16/05/2026
পেকুয়া ঋণদান সমিতিতে সদস্যদের মাঝে শুধুই চোঁখের পানি!
পেকুয়া ঋণদান সমিতির সাধারণ সদস্যদের সঞ্চয়, ডিপিএস ও আমানতের টাকা ফেরত না দিয়েই আবারও নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু করায় সদস্যদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান কমিটির সভাপতি তারেক ও সম্পাদক জসিম গং জেলা সমবায় অফিসার মোস্তফা কামালকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে কাজের অনুমোদন নিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, আগামী সাধারণ সভায় সদস্যদের কষ্টার্জিত টাকায় ক্রয় করা সমিতির জায়গা বিক্রির পাঁয়তারাও চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ সদস্যদের দাবি, জায়গা বিক্রির অনুমোদন নিতেও বড় অংকের ঘুষ লেনদেনের চেষ্টা চলছে। অভিযোগ রয়েছে, জায়গা বিক্রির টাকা থেকে একটি অংশ নেতাদের পকেটে যাবে এবং বাকি অংশ ভবন নির্মাণে ব্যয় করা হবে।
অথচ এর আগের কমিটির ভবন নির্মাণে অনিয়মের তদন্ত করছে বর্তমান কমিটিই। প্রশ্ন উঠেছে— তদন্তের আড়ালে নতুন করে কার স্বার্থে কাজ শুরু হলো? কারা নিজেদের পকেট ভারি করছে? অভিযোগ রয়েছে, জেলা সমবায় অফিসারের পকেটও ভারি করা হচ্ছে।
এদিকে সদস্যরা জানান, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে যেকোনো সময় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার ডাক দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে জেলা সমবায় অফিসারকে ঘুষ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন, কাজের অনুমোদন ও জায়গা বিক্রির অনুমোদন নেওয়ার অভিযোগে ডকুমেন্টসহ সমবায় মন্ত্রণালয়, সমবায় মহাপরিচালক এবং যুগ্ম নিবন্ধক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাধারণ সদস্য ঐক্যপরিষদ।
আরও অভিযোগ উঠেছে, আগামী ২১ তারিখের সাধারণ সভায় জায়গা বিক্রির অনুমোদন আদায়ের জন্য কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে টাকা অফার করা হয়েছে। তবে তারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, কোনো অনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ সভায় নিজেদের অনুগত লোকজনকে সামনের সারিতে বসিয়ে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সাধারণ সদস্যদের দাবি, বর্তমান কমিটির লুটপাট ও অনিয়মের কারণে তারা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। এখন সদস্যদের একটাই প্রশ্ন— নিজেদের কষ্টের টাকায় গড়া সমিতি কি রক্ষা পাবে, নাকি দুর্নীতির কাছে হার মানবে?