09/06/2026
রুশিয়া খাতুন কে চিনেন? ঐ যে স্বামী রাগ করে চলে গিয়েছিলো।
এরপর একটা-দুটা বছর না, দীর্ঘ ৩৮ বছর পর যখন সেই স্বামী বুড়ো বয়সে ফিরে আসলো, ভদ্রমহিলা সোজা তাকে "না" করে দিলেন।
সমাজ এটাকে বলতে পারে রাগ। কিন্তু এটা রাগ বা অভিমান নয়। এটা হলো নিজের লাইফের চারপাশে একটা কংক্রিটের দেয়াল তোলা।
সাইকোলজিতে একটা কথা আছে, "ইউ টিচ পিপল হাউ টু ট্রিট ইউ" (মানুষ আপনার সাথে কেমন ব্যবহার করবে, সেটা আপনিই তাকে শিখিয়ে দেন)।
রুশিয়া খাতুন ৩৮ বছর একা লড়াই করে সন্তান বড় করেছেন। তিনি জানতেন, যে মানুষটা জীবনের সোনালী সময়গুলো অবহেলায় নষ্ট করেছে, তাকে শেষ বয়সে এসে দয়া দেখানো মানে নিজের অতীত লড়াইটাকে অপমান করা।
এবার একটু আমাদের গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের তথাকথিত "নাম্বার ওয়ান" সিন্ড্রোমের দিকে তাকানো যাক। অপু বিশ্বাস কিংবা বুবলী কেউই কিন্তু সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে পিছিয়ে নেই।
বিশেষ করে বুবলীর ব্যাকগ্রাউন্ড যদি দেখেন; উচ্চশিক্ষিত, সাবেক নিউজ প্রেজেন্টার, ক্যারিয়ার সবই ছিলো।
কিন্তু দিনশেষে কী দেখা যাচ্ছে?
নায়ক সাহেব জনসম্মুখে তাদের সম্পর্ক স্বীকার করতে ইতস্তত করেন। তাদের একসাথে কোথাও দেখা যায় না। এমনকি নিজের কন্যা সন্তান হয়েছে সেটাও পাবলিকলি বলা প্রয়োজন মনে করেন নাই।
অথচ বুবলি নিজেকে "আমিই ওনার আসল বউ" বা "বাচ্চার মা" প্রমাণ করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
এর আগে অপু বিশ্বাস বাচ্চা নিয়ে টক শো তে এসে কান্নাকাটি করছিলো যে সাকিব তার বাচ্চাকে গ্রহন করছে না৷ 🙂
এখানেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে বড় লাইফ লেসন।
শিক্ষা বা ডিগ্রি আপনাকে বড় বড় ইংরেজি শব্দ বলতে শেখাতে পারে, কিন্তু কখন নিজেকে গুটিয়ে নিতে হয় এই কান্ডজ্ঞানটা দিতে পারে না।
রুশিয়া খাতুনের হয়তো প্রাতিষ্ঠানিক বড় ডিগ্রি ছিল না, কিন্তু উনার ভেতরে নিজের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল। উনি জানতেন, নিজের জীবনের কন্ট্রোল অন্য কারো হাতে দিতে নেই।
খুব সহজ একটা সাইকোলজি মনে রাখবেন, মানুষ সেই জিনিসটারই যত্ন নেয়, যেটা সহজে পাওয়া যায় না। আপনি যদি নিজেকে অলওয়েজ অ্যাভেইলেবল করে রাখেন, তবে যাকে ভালোবেসে সব ছেড়ে দিচ্ছেন, সে-ও একদিন আপনাকে একপাশে সরিয়ে রাখবে।
তাই নিজের সেল্ফ-রেসপেক্টটা এমন জায়গায় রাখুন, যাতে কেউ আপনাকে ছেড়ে যাওয়ার আগে অন্তত ১০ বার ভাবে যে, এই মানুষকে হেলাফেলা করলে আর কোনোদিন ফিরে পাওয়া যাবে না।🙅♀️