Fariya Islam

Website

Fariya Islam Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Fariya Islam, Sadar Road, Chandpur.

“কখনো Sorry বললে সম্পর্ক ঠিক হয়, আর কখনো Sorry শুনলে জীবন শেষ! 😅🖤 🥀  আসলে দূর থেকে সবই মজা লাগে, নিজের বেলায় বোঝা যায় ক...
29/09/2026

“কখনো Sorry বললে সম্পর্ক ঠিক হয়, আর কখনো Sorry শুনলে জীবন শেষ! 😅🖤 🥀 আসলে দূর থেকে সবই মজা লাগে, নিজের বেলায় বোঝা যায় কেমন.🖤💔🥀

 #গল্প_পথ_হারানো_পথিক  #লেখিকা_ফারিয়া_ইসলাম পর্ব :- ১৯ চারজন লোক মিলে একটা ছেলে কে মারছে, হাত পা বাঁধা শরীর রক্তাক্ত মুখ...
28/09/2026

#গল্প_পথ_হারানো_পথিক
#লেখিকা_ফারিয়া_ইসলাম
পর্ব :- ১৯

চারজন লোক মিলে একটা ছেলে কে মারছে, হাত পা বাঁধা শরীর রক্তাক্ত মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া। গার্ড-রা মেরে ক্লান্ত আর ছেলে টা মা'র খেয়ে ক্লান্ত। শব্দ করে টর্চারসেল এর দরজা খুলে যায় ! সবার দৃষ্টি দরজা দিকে। গার্ড মাথা নিচু করে মালিক কে সম্মান করে কালো হুডি পড়া লোক এসে ফ্লোরে সুয়ে থাকা ছেলেটার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে। গার্ড কে ইশারা করতেই ছেলেটার মুখ থেকে কাপড় খুলে দেয় ছেলে টা ভয়ে ভয়ে প্রশ্ন করে

-" আমাকে এখানে কেনো এনেছেন.? ছেড়ে দিন

রৌনক উঠে দাঁড়ায়, এতোক্ষণে গার্ড রা চেয়ার এনে রেখেছে। রৌনক চেয়ারে বসতে বসতে ছেলেটা কে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করে_____

----" সৈয়দ আসফিয়া আভা কে কিডন্যাপ করার জন্য তোকে কে পাঠিয়েছে..?

রৌনকের কথা শুনে ছেলেটা ভয় পেয়ে যায় ! কারণ ও এতক্ষণ জানতো না ওকে এখানে কি কারনে নিয়ে আসা হয়েছে এখন ওর কাছে কারণটা স্পষ্ট হয়ে যায়। আজিজ সৈয়দের ছোট মেয়ে সৈয়দ আসফিয়া আভা কে কিডন্যাপ করার জন্য ওকে মোটা অংকের টাকা দেওয়া হয়েছে। টাকার লোভে পড়ে ছেলেটাও রাজি হয়ে গিয়েছিল আভা কিডন্যাপ করতে। আর রাজি হবে না ইবা কেন আগে তো টাকা বেশি দ্বিতীয়তঃ একলা একটা মেয়েকে কিডন্যাপ করা এমন কি.? যেখানে এর চেয়ে বড় বড় অবৈধ কাজ একাই করতে পারে সে। কিন্তু তখন যদি জানতো এমন জীবন মৃত্যুর সম্মুখীন হতে হবে তাহলে সেই এ কাজে কখনই রাজি হতো না। ছেলেটা প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না দেখে রৌনক আবার ও চিবিয়ে চিবিয়ে প্রশ্ন করে________

---" কে পাঠিয়ে ছিলো ওকে খুন করার জন্য.?

-" আমি জানি না স্যার, রাতে নদীর পাড়ে ডেকে টাকা দিয়ে বলে ছিলো কিডন্যাপ করে একটা পুরনো গোডাউনে সামনে নেওয়ার জন্য ব্যাস আমি আর কিছু জানি না

ছেলে টার কথা হয়তো রৌনকের পছন্দ হয়নি তাই তো নিজের সর্বশক্তি দিয়ে ছেলেটার বুকে লাথি মারে। ব্যাথায় ছেলে টা কুঁকড়ে যায়, রৌনক রেগে বলে__

----" কাজ করার আগে জেনে নিবি তো কার কলিজায় হাত দিতে যাচ্ছিস তোর কলিজাতে কুকুরকে খাওয়াবো শুয়োরের বাচ্চা সাহস কি করে হয় ওর দিকে বানানোর

ছেলে টা মুখ খুলে কিছু বলতে চায় কিন্তু রৌনক এর আগে ছুরি দিয়ে ওর বুক থেকে নাভি পযন্ত এক টানে কেটে টেনে ছিঁড়ে ফেলে। ছেলেটার মুখ দিয়ে অস্পষ্ট আওয়াজ বের হচ্ছে এখন নিশ্বাস আছে রৌনক ওর বুকে হাত ঢুকিয়ে একটানে কলিজা টা ছিঁড়ে আনে। এতোক্ষণ স্বাভাবিক ভাবে থরথর করে কাঁপা শরীরটা এবার নিশ্চিত হয়ে যায়। কলিজা টা হাতে নিয়ে রৌনক রুম থেকে বের হয়ে আসে ডেবিয়ান ওর কাছে এগিয়ে আসে। নিজের হাতে থাকা কলিজা টা ওর হাতে দিয়ে আদেশ করে বলে

---" এটা কে প্যাকেট করে নেও বাসায় নিবো

-" ওকে স্যার

ডেবিয়ান রৌনকের কথা মতো কলিজা টা প্যাকেট করে সাথে নেয়। রৌনক ওর জন্য গাড়িতে অপেক্ষা করছিলো ও আসলে গাড়ি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সেই সকালে বের হয়েছিল এখন ও বাড়িতে যাওয়া হয়নি। আভা অসুস্থ মেড ফোন দিয়ে জানায় সারাদিনে ও খাবার পানি বা ঔষধ ও খায়নি ডক্টর যে সকালে ব্যথার ইনজেকশন দিয়ে গেছে তারপর থেকে আর কোন মেডিসিনে নেই। রৌনক নিজের মোবাইল হাতে নেয় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আভা ব্যথায় ছটফট করছে। আজ সারাদিন ও শুয়ে বসে কাটিয়েছে পা ফুলে এমন অবস্থা হয়েছে যে হাঁটা তো দূরের কথা ব্যথায় পা নাড়ানোর শক্তি টুকু ও নেই। রৌনক মোবাইল বন্ধ করে সিটের সাথে মাথা এলিয়ে দিয়ে বিরবির করে বলে _______

--" কেন নিজের সাথে আমাকেও আগুনে পোড়াচ্ছিস পাখি.?

রৌনক রুমে ঢুকে লাইট ঝালিয়ে দিতেই আভা নিজে আরেকটু গুটিয়ে নিলো। রৌনক নিজের হাতের ব্লেজারটা সোফার উপরে রেখে খাটের দিকে এগিয়ে যায় আভার চোখ বন্ধ কিন্তু ও এটা অনুভব করতে পারছে যে রৌনক ওর খুব কাছে। রৌনক হঠাৎ আভা কে কোলে তুলে নেয় আভা চোখ না খুলে রৌনকের গলা জড়িয়ে ধরে। রৌনক আভা কে ওয়াশরুমে নিয়ে ফ্রেশ করিয়ে আনে। দুজন চুপ কারো মুখে কথা নেই আভা কে খাটে বসিয়ে রৌনক নিজেও ফ্রেশ হয়ে আসে। রৌনক আবার ও আভা কে কোলে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে ছিঁড়ি বেয়ে নিচে নামে খাবার টেবিলে নিয়ে যায় আভা কে চেয়ারে বসিয়ে নিজে ও আভার পাশে বসে। আভা পুতুলের মতো ব্যবহার করছে রৌনক যা করছে ও শুধু দেখছে না কোনো কথা বলছে আর না কোনো কাজে বাঁধা দিচ্ছে।

আভার সামনের খাবার প্লেট খাবার দেওয়া হলে আভা বলে

~" আমি খাবো না.?

