আল্লাহর সৈনিক সংগঠন

আল্লাহর সৈনিক সংগঠন "আল্লাহর সৈনিক" একটি রাজনৈতিক সংগঠন

"বলুন, আমার পালনকর্তা ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন" (আল-আরাফ:২৯)
05/05/2026

"বলুন, আমার পালনকর্তা ন্যায়বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন"
(আল-আরাফ:২৯)

আল্লাহর সৈনিক সংগঠন
04/05/2026

আল্লাহর সৈনিক সংগঠন

"তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে, যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়" (সূরা বাকারা:২১৬)

"তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে, যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়" (সূরা বাকারা:২১৬)
04/05/2026

"তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে, যদিও তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়" (সূরা বাকারা:২১৬)

💪💪💪
04/05/2026

💪💪💪

মাওলানা তাওসিফ রাজা। বয়স ত্রিশ,থাকেন বিহারের কৃষ্ণগঞ্জ জেলায়। একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি গিয়েছিলেন বেরেলিতে। কে...
01/05/2026

মাওলানা তাওসিফ রাজা। বয়স ত্রিশ,থাকেন বিহারের কৃষ্ণগঞ্জ জেলায়। একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি গিয়েছিলেন বেরেলিতে। কে জানতো,তার আর ফেরা হবে না।৷

গত ২৬ এপ্রিল তার লাশ রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ এটাকে একটা সাধারণ দূর্ঘটনা হিশেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু,স্ত্রীর সাথে তাওসিফের শেষ কথাবার্তার কল-রেকর্ড পাওয়া গেছে। সেখানে তাওসিফ বলছেন যে,কয়েকজন লোক তাকে চোর বলে মারধর করছে। কথা বলার সময় তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত ছিলেন বলে মনে হচ্ছে।

এটিই ছিলো তিনি ও তার স্ত্রীর মাঝে শেষ কথাবার্তা। এরপর তাকে মৃত পাওয়া যায়।৷

আজ ৩০ এপ্রিল ঠিক এই দিনে, ১০৩০ সালে ইন্তেকাল করেন মুসলিমদের ইতিহাসে 'ফাতেহুল হিন্দ' খ্যাত বীর সুলতান আবুল কাসেম মাহমুদ আ...
30/04/2026

আজ ৩০ এপ্রিল ঠিক এই দিনে, ১০৩০ সালে ইন্তেকাল করেন মুসলিমদের ইতিহাসে 'ফাতেহুল হিন্দ' খ্যাত বীর সুলতান আবুল কাসেম মাহমুদ আল-গজনবি রাহি.। তিনি ছিলেন গজনভি সাম্রাজ্যের সুলতান। তার সাম্রাজ্য মূলত আধুনিক আফগানিস্তান, ইরান এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতীয় উপমহাদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তার জীবদ্দশায় তিনি ১৭বার ভারতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ঐতিহাসিক সূত্রে সুলতান মাহমুদকে ইসলামের একজন একনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে দেখা যায়। আব্বাসীয় খলিফার আনুগত্য স্বীকার করে তিনি 'ইয়ামিন-উদ-দৌল্লা এবং আমিন-উল-মিল্লাত' উপাধি ধারণ করেছিলেন।

সুলতান মাহমুদ একজন অসাধারণ সামরিক কৌশলবিদ, ইনসাফপরায়ণ ও দক্ষ শাসক ছিলেন। তার সামরিক দক্ষতা এতটাই উন্নত ছিল যে তিনি তার ১৭টি ভারত অভিযানের একটিতেও পরাজিত হননি। তিনি একটি সুসংহত এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলেন, যেখানে তুর্কি, আরব এবং ভারতীয় সৈন্যদের সমন্বয় ছিল। প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি জ্ঞানী ও গুণীদের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং তার দরবারে বিখ্যাত পণ্ডিত ও কবি যেমন আল-বেরুনী এবং ফেরদৌসী সমাদৃত ছিলেন।

ভারতে প্রেরিত সুলতান মাহমুদ গজনবীর ১৭টি সফল অভিযানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:

