02/11/2025
*একাদশী বার্তা*
💥 *উত্থান একাদশী*💥
এবং *শুভ ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত - ২০২৫* 💥
🏵 *আগামী ০২ ই নভেম্বর , রবিবার* , ১৫ কার্তিক, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ *গৌর একাদশী*
💥 *আগামী রবিবার উত্থান (প্রবোধিনী) একাদশী ব্রত এবং মঙ্গলময় ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত আরম্ভ।* 🙏
💥 সকলে এই একাদশী ব্রত পালন করবেন এবং অন্যদের এই ব্রত পালনে উৎসাহিত করবেন। এবং মনুষ্য জীবনকে সার্থক করে তুলুন। সেই উপলক্ষে
সকল সাধু গুরু ভক্তবৃন্দের চরণে আমার শতকোটি দন্ডবত প্রণাম l 🙏
🏵 *ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত সময় সূচী*:-
👉 *ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত আরম্ভ*:-
*০২ ই নভেম্বর,রবিবার*,
২০২৫ , ১৫ কার্তিক , 🙏
💥 *ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত সমাপ্ত* :-
*আগামী ০৫ নভেম্বর , বুধবার* ২০২৫ , ১৮ কার্তিক, পূর্ণিমা।🙏
💥 শুভ দামোদর ব্রতের ২৬ তম দিবসে সকল সাধু গুরু বৈষ্ণব গনের শ্রী চরণে জানাই কৃষ্ণময় সুপ্রভাত ও শুভ দামোদর মাসের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অগনিত ভক্তিপূর্ণ দন্ডবৎ প্রনাম । 🙏
💥 *যারা ভীষ্ম পঞ্চক পালন করতে চান, তাদের ব্রতটি পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত ব্রত পালন করা উচিত। সাধারণত এই ব্রতটি পাঁচদিনের। আপনাদের রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহকে ঘৃত প্রদীপ এবং ফুল নিবেদন করা উচিত। প্রথম দিন ভগবানের শ্রীচরণপদ্মে পদ্মফুল নিবেদন করা হয়। দ্বিতীয় দিন ঊরুতে বেলপাতা নিবেদন করা হয়। তৃতীয়দিন ভগবানের নাভিদেশে গন্ধদ্রব্য নিবেদন করা হয়। চতুর্থদিন ভগবানের স্কন্ধে জবাফুল নিবেদন করা হয়। আর পঞ্চমদিনে ভগবানের মস্তকে মালতীফুল নিবেদন করা হয়। যদি আপনি গঙ্গায় স্নান করতে এবং তর্পণ করতে যেতে না পারেন, তাহলে আপনি তিনবার "গঙ্গা" উচ্চারণ করতে পারেন এবং ভীষ্মদেবের উদ্দেশ্যে তর্পণ, অর্ঘ্য এবং প্রণাম নিবেদন করার সময় নিম্নোক্ত তিনটি মন্ত্র উচ্চারণ করতে পারেন।*
🏵 *আগামী ০২ ই নভেম্বর , রবিবার*
*অনুষ্ঠানসূচি নিম্নে বর্ণিত হলো* :-
*****************************************
👉 *উত্থান একাদশীর ব্রত উপবাস*।
👉 *মঙ্গলময় ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত আরম্ভ।*
👉 *ত্রিস্পৃশা মহাদ্বাদশী*🙏
👉 *শ্রীল গৌরকিশোর*
*দাস বাবাজি মহারাজের তিরোভাব তিথি*
👉 *দুপুর পর্যন্ত উপবাস*।🙏
💥 *একাদশী সংকল্প মন্ত্র* :-
***************************************
একাদশীর দিন ভগবান কৃষ্ণের সম্মুখে আমরা অবশ্যই সংকল্প নেব –
