20/03/2026
রমজানের শেষ জুমা আল ই বিদা
1
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
রমজানের শেষ জুমা ও ঈদের দিনের সুন্নাতসমূহ
মুফতি মুহিব্বুল্লাহ হাবিবী
জামিয়া ইলামিয়া আরাবিয়া বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
الْحَمْدُ للهِ الَّذِي وَحْدَهُ وَالصَّلُوةُ وَالسَّلَامُ عَلَى مَنْ لَا نَبِيَّ بَعْدَهُ، أَمَّا بَعْدُ قَالَ اللهُ تَعَالَى فِي كَلَامِهِ الْمَجِيدِ وَفُرْقَانِهِ الْحَمِيدِ أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ ، وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ ، بقرة - ١٨٥ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَنْ قَامَ لَيْلَتَي الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لله لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ، بيهقى : ٣٤٣٨
মুহতারাম হাজিরিন
আমি আপনাদের সামনে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন থেকে সুরাতুল বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতের অংশ বিশেষ তিলাওয়াত করেছি এবং হাদিসের সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ বায়হাকি শরিফ থেকে ৩৪৩৮ নম্বর হাদিস পাঠ করেছি। সংক্ষিপ্ত সময়ে এই আয়াত ও হাদিসের আলোকে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করব। وما توفيقى الا بالله
ভূমিকা
মুহতারাম হাজিরিন
আমরা এখন পবিত্র মাহে রমজানের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে উপস্থিত হয়েছি। আর মাত্র ...... দিন বাকি আছে। তারপর পবিত্র মাহে রমজান আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেবে। আজকের এই জুমা হলো- পবিত্র মাহে রমজানের সর্বশেষ জুমা। তাই অনেকে এই জুমাকে জুমাতুল বিদা বলে সম্বোধন করে। আবার কেউ আছে এই দিনে নির্দিষ্ট রাকাতে নফল নামাজ পড়ে। আবার কেউ কেউ এই দিনকে কেন্দ্র করে ভালো ভোজের আয়োজন করে। এগুলো তাদের মনগড়া কুসংস্কার। এর সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। রাসুল সা. ও সাহাবায়ে কেরাম থেকেও এ ধরনের কোনো কিছুর প্রমাণ নেই।
তবে এটা সত্য যে, মাহে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে হিসেবে অন্য মাসের জুমার চেয়ে মাহে রমজানের জুমাও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যেমন হাদিস শরিফে এসেছে-
سَيِّدُ الشُّهُورِ شَهْرُ رَمَضَانَ، وَسَيِّدُ الْأَيَّامِ يَوْمُ الْجُمُعَة : مجمع الزوائد : ٤٧٧٧
মাসের সরদার হলো রমজান আর দিনের সরদার হলো জুমা। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ৪৭৭৭)
এই হিসেবে রমজানের জুমা হলো- দু'টি ফজিলতের সম্মিলন। মাস হিসেবে শ্রেষ্ঠ মাস আর দিন হিসেবে শ্রেষ্ঠ দিন। সুতরাং এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা এই জুমাকে মূল্যায়ন করতে পারি।
আরেক দিক থেকেও এই জুমা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ; তা হলো- এটি এমন এক জুমা, যা আগামী এক বছরের জন্য আর আমাদের কাছে আসবে না। আর আগামী বছর আমরা বেঁচে থাকব কি না, সেটাও জানি না। তাই হতে পারে- এই রমজান আমার জীবনের সর্বশেষ রমজান আর এই জুমা আমার জীবনের সর্বশেষ জুমা। এ কারণে একজন ঈমানদার হিসেবে, রমজান ও রমজানের শেষ জুমার বিদায়লগ্নে মনে-মনে ব্যথিত হওয়া! এ ছাড়া আর কিছু নয়।
মাহে রমজানের বিদায়লগ্নে আমাদের অনুভূতি
প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ, আল্লামা তকি উসমানি দা. বা. এটাই বুঝাতে চেয়েছেন- মাহে রমজানের বিদায়লগ্নে সকল মুসলমানের অন্তর খুশি ও ভয় মিশ্রিত হওয়া চাই। খুশি এজন্য যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে রমজানের মতো বরকতময় একটি মাস দান করেছেন এবং রোজা রাখার তাওফিক দিয়েছেন। সেই সাথে তারাবি, তিলাওয়াত ও জিকির-আজকার করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য বিরাট এক সৌভাগ্যের বিষয়। কারণ সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে, যারা রমজান পেয়েও রোজা রাখেনি, তারাবির নামাজও পড়েনি এবং তাদের জীবনে নতুন কোনো পরিবর্তন আনেনি। বরং তারা আগের মতোই জীবনযাপন করেছে। সুতরাং শুকরিয়া সেই মহান সত্তার, যিনি আমাদেরকে এই মহান কাজগুলো আনজাম দেওয়ার তাওফিক দান করেছেন, আলহামদুলিল্লাহ!