১. ১০০০: খ্রিস্টাব্দ: এসময় সুলতান মাহমুদের প্রথম ভারত অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে তিনি খাইবার গিরিপথে অবস্থিত ভারতের সীমান্ত দুর্গ ও কয়েকটি সীমান্ত নগরীর অধিকার করেন।

২. ১০০১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাঞ্জাবের হিন্দু শাহী শাসক জয়পাল। মাহমুদ পেশোয়ারের কাছে তাকে পরাজিত করেন এবং বিপুল ধনসম্পদ লাভ করেন। জয়পাল বন্দি হন, তবে পরে মুক্তি পান এবং অপমানে আত্মহত্যা করেন।

২. ১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ মুলতান আক্রমণ করেন। সেখানকার শাসক দাউদ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন এবং মাহমুদ প্রচুর কর আদায় করেন।

৩. ১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ ভাতিন্ডার শাসক বিজয় রায়কে পরাজিত করেন। ভাটিণ্ডার রাজার সাথে মাহমুদের পিতার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাহমুদের আমলে সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজয় রায়। ফলস্বরূপ পরাজিত হতে হয় তাকে এবং তিনিও আত্মহত্যা করেন।

৪. ১০০৫ খ্রিস্টাব্দ: তিনি মুলতানের শাসনকর্তা বিদ্রোহী ইসমাইলী শাসক আবুল ফতেহ দাউদকে দমন করেন এবং সাথে সাথে মুলতানও অধিকৃত করেন।

৫. ১০০৭ খ্রিস্টাব্দ: এ সময় সুলতান মাহমুদ সুখপালের বিরুদ্ধে তার পঞ্চম অভিযান পরিচালনা করেন।

৬. ১০০৮ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানটি ছিল রাজা আনন্দপালের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। আনন্দপাল কনৌজের প্রতিহার শাসক এবং অন্যান্য ভারতীয় রাজাদের সাথে জোট গঠন করেও মাহমুদের কাছে পরাজিত হন।

৭. ১০০৯ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ নগর কাটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। তেমন কোন বাধা না পাওয়ায় খুব সহজেই এ শহর জয় করেন এবং বিপুল পরিমাণ গনিমত লাভ করেন।

৮. ১০১০ খ্রিষ্টাব্দ: এসময় সুলতান মাহমুদ মুলতানে আরো একটি অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানকার বিদ্রোহী শিয়া মুসলিমদের বিতাড়িত করেন।

৯. ১০১৪ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ নন্দনা অধিকার করেন এবং ত্রিলোচন পালকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন।

১০. ১০১৪ খ্রিস্টাব্দ: মাহমুদ থানেশ্বর আক্রমণ করেন এবং সেখানকার হিন্দুরা তার বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হয়।

১১. ১০১৫-১০২১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ দুবার কাশ্মীর আক্রমণ করেন, তবে দুর্গম ভূখণ্ড এবং প্রবল প্রতিরোধের কারণে তেমন সুবিধা করতে পারেননি।

১২. ১০১৮-১০১৯ খ্রিষ্টাব্দ: এটি ছিল মাহমুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিযান। তিনি কনৌজ আক্রমণ করেন এবং সেখানকার প্রতিহার শাসক রাজ্যপাল পালিয়ে গেলে কনৌজ সহজেই মাহমুদের হস্তগত হয়।

১৩. ১০২০-১০২১ খ্রিষ্টাব্দ: এই অভিযানে মাহমুদ বুন্দেলখণ্ডের কালিঞ্জর দুর্গ অবরোধ করেন। চান্দেল্ল শাসক গণ্ড দেব প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের মুহূর্তে সে রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে যায়।

১৪. ১০২১-১০২২ খ্রিষ্টাব্দ: মাহমুদ গোয়ালিয়রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। এর ফলে গোয়ালিয়রের রাজা তার বশ্যতা স্বীকার করে।

