12/05/2026
পর্ব-১
পেযেও পেলাম না তোকে
By রাব্বি মিয়া
একজন ছেলে ঘরের পড়ার টেবিলে বসে বসে ভাবছে, ছেলেটা দেখতে মাশাআল্লাহ অনেক সুন্দর। তার পাশে গান বাজতাছে
ওওও.... একা মনে প্রশ্ন শুধুই জবাব খুঁজে যায়..
তোর ভুলেরই মাসুল তোকে গুনতে হবে হায় কেউ দেবে নারে জবাব খুজে ভুলকে যখন নিলী বুঝে থামবি কোনো ভুলের ঠিকানায় ও.. বন্ধু রে.. বন্ধুরে..
আর সে ভাবতেছিলে কেউ আবার প্রেম করে কারে জন্য মরে। সে ভাবছিলো দুই দিন আগের ঘটনা ওর এক বুন্ধু ছিল, নাম তার হাফিজুর, দুইজন কলেজ ফাস্ট ইয়ার শেষ করে সেকেন্ড ইয়ারে ভর্তি হয়েছে। এস এস সি চলান কলিন হাফিজুর একটা মেয়ের সাথে রিলেশন শুরু করে ছিল। আর দুদিন আগে তাদের রিলেশন শেষ হয়ে যায়। রিলেশন শেষ করার কারো ইচ্ছা ছিল না এবং তাদের ভুল পথ ব্যাবহার করার ইচ্ছা ও ছিল না। তাদের ইচ্ছা ছিল সুন্দর সুখি একটা নিজেদের পরিবার গরে তুলবে কিন্তু তাদের সব স্বপ্ন শেষ করে দিল তাদের পরিবার এবং তাদেকে অকালেই শেষ করে দিল। দুজনকে মেনে নিলে হয় তো বা তাদের ভুল পথ অবলম্বন করতে হত না। এই ছেলেটার কানে শুধু হাফিজুরে কিছু কথা কানে বাজছে, হাফিজুর বলে ছিল।
" ভাই আমার ফ্যামিলি আমাকে পৃথিবী থেকে চলে যেতে বাধ্য করলো। তারা যদি সব কিছু মানিয়ে নিয়ে আমাদের তাদের করে নিত তাহলে তাদের কি আমার মতো মরে যেতে হতে।
আর বলে ছিল।
" তারা যদি আমাদের মেনে নিত তাহলে শুধু একটু কল্কিত হতো এর বেশি তো আর হতো না। আচ্ছা আমাদের জীবনের থেকেও কি তাদের এই কল্কিত হবার বেশি মুল্যূ ছিল।
হাফিজুর আরো বলে ছিল।
" তারাই জন্ম দিল আবার তারাই মৃত্যুর কারণও হলো .!
এটাই ছিলো হাফিজুরের শেষ কথা। যে ছেলেটাকে হাফিজুর এইসব বলে ছিল সেই ছেলেটা হাজার বার বারণ করে ছিল কিন্তু হাফিজুর শুনেনি আর এইছেলেটাও কিছু করতে পারেনি কারণ ওরা দুইজন এতন ফোনে কথা বলছিলো। এইছেলেটা হাফিজুরে বাসায় যেতে যেতে অনেক দেরি হয়ে যায়। এইছেলে টা হাফিজুরের কাছে যেতে যেতে ও না ফিরার দেশে চলে যায়। অন্য দিকে যে মেয়েটার সাথে রিলেশন ছিলো,তার নাম আনিকা। মেয়েটাকে জোর করে বিয়ে দেয় কিন্তু বিয়ের পরের দিনি আনিকা আত্মহত্যা করে মারা যায়। এইছেলেটা আনিকার পরিবারর সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারে সেও আত্মহত্যা করেছে এবং আনিকার শেষ চিঠিও এইছেলেটা পেয়ে ছিল। হঠাৎ চিঠির কথা মনে পড়তেই ছেলেটা ব্যাগ থেকে চিঠি না বের করে পড়তে শুরু করলো।
".. প্রিয় হাফিজুর..
