24/07/2026
রাত ১১টা ১০ মিনিট।
মিরপুর রূপনগর আবাসিক এলাকায় আমাদের প্রজেক্ট রাজকন্যা-র সিসি ক্যামেরায় হঠাৎ চোখ আটকে গেল।
বাম পাশের ছোট্ট অস্থায়ী রান্নাঘরে বসে আছেন পাইলিং দলের বাবুর্চি মালেক চাচা।
সবার খাওয়াদাওয়া শেষ। তিনি খাচ্ছেন একেবারে শেষে। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। তবু ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিকদের জন্য রান্না করে, এক সাইট থেকে আরেক সাইটে ছুটে বেড়ান।
এই দৃশ্যটা আমাকে অদ্ভুতভাবে নাড়া দিল।
জীবন আসলে পদ-পদবি দিয়ে নয়, পরিশ্রম দিয়ে পার করতে হয়।
যে মানুষ কাজকে ইবাদতের মতো ভালোবাসে, কাজও তাকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আগলে রাখে। বয়স তার শরীরে ভাঁজ ফেলে, কিন্তু দায়িত্ববোধে নয়।
আমরা অনেকেই আরাম আয়েশের স্বপ্ন দেখি, আর বাবুর্চি মালেক চাচা এখনো নিজের ঘামের বিনিময়ে সম্মানের সঙ্গে জীবনটাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
কারও কাছে তিনি শুধু একজন বাবুর্চি; কিন্তু আমার চোখে তিনি একজন নীরব যোদ্ধা—যিনি শিখিয়ে দেন, কোনো কাজই ছোট নয়, ছোট হতে পারে শুধু কাজকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি।
সিসি ক্যামেরায় আমি শুধু একজন বৃদ্ধকে রাতের খাবার খেতে দেখিনি; দেখেছি পরিশ্রমের মর্যাদা, দায়িত্বের সৌন্দর্য আর আত্মসম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।
আল্লাহ এই পরিশ্রমী মানুষগুলোর হালাল রিজিকে বরকতময় করুন এবং আমাদেরও এমনভাবে কাজকে ভালোবাসার তাওফিক দান করুন, যেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের শ্রমের ওপর ভর করেই মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি। আমিন।