১৫. ১০২৩ খ্রিস্টাব্দ: গোয়ালিয়রের রাজা সুলতান মাহমুদের বশ্যতা স্বীকার করার পর তিনি ১০২৩ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় হিন্দু রাজা নন্দার বিরুদ্ধে সৈন্যসামন্ত নিয়ে কালিঞ্জর আক্রমণ করেন। এই অভিযানকালে তিনি গোন্ডার বিখ্যাত দুর্গ অবরাধে করেন। কালিঞ্জরের রাজা তখন বার্ষিক কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মরক্ষা করেন।

১৬. ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দ: এটি ছিল মাহমুদের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিযান। তিনি গুজরাটের সোমনাথ মন্দিরে অভিযান পরিচালনা করেন। হিন্দুরা এখানে তীর্থ করতে আসত। মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী ছিল অশ্লীল চিত্র দ্বারা শোভিত। সোমনাথ বিগ্রহের খ্যাতি ছিল সমগ্র ভারতবর্ষব্যাপী এবং কর্মরত ব্রাহ্মণগণ মনে করতেন যে, বিগ্রহসমূহের অলৌকিক ক্ষমতা মাহমুদের আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম। হিন্দুদের বিশ্বাস যে ভ্রান্তিমূলক ছিল, তা প্রমাণ করার জন্যই সুলতান মাহমুদ সোমনাথ জয় করতে মনস্থ করেছিলেন। ইবনে খালদুন, ফিরিস্তা এবং ডব্লিউ হেগ প্রমুখ ঐতিহাসিকগণ এই মত সমর্থন করেন।

১৭. ১০২৭ খ্রিষ্টাব্দ: সোমনাথ অভিযানের পর ফেরার পথে মাহমুদ জাঠদের দ্বারা আক্রান্ত হন। এই অভিযানে তিনি জাঠদের পরাজিত করেন।

সুলতান মাহমুদ এর ভারত অভিযানের উদ্দেশ্য–
ধর্মীয় উদ্দেশ্য: পৌত্তলিকতার ধ্বংস সাধন করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সুলতান মাহমুদ ভারতে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ইসলামের এই সুমহান দায়িত্ব পেয়ে মাহমুদ হিন্দুস্তানে ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্রত ছিলেন। ফলস্বরূপ এ সকল অভিযানে কয়েকজন রাজাসহ অসংখ্য হিন্দু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। তবে তিনি উদার এবং ইনসাফরায়ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কারও উপর ধর্ম চাপিয়ে দেননি কখনো। যুদ্ধ লব্ধ সম্পদ ব্যতীত অবৈধ লুটতারাজ তার দ্বারা হয়নি।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: একথা সত্য যে সুলতান মাহমুদ গজনী সম্রাজ্যের বিস্তারে জোর দিয়েছিলেন। গজনিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তৃতে রাজ্য দখল তার জন্য অপরিহার্য ছিল। এছাড়াও উপমহাদেশের হিন্দু রাজন্যবর্গ কর্তৃক চুক্তিভঙ্গ, আনুগত্যহীনতা, শত্রুকে সাহায্য দান ও বিশ্বাসঘাতকতা সুলতান মাহমুদকে বারবার অভিযান পরিচালনা করতে বাধ্য করেছে।

অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য: প্রতিটি অভিযানেই সুলতান মাহমুদ বিপুল পরিমাণ গনিমত অর্জন করতেন। মধ্য এশিয়ার শত্রু দমন করা ও গজনীকে কেন্দ্র করে বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তোলার জন্য এর সম্পদের প্রয়োজন ছিল।

এত বড় মুসলিম বিজেতা হয়েও সুলতান মাহমুদ কখনো অহংবোধ করেননি। বরঞ্চ আল্লাহর সাথে তার গভীর সম্পর্ক ছিল। তিনি যুদ্ধের নিয়মের বাইরে কখনো শত্রুকে হত্যা করেননি। অসীম সাহসিকতার মাধ্যমে সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন। হিন্দুত্ববাদীরা সবসময় সুলতান মাহমুদকে হিংস্র, বর্বর ও ধ্বংসকারী হিসেবে আখ্যায়িত করলেও প্রকৃত ইতিহাসবিদদের কলমে সুলতান মাহমুদ একজন আল্লাহভীরু দ্বীনদার শাসক হিসেবেই অমর হয়ে আছেন, যিনি যুদ্ধের ময়দানেও নফল সালাত আদায় করেছেন এবং যার রাত্রি কেটেছে কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে।
আল্লাহর সৈনিক