তুমি আমার জীবনে ছিলে এক মায়াবী পুরুষ, আর সেই মায়া কাটানোর সাদ্ধ আমার নেই, তোমার সাথে কাটানো ২ টা বছর আমার কাছে সব থেকে সুখের দিন ছিল। যে সুখ আমি আমার জীবনে আর কোথাও পাইনি, আমি তোমাকে পেয়ে এক সুখিময় জীবন চেয়ে ছিলাম আর আমি পেয়েও ছিলাম কিন্তু আমার পরিবার আমার সেই সুখ সহ্য করতে পারেনি,,, তারা পারেনি আমাকে তোমার হাতে তুলে দিয়ে সুখে রাখতে, তারা আমার সুখকে কেড়ে নিল আমার জীবন থেকে আর আমাকে ফেলে দিল দুঃখের সাগরে, যে সাগরে আমি পড়ে মৃত্যুর যন্ত্রনায় ছটফট করছি। আমি অনেক চেষ্টা করেছি এই দুঃখের সাগর থেকে উঠার জন্য কিন্তু আমি পারিনি আমি যতই চেষ্টা করেছি ততই আমি দুঃখের সাগরে আরো তলিয়ে গেছি। আমি তোমার কাছে যাওয়ার অনেক চেষ্টা করেছি, হয় তো বা তুমি বিশ্বাস করবা না কিন্তু আমি আমার জীবন দিয়ে তোমার কাছে যাবার চেষ্টা করছি, কিন্তু পারিনি। আসলে জানো কি একটা মেয়ে যখন রিলেশন করে এবং তা তার পরিবার জানে তখন সেই মেয়েটার উপর অবিকল শয়তানের মতো আচরণ করে আমার উপরেও তারা তাই করছে। তারা আমার বিয়ে ঠিক করছে আর আমার বিয়েও হয়ে গেল, আজকে আমার বিয়ের প্রথম সকাল আর এই প্রথম সকালি আমার শেষ সকাল, আমার জীবনে আর দ্বিতীয় কোনো সকাল উঠবে না, তোমার শার্টের গন্ধ নেওয়া হবে, তোমাকে বুকে জড়িয়ে ধরা হবে না, তোমার সাথে দেখা করার জন্য বেকুল হবে না। আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা ছিলে তুমি আর তুমিই থাকবে, তোমায় জায়গায় কেউ হাতও দিতে পারবে না। সবাই বলে বিয়ের পরের রাত সবার জন্য মুধুময় রাত হয় কিন্তু আমার জন্য বিষের চেয়েও বিষাক্ত ছিল এই রাত। আমি আমার শরীর কাউকে ধরতে দেইনি, আমার শরীর আমি পবিত্র রেখেছি। তোমার আমার ভালোবাসা পৃথিবীতে পূর্ণতা না হলেও পরপারে ইনশাআল্লাহ পাবে। ভালো থেকো তুমি আমি বিদায় নিলাম এই পৃথিবী থেকে আর তোমার মায়া থেকে বাঁচার জন্য। পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার আগে নিজের হাতে রক্ত মাখা কাগজে লিখে গেলাম..!
ইতি
তোমার প্রাণ প্রিয় বউ
... আনিকা....।
চিঠি টা পড়তেই ছেলেটার চোখ আপনা আপনি ভিজে উঠলো। চিঠি টা বন্ধ করে ব্যাগে রেখে মাথায় হাত দিয়ে বসলো। বসে নিজের সাথে নিজেই রাগি কন্ঠে কথা বলতে শুরু করলো।
" এই প্রেম রিলেশন কেউ করে শুধু শুধু নিজের জীবনটা করে হারায় এইসব করে? রিলেশন বা প্রেম করলে কি মরতেই হবে?
বেচারা তো যান তো না প্রেম করলে মানুষ কি কি করতে পারে। এই সব ভাবছিলে ও বসে বসে। এইসব কিছু ভাবার মাঝখানে ছেলেটার আম্মু এসে বললেন।
" কি এমন ভাবছিছ এতে মনেযোগ দিয়ে?
ছেলেটা ওর আম্মু কথায় চমকে উঠলো। পিছনে ঘুরে ছেলেটা দেখল তার আম্মু নাস্তা হাতে দাঁড়িয়ে আছে তা দেখে ছেলেটা বলল।
" হুমমম,আম্মু বলেন।
ছেলেটার আম্মু টেবিলে নাস্তা রেখে বললেন
"এই যে তোমার নাস্তা, আর পড়া বাদে কি এতে ভাবছো?
ছেলেটা ব্যাগে রাখা চিঠির দিকে তাকিয়ে মিন মিন গলায় বলল।
"না আম্মু এই আর কি. "
ছেলেটার আম্মু রাগি কন্ঠে বললেন।
"ওই আর কি হ্যাঁ? পড়ায় মনেযোগ দিবে না কি তোমার ভাইয়াকে বলে দিব যে, তুমি পড়া বাদে ফোন দেখছো। "
ছেলেটা কিছু ভয় পেয়ে বলল।
"না, না, না আম্মু আপনি এটা করতে পারে না, আপনি জানেন না ভাইয়া কে বললে আমি অপমানিত বদ করব?"