👉 একাদশ্যাম্ নিরাহারঃ স্থিতা অহম্ অপরেহহনি।
ভোক্ষ্যামি পুন্ডরীকাক্ষ স্মরনম্ মে ভবাচ্যুত।।🙏
👉 অনুবাদ : হে পুন্ডরীকাক্ষ! হে অচ্যূত! একাদশীর দিন উপবাস থেকে এই ব্রত পালনের উদ্দেশ্যে আমি আপনার স্মরণাপন্ন হচ্ছি।🙏
🏵 *পারনের সময় (পরের দিন)*: --
****************************************
💥 কলকাতা, ভারত সময় :-
সকাল ০৫ : ৪১থেকে ০৯ : ২৭ মি: মধ্যে।
💥 বাংলাদেশ সময় :-
সকাল ০৬ : ০৫ থেকে ০৯ : ৪৯ মি: মধ্যে ।
💥 একাদশী তিথির পরদিন উপবাস ব্রত ভাঙার পর অর্থাৎ, উপবাসের পরদিন সকালে যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে,🙏
🏵 *শুভ ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত - ২০২৫* 💥
********************************************
💥 *শুভ ভীষ্ম পঞ্চক ব্রতটি ০২ ই নভেম্বর একাদশীর দিন থেকে শুরু হয় এবং ০৫ ই নভেম্বর রাসপূর্ণিমার দিন পর্যন্ত চলবে* (চাতুর্মাস্যের শেষ দিন, দামোদর মাসের শেষ দিন)। এই ব্রত রাসপূর্ণিমার দিন সূর্যাস্ত (অথবা চন্দ্রোদয়) পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। সাধারণত একাদশীতে সম্পূর্ণ উপবাস এবং তারপর পরবর্তী দিনগুলিতে ফলমূল গ্রহণ করতে বলা হয়। অথবা কেউ পাঁচদিনই ফলমূল গ্রহণ করতে পারে।🙏
🏵 *হরে কৃষ্ণ প্রিয় ভক্তবৃন্দ, ভীষ্মপঞ্চক ব্রত ও দামোদর ব্রত সংক্রান্ত* বিভিন্ন মন্ত্র ও নিয়মসমূহ ছবির মধ্যে দেওয়া হয়েছে আপনারা সবাই দেখে নেবেন :-
********************************************
👉 *ভীষ্মপঞ্চক ব্রতের সংকল্প মন্ত্র* ❓
👉 *ভীষ্ম পঞ্চক ব্রতের তর্পনবিধি এবং মন্ত্র*❓
👉 *ভীষ্ম পঞ্চক ব্রতের আহারের বিধি*❓
👉 *কোন দিন কি কি ফুল অর্পন করতে হয়*❓
👉 *দামোদর ব্রত ও*
*ভীষ্মপঞ্চক ব্রত*
*সমাপনের পারণ মন্ত্র কি* ❓
🏵 *মঙ্গলময় ভীষ্ম পঞ্চক! ব্রত* :-
**************************************
💥 শ্রীল জয়পতাকা স্বামী মহারাজের পক্ষ থেকে,
💥 যারা ভীষ্ম পঞ্চক পালন করতে চান, তাদের ব্রতটি পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত ব্রত পালন করা উচিত। এই বছর মায়াপুরে এই ব্রতটি ০২ ই নভেম্বর থেকে ০৫ ই নভেম্বর পালিত হচ্ছে। সাধারণত এই ব্রতটি পাঁচদিনের। আপনাদের রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহ অথবা অন্য যেকোন বিগ্রহকে ঘৃত প্রদীপ এবং ফুল নিবেদন করা উচিত।🙏
👉 *প্রথম দিন* ভগবানের শ্রীচরণপদ্মে পদ্মফুল নিবেদন করা হয়।
👉 *দ্বিতীয় দিন* উরুতে বেলপাতা নিবেদন করা হয়।
👉 *তৃতীয়দিন* ভগবানের নাভিদেশে গন্ধদ্রব্য নিবেদন করা হয়।
👉 *চতুর্থদিন* ভগবানের স্কন্ধে জবাফুল নিবেদন করা হয়।
👉 আর *পঞ্চমদিনে*
ভগবানের মস্তকে মালতীফুল নিবেদন করা হয়। 🙏