2
আর ভয় এ জন্য যে, আল্লাহ না করুন, এত কিছুর পরও যদি আমরা এ রমজানে নিজেদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করাতে না পারি, তাহলে আমাদের জন্য রয়েছে জিবরাইল আ.-এর সেই ঐতিহাসিক বদদোআ-
بَعْدَ مَنْ أَدْرَكَ رَمَضَانَ فَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ
ধ্বংস হোক ঐ ব্যক্তি যে রমজান পেল, অথচ নিজের গুনাহসমূহ ক্ষমা করাতে পারল না। নাউজুবিল্লাহ! (বায়হাকি: ১৪৭১) ভাবুন তো! কী ভয়ংকর সতর্কবাণী! না জানি আমিও সেই বদদোআর অন্তরর্ভুক্ত হয়ে যাই কি না? এ জন্য মাহে রমজানের বিদায় বেলায় অন্তরে ভয়ও রাখা চাই।
ক্ষমা লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ
মুহতারাম হাজিরিন
পবিত্র মাহে রমজান মূলত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বান্দার জন্য ক্ষমা পাওয়ার এক সূবর্ণ সুযোগ। এ মাসে তিনি আমাদের জন্য ধাপে-ধাপে কিছু সুযোগ করে দিয়েছেন।
১. রোজা রাখার তাওফিক দিয়েছেন। রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে।
২. তারাবির নামাজ পড়ার সুযোগ দিয়েছেন। তারাবির নামাজ দ্বারা মানুষ আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে।
৩. ইতেকাফ করার সুযোগ দিয়েছেন। ইতেকাফ দ্বারা মানুষ একান্তভাবে আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পণ করে।
৪. শেষ দশকে শবে কদর তালাশের সুযোগ দিয়েছেন, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী।
এতগুলো সুযোগ পাওয়ার পরও যদি কেউ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করাতে না পারে, তাহলে নিঃসন্দেহে সেটা তার জন্য চরম দুর্ভাগ্যের বিষয়। তবে এত কিছুর পরও একজন মুমিনের জন্য হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা অসীম দয়ালু। তিনি বান্দাদের জন্য আরো কিছু সুযোগ রেখে দিয়েছেন। তন্মধ্যে একটি হলো- ঈদের রাতের ইবাদত, যা আমাদের সামনে। এই রাতেও আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। ঈদের রাত বছরের ফজিলতপূর্ণ পাঁচ রাতের এক রাত। হাদিস শরিফে এই রাতের বহু ফজিলত বর্ণিত আছে।
ঈদের রাতের ফজিলত
বায়হাকি শরিফে আছে-
قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ قَامَ لَيْلَتَي الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا اللهَ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ، রাসুল সা. ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় দু' ঈদের রাত জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, সেই দিন তার অন্তর মরবে না, যেই দিন সমস্ত অন্তর মরে যাবে। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন। (বায়হাকি: ৩৪৩৮)
মুহতারাম হাজিরিন
কিয়ামতের দিন হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এক দিন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا কিয়ামতের ভয়াবহতা এত বেশি হবে যে, সকল স্তন্যদানকারী মা তাদের দুগ্ধপোষ্য শিশুদেরকে ভুলে যাবে এবং গর্ভবতী নারী তার গর্ভপাত ঘটাবে। (হজ: ২২)
কিন্তু ঈদের রাতের আবেদ ঐ দিন নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে থাকবে। যখন সবাই নিজ নিজ হিসাব নিয়ে পেরেশান থাকবে, তখন সে তুলনামূলক নির্ভয়ে নিজের হিসাব দিয়ে যাবে। অন্য এক হাদিসে আছে,