"আচ্ছা ঠিক আছে বলব না, এখন নাস্তা করে পড়তে বসো। এখন গিয়ে দেখি তোমার আপু কি করে? আমার তো আবার এই কাজ তোমাদেরকে দেখা রাখা আর বাসার সব কাজ একা করা আর ভালো লাগে না"।
কথা গুলো বলতে বলতে রুম থেকে বের হলো ছেলেটার আম্মু। ছেলেটাও আর কিছু না ভেবে নাস্তা খাওয়ায় মনে যোগ দিলো। কিন্তু মন তো পড়ে আছে অন্য জায়গায়। যাই হোক ছেলেটা আবার খাওয়ায় মনেযোগ দিল। এখনে ফোনে গান বাজছে। ছেলেটা খেতে খেতে বলল।
" কতেক্ষন থেকে কথা বলে যাছি পরিচয় টা দিয়ে দেই। আমার নাম রাব্বি হোসেন আকাশ। বাবা- মার তিন নাম্বার সন্তান। আমরা একক পরিবার। আমার বাবারা ৪ ভাই ২ বোন। বোন দের বিয়ে হয়ে গেছে তারা শশুরবাড়িতে থাকে ভাইদেরও সবার বিয়ে হয়ে গেছে তার সবাই আলাদা থাকে। সবারি একক পরিবার। আমার দাদু মারা যায় আব্বু ছোট থাকতে। তখন আমার দাদি সবাইকে নিয়ে একসাথে থাকত ভালোই দিন কাটছিলে কিন্তু দাদি মারা যাওয়ার পর সবাই আলাদা হয়ে যায়। কারণ আমার বাবা টাকা ছিলে না আর আমার দুই চাচাদেরও বেশি টাকা ছিল না যার ছিল, সে যদি একসাথে থাকত তাহলে সবাইকে ভাগ দিতে হতে তাই তিনি আলাদা হয়ে যান। আমার আব্বু বাদে সবারি মোটামুটি টাকা ছিলে তাই তারা আলাদা হয়ে যায়। আব্বু যা কাজ করতে তা দিয়ে সংসার চালাতো ।এখন আমাদের পরিবারে মোট ৬ জন সদস্য। আমার বড় ভাইয়ের নাম আল- আমিন ইসলাম। ভাইয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শুনা করে তাই তাকে সেখানে থাকতে হয়। মাঝে মাঝে আসে আবার চলে যায়। আমার আপু আমার আপুর দুই চোখের বিশ। কারণ আমি ছোট আর সুন্দর হবার কারণে সবাই আমাকে একটু বেশি পছন্দ করে। তাই আমায় দেখতে পায় না। দেখলেই মারামারি ঝগড়া করে।কিন্তু আমায় অনেক ভালোবাসে। আমায় কেউ কিছু বললে ও সহ্য করতে পারে না। আমাদের ভাই বোনের সম্পর্ক সবার থেকে আলাদা যেমন টকদই ঠিক সেই রকম,এমনি খেলে যেমন ভালো লাগে না আবার কিছু সঙ্গে খেলে ভালো লাগে ঠিক তেমনি। আমার আপুর নাম সুমাইয়া আক্তার শিমু।
আমার আব্বু পেশায় রাজমিস্ত্রি। আপনদের বললাম না আমরা গরিব। আচ্ছা যাই হোক, আব্বু আমাদের অনেক ভালোবাসে। টাকা না থাক ভালোবাসা তো আছে। টাকা দিয়ে তো আর সুখ পাওয়া যায় না। আমার আব্বু নাম আব্দুল ছালাম। আমার আম্মু যে একটু আগে এসে আমায় নাস্তা দিয়ে গেলেন। আমি আমার আম্মুর চোখেরমনি। আমি অনেক শান্ত শিষ্ট বাসায় থেকে বেশি বের হয় না তাই আমি আমার আম্মুর চোখের মনি। আমার আম্মুর নাম সাজেদা বেগম। আর আমাদের সাথে থাকেন আমার নানি। আমার নানির অন্য কোনো সন্তান নেই।আমার আম্মু একা আর নানাও বেঁচে নেই। তাই তিনি আমাদের এইখানে থাকেন। আমায় আর আমার আপুরে তিনি বড় করছেন। কারণ আমার আব্বু আম্মু আমাদের গ্ৰামে রেখে ঢাকায় আসেন। আমাদের গ্ৰামের নাম গাইবান্ধা। তাই নানি আমদের গ্ৰামে বড় করেন। আর এখন আমরা সবাই মিলে ঢাকায় থাকি। এইখানে পড়া শুনা করি। এবার আমি সেকেন্ড ইয়ার বয়স ১৯+ আর আমার আপু ইউনিভার্সিটিতে পড়ে ।
আচমকা ফোনের শব্দ শুনে চমকে উঠলো রাব্বি । সাজেদা বেগম ফোনে মেসেজ দিয়েছেন। মেসেজ টা দেখে ফোন হাতে নিয়ে দেখলো ৯ টা বাজে ১২ মিনিট বাজে। রাব্বি তাড়াতাড়ি করে ফোন রেখে পড়া মনো যোগ দিল।
চলবে,,,!