21/07/2026
এই দেশে আর কত কি দেখতে হবে?? 😭😭
সুমন্তী চাকমা সাজেক ইউনিয়নের চাপ-আদাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকা ছিলেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি ছিল তাঁর।
সন্তান প্রসবের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে যাওয়ার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সুমন্তী চাকমার দাহ হয়েছে। রীতি অনুযায়ী দাহের পূর্বে তাঁর গর্ভের সন্তানকে পেট চিড়ে বের করা হয়েছে। এই ছবিটা তারই।
উচিয়ে ধরা পৃথিবী দেখতে না পারা এই শিশু আমাদের দেশের সড়ক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পোস্টকার্ড হয়ে থাকত পারত!
কিন্তু হয়েছে অন্যকিছুর! স্থানীয় লোকজন, সোশাল মিডিয়ায় ছবি থেকে বোঝা যাচ্ছে এই শিশু ও তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে বিজিবির ডাম্প ট্রাকের ধাক্কায়।
কিন্তু দেশের একটা গণমাধ্যমও, একটা প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমও সে বাহিনীটির নাম নেয় নি! প্রথম অথচ উচিত ছিল বাহিনীটির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের কথা বলা।
মর্মান্তিক হলেও এটা তো নিছক দূর্ঘটনাই। এই দূর্ঘটনাতেও গণমাধ্যমগুলোকে কেন সেলফ সেন্সরশিপ আরোপ করতে হবে?
পাহাড়ের পথঘাট সংকীর্ণ, বাঁকা, উঁচুনিচু, স্বাভাবিকভাবেই দূর্ঘটনাপ্রবণ। তবুও নাম নিতে কেন এই ভীতি?
পাহাড়ের মানুষ বলেই কি এই বাড়তি সেন্সরশি? পাহাড়ের মানুষকে কাছে না টানলে, তাঁর পক্ষে না দাঁড়ালে সেটা দূরত্বকে আরও বাড়াবে।
এই দূর্ঘটনায় দায় নিয়ে তদন্তের ঘোষণা, বাহিনীর পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ এবং ক্ষতিপূরণের ঘোষণা প্রদানই হওয়া উচিত ছিল নূন্যতম নাগরিক দায় আছে এমন রাষ্ট্রের স্বাভাবিক কাজ।
আমরা কেন এইটুক স্বাভাবিক নই? কেন না, এর জবাব আমাদের গণমাধ্যমের এই আচরণের মধ্যেও আছে।
শিক্ষিকা সুমন্তী চাকমা আর তাঁর পৃথিবী দেখতে না পারা সন্তানের জন্য আমাদের দুঃখবোধ। লজ্জা গণমাধ্যমগুলো আর রাষ্ট্রের জন্য।
বিএনপি'র সরকার বাহাদুর, আপনারা মানুষের সরকার হউন, মানবিক হউন। শুধু ক্ষমতার সরকার হয়েন না।সংগৃহীত (মূল লেখক অজানা)