من أَحْيَا اللَّيَالِي الْخَمْسَ وَجَبت لَهُ الْجَنَّةِ لَيْلَة التَّروية وَلَيْلَة عَرَفَة وَلَيْلَة النَّحْرِ وَلَيْلَة الْفِطْرِ وَلَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَان، الترغيب والترهيب - ١٦٥٦
যে ব্যক্তি বছরের ৫ রাত জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে। এই পাঁচটি রাত হলো-জিলহজ মাসের ৮ তারিখের রাত, ৯ তারিখের রাত, ১০ তারিখের রাত, শবে বরাতের রাত এবং ঈদুল ফিতরের রাত। (তারগিব: ১৬৫৬, হাদিসটির সনদ যদিও দুর্বল, কিন্তু সকল মুহাদ্দিসিনে কেরাম একমত যে, নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের উপরও আমল করা যায়) এই রাতটি আমাদের সামনে। অর্থাৎ আগামী বার কিংবা ..... বার দিবাগত রাত। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই বরকতময় রাতে ইবাদত করে তাঁর নৈকট্য অর্জন করার তাওফিক দান করুক। আমিন
ঈদের রাতের গাফিলতি ও বেহায়াপনা
মুহতারাম হাজিরিন
3
অনেকে মনে করে ঈদের চাঁদ উঠে গেছে মানে রমজান শেষ হয়ে গেছে, তাই পুরো এক মাস যা করতে পারেনি; ঈদের রাতে তার কাজা-কাফ্ফারা আদায় করে ফেলে। মনে হয় যেন জেলখানা থেকে মুক্তি পেয়েছে। যারা ধূমপান ছেড়ে ছিল, তারা ধূমপান শুরু করে। যারা গান-বাজনা বন্ধ রেখেছিল, তারা গান-বাজনা চালু করে। যারা ফেসবুক বা ইন্টারনেট থেকে দূরে ছিল, তারা পুনরায় সেগুলোতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজনরা যখন বাড়িতে আসে, তখন সবাই আনন্দ-উল্লাসের সীমা অতিক্রম করে ফেলে। পুরো দমে গল্প-গুজব ও অশ্লীল আড্ডায় মেতে উঠে। অথচ, যে উদ্দেশ্যে কষ্ট করে পুরো একমাস রোজা রেখেছে, তারাবির নামাজ পড়েছে, তিলাওয়াত ও জিকির আজকার করেছে, তা এখনও অর্জিত হয়নি। সেই উদ্দেশ্য হলো- আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান পাওয়া এবং বিনিময় গ্রহণ করা। এই রাত সেই প্রতিদান পাওয়া ও বিনিময় গ্রহণ করার রাত।
মাজমাউজ্ জাওয়ায়েদের মধ্যে আছে- যখন ঈদের চাঁদ উঠে, তখন আল্লাহ তাআলা পুরো আসমানে এ রাতকে ليلة الجائزة অর্থাৎ প্রতিদান পাওয়ার রাত বলে ঘোষণা করতে থাকেন। সুতরাং হাদিসের ভাষায় এ রাতের আনন্দ হলো প্রতিদান পাওয়ার আনন্দ এবং পুরস্কার পাওয়ার আনন্দ। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ ৩২২৫, তাবরানি: ৬২০)
একটি উদাহরণ দিয়ে বলি- আপনি পুরো একমাস মাছ ধরার জন্য পানি সিঞ্চন করলেন। কিন্তু যখন মাছ ধরার সময় হলো, তখন বাঁধটা ছেড়ে দিলেন। এটা যেমন কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ঠিক তদ্রুপ কষ্ট করে এক মাস রোজা রাখলেন, তারাবির নামাজ পড়লেন, তিলাওয়াত ও জিকির-আজকার করলেন। কিন্তু যখন এর বিনিময় নেওয়ার সময় হলো, তখন শয়তানী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে সব আমল বরবাদ করে দিলেন; এটাও কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাজত করুন। আমিন
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ পালনের বিভ্রান্তি
মুহতারাম হাজিরিন
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা দরকার- আমাদের দেশের কিছু-কিছু অঞ্চলের মানুষ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোজা রাখে এবং ঈদ উদযাপন করে। তাদের দাবি- এক জায়গায় চাঁদ দেখা গেলে সব জায়গায় চাঁদ দেখা প্রমাণিত হবে। সুতরাং সৌদি আরবে যেহেতু চাঁদ দেখা গেছে, বাংলাদেশেও চাঁদ দেখা প্রমাণিত হবে।
আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলব- কোনো দেশ বা রাষ্ট্র আমাদের জন্য দলিল নয়, বরং কুরআন ও সুন্নাহ একমাত্র আমাদের দলিল। সে হিসেবে সহিহ বুখারি শরিফে আছে,
قَالَ رَسُولُ الله ﷺ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ ، بخاری ، ۱۹۰۹
রাসুল সা. ইরশাদ করেন- তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ছাড় অর্থাৎ ঈদ উদযাপন কর। (বুখারি:
১৯০৯)
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসিনে কেরাম লিখেছেন- এখানে চাঁদ দেখার অর্থ হলো জমিনে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিকভাবে চাঁদ দেখা। অস্বাভাবিকভাবে যেমন- পাহাড়ে চড়ে, প্লেনে উঠে বা অন্য কোনো কৃত্রিম উপায়ে চাঁদ দেখা উদ্দেশ্য নয়। অতএব আমরা শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চাঁদ দেখে রোজা রাখব এবং চাঁদ দেখে রোজা ছাড়ব। অন্য কোনো দেশ চাঁদ দেখল কি দেখল না; সেটা আমাদের জন্য দলিল না।
ভৌগোলিক বাস্তবতায় একদিনে ঈদ করা সম্ভব নয়
মুহতারাম হাজিরিন
বাস্তবতার দিক থেকেও এক জায়গায় চাঁদ দেখে সমগ্র পৃথিবীতে একসাথে রোজা রাখা বা ঈদ পালন করা সম্ভব নয়। কারণ এক দেশের সাথে আরেক দেশের সময় ও ভৌগোলিক অবস্থান এক রকম নয়। উদাহরণস্বরূপ- আমাদের দেশে যখন সন্ধ্যা ৬ টা, তখন সৌদি আরবে বিকেল ৩ টা। ইউরোপের অনেক দেশে তখন দুপর ১২ টা। আর আমেরিকার কিছু অঞ্চলে তখন ভোর ৬ টা। অর্থাৎ আমাদের সাথে সৌদি আরবের প্রায় ৩ ঘন্টা সময়ের ব্যবধান, ইউরোপের সাথে প্রায় ৬ ঘন্টা ব্যবধান। আর আমেরিকার সাথে প্রায় ১২ ঘন্টা ব্যবধান।
এখন যদি কেউ সত্যিই সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে কিছু করতে চায়, তাহলে তাকে অনেক অদ্ভুত অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে। যেমন ইফতার করতে হবে রাত ৯ টায়, কারণ তখন সৌদি আরবে ইফতারের সময় হয়। সেহরি খেতে হবে
4
সকাল ৭ টায়, কারণ সৌদি আরবে তখনই সেহরির সময় হয়। ঈদের নামাজ পড়তে হবে বেলা ১১টায়, কারণ সৌদি আরবে তখনই ঈদের নামাজের সময় হয়। ৭টা-৮টা বাজে পড়লে ঈদের নামাজ হবে না। কারণ তখনও সৌদি আরবে ঈদের নামাজের সময় হয় না।
কিন্তু আমাদের দেশে যারা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে রোজা রাখে বা ঈদ পালন করে, তারা এই সময়গুলো অনুস্বরণ করে না। সুতরাং এগুলো তাদের স্পষ্ট গোমরাহি ছাড়া আর কিছু নয়।
একই দিন ঈদ পালনে সাহাবায়ে কেরামের আমল
এই ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামের আমলও একেবারে স্পষ্ট। মুসলিম শরিফে আছে এবং ইমাম তিরমিজি রা. তিরমিজি শরিফেও হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। কুরাইব নামক একজন তাবেয়ি সিরিয়া থেকে এসে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. কে বললেন, হজরত! আমরা সিরিয়াতে একদিন আগে চাঁদ দেখেছি। হজরত মুয়াবিয়া রা.ও সেই চাঁদ দেখে রোজা রেখেছেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বললেন, সিরিয়াবাসীর চাঁদ দেখা আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। আমরা যে দিন চাঁদ দেখব, সেদিন রোজা রাখব আর যে দিন ঈদের চাঁদ দেখব, সে দিন ঈদ পালন করব।
هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