💥 *যদি আপনি গঙ্গায় স্নান করতে এবং তর্পণ করতে যেতে না পারেন, তাহলে আপনি তিনবার "গঙ্গা" উচ্চারণ করতে পারেন এবং ভীষ্মদেবের উদ্দেশ্যে তর্পণ, অর্ঘ্য এবং প্রণাম নিবেদন করার সময় নিম্নোক্ত তিনটি মন্ত্র উচ্চারণ করতে পারেন।*
💥 *ভীষ্মপঞ্চক ব্রত-২০২৫ (ভগবানের শ্রীঅঙ্গে পুষ্প অর্পন বিধি)*:-
*****************************************************************
👉 ০২ ই নভেম্বর , রবিবার (একাদশীতে) - শ্রীকৃষ্ণের চরণে পদ্ম ফুল (বিকাল ৪:৪ এর মধ্যে)🙏
👉 ০৩ ই নভেম্বর , সোমবার (দ্বাদশীতে) - উরুতে বেল পাতা (দুপুর ১ টার মধ্যে)🙏
👉 ০৪ ই নভেম্বর , মঙ্গলবার (ত্রয়োদশীতে)- নাভিতে গন্ধ দ্রব্য (চন্দন, অগুরু, কপুর) (সকাল ৯:৪৩ এর মধ্যে)🙏
👉 ০৪ ই নভেম্বর , মঙ্গলবার , সকাল ৯:৪৩ এর পরে (চতুর্দশী তিথিতে) - স্কন্ধদেশে সাদা জবা ও বেল পাতা।
👉 ০৫ ই নভেম্বর, বুধবার , পূর্ণিমা তিথিতে (সকাল ৬:১৯ এর পরে) শ্রীকৃষ্ণের মস্তকে মালতী ফুল অর্পণ করবেন🙏
💥 কোনো দ্রব্যের অভাব হলে মানসিক ভাবেও ঐ দ্রব্য বা ফুল অর্পণ করা যায় l🙏
💥 যদি গঙ্গায় স্নান করতে এবং তর্পণ করতে যেতে না পারেন, তাহলে আপনি তিনবার "গঙ্গা" উচ্চারণ করতে পারেন এবং ভীষ্মদেবের উদ্দেশ্যে তর্পণ, অর্ঘ্য এবং প্রণাম নিবেদন করার সময় নিম্নোক্ত তিনটি মন্ত্র উচ্চারণ করতে পারেন।🙏
💥 তর্পণ দেয়ার সময় উপবীতকে পেছনদিকে নিয়ে (যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এবং উভয় হাতে জল নেয়া হয়। মন্ত্র উচ্চারণ করা হয় এবং দুই হাত ডানদিকে এবং নিচে কাত করে নিবেদন করা হয় যাতে জল ডান বৃদ্ধাঙ্গুলির নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এটি পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য নিবেদনের একটি উপায়। আপনারা ভীষ্ম পঞ্চকে এটি ভীষ্মদেবের উদ্দেশ্যে করেন।)🙏
🏵 *প্রণাম মন্ত্র* :-
********************************************
ওঁ ভীষ্ম শান্তনবো বীরঃ
সত্যবাদী জিতেন্দ্রিয়ঃ।
অভিরদ্ভিরবাপ্নোতু
পুত্রপৌত্রচিতাং ক্রিয়াম্।।
🏵 *তর্পণ মন্ত্র* :-
*******************************************
ওঁ বৈয়াগ্রপদ্য গোত্রায়
সংস্কৃতি প্রবরায় চ।
অপুত্রায় দদাম্যেতৎ
সলিলং ভীষ্মবর্মণে।।
🏵 *অর্ঘ্য মন্ত্র* ,:-
*******************************************
বসুনামাবতারায়
শান্তনোরাত্মজায় চ।
অর্ঘ্যং দদামি ভীষ্মায়
আজন্ম ব্রহ্মচারিণে।।
🏵 *মঙ্গলময় ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত কি* ❓
********************************************
💥 এই ব্রত অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তিকে ভগবৎপ্রেম প্রদান করে- সর্বপাপবিনির্মুক্তঃ প্রাপ্তকামো হরিং ব্রজেৎ।।(গরুড়পুরাণ, পূর্বখন্ড ১২৩.২)। বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণ বা শ্রীবিষ্ণুর প্রীতিপ্রদ বলে একে বিষ্ণুপঞ্চকও বলা হয়। সর্ববিধ বার্ষিক ব্রতের মধ্যে চাতুর্মাস্য ব্রত প্রধান, আর চাতুর্মাস্য ব্রত অপেক্ষা ভীষ্ণপঞ্চক ব্রত সর্বপ্রধান।🙏