আজ ২৭ এপ্রিল। বাংলার রাজনীতির আকাশছোঁয়া এক মহীরুহের মহাপ্রয়াণ দিবস। আবুল কাশেম ফজলুল হক, যাকে আমরা 'শেরে বাংলা' হিসেবে ...
27/04/2026

আজ ২৭ এপ্রিল। বাংলার রাজনীতির আকাশছোঁয়া এক মহীরুহের মহাপ্রয়াণ দিবস। আবুল কাশেম ফজলুল হক, যাকে আমরা 'শেরে বাংলা' হিসেবে জানি। বর্তমান প্রজন্মের কাছে তাকে কেবল একজন সরলমনা নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও, শেরে বাংলার প্রকৃত পরিচয় ছিল, তিনি ছিলেন বাংলার বঞ্চিত মুসলমানদের প্রথম এবং প্রধান পলিটিক্যাল লিডার। তিনি ছিলেন সেই অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি কলকাতার বাবু-সংস্কৃতি আর জমিদারদের শাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

১৮৭৩ সালে বরিশালের পলিমাটিতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি মেধায় ছিলেন সমসাময়িক যে কারো চেয়ে অগ্রগামী। কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে ট্রিপল অনার্স এবং একই সাথে কলকাতার রিপন কলেজ থেকে বি.এল. পাশ করে স্যার আশুতোষ মুখার্জির শিক্ষানবিশ হিসেবে কলকাতা হাইকোর্টে নিজের নাম তালিকাভুক্ত করেন এ. কে. ফজলুল হক। দুবছর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করার পর ১৯০০ সালে তিনি সরাসরি আইন ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু তিনি আয়েশি জীবনের বদলে বেছে নিয়েছিলেন কণ্টকাকীর্ণ পথ। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে ১৯১৩ সালে বঙ্গীয় আইনসভায় তাঁর প্রবেশ ছিল মূলত বাংলার মুসলমানদের জন্য এক নতুন ভোরের সূচনা।

তৎকালীন শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলার মুসলিম ছাত্ররা এক চরম বৈষম্যের শিকার হতো। একটি প্রচলিত অভিযোগ ছিল যে, কলকাতার বর্ণহিন্দু শিক্ষকরা উত্তরপত্রে মুসলিম নাম দেখলেই নম্বর কমিয়ে দিতেন বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফেল করিয়ে দিতেন। মেধাবী ছাত্ররা যেন স্রেফ নামের কারণে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য ফজলুল হক এক বৈপ্লবিক প্রস্তাব নিয়ে আসেন। তিনি দাবি তোলেন,

"পরীক্ষার খাতায় ছাত্রের নাম লেখা থাকবে না, তার বদলে থাকবে কেবল রোল নম্বর।"

এই প্রস্তাবের পেছনে তাঁর যুক্তি ছিল অকাট্য, যাতে পরীক্ষক কোনোভাবেই বুঝতে না পারেন পরীক্ষার্থী হিন্দু না মুসলিম। কলকাতার এলিট সমাজ তখন এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিল, কারণ এর ফলে মেধার নামে চলা তাদের একচেটিয়া আধিপত্য নষ্ট হওয়ার ভয় ছিল। কিন্তু শেরে বাংলা জানতেন, সিস্টেম পরিবর্তন না করলে পিছিয়ে পড়া সমাজ কোনোদিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত তাঁর অনড় অবস্থানের কারণেই এই সংস্কারটি কার্যকর হয়, যা বাংলার মুসলিম ছাত্রদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করে দেয়।

