16/12/2025
১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার আগে হায়দ্রাবাদ ছিল ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম বৃহত্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় রাজ্যগুলির মধ্যে একটি। এর আয়তন ছিল প্রায় ২,১৪,১৯০ বর্গ কিলোমিটার, যা ফ্রান্সের আয়তনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ছিল হিন্দু, তবে শাসনভার ছিল নিজামের হাতে।
ঐতিহাসিক মানচিত্রে দেশীয় রাজ্য হায়দ্রাবাদের অবস্থান ও বিস্তৃতি:
অবস্থান: এটি দাক্ষিণাত্যের মালভূমিতে দক্ষিণ-মধ্য ভারতে অবস্থিত ছিল।
বিস্তৃতি: হায়দ্রাবাদ রাজ্য বর্তমান ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের সম্পূর্ণ অংশ এবং মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের কিছু অংশ জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
সীমানা:
উত্তরে: সেন্ট্রাল প্রভিন্সেস এবং বেরার রাজ্য (Central Provinces and Berar)।
পূর্বে: উড়িষ্যা এবং মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি।
দক্ষিণে: মহীশুর রাজ্য এবং মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি।
পশ্চিমে: বোম্বে প্রেসিডেন্সি।
১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন আইনের মাধ্যমে ভাষাভিত্তিক সীমানা নির্ধারণ করা হলে হায়দ্রাবাদ রাজ্য ভেঙে যায়। তেলেগু-ভাষী অঞ্চলগুলি অন্ধ্র রাজ্যের সাথে মিশে অন্ধ্রপ্রদেশ গঠন করে (পরবর্তীকালে ২০১৪ সালে তেলেঙ্গানা নামে পৃথক রাজ্য গঠিত হয়), মারাঠি-ভাষী অঞ্চলগুলি বোম্বে রাজ্যের (বর্তমান মহারাষ্ট্র) সাথে এবং কন্নড়-ভাষী অঞ্চলগুলি মহীশুর রাজ্যের (বর্তমান কর্ণাটক) সাথে যুক্ত।হায়দ্রাবাদ ইতিহাস ১৯৪৭সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ষড়যন্ত্র করেছিলেন।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত স্বাধীন হলে, হায়দ্রাবাদের তৎকালীন নিজাম, মীর উসমান আলী খান (Mir Osman Ali Khan), ভারত বা পাকিস্তান কোনো দেশেই যোগ না দিয়ে হায়দ্রাবাদকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। ভৌগোলিকভাবে ভারতের কেন্দ্রে অবস্থিত একটি বৃহৎ ও স্বাধীন মুসলিম শাসিত রাজ্য ভারতের জাতীয় সংহতি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারতো বলে ভারত সরকার মনে করেছিল।
মূল কারণ
স্বাধীন থাকার আকাঙ্ক্ষা: নিজামের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ইচ্ছা।
ভূ-কৌশলগত অবস্থান: ভারতের কেন্দ্রস্থলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারতের অখণ্ডতার জন্য উদ্বেগের কারণ ছিল।
অভ্যন্তরীণ গোলযোগ: নিজামের সমর্থক কাসিম রিজভির নেতৃত্বে 'রাজাকার' (Razakars) নামক একটি সশস্ত্র মিলিশিয়া বাহিনী হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার চালাচ্ছিল, যা রাজ্যে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।
কূটনৈতিক অচলাবস্থা: নিজাম ও ভারত সরকারের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং নিজাম পাকিস্তানের নৈতিক সমর্থন নিয়েছিলেন।
অপারেশন পোলো
১৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮: তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নির্দেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী হায়দ্রাবাদে প্রবেশ করে। এই সামরিক অভিযানকে ভারত সরকার "পুলিশ অ্যাকশন" (Police Action) হিসেবে অভিহিত করেছিল।
যুদ্ধ ও আত্মসমর্পণ: ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তুলনায় নিজামের বাহিনী ও রাজাকাররা দুর্বল ছিল। মাত্র পাঁচ দিনের লড়াইয়ে নিজামের বাহিনী পরাজিত হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮: হায়দ্রাবাদের সেনাবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং নিজাম ভারতের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
পরবর্তী ফলাফল
অভিযানের পর হায়দ্রাবাদ ভারতের অংশ হয়ে যায় এবং নিজামকে পরবর্তীতে রাজ্যের আনুষ্ঠানিক প্রধান বা 'রাজপ্রমুখ' করা হয়। ১৯৫৬ সালে ভাষাভিত্তিক রাজ্য পুনর্গঠনের সময় হায়দ্রাবাদ রাজ্য প্রশাসনিকভাবে বিলুপ্ত হয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ, মহীশূর (বর্তমান কর্ণাটক) এবং বোম্বে (বর্তমান মহারাষ্ট্র) রাজ্যের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়। এই অভিযানের সময় সৃষ্ট সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা নিয়ে বিতর্ক ও ভিন্নমত রয়েছে।