👉 *ভীষ্মপঞ্চক ব্রত কীভাবে এলো*❓
********************************************
💥 ভীষ্মপঞ্চক ব্রত প্রসঙ্গে স্কন্দপুরাণের বিষ্ণুখন্ডে, কার্তিকমাসমাহাত্ম্যে ৩২তম অধ্যায়ের বর্ণনা অনুসারে-সত্যযুগের প্রথমে অম্বরীষ ও ভোগ প্রভৃতি নৃপগণ চাতুর্মাস্যের শেষ মাস অর্থাৎ, কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষে এই ব্রতাচরণ করেছিলেন। পরবর্তীকালে মহারাজ শান্তনুতনয় ভীষ্ম ভগবান বাসুদেবের নিকট এই ব্রত প্রাপ্ত হন। মহাত্মা ভীষ্ম শরশয্যায় শয়ন করে পরপর রাজধর্ম, মোক্ষধর্ম ও দানধর্ম কীর্তন করেন; পান্ডবগণ ভীষ্মভাষিত সেই ধর্মতত্ত্ব প্রবণ করেন; এমনকি কৃষ্ণও তা শ্রবণ করেন। তখন ভীষ্মভাষিত ধর্ম শ্রবণে মনে মনে প্রীত হয়ে কৃষ্ণ বলেন-
💥 ‘হে ভীষ্ম, তুমিই ধন্য; কেননা, তুমি আজ আমাদের শ্রেষ্ঠ ধর্ম শ্রবণ করিয়েছে। তুমি আজ আমাদের শ্রেষ্ঠ ধর্ম শ্রবণ করিয়েছ। তুমি কার্তিক মাসের একাদশী দিবসে জল যাঞ্চা করেছিলে, অর্জুন বানবেগে গঙ্গাজল আনয়নপূর্বক তোমার শরীর শীতল করেছেন। অতএব, তদবধি সকলেই কার্তিকের শুক্লা একাদশী হতে পূর্ণিমা পর্যন্ত অর্ঘ্যদানে তোমার সন্তোষ সাধন করবে। অতএব, সকলেই কার্তিকের শুক্লা একাদশী হতে পূর্ণিমা পর্যন্ত অর্ঘ্যদানে তোমার সন্তোষ সাধন করবে। অতএব, সকলেই সর্ব প্রযত্নে আমার প্রীতিপ্রদ এই ভীষ্মপঞ্চক নামক ব্রত আচরণ করুক। কার্তিক ব্রত করে যে নর এই ভীষ্মপঞ্চক ব্রত না করে, তার সমগ্র কার্তিক ব্রত বিফল হয়ে থাকে। মানব যদি কার্তিক ব্রত করতে অসমর্থ হয়,
💥 তবে কেবল ভীষ্মপঞ্চক করেই সমগ্র কার্তিক ব্রতের ফল লাভ করতে পারে।” পদ্মপুরাণের উত্তরখন্ডে (১২৪/২৯-৩০) বলা হয়েছে-
ভীষ্মেণৈতদযতঃ প্রাপ্তং ব্রতং পঞ্চদিনাত্মকম্।।
সকাশাদ্বাসুদেবস্য তেনোক্তং ভীষ্মপঞ্চকম্।
💥 “ভগবান বাসুদেবের নিকট থেকে ভীষ্মদেব এই পঞ্চদিনাত্মক ব্রত প্রাপ্ত হয়েছেন, তাই তা ভীষ্মপঞ্চক ব্রত নামে অভিহিত।” 🙏
ব্রতানাং মুনিশার্দ্দূল প্রবরং বিষ্ণুপঞ্চকম্।
তস্মিন যঃ পূজয়েদ্ভক্ত্যা শ্রীহরিং রাধয়া সহ।।
গন্ধপুষ্পের্ধূপদীপৈর্বস্ত্রৈর্নানাবিধৈঃ ফলৈঃ।
স যাতি বিষ্ণুসদনং সর্ববিবর্জিতঃ।।
(পদ্মপুরাণ, স্বর্গখন্ড ৪৮/৩-৪) 🙏
💥 অর্থাৎ, “বিষ্ণুপঞ্চক ব্রত ব্রতসমূহের মধ্যে প্রবর। সেসময় যিনি ভক্তি সহকারে গন্ধ, পুষ্প, ধূপ, দীপ, বস্ত্র ও নানাবিধ ফল দ্বারা শ্রীরাধাসহ শ্রীহরিকে অর্চনা করেন, তিনি সর্বপাপ বিবর্জিত হয়ে বিষ্ণুসদনে গমন করেন।”
🏵 *পত্র-পুষ্প অর্বণ বিধি* :-