রৌনক শান্ত কন্ঠে বলে

---" ভালো আছি ভালো থাকতে দেও, চুপ করে খাবার খেয়ে নেও ফাস্ট

~" না খেলে কী করবেন.?

রৌনক চিবিয়ে চিবিয়ে বলে___

---" ছোট বাচ্চাদের মতো মেরে মেরে খাওয়াবো

~" আমি ছোট বাচ্চা নই

রৌনক নিজে খেতে খেতে উত্তর দেয়

---" আহামরি বড় ও নও, তাঁরা তারি খেয়ে নেও খাওয়ার সময় কথা বলা আমার অপছন্দ

~" কিন্তু আমার তো পছন্দ

রৌনক আভার দিকে রাগান্বিত চোখে তাকায় এটা দেখে আভা উপহাস্য করে বলে_____

~" আপনা কে আমি ভয় পাইনা

আভার কথা শুনে রৌনক এর রেগে যাওয়ার কথা অথচ ওরা না রেগে উল্টো আভা কে চোখ মেরে বলে____

---" এখন তুমি যদি খাবার না খাও তাহলে একটু পর রুমে যেগুলো হবে তারপর তুমি অবশ্যই আমাকে ভয় পাবে। নকাি এখনো ভয় পাচ্ছো

আভা বুঝতে পারে রৌনক কী বলছে। আভা কিছু বলবে এর আগে রৌনক শান্ত কিন্তু আদেশ করে বলে___

---" সারাদিন পর খেতে বসেছি এখন কোন রক্তারক্তি যায়না চুপচাপ করে খেয়ে নাও ফার্স্ট। আরেকটা শব্দ আমি উচ্চারণ করবো না কারণ তারপর শুধু আমার হাত চলবে

~" আপনি

রৌনক আভার মুখ দিয়ে আর কোনো শব্দ বের হতে দেয় না, নিজের বাম হাত দিয়ে ওর গলা শক্ত করে চেপে ধরে। আভা শ্বাস বড় হয়ে যায় বাম হাত দিয়ে ধরেছে এতেই এমন যদি ডান হাত দিয়ে হতো তাহলে ততক্ষণে ওর প্রাণ পাখি বের হয়ে চলে যেত। আভার চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ে রৌনক আভার গলা ছেড়ে দেয় আভা জোরে জোরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে। রৌনক পূনরায় নিজের খাবারে মনোযোগ দেয় এমন ভাবে মনে হচ্ছে একটু আগে এখানে কিছুই হয়নি। আভার চোখ থেকে অনবরত পানি পড়ছে ওর জন্য সামনে ভাত মুরগী, সবজি, ডাল, গরুর মাংস রাখা আছে আভা সেখান থেকে সামান্য খাবার প্লেটে নেয়।

আগে আভা খেতে না চাইলে ও কে সবাই কতো আদর যত্ন করে খাইয়ে দিতো আর এখন ও খেতে না চাইলে গলা চেপে ধরে খাওয়ায়। আভা বাম হাতের সাহায্যে চোখের পানি মুচে খেতে থাকে কিন্তু ওর অবাধ্য চোখের পানি বাধ মানে না। জীবন ও-কে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।

খাওয়া শেষ হলে রৌনক কাউ কে ফোন করে ভিতরে আসতে বলে আভা কে কোলে নিয়ে সোফায় বসে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ডেবিয়ান একজন মহিলা ডক্টর কে নিয়ে আসে। ডক্টর আভার পায়ের বেন্ডেজ খুলে ডেসিং করে দেয় আভার ক্ষত স্থানে পুঁজ জমে ইনফেকশন হয়ে গেছে আর সারাদিন ঘা শুকনোর মেয়ে কোন মেডিসিন না নেওয়ায় ইনজেকশন বেশি হয়েছে এটাই বুঝতে পারছে না যে এত ছোট মেয়ে এত ব্যাথা সহ্য করবো কিভাবে। আভার পাশে রৌনক বসেছে আভা ব্যথায় কখন যে ওর হাত শক্ত করে চেপে ধরেছে নিজেও জানেনা। রৌনকের হাতে আভার নখ ডেবে গিয়ে হাল্কা রক্ত বের হয়ে আসে তবক এতে রৌনক কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় না। আভা যখন বুঝতে পারে ও কার হাত ধরে আছে তখন নিজের হাত সরিয়ে আনে।

ডক্টর আর ডেবিয়ান চলে গেলে রৌনক আভা কে নিয়ে রুমে যায়। আভা কে বিছানায় শুয়ে দিয়ে রৌনক লেপ্ট আর মোবাইল নিয়ে বারান্দায় চলে যায়। ঘন্টা খানিক এভাবে কেটে যায় রৌনক রুমে আসে না আর আভার চোখে ঘুম আসে না ওর চিন্তার শেষ নেই। এই জীবন ওকে কতদিন কাটাতে হবে.? আর কিভাবে বা এই বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পাবে.? সৈয়দ বাড়ির কী অবস্থা.? ঈশা কোথায় ওর মাথায় হাজার টা চিন্তা ঘুরছে। আরো কিছুক্ষণ পর রৌনক রুমে আসে। আভা উঠে বসার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না! রৌনক দেখেও আভা কে সাহায্য করতে আসে না। আভা উঠতে না পেরে শুয়ে রৌনক কে প্রশ্ন করে__

~" আমাকে এখানে বন্দী করে রেখেছেন কেনো..?

---" আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই

~" আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে এখানে থাকতে হবে কেনো.?

----" নাথিং

~" আমাকে ছেড়ে দিন

রৌনক আভার দিকে তাকিয়ে তাচ্ছিল্য করে বলে_____

----" আমার কাছে আছো বলে এখনো বেঁচে আছো বাইরে তুমি দুই মিনিট টিকতে পারবে না

~" এটাকে বেঁচে থাকা বলে

----" তাহলে কি মরে যাওয়া বলে...?

~" এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো

---" তাহলে তুমি ভাবতে পারো তুমি মরে গেছো আর জাহান্নামে আছো আমি মাইন্ড করবো না

~" এটা জাহান্নামের চেয়ে কোন দিক থেকে কম না ! আর আপনার মত জলজ্যান্ত শয়তান সামনে ঘুর এমনি জাহান্নামে যাব

রৌনক নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারে না আভার কাছে এসে ওর চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিসে বলে____

----" শুয়োরের বাচ্চা ভদ্রভাবে কথা বলছিলাম ভালো লাগেনি বাধ্য হতে বাধ্য করেছিস.? তুই কি মনে করিস তোকে আমি এখানে আনন্দে বন্দি করে রেখেছি বাহিরে যা কুকুরের মত তোকে ছেড়ে খাবে মানুষ

আভা অনেক কষ্ট করে রৌনকের কথার উত্তর দেয়

~" শিয়ালের কাছে মুরগি বাঘা দেওয়ার মতো হয়ে গেল না আপনি নিজেই তো আমাকে কুকুরের মত ছিড়ে খাচ্ছেন