বাংলার মুসলমানদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা রক্ষায়ও শেরে বাংলা ছিলেন অগ্রগণ্য। ১৯৩৭ সালে যখন সমগ্র ভারতের রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন একটি ঐতিহাসিক বিরোধ তৈরি হয়। সেই সময়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হিন্দি ভাষাকে ভারতের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো ব্যক্তিও তখন হিন্দির পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু দূরদর্শী ফজলুল হক জানতেন, বাংলার মানুষের মুখের ভাষা আর অস্তিত্ব অবিচ্ছেদ্য। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বাংলার পক্ষে অবস্থান নেন এবং ভোট প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, চাপিয়ে দেওয়া কোনো ভাষা নয়, বরং কোটি মানুষের প্রাণের ভাষা বাংলাই তার আপন মর্যাদা পাবে।

শেরে বাংলার রাজনীতির দর্শন বুঝতে গেলে তাঁর একটি ঐতিহাসিক উক্তিই যথেষ্ট। তিনি বুক ফুলিয়ে বলতেন,

"আমি যখনই দেখি আমার কোনো কাজে কলকাতার দাদাবাবুরা অখুশি হচ্ছেন, তখনই আমি নিশ্চিত হই যে আমি দেশের জন্য এবং আমার স্বজাতির জন্য সঠিক কাজটি করছি।"

এই একটি বাক্যই বলে দেয় তিনি কতটা স্পষ্টবাদী ছিলেন। ১৯৩৭ সালে বাংলার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি যখন ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করে মহাজনদের সুদের কারবার বন্ধ করলেন, তখন কলকাতার মহাজন মহলে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল। তিনি কেবল আইন পাশ করেননি, তিনি মূলত কলকাতার সেই অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছিলেন, যা বছরের পর বছর মুসলমানদের শোষণ করে আসছিল। আজ আমরা যে শিক্ষিত মুসলিম সমাজ দেখি, তার কারিগর ফজলুল হক। ইডেন কলেজ, ইসলামিয়া কলেজ, লেডি ব্রাবোর্ন কলেজসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ার পাশাপাশি চাকরিতে মুসলমানদের জন্য কোটা প্রবর্তন ছিল তাঁর এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।

১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের মঞ্চে যখন তিনি গর্জে উঠেছিলেন, তখন তিনি মূলত এই ভূখণ্ডের মানুষের নিজস্ব রাষ্ট্র ও স্বাধিকারের বীজ বপন করেছিলেন। যদিও পরবর্তীতে রাজনীতির মানচিত্র বদলেছে, কিন্তু আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন, তার প্রথম আনুষ্ঠানিক রূপরেখা কিন্তু লাহোরের সেই মঞ্চে শেরে বাংলার কণ্ঠেই ঘোষিত হয়েছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তাঁর বিজয় প্রমাণ করেছিল যে, ক্ষমতার দম্ভের চেয়ে মানুষের ভালোবাসা অনেক বড়। শেরে বাংলা আমাদের শিখিয়ে গেছেন যে, সত্যিকার লিডারশিপ মানে প্রভাবশালী মহলের প্রশংসা পাওয়া নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে প্রভাবশালীদের বিরাগভাজন হওয়ার সাহস রাখা। তিনি শিখিয়ে গেছেন নিজের কৃষ্টি ও শেকড়কে ধারণ করে কিভাবে প্রতিকূল শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। বাংলার এই মহানায়কের প্রয়াণ দিবসে আমাদের তরুণদের শপথ হোক, শেরে বাংলার রেখে যাওয়া আপসহীন এবং শেকড়সন্ধানী রাজনীতিকে ধারণ করা। বিনম্র শ্রদ্ধা বাংলার মুসলিম রেনেসাঁর এই স্থপতির প্রতি।

আল্লাহর সৈনিক


ভারত আক্রমন করুক, কুত্তার দলেরা এমনি ঠিক হয়ে যাবে।
24/04/2026

ভারত আক্রমন করুক, কুত্তার দলেরা এমনি ঠিক হয়ে যাবে।

👍
24/04/2026

👍

Address

Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আল্লাহর সৈনিক সংগঠন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category