এভাবেই রাসুল আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসলিম: ১০৮৭, তিরমিজি: ৬৯৩)
মুহতারাম হাজিরিন
এই হাদিস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায়- পৃথিবীর সব মানুষের জন্য একই দিনে রোজা রাখা বা একই দিনে ঈদ পালন করা জরুরী নয়। যদি তা জরুরী হতো, তাহলে সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই এর একটা বিহিত করে যেতেন। তারা যেহেতু নিজ নিজ এলাকার চাঁদ দেখার উপর আমল করেছেন এবং আলাদা আলাদা রোজা ও ঈদ পালন করেছেন, তাই আমাদেরকেও আলাদা আলাদা রোজা ও ঈদ পালন করতে হবে, এটাই শরিয়ত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে বিষয়টি বুঝার ও শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন
ঈদের দিনের সুন্নতসমূহ
এবার আসুন! আমরা ঈদের দিনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত আমল নিয়ে আলোচনা করি। হাদিস শরিফে ঈদের দিনের বেশ কিছু সুন্নাত আমলের কথা বর্ণিত আছে। আল্লামা আশরাফ আলি থানভি রহ. হাদিস থেকে নির্বাচন করে সর্বমোট ১৩টি সুন্নাতের কথা উল্লেখ করেছেন।
১. ঈদের দিন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা (বায়হাকি: ৬১২৬)
যাতে ফজরের নামাজ জামাতে পড়া যায় এবং আনন্দময় দিবসটা আমাদের ইবাদত দিয়েই শুরু হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো- ঐ দিন আমাদের অবস্থা থাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আনন্দ-ফুর্তি আর গল্প-গুজবের আড্ডায় সারা রাত কাটিয়ে দিই। নতুনত্বের জোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে দিই। সেহরি যেহেতু খেতে হয় না, তাই অধিক রাত করে ঘুমায়, আর সুর্য ওঠার পর ঘুম থেকে উঠি। তারপর তাড়াতাড়ি করে ঈদের নামাজের জন্য প্রস্তুতি শুরু করি, মনে হয় যেন ফজরের নামাজের চেয়ে ঈদের নামাজের গুরুত্ব বেশি। অথচ লক্ষ-কোটি ঈদের নামাজ একত্র করলেও এক ওয়াক্ত ফজর নামাজের সমতুল্য হবে না। এছাড়াও বুখারি শরিফে আছে- যে ব্যক্তি সকালবেলা ঘুম থেকে না উঠে শুয়ে থাকে, রাসুল সা. বলেন-
بَالَ الشَّيْطَانُ فِي أُذُنَيْهِ
শয়তান তার দুই কানে প্রস্রাব করে দেয়। নাউজুবিল্লাহ! (বুখারি: ৩২৭০)
তাই আসুন! ঈদের দিন আমরা সকাল-সকাল ঘুম থেকে উঠি এবং ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করার চেষ্টা করি।
২. মিসওয়াক করা (তাবইনুল হাকায়েক: ১/৫৩৮)
ঘুম থেকে উঠে সর্বপ্রথম আমরা মিসওয়াক করব। মিসওয়াক শুধু ঈদের দিনের সুন্নত নয়, বরং এটি রাসুল সা.-এর সর্বকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বলের মধ্যে আছে-
السَّوَاكُ مَطْهَرَةٌ لِلْفَمِ مَرْضَاةٌ لِلرَّبِ ،
মিসওয়াক হলো- মুখ পবিত্র রাখার মাধ্যম এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উপায়। (আহমদ: ৫, নাসাই: ২৭৬)
5
মেরকাতের মধ্যে আছে, মোল্লা আলি কারি রহ. লিখেছেন, মিসওয়াকের ৭০টি ফায়দা আছে। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন ফায়দা হলো-মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে। আর মদের ৭০টি ক্ষতি আছে। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন ক্ষতি হলো- মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে না। নাউজুবিল্লাহ! (মেরকাত: ১/৩৯৫, হাদিস: ৩৭৭)
আরেক হাদিসে রাসুল ইরশাদ করেন-