রৌনক আভার গালে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে থাপ্পড় মারে।আভার মাথা বালিশের উপর পড়ে কি রৌনকের শক্ত হাতের থাপ্পড় খেয়ে সাথে সাথে ওর ঠোঁট কেটে রক্ত বেরিয়ে যায়। রৌনক আভা কে সোজা করে শুয়ে ওর রক্তাক্ত ঠোঁট দোকানে যে ঠোঁটের বাজে নিয়ে নেয়। আভা ছুটার জন্য ছটফট করতে থাকে কিন্তু রৌনকের শক্তির সাথে ও সব সময় অপারক কিছুক্ষণ পর রৌনক আভা কে নিচ থেকে ছেড়ে দেয়। খাট থেকে উঠে দাঁড়ায় নিজের চুল শক্ত করে টেনে ধরে রাগ কমাতে না পেরে রুমে দরজা খুলে বেরিয়ে যায় দরজার শব্দে পুরো ঘর কেঁপে ওঠে সাথে আভা ও কেঁপে উঠে। রৌনক চলে যেতে আভা একটা বালিশ জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে। ওর সাথে এমন না হলে-ও পারতো।

এদিকে রৌনক বাইরে এসে দাঁড়াল। কোনোভাবেই নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। বুকের ভেতর জমে থাকা আগুন যেন আরও বেড়ে উঠছিল। সেই আগুন নিভিয়ে ফেলার একমাত্র জায়গা ছিল—ব্ল্যাক ম্যানশনের ভূগর্ভস্থ অন্ধকার।

রৌনক ধীর পায়ে করিডোরের শেষ প্রান্তে এগিয়ে গেল। বাইরে থেকে দেখলে ব্ল্যাক ম্যানশনকে বড়জোর তিনতলা একটি বাড়ি মনে হয়। কালো পাথরের চারপাশে উঁচু দেয়াল—সব মিলিয়ে জায়গাটিকে একটি পরিত্যক্ত দুর্গের মতো দেখায়। কিন্তু এই বাড়ির আসল রহস্য লুকিয়ে ছিল মাটির নিচে।বাড়িটির নিচে ছিল আরও ছয়টি তলা। এমন ছয়টি তলা, যার অস্তিত্ব শহরের কোনো নকশায় নেই, কোনো সরকারি নথিতে নেই, এমনকি রৌনকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোকেরাও পুরো জায়গাটির সবকিছু জানত না।লোহার দরজার সামনে গিয়ে রৌনক থামল। দরজার পাশে দাঁড়ানো দুজন প্রহরী তাকে দেখেই সোজা হয়ে দাঁড়াল। একজন দ্রুত কার্ড স্ক্যান করল। তারপর একে একে তিনটি তালা খুলল। শেষ তালাটি খোলার আগে দেয়ালের ভেতর থেকে ঠান্ডা যান্ত্রিক শব্দ ভেসে এল। কয়েক সেকেন্ড পর দরজাটি ধীরে ধীরে খুলে গেল।ভেতরে নামার সিঁড়িগুলো এতটাই অন্ধকার ছিল যে, দেয়ালে বসানো ক্ষীণ লাল বাতিগুলো না থাকলে নিচে নামা অসম্ভব হয়ে যেত।

রৌনক একবারও পেছনে তাকাল না। তার জুতোর শব্দ ধাতব সিঁড়িতে প্রতিধ্বনিত হয়ে অদ্ভুত এক ভয়ের আবহ তৈরি করছিল।প্রথম তলায় ছিল পাহারার ঘর। দ্বিতীয় তলায় বন্দিদের জন্য আলাদা কক্ষ। তৃতীয় তলায় ছিল জিজ্ঞাসাবাদের জায়গা—যেখানে কেউ ঢুকলে নিজের নাম, পরিচয়, এমনকি নিজের স্মৃতিও ভুলে যেতে বাধ্য হতো। চতুর্থ তলায় ছিল নথি, টাকা ও গোপন যোগাযোগের কেন্দ্র। পঞ্চম তলা ছিল রৌনকের সাম্রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—অস্ত্র ও নিষিদ্ধ পণ্যের গোপন গুদাম। আর ষষ্ঠ তলা?ষষ্ঠ তলার কথা কেউ মুখে আনে না।

সেখানে কী ছিল, তা জানত কেবল একজন মানুষ রৌনক। রৌনক তৃতীয় তলায় পৌঁছাতেই টর্চার সেলের ভারী দরজা খুলে গেল। ভেতরে কয়েকজন লোক মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। দেয়ালে ঝোলানো আলো সরাসরি মেঝেতে পড়ছিল, ফলে ঘরের প্রতিটি ছায়া আরও ভয়ংকর দেখাচ্ছিল। চারপাশে ওষুধ, ব্যান্ডেজ, ধাতব ট্রে এবং নানা ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের সরঞ্জাম রাখা ছিল। জায়গাটি কোনো উন্মত্ততার স্থান নয়—বরং ঠান্ডা মাথায় ভয় তৈরি করার জন্য সাজানো একটি নিষ্ঠুর কারখানা।ডেবিয়ান রৌনককে দেখেই এগিয়ে এল।

—“স্যার, আপনি এখানে?

রৌনক কোনো উত্তর দিল না। শুধু চারপাশে একবার তাকাল। তারপর ঠান্ডা গলায় বলল,

—“এখন আর কাউকে ছোঁবে না। শুধু পুরোনো ফাইলগুলো বের করো

ডেবিয়ান বিস্মিত হলো।

—“কোন ফাইল, স্যার?

রৌনকের চোখ ধীরে ধীরে অন্ধকার হয়ে গেল।

—“সৈয়দ পরিবারের ফাইল

ডেবিয়ান কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে মাথা নত করল। সে জানত, রৌনক যখন এই ফাইলের কথা বলে, তখন বিষয়টি শুধু আভা কে ঘিরে নেই।আর রৌনক কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয় না আর যদি দেও তাহলে নিশ্চিত রৌনকের মাথায় তখন আগুন জ্বলছে। কিছু পেছনে বহু বছরের হিসাব, বিশ্বাসঘাতকতা এবং রক্তের ঋণ লুকিয়ে আছে।কিছুক্ষণ পর একটি কালো লোহার বাক্স এনে রৌনকের সামনে রাখা হলো। বাক্সটির ওপর কোনো নাম লেখা ছিল না, শুধু খোদাই করা ছিল একটি চিহ্ন—একটি কালো মুকুটের ভেতরে জ্বলন্ত সাপ। এই চিহ্নটি শহরের অন্ধকার জগতের সবাই চিনত। এটি ছিল ‘নাইট ক্রাউন’-এর প্রতীক—দেশের বিভিন্ন শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক বিশাল মাফিয়া সাম্রাজ্যের গোপন সিলমোহর।

রৌনক বাক্সটি খুলল। ভেতরে ছিল পুরোনো কাগজ, কয়েকটি ছবি, কিছু চিঠি এবং একটি ছোট কালো পেনড্রাইভ। ওপরে থাকা ছবিটি হাতে নিতেই তার চোখ স্থির হয়ে গেল। ছবিতে ছিল আজিজ সৈয়দ, তার পাশে এক অচেনা তরুণী, আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ—যাকে রৌনক বহু বছর ধরে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু বলে জানত।ডেবিয়ান ফিসফিস করে বলল,

—“এটা কি সত্যি? স্যার

রৌনক ছবিটি মুঠোর ভেতর চেপে ধরলো, ডেবিয়ানের সামনে আগে কখন এই বাক্স খোলা হয়নি তাই ও অনেক টা অবাক হয়েছে

