তো শুনতে হবেই সংক্ষিপ্ত বলো নিজেকে কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না
আজহার শেখ বলে
-" তুমি আমাকে খুন করবে...?
---" তুমি যদি আমাকে খুন করার চেষ্টা করতে পারো তাহলে আমি করলে সমস্যা কি তুমি নিশ্চয়ই জানো আমি চেষ্টা করলে ব্যর্থ হইনা
আজহার শেখ বলে
" সম্পত্তি ভালোবাসা আর আত্মসম্মানের জন্য,
আখিল শেখ এগিয়ে এসে বলে -----
-" এসব গুলোই তো তোর আছে তাহলে তো কেন এমন করলি আরো সম্পত্তির প্রয়োজন ছিল বলতি আমাকে তোর আমার ক্ষমতার দরকার ছিল নিয়ে নিতে আর ভালোবাসা দুই দুইটা বিয়ে করার পর আবার ভালবাসা আসলো কোথা থেকে.?
আজহার শেখ কিছু করে না শুধু চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। আসলে পরি আর আখিল শেখ অনেকদিন আগে থেকেই জানতো যে উনি একজন বেইমান কিন্তু মাস্টারমাইন খুঁজে পাইনি এখন আজহার শেখ কে ও তার সঙ্গ মাস্টারমাইন্ড কে ছিল খুঁজে পেয়েছে।খুঁজে তো আরো অনেক জনকে পেয়েছিল কিন্তু তারা তো আর এখন নেই পরপারে আছে যতজন কাছের মানুষ বেইমানি করছে তাদের সবাইকে নিজ হাতে খুন করেছে পরি। দূরের শত্রুদের তো প্রতিনিয়ত খুন করা হয়। আখিল শেখ প্রশ্ন করে
-" তোমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাকে
পরি বলে
~" আমি জানি উনি কে
-" কে আম্মু বলো.?
~" আজহার শেখ এর স্ত্রী আহিল ও ঈশার আম্মু
পরি কথা শুনে সবাই অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায় আহিল ঈশা ভাই-বোন ওদের বাবা আজহার মা এই মহিলা। হঠাৎ একটা বন্দুকের শব্দ সবাই নিজেদের বন্দুক নিয়ে প্রস্তুত হয় কিন্তু আশেপাশে তাকিয়ে যা দেখতে পায় তা সবাইকে হতবাক করে দেয়। মারিয়া শেখ এর হাতে বন্দুক উনি একের পর এক গুলি করছে আজহার শেখ এর ওয়াইফ এর বুকে আজহার শেখ গর্জে ওঠে বলে
-" কি করছো তুমি? মারিয়া স্টক প্লিজ স্টপ
কিন্তু মারিয়া শেখ কে আজ বাধা দেওয়া যাচ্ছে না উনি এবার আজহার শেখ এর দিকে বন্দুক ত্যাগ করে একের পর এক গুলি করে। উনি খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে গুলি করে যাতে দুজনের এক জন ও জেনো বাঁচতে না পারে। কপালের মাছ বরাবর আর বুকের মাঝখানে উনি ততক্ষণ পর্যন্ত গুলি করলেন যতক্ষণ পর্যন্ত না বন্ধুকে ম্যাগাজিন খালি হয়। মারিয়া শেখ স্বামীর পাশে অন্য নারী সহ্য করতে পারেনি এতো দিন শুধু শুনেছে তাঁর স্বামী বিয়ে করছে আর ওই বউয়ের সাথে নাকি তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই কিন্তু এখন বুঝতে পারছে সব মিথ্যে ছিলো। আজহার শেখ এতো দিন ওই বউয়ের সাথে সম্পর্ক রেখেছে এমন কী আহিল যে ওনার ছেলে এটাও হয়তো উনি জানে।
আহিল মাত্রই জানল যে আজহার শেখ ওর বাবা এই মহিলা ওর মা
আহিল দৌড়ে গিয়ে মা বাবা কে জড়িয়ে ধরে আজহার শেখ চোখ বন্ধ করার আগে শুধু এটুকুই বলে
-" আমাকে মাফ করে দিও
কথা শেষ করে উনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান আসিফ বাবার পাশে এসে বসে। আরিফ শেখ আর নাদিয়া শেখ চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পরা ছেলের কাছে দৌড়ে যায়। সন্তান যত খারাপ হোক না কেনো বাবা-মার কাছে সন্তান সব সময় ছোট নিষ্পাপ থাকে। নাদিয়া শেখে ছেলের রক্তাক্ত মাথা হাঁটুর উপর নিয়ে আহাজারি শুরু করে এক মা তার সন্তানের জন্য কান্দে। আহিলের বন্দুক টা হাত থেকে নিচে পড়ে আছে মারিয়া শেখ বন্দুক টা হাতে নিয়ে দাঁড়ায় এতো কিছু মাঝে ব্যাপার টা কেউ খেয়াল করেনি। হঠাৎ আরো একটা শব্দ হয় আর সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারিয়া শেখ।
চলবে
#গল্প_আমার_ভালোবাসার_প্রিয়া_তুমি
#লেখিকা_ফারিয়া_ইসলাম
পর্ব :- ৭০
গল্প আর কয়েক টা পর্ব আছে তারপর সমাপ্ত 🥹🥹🥹🥹 সবাই গল্প পড়ে চলে যায় রেসপন্স করে না। 💔 গল্প শেষ আপনাদের সাথে আমি ও চলে যাবো