مَا جَاءَ نِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَطُّ إِلَّا أَمَرَنِي بِالسَّوَاكِ ، لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ أُحْفِيَ مُقَدَّمَ فِي ،
জিবরাইল আ. যখনই আমার কাছে আসতেন, মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। আমি আশঙ্কা করছিলাম, না জানি অতিরিক্ত মিসওয়াকের কারণে আমার মুখের অগ্রভাগ ছিড়ে যায় কি না! (মুসনাদে আহমদ: ২২২৬৯)
তিরমিজি শরিফে আছে, রাসুল বলেন-
لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لَأَمَرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ عِنْدَ كُلِّ صَلَاةٍ ،
আমি যদি আমার উম্মতের জন্য কঠিন মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করা ওয়াজিব করে দিতাম। (তিরমিজি: ২২, বুখারি: ৮৮৭)
আল্লাহু আকবার! চিন্তা করুন! রাসুল মিসওয়াকের প্রতি কত বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন! কিন্তু আফসোস! আজ আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটি একেবারেই ছেড়ে দিয়েছি। মিসওয়াকের পরিবর্তে ব্রাশ হাতে নিয়েছি। অথচ এই ব্রাশ আমাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানের শান্তি কেড়ে নিয়েছে।
একজন মুসলিম দার্শনিক তাঁর অভিজ্ঞতার আলোকে বলেছেন, যে দিন থেকে মুসলমানরা মিসওয়াকের ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছে। সে দিন থেকেই ডেন্টাল সার্জনের সূত্রপাত হয়েছে। বিখ্যাত পন্ডিত 'গুরু নানক' সম্পর্কে প্রসিদ্ধ আছে, তিনি সবসময় হাতে মিসওয়াক রাখতেন, আর বলতেন- হয়তো এই লাকড়ি ব্যবহার করো; নতুবা রোগব্যধিতে আক্রন্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাক। (সুন্নাতে রাসুল ও আধুনিক বিজ্ঞান: ৩৬)
বাস্তবেই আজ আমরা মিসওয়াক ছেড়ে দেওয়ার কারণে হাজারো রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছি। আখেরাতের অসংখ্য সওয়াব থেকেও বঞ্চিত হয়েছি।
বায়হাকি শরিফে আছে-
تَفْضُلُ الصَّلَاةُ الَّتِي يُسْتَاكُ لَهَا عَلَى الصَّلَاةِ الَّتِي لَا يُسْتَاكُ لَهَا سَبْعِينَ ضِعْفًا
যে নামাজের জন্য মিসওয়াক করা হয়, সেই নামাজ মিসওয়াকবিহীন নামাজের চেয়ে ৭০ গুন বেশি সওয়াব রাখে। অর্থাৎ মিসওয়াকের কারণে একেক রাকাত নামাজের সওয়াব সত্তরগুন বেড়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! (সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি: ১৫৯, ইবনে খুজাইমা: ১৩৮)
তাই আসুন! আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটিকে আঁকড়ে ধরি এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দোআ করি- তিনি যেন আমাদেরকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিসওয়াকের সাথে আদায় করার তাওফিক দান করেন। আমিন
৩. ঈদগাহে যাওয়ার আগে গোসল করা (ইবনে মাজাহ: ১৩১৫)
৪. উত্তম পোষাক পরিধান করা (বুখারি: ৯৪৮, মুসতাদরাক: ৭৫৬০)
রাসুল সা. ঈদের দিন সুন্দর ও উত্তম পোশাক পরিধান করতেন। এখানে নতুন পোষাক বলা হয়নি বরং উত্তম পোষাকের কথা বলা হয়েছে। তাই যার সামর্থ্য আছে, সে নতুন পোষাক খরিদ করতে পারে, এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে শুধু ঈদের জন্য ঋণ নিয়ে নতুন পোষাক খরিদ করার কোনো প্রয়োজন নেই। নিজের কাছে যা আছে, তা থেকে উত্তম পোষাক পরিধান করবে।
৫. শরিয়ত সম্মত সাজসজ্জা করা (বুখারি: ৯৪৮)