—“সত্যি বলেই তো এত বছর ধরে সবাই মিথ্যে গুলো বেঁচে আছে

সে পেনড্রাইভটি হাতে তুলে নিল।

—“ সৈয়দ পরিবার কে খুন করার আদেশ বাইরে থেকে আসেনি। আদেশ এসেছে আমার কাছে কোনো মানুষের থেকে যাকে আমি হয়তো খুব ভালো করে চিনি তবে এই মূহুর্তে ধরতে পারছি না ।

ডেবিয়ান হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।

—“কিন্তু স্যার, আপনার অনুমতি ছাড়া

ওর কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে রৌনক গম্ভীর কণ্ঠে বলে_____

—“আমার অনুমতি ছাড়াই অনেক কিছু হয়েছে

রৌনকের গলা আরও রাগে আর গম্ভীর হয়ে উঠলো

---- “এই সাম্রাজ্য শুধু আমার, ডেবিয়ান। আমার চারপাশে যারা মাথা নত করে দাঁড়িয়ে থাকে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার সিংহাসনের নিচে বিস্ফোরক পুঁতে রেখেছে। কেউ আমার সব কিছু কেঁড়ে নিতে চাইছে, কেউ আমাকে কাজে লাগিয়ে নিজের স্বাথ হাসিল করছে

রৌনক ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তার চোখে এবার রাগের বদলে ভয়ংকর এক স্থিরতা। রৌনক আবার টর্সার সেল এ চলে যায়। ডেবিয়ান সব কিছু গুছিয়ে বের হয়ে আসে।

রৌনক যখন রুমে আসে তখন সময় টা শেষ রাত। আভা কে ঘুমে দেখে রৌনক ওয়াশরুমে চলে যায় কিছুক্ষণ পর শাওয়ার নিয়ে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসে। বিছানায় আভা গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে রৌনক খাটে উঠে আভা কে জড়িয়ে ধরে নিজের শরীরে সঙ্গে ঠান্ডা কিছু অনুভব হতেই আভা নড়েচড়ে উঠে। রৌনক আভা কে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে।

সকালের মিষ্টি রোদ এসে আভার মুখে পড়ছে। আভা ঘুম থেকে উঠতে না চাইলে আজিজ সৈয়দ এমনটা করে। আভা মুখে মুচকি হাসি নিয়ে চোখ খোলে কিন্তু চোখের সামনে সেই অভিশপ্ত রুম দেখে মূহুর্তের মধ্যে ওর মুখের হাসি মিলিয়ে যায়। ঘুমের মধ্যে ও ভুলে গিয়েছে যে ওর বাবা আর এই পৃথিবীতে নেই যে আগের মতো ওর ঘুম ভাঙাবে। আভা কান্না করে বলে উঠে

----“কোথায় তুমি, বাবা...?তোমার ছোট সোনামণি তোমায় খুব মিস করছে, বাবা।জানো বাবা, এখন আর আমাকে কেউ ভালোবাসে না... কেউ না।তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে আমার জীবনের চারপাশটা শুধুই অন্ধকারে ঢেকে গেছে। কোথাও একটুও আলোর দেখা নেই।

----“আমি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছি সেই গভীর অন্ধকারে —💔💔💔
এখান তুমিও নেই, আলোও নেই।ফিরে এসো না বাবা, একটিবার... তোমার সোনামণিকে একটু বুকে টেনে নাও।

আভার চোখ থেকে অনবরত পানি পড়ছে, আভার কান্নারা সব করে বেরিয়ে আসতে চাইছে কিছু পারছে না কোনো এক অদৃশ্য বেড়াজাল ওর গলা পেচিয়ে ধরছে। আভা কষ্ট করে উঠে বসে পায়ে অস্য ব্যথা রুমে কেউ নেই বেলকনির গ্লাস খোলা তাঁর মানি রৌনক এখন ওর জিম রুমে আছে। রুম কাউ কে না দেখতে পেয়ে আভা সব করে কান্না করে উঠে। আভার কান্নার মাঝে হঠাৎ করে রৌনক ঝড়ের গতিতে রুমে এসে ও কে কোলে নিয়ে বারান্দার গ্লাস পেরিয়ে সুইমিং পুলে নেমে যায়। আভা কিছু বুঝে উঠার আগে রৌনক ও কে পানিতে চুবিয়ে দিলো। আভা শ্বাস নেওয়ার জন্য ছটফট করছে আর রৌনক ও কে শক্ত করে ধরে রেখেছে। একে তো শ্বাস নিতে কষ্ট তার ভিতর রৌনকের হাতের চাপে আভার জান পাখি বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম। সকালের ঠান্ডা পানি আর শ্বাস নিতে না পারায় আভার শরীর নিজ তেজ হয়ে আসে চোখের সামনে সব অন্ধকার দেখছে এমন সময় রৌনক আভার মুখ উপরে তুলে। চভা নিভে আসা চোখে রৌনকের দিকে তাকায়।

তখন আভার বলা কথা আর কান্না সব কিছু রৌনক দরজার সামনে থেকে শুনতে পায় আর এই জন্য রাগে ও কে পানিতে ডুবিয়ে রাখে।

আভা জ্ঞান হারাবে এমন সময় রৌনকের শান্ত কিন্তু কঠোর বানি শুনতে পায়__

__“ আমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য কান্না করলে জীবন কেড়ে নেব🤬🤬🤬 তুই শুধু আমার জন্য কান্না করবি আমার জন্য হাসবি! তোর সবকিছু আমার তোর এক ফোটা চোখের পানির ভাগ ও আমি কাউ কে দিবো না।

___“ আর তোর বাপ মরেছে এতদিন হলো এখনো তার জন্য কান্না করার কি আছে.? শুনেছি মেয়েদের জন্য আপন নাকি দুই পুরুষ হয়। একজন বাবা আরেকজন স্বামী ! তোর বাপ তো মরে গেছে। আমি তোর স্বামী আমি এখনো জীবিত আছি, কি কান্না করলে আমার জন্য করবি।

আভা রৌনকের শেষের কথা গুলো শুনতে পাইনি কারন এর আগে ও জ্ঞান হারিয়েছে।

চলবে

আলহামদুলিল্লাহ এখনো বেঁচে আছি 🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰
14/09/2026

আলহামদুলিল্লাহ এখনো বেঁচে আছি 🥰🥰🥰🥰🥰🥰🥰

08/09/2026

#গল্প_আমার_ভালোবাসার_প্রিয়া_তুমি

আমাকে ধ্বংস করতে আসার আগে একশোবার ভাবা উচিত ছিল—কারণ ধ্বংসবতীকে ধ্বংস করা এত সহজ নয়। “ আমি হারানোর ভয় পাই না „ কারণ ~আ...
08/09/2026

আমাকে ধ্বংস করতে আসার আগে একশোবার ভাবা উচিত ছিল—কারণ ধ্বংসবতীকে ধ্বংস করা এত সহজ নয়। “ আমি হারানোর ভয় পাই না „ কারণ ~আমার হারানোর মতো কিছুই নেই। তাই অকারণে আমার পথে এসে নিজেই বিপদ ডেকে আনবেন না.....❤️‍🔥😎☠️ #গল্প_পথ_হারানো_পথিক
#লেখিকা_ফারিয়া_ইসলাম

আমাদের কাছের মানুষ গুলোই আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় 😅🥀💔 সারা জীবন বাহিরের মানুষকে অবিশ্বাস করলাম! অথচ আসল বিশ্বাসঘাতক আ...
07/09/2026

আমাদের কাছের মানুষ গুলোই আমাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় 😅🥀💔
সারা জীবন বাহিরের মানুষকে অবিশ্বাস করলাম! অথচ আসল বিশ্বাসঘাতক আমার প্রিয় জন..😅🥀💔 বানীতে :- ভিরাজ চৌহান রাইফ
#গল্প_আমার_ভালোবাসার_প্রিয়া_তুমি
#লেখিকা_ফারিয়া_ইসলাম