"*****************************************
💥 ব্রতকালে শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ বা ভগবানের অন্য যেকোনো রূপের শ্রীবিগ্রহকে ঘৃত প্রদীপ ও পুষ্প নিবেদন করা উচিত। ভগবানের শ্রীবিগ্রহে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন পুষ্প নিবেদনের নিয়ম রয়েছে। এ প্রসঙ্গে গরুড়পুরাণ, পূর্বখন্ড ১২৩ অধ্যায়ে (৮-৯) বলা হয়েছে- ১ম দিন : পদ্মফুল- চরণকমলে, ২য় দিন: বিল্বপত্র- জানুতে, ৩য় দিন: গন্ধদ্রব্য- নাভিকমলে, ৪র্থ দিন- বিল্বপত্র ও জবাফুল- স্কন্দদেশে, ৫ম দিন: মালতীফুল-শিরোদেশে। যদি কখনো দুটো তিথি একদিনে পড়ে, তবে ঐদিন দু’দিনের উদ্দিষ্ট ফুলগুলো একই দিনে নিবেবদন করতে পারেন। আর যদি কারো নিকট ফুলগুলো না থাকে, তবে ভগবানের নির্ধারিত স্থানে নির্ধারিত ফুলগুলো কেউ মানসিকভাবে নিবেদন করতে পারেন।
🏵 *আহার বিধি :*-
*********"**********************************
💥 ব্রতটি ০২ ই নভেম্বর (রবিবার) একাদশীর দিন থেকে শুরু হয়ে এবং ০৫ ই নভেম্বর রাসপূর্ণিমার দিন পর্যন্ত চলবে । এই ব্রত রাসপূর্ণিমার দিন সূর্যাস্ত (অথবা চন্দ্রোদয়) পর্যন্ত সম্পন্ন হয়। সাধারণত একাদশীতে সম্পূর্ণ উপবাস এবং তারপর পরবর্তী চারদিন ফলমূল গ্রহণ করতে বলা হয়। অথবা কেউ পাঁচদিনই ফলমূল গ্রহণ করতে পারে।🙏
🏵 *ব্রতের ৩টি স্তর:-*
*************************************************************
💥 ভক্তরা তাদের সুবিধামতো নিম্নোক্ত স্তরগুলোর যেকোনটি অনুসরণ করতে পারেন। এটি যেন তাদের সাধারণ ভক্তিমূলক সেবা ও দৈনন্দিন সাধনায় বিঘ্ন সৃষ্টি না করে।🙏
💥 *ভীষ্ম পঞ্চক ব্রতের ১ম স্তর:--*
********************************
পঞ্চগব্যের একেকটি একেক দিনে গ্রহণ করা যেতে পারে।
১ম দিন: গোময়
২য় দিন: গোমূত্র
৩য় দিন: দুধ (ক্ষীর)
৪র্থ দিন: দধি
৫ম দিন: গোময়, গোমূত্র, দুগ্ধ, দধি ও ঘিয়ের মিশ্রণে তৈরি পঞ্চগব্য।
💥 *ভীষ্ম পঞ্চক ব্রতের ২য় স্তর:--*
*************************************************************
যদি কেউ ১ম স্তর অনুসরণ করতে না পারেন তবে ফলমূল গ্রহণ করা যেতে পারে। যেসব ফলে প্রচুর বীজ রয়েছে যেমন - পেয়ারা, ডালিম, পেঁপে, শসা প্রভৃতি বর্জন করা উচিত।
আলু, কাঁচাকলা বা মিষ্টিআলু সেদ্ধ করে গ্রহণ করা যেতে পারে। স্বাদের জন্য সৈন্ধব লবণ ব্যবহার অনুমোদিত। কাজুবাদাম, কিসমিস ও খেজুর গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে দুধ বা দুগ্ধজাত কোন দ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না। নারকেল ও নারকেলের জল গ্রহণ করা যাবে।