অমুসলিমদের মতো সাজসজ্জা না করা। বিশেষ করে পুরুষরা মেয়েলী পোষাক আর মেয়েরা পুরুষদের পোষাক পরিধান না করা। বর্তমানে দেখা যায় মেয়েরা জিন্সের প্যান্ট পরে, হাফহাতা গেঞ্জি গায়ে দেয়, এগুলো সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরণের পোশাক তো পুরুষের জন্যও জায়েজ নেই; মেয়েদের জন্য জায়েজ হবে কিভাবে? সুতরাং ছেলে-মেয়েদেরকে এ ধরণের কুরুচিপূর্ণ পোশাক থেকে বিরত রাখতে হবে। এটা বাবা-মার দায়িত্ব
6
মেয়েদের সাজসজ্জা সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা
ঈদের দিন ঘরোয়া পরিবেশে মহিলারাও সাজগোজ করতে পারবে, তবে কিছু প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেমন- নখ পালিশ, ঠোঁট পালিশ ইত্যাদি। এগুলো ব্যবহার করলে অজু-গোসলের সময় ভেতরে পানি পৌঁছে না, তাই এগুলো ব্যবহার করা যাবে না। ঠোঁট পালিশ যদি হালকা হয় এবং ভেতরে পানি পৌঁছতে সমস্যা না হয়, তাহলে ব্যবহার করা যাবে। নখ পালিশ কোনো অবস্থাতেই ব্যবহার করা যাবে না।
মেয়েদের জন্য বিউটি পার্লারে গিয়ে সাজগোজ করা জায়েজ নেই। কারণ বিউটি পার্লারে এমন কিছু প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়, যার উপর পানি লাগানো যায় না। ফলে যতক্ষণ এই সাজগোজ থাকে, ততক্ষণ আর নামাজ পড়া হয় না। অনেক নববধূকে সাজগোজ নষ্ট হওয়ার ভয়ে নামাজ পড়তে দেওয়া হয় না। এগুলো সম্পূর্ণ হারাম। যে সাজগোজ নামাজ থেকে বিরত রাখে, তা কখনো জায়েজ হতে পারে না।
দ্বিতীয়ত এ ধরনের সাজগোজ দ্বারা মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হয় এবং কালো মেয়েকে সাদা বানিয়ে অন্যের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যা স্পষ্ট প্রতারণা। হাদিস শরিফে আছে-
مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنْيا
যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মুসলিম: ১০২)
৬. খুশবু ব্যবহার করা (মুসতাদরাক: ৭৫৬০)
যেমন আতর, সেন্ট, স্প্রে ইত্যাদি। তবে সেন্ট ও স্প্রে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন, এগুলোতে যেহেতু এলকোহল থাকে, তাই এগুলো ব্যবহার করা যাবে কি না?
এ ক্ষেত্রে মাসআলা হলো- প্রথমত এলকোহলযুক্ত পারফিউম ব্যবহার না করাই উত্তম। তবে প্রয়োজন হলে বা বিকল্প না থাকলে ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ এক সময় এলকোহল আঙ্গুর, খেজুর বা মদজাতীয় বস্তু দ্বারা তৈরি করা হতো; সে হিসেবে নাপাক বলা হতো। কিন্তু এখন আর এলকোহল এসব বস্তু দ্বারা তৈরি হয় না। আল্লামা তকি উসমানি দা. বা. তাঁর তাকমিলায়ে ফতহুল মুলহিমের মধ্যে লিখেছেন- গবেষণায় দেখা গেছে- বর্তমানে বেশির ভাগ এলকোহল ফল-ফুল বা অন্যান্য প্রাকৃতিক নির্যাস দ্বারা তৈরি হয়। (ফতহুল মুলহিম: ১/৩৪৮, ৩/৩৩৭, ফিকহুল বুয়ু: ১/২৯৮)
আর যদি কোথাও এগুলো দ্বারা তৈরি করা হয়ও। তবুও এলকোহলকে নাপাক বলা যাবে না। কারণ শরিয়তের বিধান হলো-নাপাকি দ্বারা কোনো কিছু তৈরি হলে, যদি নাপাক বস্তুর মূল বৈশিষ্ট বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে তৈরিকৃত বস্তুটি আর নাপাক থাকে বরং পাক হয়ে যায়। (মাবসূতে সারাখসি ২৪/৯, ফতওয়ায়ে খানিয়া: ৩/২৩০, ফতহুল মুলহিম: প্রাগুক্ত, মাসিক আল কাউসার মে ২০১১ প্রশ্ন নং ২২০৯)