সমুদ্রের পাড়ে বন্দরের কাছে গিয়ে পরির গাড়ি থামে! চারদিকে কালো অন্ধকার, পুরনো কন্টেইনার, পরিত্যক্ত জাহাজ। বাতাসে পঁচা মাছ ...
06/09/2026

সমুদ্রের পাড়ে বন্দরের কাছে গিয়ে পরির গাড়ি থামে! চারদিকে কালো অন্ধকার, পুরনো কন্টেইনার, পরিত্যক্ত জাহাজ। বাতাসে পঁচা মাছ আর ডিজেলের গন্ধ। এটা তুরস্কের সবচেয়ে ভয়ংকর বন্দর — **ব্ল্যাক পোর্ট**। যেখানে দিনের বেলাতেও কেউ আসে না।

পরিদের গাড়ির ওপর পাশে এসে দাঁড়ায় অনেকগুলো কালো গাড়ি। একটা, দুটো না — প্রায় বিশটা কালো রেঞ্জ রোভার। সবগুলোর হেডলাইট একসাথে জ্বলে ওঠে, আলো সরাসরি পরিদের গাড়ির কাচে।

ধপ... ধপ... ধপ...

সবগুলো গাড়ির দরজা একসাথে খোলে। কালো স্যুট, কালো মাস্ক পরা প্রায় ৫০ জনের বেশি লোক, সবার হাতে অটোমেটিক রাইফেল। তাদের মাঝখান থেকে হেঁটে আসে এতো দিনের অজানা শক্র কিন্তু যাকে পরি খুব ভালো করে চিনে শক্র মুখে হাসি।

— "ওয়েলকাম, মাফিয়া কুইন। তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। অবশেষে নিজের ইচ্ছেতেই আমার ফাঁদে পা দিলে

হঠাৎ চারপাশে শুধু ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যায় পিছনে পরি-ভিরাজের পরিবারের ৫০টা গাড়ি এসে দাঁড়ায়।

পরি আস্তে করে গাড়ির দরজা খুলে নামে সাথে ভিরাজ ও নেমে দাঁড়ায় । পরি কালো গাউন পড়নে, খোলা চুল, সমুদ্রের বাতাসে দাঁড়িয়ে থাকা পরিকে দেখে মনে হচ্ছে সাক্ষাৎ মৃত্যু দাঁড়িয়ে আছে।

এতক্ষণ হাসি খুশি মুখে দাঁড়িয়ে থাকা আনহা ইলদিজ এর মুখে হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসে। আনহা ইলদিজ সামনে ওনার পিছনে আরো দুজন হুডি পড়া মানুষ দাঁড়িয়ে আছে যাদের মুখ দেখা যাচ্ছে না। পরি হাসি মুখে এসে মামনীর সামনে দাঁড়ায় ভিরাজ পরির হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে।

একে একে মোয়াজ ইলদিজ, রাওহা ইলদিজ, রাইমা শেখ, আখিল, রোজা ইলদিজ, রেহাম শাহ,ওয়ালিদ শাহ, ফেরিনা শাহ, আরিফ শেখ, নাদিয়া শেখ,মারিয়া শেখ, আসিফ, রামিজ , আয়াজ, ইমা, আরশি, আহিল, সহ সবাই গাড়ি থেকে বের হয়ে দাঁড়ায়। ইয়ান গাড়ি থেমে বের হয়ে দৌড়ে নিজের মায়ের সামনে এসে দাঁড়ায় ! আনহা ইলদিজ ইয়ানের দিকে তাকিয়ে আছে। ইয়ান উদ্বিগ্ন হয়ে মাকে প্রশ্ন করে

-" আম্মু ওরা তোমাকে কিডন্যাপ করেছে তা-ই না.?

আনহা ইলদিজ চুপ ইয়ান আবার ও বলে -------

-" কথা বলো আম্মু ওরা তোমাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে হ্যাঁ তাদের হাতিয়ার ব্যবহার করতে.?তুমি এদিকে চলে এসো আম্মু ওরা তোমার ক্ষতি করবে

বলে ইয়ান নিজের মায়ের হাত ধরে টান দেয় কিন্তু আনহা ইলদিজ অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ইয়ান নিজের হাতের দিকে তাকায় আবার মায়ের দিকে তাকায়। ইয়ানের ভীষণ ভয় হচ্ছে ওর ভিতরে থাকার হৃদপিণ্ড অতিরিক্ত লাফাচ্ছে... ওর মন অনেক আজেবাজে ইঙ্গিত দিচ্ছে যেগুলো ও বিশ্বাস করতে চাচ্ছে না।

ইয়ান পরি কে চিনে পাঁচ বছর, ইয়ানে সাথে পরির পরিচয় যত বছর পরির সাথে আনহা ইলদিজ এর সম্পর্ক ও তত বছর। আনহা ইলদিজ পরি কে সব সময় মায়ের মতো আদর যত্ন করছে ! পরি যখন মায়ের ভালোবাসার জন্য ব্যাকুল হয়ে যেত তখন আনহা ইলদিজ ওর মামনী ওকে সান্তনা দিত আদর করে বুকে টেনে নিতো। ইয়ান পরি কে উনি এক প্লেটে পযন্ত কতো খাইয়ে দিয়েছে তার হিসাব নেই ।তাহলে চোখের সামনে কী.?

এই পাঁচ বছরে ইয়ান আর পরি অনেক চেষ্টা করছে শত্রুকে খুঁজে বের করার কিন্তু পাইনি। ইয়ান বুকের বা পাশে ধরে আবার ও মা কে উদ্দেশ্য করে বলে________

-" মা তুমি আসলে কে....?

ইয়ানের প্রশ্ন টা আনহা ইলদিজ এর বুকে গিয়ে লাগে উনি মলিন হেসে উওর দেয় ------

" তোমার জন্মদাত্রী মা কিন্তু

-" আজ তোমাকে মায়ের মতো লাগছে না আজরাইলের মত লাগছে মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে তুমি আমার প্রাণটা কেড়ে নেবে।

ইয়ান নিজের মনের সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যাচ্ছে তবে ওর মন একটাই উত্তর দিচ্ছে তোর মায়ের তোর ভালোবাসার মানুষের ক্ষতি করেছে ও আসল শত্রু উনিয়ে তোর পরি কে বারবার আঘাত করেছে যাকে বাঁচাতে তুই মরতে রাজি তাকে মারতে চাই তোর মা নিজের জন্মদাত্রী মা।

-" পরির জন্য তুমি কী...?

আনহা ইলদিজের মুখের মলিন হাসি এখন আক্রোশে রূপ নেয় রেগে উত্তর দেয়

" আমি ওর জন্য জম, ওর জন্য মৃত্যু, আমি ওর জন্য আজরাইল, আমি ওর ধ্বংসকারী আর আমি ওর চিরশত্রু শুধু ওড়না ওর পুরো পরিবারের শত্রু যাদের আমি চিরকাল ধরে ঘৃণা করি।

কিছুক্ষণ সবাই চুপ আনহা ইলদিজ আবার বলে

" আমি পরি কে ধ্বংস করবো আমি ওর ধ্বংসকারী ওকে ধ্বংস পরিবার কে শেষ করবো

এতোক্ষণ চুপ থাকা পরি এবার উচ্চ সুরে হেসে উঠে। রোজা ইলদিজ এসে পরি স্পর্শ করে পরি মায়ের হাত সরিয়ে দিয়ে আরেকটু সামনে এগিয়ে গিয়ে বলে__

~" মাফিয়া কুইন পরি কে ধ্বংস করা অসম্ভব কারণ আমি ধ্বংসের ভয় পাইনা যারা আমাকে ধ্বংস করতে আসে তাদেরকে কৌশলে ধ্বংস করাই আমার কাজ।

মোয়াজ ইলদিজ বলে

" তুমি আমাদের সাথে বেইমানি করছো আনহা.?