অধিকাংশ ব্যক্তি ফলমূল গ্রহণ করেন। তাই আলু, মূল এবং ফল যেমন কলা, আপেল, কূল, পানিফল, বাদাম, আখরোট, হেলেনটস, কাজুবাদাম, কিসমিস ও খেজুর খাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ফলের মতো এগুলোও ফল হিসেবে বিবেচিত হয়।
আখের রস এবং ইক্ষুদ্রব্য যেমন মিছরি গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু গুড় এবং মোলাসেস অনুমোদিত নয়। আলু, কাঁচকলা বা মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে গ্রহণ করা যেতে পারে। স্বাদের জন্য সৈন্ধব লবণ ব্যবহার অনুমোদিত। তবে দুধ বা দুগ্ধজাত কোনো দ্রব্য গ্রহণ করা যাবে না। নারকেল ও নারকেলের জল গ্রহণ করা যাবে।
💥 *ভীষ্ম পঞ্চক ব্রতের ৩ য় স্তর:--*
*************************************************************
যদি কেউ ২য় স্তর পালনে অসমর্থ হন তবে ""হবিষ্যান্ন"" গ্রহণ করতে পারেন।
উৎস: পদ্মপুরাণ, ব্রহ্মখণ্ড- ২৩ অধ্যায়; স্কন্দ পুরাণ, বিষ্ণুখণ্ড- কার্তিক মাহাত্ম্য- ৩২ অধ্যায়; গরুড় পুরাণ, পূর্বখণ্ড- ১২৩ অধ্যায়।
শ্রী শ্রী হরিভক্তিবিলাসের ১৩ অধ্যায়ের ১০-১৩ নং শ্লোকে হবিষ্যান্নের উপাদান উল্লেখ করা হয়েছে:
---------------------
💥 নিম্নোক্ত উপাদানগুলো হবিষ্যান্ন তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে। সাধারণত হবিষ্য চাল এবং মুগ ডাল দিয়ে তৈরি করা হয়। যারা একাদশী থেকে একাদশী পর্যন্ত চাতুর্মাস্য পালন করছেন, নিয়মানুযায়ী তাদের দামোদর মাস একাদশী পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তাই তারা তাদের হবিষ্যে মুগ ডাল গ্রহণ করতে পারেন। যাইহোক, অধিকাংশ ভক্তগণ পূর্ণিমা থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত চাতুর্মাস্য ব্রত পালন করেন, তাই ভীষ্ম পঞ্চকের হবিষ্যে মুগ ডাল অনুমোদিত হবে না। সকল প্রকার তেল পরিত্যাজ্য।
* আতপ চাল
* ঘি
* সৈন্ধব লবণ
* পাকা কলা
* কাল শাক
* গম
* বার্লি
💥 *এই উপাদানগুলোও গ্রহণ করা যেতে পারে:*
* ফল (স্কন্দপুরাণের নাগরখণ্ডে অবশ্যই একটি ছোট বীজের অথবা কম বীজপূর্ণ ফলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে)
* আম
* কাঁঠাল
* লাবালী ফল
* কেয়া ব্যতীত সকল মূল
* পিপলী
* হরিতকি
* আমলকি
* নারঙ্গ
* ইক্ষুদ্রব্য (গুড় ব্যতীত)
* ননীপূর্ণ গোদুগ্ধ
💥 *নিম্নবর্ণিত দ্রব্যগুলো হবিষ্যান্নের অন্তর্ভুক্ত হলেও তা কার্তিক মাসে বর্জন করতে বলা হয়েছে:*
* মুগ ডাল
* তিল তেল
* বেতো শাক
* সাত্ত্বিক শাক
* মূলা
* জিরা
* তেঁতুল
💥 একজন ব্যক্তির প্রতিদিন গঙ্গার মত পবিত্র নদীতে স্নান করা উচিত। নিম্নলিখিত মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে তিনবার ভীষ্মদেবের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা উচিত:
তর্পণ মন্ত্র
