28/04/2026
টাকায় কি সব;
প্রয়োজনের বেশি বা পরিশ্রম বিহীন টাকা হাতে পেলে মানুষের কি হয়, একবারের জন্য ভাবুন, নিচে একটা কাল্পনিক গল্প দিলাম একটু সময়ে জন্য পড়ুন ;-
আজ দুপুরে হঠাৎ মোবাইলে একটা SMS এলো।
খুলে দেখি—
“সরকারের পক্ষ থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে ৭৫ লাখ টাকা জমা করা হয়েছে।”
মুহূর্তের মধ্যে বুকটা আনন্দে ভরে গেল। মনে হচ্ছিল—জীবনটা যেন এক লাফে বদলে গেল!
দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে চিৎকার করে বললাম—
“শোনো সবাই! আমাদের দিন বদলে গেছে! আমার অ্যাকাউন্টে ৭৫ লাখ টাকা এসেছে!”
বউ ঘর থেকে বেরিয়ে খুব শান্তভাবে বলল—
“এত উত্তেজিত হওয়ার কী আছে? আমার অ্যাকাউন্টেও তো ৭৫ লাখ টাকা এসেছে। এই দেখো মেসেজ।”
আমি থমকে গেলাম।
ভাবলাম, পাশের বাড়ির লোকদের বলি। কিন্তু গিয়ে দেখি, তারা যেন আগেই সব জানে।
একজন হেসে বলল—
“এত খুশি হচ্ছো কেন? আমাদের অ্যাকাউন্টেও তো ৭৫ লাখ এসেছে!”
মনে একটু অদ্ভুত লাগল।
তবুও ভাবলাম—আজ মিষ্টি খাওয়াবো সবাইকে।
বাজারে গেলাম…
দেখি সব দোকান বন্ধ।
একজনকে জিজ্ঞেস করলাম—
“মিষ্টির দোকান বন্ধ কেন?”
সে হেসে বলল—
“দোকানদার এখন আর দোকান চালাবে কেন? ওর অ্যাকাউন্টেও তো ৭৫ লাখ টাকা এসেছে!”
মাথার ভেতর কিছু একটা যেন কাঁপতে শুরু করল।
ভাবলাম, নিউ মার্কেটে যাই…
সেখানেও একই অবস্থা—সব দোকান বন্ধ, রাস্তাঘাট ফাঁকা।
যেদিকে তাকাই—
না আছে দোকানদার,
না আছে ক্রেতা,
না আছে কোনো কাজের মানুষ।
সবাই ব্যস্ত—ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে।
খিদে পেয়ে গেল। ভাবলাম, কোনো হোটেলে খেয়ে নিই।
কিন্তু হোটেলও বন্ধ…
স্বাগত জানানোর মানুষ নেই, রান্না করার কেউ নেই, সিকিউরিটি নেই—কেউ নেই।
চা-ওয়ালা নেই, সবজি-ওয়ালা নেই, ফাস্টফুড নেই—
পুরো শহরটা যেন হঠাৎ থেমে গেছে।
বন্ধুর ফোন এল—
“আমি জব ছেড়ে দিয়েছি। এখন কাজ করার দরকার কী?”
আরেকজন বলল—
“স্কুল বন্ধ করে দিয়েছি।”
“টিউশন পড়ানো বন্ধ।”
“কেউ আর কাজ করছে না।”
কারখানা বন্ধ, অফিস বন্ধ, পড়াশোনা বন্ধ—
কারণ সবার কাছে এখন টাকা আছে।
বিকেলে মাঠে গেলাম…
কৃষক নেই। জমি পড়ে আছে ফাঁকা।
কেউ আর রোদে পুড়ে কাজ করতে চায় না—
কারণ তাদেরও ৭৫ লাখ টাকা আছে।
প্রথম দিন, সবাই খুশি।
দ্বিতীয় দিন, সবাই আনন্দে।
তৃতীয় দিন… একটু অস্বস্তি।
তারপর—
৭ দিন পর…
মানুষ খিদের জ্বালায় কাঁদছে।
কারণ—
ফসল নেই,
খাবার নেই,
দোকান নেই,
ওষুধ নেই।
ডাক্তার নেই…
হাসপাতাল বন্ধ…
শিশুরা কাঁদছে,
পশুরা না খেয়ে মরছে,
মানুষ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে টাকা নিয়ে।
কেউ বলছে—
“এই নাও ১০ হাজার টাকা, আমাকে একটু দুধ দাও…”
কেউ কাঁদছে—
“৫ লাখ টাকা নাও, আমাকে একটু চাল দাও…”
কিন্তু কারো কাছে কিছুই নেই।
১০ দিন পর—
শহরটা মৃত্যুপুরী।
মানুষ টাকার বস্তা নিয়ে ঘুরছে, কিন্তু একমুঠো খাবার নেই।
টাকা আছে…
কিন্তু জীবন নেই।
আমি নিজেও ছুটছি—
“এই নাও আমার ৭৫ লাখ… শুধু একটু খাবার দাও…”
কেউ নিচ্ছে না।
হঠাৎ দেখি—
মানুষ মানুষের দিকে হিংস্র চোখে তাকাচ্ছে…
যেন এখন মানুষই মানুষের খাবার হয়ে যাবে!
এক অচেনা লোক আমার দিকে তেড়ে আসছে…
আমি দৌড়াচ্ছি…
ক্ষুধার্ত শরীর আর পারছে না…
হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলাম—
চিৎকার করে উঠলাম—
“মা… বাঁচাও!”
---
হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল।
বউ আমাকে ঝাঁকিয়ে বলছে—
“কি হয়েছে? এমন চিৎকার করছিলে কেন? খারাপ স্বপ্ন দেখেছ?”
আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম—
“না… খারাপ না… এটা ছিল একটা ‘ভালো দিনের’ স্বপ্ন…”
চুপচাপ চারপাশে তাকালাম—
ঘরে দুমুঠো খাবার আছে…
পানির কল থেকে জল পড়ছে…
বাচ্চারা খেলছে…
বাইরে দোকান খোলা…
মানুষ কাজ করছে…
কৃষক মাঠে আছে…
প্রকৃতি বেঁচে আছে…
তখন বুঝলাম—
সবাই যদি একসাথে ধনী হয়ে যায়,
তাহলে আসলে কেউই বাঁচতে পারবে না।
কারণ টাকা জীবন নয়—
জীবন চলে কাজে, পরিশ্রমে, একে অপরের ওপর নির্ভরশীলতায়।
ঈশ্বর চাইলে সবাইকে সমান ধন দিতে পারতেন…
কিন্তু দেননি।
কারণ এই পৃথিবী টিকে আছে—
বৈচিত্র্যে,
অসমতায়,
একে অপরের প্রয়োজনের মধ্যে।
---
শিক্ষা:
ধনী হওয়া বড় কথা নয়,
প্রয়োজনীয় হওয়া বড় কথা।
টাকা থাকলেই জীবন চলে না,
মানুষের কাজই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে।
----
গল্প টি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
---