রোজা ইলদিজ শান্ত কন্ঠে প্রশ্ন করে

-" কেনো এমন করলে.? তুমি কি এত বছর ধরে আমাদের ক্ষতি করে আসছো.? তুমি কি সেই যাকে আমরা এতদিন ধরে খুঁজেছি.? কেনো করলে এমন

" তোমাদের ধ্বংস করতে

--" আমার মেয়ে কে আমার কোল থেকে কী তুমি কেঁড়ে নিয়েছো.?

এই একটা প্রশ্নের উত্তর পেলে আর কোন প্রশ্নই থাকবে না কারণ রোজা ইলদিজ এর ধারণা শুরুটা সেখান থেকে হয়েছে। আনহা ইলদিজ বলে

-------" শুনতে যখন চেয়েছেন তাহলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত এই শুনুন

মোয়াজ ইলদিজ বলে

-" হ্যা প্রথম থেকে শুরু করো তবে মিথ্যে বলবে না, কারণ মিথ্যে শুনলে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারি না এতে অনেক কষ্টে তোমাকে চোখের সামনে সহ্য করছি এতক্ষণে তোমার আকাশ পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল

আনহা ইলদিজ হেসে উঠে কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তারপর বলতে শুরু করে —

— "সবে মাত্র কলেজ শেষ করে ভার্সিটিতে উঠেছি, এমন সময় আমার বাবা মারা যায়। বাবা মারা যায়নি, বাবাকে খুন করা হয়। বাবার মৃত্যুর খবর শুনে আমার মাও স্ট্রোক করে মারা যান। বাবার খুনিকে খোঁজার অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কারণ যে বাবাকে খুন করেছে সে প্রভাবশালী ছিল, তার পরিবার কিংবা তার কাছে যাওয়ার সাধ্য আমার ছিল না। কারণ একটা কথা খুব ভালো করে বুঝি, ক্ষমতাশালী লোকের সাথে যুদ্ধ করতে ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। আমি বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলাম, আমার ভাই বোন কেউ ছিল না। হঠাৎ করে বাবা মাকে হারিয়ে দিশেহারা অবস্থা আমার, কিন্তু জীবন থেমে থাকে না, নিজের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে এসে পড়ে। তখনকার সময় পার্ট টাইম জব করে নিজের পড়াশোনা আর খাবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো আমাকে, একটা টাইম পর পড়াশোনা বন্ধ করে দেই।"

এইটুকু বলে আনহা আবার সেই রহস্যময় হাসিটা হাসলো।

— "একদিন আমার রেস্তোরাঁয় সেই খুনির ছেলে ইয়াজাহ ইলদিজ আসে। হ্যা, আমার বাবার খুনি ছিলো মোয়াজ ইলদিজ। হঠাৎ তার ছেলেকে দেখে আমার মাথায় আবার সেই প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে, কিন্তু অস্ত্র দিয়ে লড়াই করার মত ক্ষমতা আমার ছিল না, তাই তাকে আমার প্রেমের জালে জড়িয়েছি। যদিও কাজটা এত সহজ ছিল না। সেদিন সে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেলে আমি তার পিছু নিলাম! গোটা একটা দিন তার পিছু ঘুরেছি, সে কোথায় যায়, কোন ভার্সিটিতে পড়ে, কোন বন্ধুদের সাথে মিশে, কোন রাস্তা দিয়ে বাড়ি থেকে ভার্সিটিতে যায় সব খেয়াল রাখলাম। সে যে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে ওই রাস্তায় বাসা নিলাম, যাতে তার সাথে প্রতিনিয়ত আমার দেখা হয়। যদিও সে গাড়িতে করে চড়তো, বড় বাবার একমাত্র ছেলে বলে কথা।

কথাটা বলে আনহা ইলদিজ আবার হাসলো।

পরি তখন মোয়াজ ইলদিজ, রাওহা ইলদিজ, ওয়ালিদ শাহ, ফেরিনা শাহ, আরিফ শেখ ও নাদিয়া শেখ এর জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করে, অন্যদের জন্য করতে চাইলে তারা বাধা দেয় কারণ এই মুহূর্তটা আরামের সময় না।

আনহা আবার শুরু করে, তার চোখ দুটো তখন জ্বলছে —

— "ছলে বলে কৌশলে অনেক কষ্টে তাকে নিজের প্রেমে জড়িয়েছি। ওর সাথে সম্পর্কটা আমাদের বেশ ভালই যাচ্ছিল। ভেবেছি ওকে দিয়ে ওর পরিবারে ঢুকবো, কিন্তু সেটা হলো না। ও তার বাবাকে যথেষ্ট ভালোবাসতো আর সম্মান করতো, বাবা মার কথা ছাড়া কিছুই করত না, এক কথায় বাবা মায়ের ভদ্র ছেলে ছিল। প্রেমের বছর না ঘুরতেই আমি প্রেগনেন্ট হয়ে যাই। সত্যি বলতে আমি সন্তানটাকে নষ্ট করতে চাইলেও ইয়াজাহ চাইতো না, তাই তো ওর জোরাজোরিতে এক সময় আমি ওকে বিয়ে করতে বাধ্য হই। ও সত্যি আমাকে খুব ভালোবাসতো। তারপর আমার কোলজুড়ে একটি ছেলে সন্তান আসলো, তার নাম দেওয়া হলো হুমাইফ ইয়ান বা ইয়ান ইলদিজ। যদিও ছেলের নামের পিছনে এই নাম লাগাতে আমার ২৬ বছর সময় লেগেছে। এর ভিতর আমি অনেক চেষ্টা করি ওই বাড়িতে যাওয়ার, কিন্তু কোনভাবেই সম্ভব হয়নি। আমার স্বামী কোনদিন রাজি ছিল না ঐ বাড়িতে নেওয়ার জন্য। সব সময় বলতো তোমার যা প্রয়োজন আমি তো সব কিছু দিচ্ছি, তাহলে ওখানে কেন যেতে হবে? সময় হলে যাবে, এখনো সময় হয়নি। আমিও তার কথা মেনে নিতাম, কারন একটা সময় আমি স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে ছিলাম, সুখ আমাকে প্রতিশোধ ভুলিয়ে দিয়েছিল।

"কিন্তু নিয়তির হয়তো আমার এই সুখ সহ্য হয়নি। একটা এক্সিডেন্টে ও মারা যায়। তখন আমি আমার ছেলেকে নিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ি। ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে আশ্রয়ের আশায় ইলদিজ বাড়িতে গেলে আমাকে রাস্তার ফকিরের মত তাড়িয়ে দেয় তারা। ভেবেছে আমি সম্পত্তির লোভে গিয়েছি। কিন্তু সত্যিটা হলো সেদিন আমি সত্যিই মা হিসেবে সন্তানের আশ্রয়ের জন্য গিয়েছিলাম, কিন্তু আমি আশ্রয় পাইনি, পেয়েছি অবহেলা, অবজ্ঞা, অপমান। শুধু সেই দিন না, তারপর আমি বহুদিন গিয়েছি সেই বাড়ির দরজায়, আবার ফিরে এসেছি। অনেকের মাধ্যমে খোঁজ দিয়েছি, কিন্তু ওনারা বিশ্বাস করলেন না।