সে হিসেবে আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রস্তুত যে কোনো ধরণের এলকোহলকে জায়েজ বলা যায়। আর বর্তমানে তো এলকোহল থেকে বাঁচার কোনো উপায়ও নেই। কারণ বর্তমানে সব জিনিসের সাথে এলকোহল দেওয়া থাকে। যেমন- ড্রিংকস, কালি, ঔষধ, রং ইত্যাদি। এমনকি মসজিদের দেয়ালে যে রং লাগানো হয় ও কুরআন লিখতে যে কালি ব্যবহার হয়, তাতেও এলকোহল দেওয়া থাকে। অতএব বর্তমানে ঢালাওভাবে এলকোহলকে নাপাক বলার কোনো সুযোগ নেই।
৭. ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে মিষ্টিমুখ করা (বুখারি: ৯৫৩, তিরমিজি: ৫৪২)
এক্ষেত্রে তিনটি খেজুর খাওয়া সুন্নত।
৮. সকাল সকাল ঈদগাহে যাওয়া (আবু দাউদ: ১১৫৭)
৯. পায়ে হেঁটে যাওয়া (আবু দাউদ: ১১৫৭)
যদি কোনো বিশেষ ওজর না থাকে, আর যদি ওজর থাকে, তাহলে যানবাহনে করেও যাওয়া যাবে।
১০. ঈদগাহে যাওয়ার সময় নিম্নস্বরে তাকবির বলা
(মুসতাদরাক: ১১০৫)
তাকবির হলো-
الله أكبر الله اكبر لا إله إلا الله والله اكبر الله أكبر ولله الحمد
১১. এক রাস্তা দিয়ে যাওয়া আরেক রাস্তা দিয়ে আসা (বুখারি: ৯৮৬)
১২. ঈদের নামাজ ঈদগাহে পড়া (বুখারি: ৯৫৬, আবু দাউদ: ১১৫৮)
এটা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। ফতোয়ায়ে শামিতে আছে- মসজিদে ঈদের নামাজ পড়া মাকরুহে তাহরিমি। তবে যদি কোনো এলাকায় ঈদগাহের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে মসজিদে পড়া যেতে পারে। তবে যথাসম্ভব ঈদগাহের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে
7
হবে। কারণ ইবনে মাজাহ শরিফে আছে- মসজিদে নববিতে নামাজ পড়লে এক রাকাতে পঞ্চাশ হাজার রাকাতের সওয়াব। তারপরও রাসুল জীবনে কখনো মসজিদে নববিতে ঈদের নামাজ আদায় করেননি। বরং সবসময় মদিনার বাইরে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। মদিনার পশ্চিম পাশে একটি খোলা মাঠ ছিল, যাকে মুসাল্লাহ বলা হতো। সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সে মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করতেন। (বুখারি: ৯৫৬, আবু দাউদ: ১১৫৮)
১৩. ঈদের নামাজ সকাল সকাল আদায় করা (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক: ৫৬৫১,
আন-নুতাফ ফিল ফতওয়া: ৬৭)
সাহাবায়ে কেরামের আমল ছিল- তারা ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে এসে আর বাড়িতে ফিরে যেতেন না। একত্রে ঈদের নামাজ পড়ে তারপর বাসায় যেতেন। আর ঈদের দিন সকালবেলা ঈদের নামাজ পড়ার আগে কোনো নফল নামাজ পড়া জায়েজ নেই। বাড়িতেও নয়, ঈদের মাঠেও নয়। পুরুষদের জন্যও নয়, মহিলাদের জন্যও নয়। সুতরাং ঈদের দিন ফজরের নামাজের পর আর এশরাকের নামাজ পড়া যাবে না। আমরা বাড়িতেও মহিলাদেরকে বলে দেব তারাও যেন ঈদের দিন সকালবেলা কোনো নফল নামাজ না পড়ে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ঈদের দিনের এই সুন্নাতগুলোর উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন
ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণ
মুহতারাম হাজিরিন
শৃঙ্খলা ঠিক রাখার জন্য আমরা প্রতি বছর ঈদের নামাজের একটা সময় নির্ধারণ করে দিই, যাতে সকলেই নির্দিষ্ট সময়ে এসে ঈদের নামাজে অংশ গ্রহণ করতে পারে। সে হিসেবে আজকেও ঈদের নামাজের জন্য একটা সময় নির্ধারণ করা হবে, তাই সকলে খেয়াল পেশ করি- কয়টা বাজে ঈদের নামাজ পড়া হলে আমরা সকলে উপস্থিত হতে পারব?
উল্লেখ্য যে, ঈদের দিন ফজরের নামাজের জামাত হবে টায়।
সমাপ্ত