(তর্পণ দেয়ার সময় উপবীতকে পেছনদিকে নিয়ে (যাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এবং উভয় হাতে জল নেয়া হয়। মন্ত্র উচ্চারণ করা হয় এবং দুই হাত ডানদিকে এবং নিচে কাত করে নিবেদন করা হয় যাতে জল ডান বৃদ্ধাঙ্গুলির নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এটি পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে নৈবেদ্য নিবেদনের একটি উপায়। আপনারা ভীষ্ম পঞ্চকে এটি ভীষ্মদেবের উদ্দেশ্যে করেন।)
💥 ব্রতকারী কতবার আহার গ্রহণ করতে পারে সে ব্যাপারে নির্ধারিত কোনোকিছু উল্লেখ নেই। ভীষ্মপঞ্চক ব্রত ব্যাক্তির সামর্থ্য অনুসারে বিভিন্ন স্তরে উদযাপন করা যায়-একথা পদ্মপুরাণে (স্বর্গখন্ড ৪৮/১৫) বলা হয়েছে-এবং কর্ত্তুমশক্তে ষঃ ফলমূলঞ্চ ভোজনম্।কুর্য্যাদ্ববিষ্যৎ বা বিপ্র যথোক্তবিধিনা হ বৈ।।
সাধারণত একাদশীতে সম্পূর্ণ উপবাস এবং তার পরবর্তী চারদিন ফলমূল গ্রহণ করতে বলা হয় অথবা কেউ পাঁচদিনই ফলমূল গ্রহণ করতে পারেন। ভক্তরা তাদের সুবিধামতো নিম্নোক্ত স্তরগুলোর যেকোনোটি অনুসরণ করতে পারেন, যেন তাদের সাধারণ ভক্তিমূলক সেবা ও দৈনন্দিন সাধনায় বিঘ্ন সৃষ্টি না করে।
👉১ম স্তর-পঞ্চগব্য গ্রহণ
পঞ্চগব্যের একেকটি একেক দিনে গ্রহণ করা যেতে পারে (গ.পু.পূর্ব ১২৩.১০; প.পু. স্বর্গ.৪৮.১১-১৪; স্কন্দ.পু.কার্তিকমাসমাহাত্ম্য ৩২. ৪৬, ৪৭, ৫০)। ১ম দিন: গোময়, ২য় দিন : গোমুত্র, ৩য় দিন: দুধ, ৪র্থ দিন: দধি, ৫ম দিন: গোময়, গোমূত্র, দুগ্ধ,
👉 *ভীষ্মপঞ্চক ব্রতের উদ্দেশ্যঃ* -
********************************************
যেহেতু উদ্দেশ্যটি হলো আমাদের নিয়মিত ভগবদ্ভক্তি চালিয়ে যাওয়া, এমন নয় যে, আমি উপবাস করছি, তাই আমি কিছু করব না। যাদের ডায়াবেটিস আছে অথবা যারা সম্পূর্ণ উপবাস করতে পারবেন না, তারা হবিষ্যান্ন পেতে পারেন। যে ব্যাপারটি চিত্তাকর্ষক তা হলো, ভীষ্মদেব তাঁর পিতার কারণে বিবাহ না করার প্রতিজ্ঞা করেছেন।
এর পেছনে এক বৃহৎ কাহিনী রয়েছে। প্রার্থনায় আছে, ‘আজন্ম ব্রহ্মচারিণে’, আমরা তাঁর জন্য তর্পণ করছি। তাঁর কোনো সন্তান নেই, তিনি কখনো বিবাহ সারা ভারত এবং সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ ভীষ্মদেবের জন্য ভীষ্মপঞ্চক করছেন; এবং তারা তর্পণ করছেন; কিন্তু তাঁর কোনো সন্তান নেই এবং তিনি গঙ্গাদেবী প্রসন্ন হন যে, তাঁর পুত্র সম্মানপ্রাপ্ত হচ্ছেন। এভাবে এই ব্রতের ফলে মাতাগঙ্গা, মহাত্মা ভীষ্মদেব এবং সর্বোপরি পরমেশ্বর ভগবান প্রসন্ন হন। আর তাঁকে প্রসন্ন হন। আর তাঁকে প্রসন্ন করাই সমস্ত যজ্ঞ, দান, ব্রত বা তপস্যার মুখ্য উদ্দেশ্য।
💥 হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। 🙏
💥 হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।
゚viralシalシ ゚viralシfypシ゚viralシ