"এবার আর আমি আগের মত ভুল করিনি। আগেরবার শান্তির জীবন কাটাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এবার ক্ষমতার পিছে ছুটেছি। যাদের জন্য আমার এ কষ্টের দিন, তাদের ধ্বংস দেখতে চেয়েছি। হয়ে উঠেছি এক মাফিয়া। নিজেকে মাফিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমার দশ বছর সময় লেগেছে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো ১০ বছর পর আমার সাথে এক্সিডেন্ট হয় এক পাগলের, আর সেই পাগল ছিল ইয়াজাহ ইলদিজ। ও-কে কেউ প্রতিনিয়ত ইনজেকশন দিয়ে পাগল বানিয়ে রাখতো। সেদিন হয়তো ও অন্ধকার রুম থেকে পালিয়ে আসার সময় আমার গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট হয়। সেদিন আমার কাছে আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো আনন্দ লেগেছে। ইয়াজাহ কোমায় চলে গিয়েছিল, তারপর আমি আর ওকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করিনি, বরং অসুস্থ হতে শুরু করলে আমিও ওকে ইনজেকশন দিয়ে অসুস্থ বানিয়ে রাখতাম, কারণ আমার আর ওর ভালোবাসা প্রয়োজন ছিল না, প্রয়োজন ছিল শুধু সম্পদের।

"কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তখন, যখন জানতে পারি মোয়াজ ইলদিজ তার পারিবারিক সকল সম্পত্তি দুই নাতি-নাতনির নামে উইল করে দিয়েছে। এমনকি তার নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকেও তার নাতনিকে ৮০% দিয়েছে। উনার তো সম্পত্তির অভাব নেই, উনি নিজেও জানে না যে উনি কত টাকার মালিক।

"আমার নেক্সট টার্গেট হয় এইজেল ইলদিজ পরি। আগে ওকে সরাতে হবে, তারপর ওর ভাই ও পরিবারকে সরাবো। আমি এবার খুব সুক্ষ্মভাবে চাল চালতে থাকি। আমি তাদের টার্গেট করি যারা শাহ ও ইলদিজ পরিবারের শত্রু। খুঁজে খুঁজে অনেককে বের করি। তারা অনেকেই দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, এমনকি পরিবারের মানুষ বললেও চলে। আবার বাইরে অনেক শত্রুকেও টার্গেট করি। জানতে পারি এই মেয়ে হওয়ার পর থেকেই নাকি তাকে খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় শাহ পরিবারেরও ৫০% সম্পত্তির মালিক এইজেল ইলদিজ পরি। একসাথে আমরা সকল শত্রুরা মিলে কাজ শুরু করি, ইকরামুল মির্জা, ফখরুল মুন্সি, রাইকা, আজহার ও শাহ পরিবারের কিছু ব্যক্তিগত শত্রু, যারা এখনো পৃথিবীতে বেঁচে নেই। ইস্তাম্বুলেরও কিছু ছিল, যাদের কেউ বেঁচে নেই, কারণ কয়েকদিন আগে পরি-ভিরাজ খুন করেছে। সেখানে উপস্থিত ছিলো ১৮ জন, যারা সবাই ইলদিজ পরিবারের ধ্বংস দেখতে চেয়েছিলো।

"পরিকে ভারত থেকে সুইজারল্যান্ড নেওয়া হয়, সেখান থেকে আজহার ও ফখরুল মিলে বাংলাদেশে রাখা হয়, যেন ও বড় হওয়ার পর ওর সকল সম্পত্তি আমাদের নামে লিখে দিতে পারে। প্ল্যান ঠিক ভাবেই চলছিল, কিন্তু মাঝখান দিয়ে ওই ফখরুল মুন্সির বউ সব ভেস্তে দেয়। ও এতটাই অত্যাচার করে যে ও মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে যায়। পরিকে আমরা ইস্তাম্বুল নিয়ে আসি, কিন্তু আমরা কি আর জানতাম যে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হবে। ও এখান থেকে পালিয়ে যায়। ব্যাস, আমরা হারিয়ে ফেলি আমাদের সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁসকে। এর ভিতর অসংখ্যবার মোয়াজ ইলদিজ, রাওহা ইলদিজ, রোজা ইলদিজ, রেহাম শাহ ও রামিজকে খুন করার চেষ্টা করি, কিন্তু কোনোভাবেই সফল হতে পারি না। সম্পত্তির লোভ আর প্রতিশোধের আগুন আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল দিন দিন। কত মানুষের সাথে যে হাত মিলিয়েছি শুধুমাত্র এই পরিবারকে খুন করার জন্য, তার কোনো হিসাব নেই। আমি শুধু এই পরিবারের ধ্বংস দেখতে চেয়েছিলাম। সবার সঙ্গে আমি হাত মিলাতাম, প্ল্যান করতাম, কিন্তু তাদের সামনে আমি কখনই আসতাম না। আমি থাকতাম পিছনে, তাইতো একে একে সব শত্রু মারা গেল, আমি আজ পর্যন্ত বেঁচে ছিলাম শুধু নিজের বুদ্ধির জোরে।

"এভাবে কেটে যায় অনেকগুলো বছর, কিন্তু পাঁচ বছর আগে পরির সন্ধান মেলে। অনেক দেরি হয়ে যায়, ছোট্ট পরি আর থাকে না, ও বদলে যায়। ওর কথা, ওর দক্ষতা, ওর দৃষ্টি সবকিছু অন্যরকম হয়ে যায়। তার ভিতর আবার আমার ছেলে ওর প্রেমে পাগল হয়। আমি নতুন প্ল্যান সাজাই ইয়ানের সাথে ওর বিয়ে দেওয়া নিয়ে, তখন পর্যন্তও পরির স্মৃতি ছিল না। কিন্তু আবারো সব বদলে যায়। পরির স্মৃতি ফিরে আসে, নিজের পরিবারকে খুঁজে পায়, পরিচয় জানতে পারে। ইয়ানকে সাথে নিয়ে আমার অগোচরে ইয়াজাহকে খুঁজে বের করে। এমনকি ভিরাজকে ভালোবেসে বিয়ে করে ফেলে। সবকিছু ঠিক করে এনে আবার যখন সব ধ্বংস হয়ে যায়, তখন আমি আরো রেগে যাই। তবে এর ভিতর একটা ভালো কাজ হয়েছে, আমি সেই কাঙ্ক্ষিত ইলদিজ বাড়িতে প্রবেশ করতে পারি।

এতটুকু বলে আনহা চুপ করে। তার মুখে এখনো সেই রহস্যময়, ভয়ংকর হাসি।

ইয়ান বালু-মাটিতে বসে মায়ের সব কথা শুনছিল! ও সম্পূর্ণ কথা শুনে যা বুঝতে পেরেছে, এতদিন যে বোকাসোকা মাকে চিনতো, আসলে ওর মা এমন না। ওর মা ওর চাইতেও ভয়ঙ্কর। ওর মা শুধু পরিকে ধ্বংস করতে চায়নি, ওকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। এই পরিকে বাঁচানোর জন্য ইয়ান কতই না আঘাত পেয়েছে, অথচ সেই আঘাতকারী ছিল তার মা।

তখনই পরি চিৎকার করে বলে ওঠে —

~" মামাকে কেনো খুন করেছো...?"

এই কথাটা শুনে সবার মাথা যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল সবাই তো এতদিন ভেবেছে ইয়াজাহ ইলদিজ এক্সিডেন্টে মারা গিয়েছে কিন্তু ওনাকে যে আনহা খুন করেছে সেটা তো কেউ টের পায়নি এমনকি সন্দেহ পর্যন্ত করেনি ও এজন্যই তারা সেদিন গাড়ির ভিতর ড্রাইভার মৃত ছিল। আনহা বলে

-" ওকে আর আমার প্রয়োজন ছিল না সুস্থ হয়ে উঠছিল সুস্থ হয়ে উঠতো তাহলে সবাইকে সবকিছু পড়ে যেত মেরে দিয়েছি।

ইয়ান আর সহ্য করতে পারে না জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে বলে

---" প্লিজ আম্মু আর বলবে না প্লিজ প্লিজ প্লিজ আমি তোমার এই ভয়ংকর গল্প আর শুনতে চাই না এই গল্প শোনার আগে আমার মৃত্যু হলো না কেন

ও কান্না করতে থাকে আর বলে

--" তুমি এতদিন মুখোশ পরে ছিলে মুখোশের আড়ালে তুমি ভয়ংকর তোমাকে আমি চিনি না তুমি আমার মা না তখন এমন হতে পারে না তুমি আমার বাবাকে হত্যা করেছ তোমাকে ঘৃণা করি তোমার মত মা আমার প্রয়োজন নেই আমি তোমাকে চোখের সামনে দেখতে চাই না প্লিজ চলে যাও তুমি আর কথা বলোনা আমি নিতে পারছি না

রামিজ ইয়ানের কাদে হাত রাখে, ইয়ান রামিজ কে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না করে দেয়। ভিরাজ আজার শেখ কে উদ্দেশ্য করে বলে

-" তুমি কেন আমাদের সাথে বেইমানি করেছ চাচ্চু আমরা তোমার কি ক্ষতি করেছি বলে ফেল

এতক্ষণ হুডির আড়ালে লুকিয়ে থাকা আজহার সে কি বার সবার সামনে এসে দাঁড়ায় উনার পিছনে এসে দাঁড়ায় একজন মহিলা যার পরিচয় এখনো অজানা।

-" সংক্ষিপ্ত শুনতে চাও ডিটেলসে

---" সত্যি বলতে ডিটেলসে হোক বা সংক্ষিপ্ত কোনভাবেই শোনার ইচ্ছে নেই কিন্তু কি করব একটু তো শুনতে হবেই সংক্ষিপ্ত বলো নিজেকে কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না

আজহার শেখ বলে

-" তুমি আমাকে খুন করবে...?

---" তুমি যদি আমাকে খুন করার চেষ্টা করতে পারো তাহলে আমি করলে সমস্যা কি তুমি নিশ্চয়ই জানো আমি চেষ্টা করলে ব্যর্থ হইনা

আজহার শেখ বলে

" সম্পত্তি ভালোবাসা আর আত্মসম্মানের জন্য,

আখিল শেখ এগিয়ে এসে বলে -----

-" এসব গুলোই তো তোর আছে তাহলে তো কেন এমন করলি আরো সম্পত্তির প্রয়োজন ছিল বলতি আমাকে তোর আমার ক্ষমতার দরকার ছিল নিয়ে নিতে আর ভালোবাসা দুই দুইটা বিয়ে করার পর আবার ভালবাসা আসলো কোথা থেকে.?

আজহার শেখ কিছু করে না শুধু চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। আসলে পরি আর আখিল শেখ অনেকদিন আগে থেকেই জানতো যে উনি একজন বেইমান কিন্তু মাস্টারমাইন খুঁজে পাইনি এখন আজহার শেখ কে ও তার সঙ্গ মাস্টারমাইন্ড কে ছিল খুঁজে পেয়েছে।খুঁজে তো আরো অনেক জনকে পেয়েছিল কিন্তু তারা তো আর এখন নেই পরপারে আছে যতজন কাছের মানুষ বেইমানি করছে তাদের সবাইকে নিজ হাতে খুন করেছে পরি। দূরের শত্রুদের তো প্রতিনিয়ত খুন করা হয়। আখিল শেখ প্রশ্ন করে

-" তোমার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মহিলাকে

পরি বলে

~" আমি জানি উনি কে

-" কে আম্মু বলো.?

~" আজহার শেখ এর স্ত্রী আহিল ও ঈশার আম্মু

পরি কথা শুনে সবাই অবাকের চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায় আহিল ঈশা ভাই-বোন ওদের বাবা আজহার মা এই মহিলা। হঠাৎ একটা বন্দুকের শব্দ সবাই নিজেদের বন্দুক নিয়ে প্রস্তুত হয় কিন্তু আশেপাশে তাকিয়ে যা দেখতে পায় তা সবাইকে হতবাক করে দেয়। মারিয়া শেখ এর হাতে বন্দুক উনি একের পর এক গুলি করছে আজহার শেখ এর ওয়াইফ এর বুকে আজহার শেখ গর্জে ওঠে বলে

-" কি করছো তুমি? মারিয়া স্টক প্লিজ স্টপ

কিন্তু মারিয়া শেখ কে আজ বাধা দেওয়া যাচ্ছে না উনি এবার আজহার শেখ এর দিকে বন্দুক ত্যাগ করে একের পর এক গুলি করে। উনি খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে গুলি করে যাতে দুজনের এক জন ও জেনো বাঁচতে না পারে। কপালের মাছ বরাবর আর বুকের মাঝখানে উনি ততক্ষণ পর্যন্ত গুলি করলেন যতক্ষণ পর্যন্ত না বন্ধুকে ম্যাগাজিন খালি হয়। মারিয়া শেখ স্বামীর পাশে অন্য নারী সহ্য করতে পারেনি এতো দিন শুধু শুনেছে তাঁর স্বামী বিয়ে করছে আর ওই বউয়ের সাথে নাকি তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই কিন্তু এখন বুঝতে পারছে সব মিথ্যে ছিলো। আজহার শেখ এতো দিন ওই বউয়ের সাথে সম্পর্ক রেখেছে এমন কী আহিল যে ওনার ছেলে এটাও হয়তো উনি জানে।

আহিল মাত্রই জানল যে আজহার শেখ ওর বাবা এই মহিলা ওর মা
আহিল দৌড়ে গিয়ে মা বাবা কে জড়িয়ে ধরে আজহার শেখ চোখ বন্ধ করার আগে শুধু এটুকুই বলে

-" আমাকে মাফ করে দিও

কথা শেষ করে উনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান আসিফ বাবার পাশে এসে বসে। আরিফ শেখ আর নাদিয়া শেখ চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পরা ছেলের কাছে দৌড়ে যায়। সন্তান যত খারাপ হোক না কেনো বাবা-মার কাছে সন্তান সব সময় ছোট নিষ্পাপ থাকে। নাদিয়া শেখে ছেলের রক্তাক্ত মাথা হাঁটুর উপর নিয়ে আহাজারি শুরু করে এক মা তার সন্তানের জন্য কান্দে। আহিলের বন্দুক টা হাত থেকে নিচে পড়ে আছে মারিয়া শেখ বন্দুক টা হাতে নিয়ে দাঁড়ায় এতো কিছু মাঝে ব্যাপার টা কেউ খেয়াল করেনি। হঠাৎ আরো একটা শব্দ হয় আর সাথে সাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারিয়া শেখ।

চলবে

#গল্প_আমার_ভালোবাসার_প্রিয়া_তুমি
#লেখিকা_ফারিয়া_ইসলাম
পর্ব :- ৭০
গল্প আর কয়েক টা পর্ব আছে তারপর সমাপ্ত 🥹🥹🥹🥹 সবাই গল্প পড়ে চলে যায় রেসপন্স করে না। 💔 গল্প শেষ আপনাদের সাথে আমি ও চলে যাবো

Address

Sadar Road
Chandpur
3600

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fariya Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share