06/01/2026
১ শতাংশ = ৪৩৫.৬ বর্গফুট
১কাঠা = ৭২০ বর্গফুট
১ কাঠা =১.৬৫ শতাংশ
৩৩ শতাংশে এক বিঘা।
২০ কাঠায় এক বিঘা।
১০০ শতাংশে ১একর।
CS (Cadastral Survey / ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে):
পূর্ণরূপ: ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (Cadastral Survey)।
সময়কাল: ব্রিটিশ শাসনামলে, প্রায় ১৮৮৮ থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত পরিচালিত প্রথম ও মৌলিক জরিপ, যা উপমহাদেশে প্রথম ভূমি রেকর্ড।
গুরুত্ব: এটি প্রথম মৌজাভিত্তিক নকশা ও খতিয়ান তৈরি করে, যা জমির মালিকানা নির্ধারণের ভিত্তি।
RS (Revisional Survey / রিভিশনাল সার্ভে):
পূর্ণরূপ: রিভিশনাল সার্ভে (Revisional Survey)।
সময়কাল: সাধারণত ১৯০৯ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়, যা CS জরিপের সংশোধন বা হালনাগাদ করে।
গুরুত্ব: CS জরিপের পরে মালিকানা পরিবর্তন বা ত্রুটি সংশোধনের জন্য এটি করা হয়, যা RS খতিয়ান নামে পরিচিত।
BS (Broadsheet Survey / ব্রডশিট সার্ভে বা সিটি জরিপ):
পূর্ণরূপ: ব্রডশিট সার্ভে বা সিটি জরিপ (City Survey)।
সময়কাল: এটি একটি আধুনিক জরিপ পদ্ধতি, যা সাধারণত ১৯৯৫-২০১০ (ঢাকা সিটি) বা তারও পরে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানেও চলছে।
গুরুত্ব: অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে ভূমির ব্যবহার ও মালিকানার ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে এটি করা হয়, যা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে হালনাগাদ রেকর্ড।
SA (State Acquisition Survey / স্টেট অ্যাকুইজিশন সার্ভে):
জমিদারি উচ্ছেদের পর জমিদারদের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি হিসাব করার জন্য ১৯৫৬-১৯৬৩ সালে এই জরিপ হয়।
এই জরিপগুলো জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
“দলিল” কাকে বলে?
যে কোন লিখিত বিবরণ আইনগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন সাধারন ভাবেতাকে দলিল বলে।
“নামজারী” কাকে বলে?
ক্রয়সূত্রে/উত্তরাধিকার সূত্রে অথবা যেকোন সূত্রে জমির নতুন মালিক হলে নতুন মালিকের নাম সরকারি খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নামজারী বলা হয়।
“জমা খারিজ”কাকে বলে?
যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে। অন্য কথায় মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমির অংশ নিয়ে নতুন জোত বা খতিয়ান সৃষ্টি করাকে জমা খারিজ বলে।
“খতিয়ান” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকের মালিকানা নিয়ে যে বিবরণ প্রস্তুত করা হয় তাকে “থতিয়ান” বলে। খতিয়ান প্রস্তত করা হয় মৌজা ভিত্তিক। আমাদের দেশে CS, RS, SA এবং সিটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে। এসব জরিপকালে ভূমি মালিকের তথ্য প্রস্তত করা হয়েছে তাকে “খতিয়ান” বলে। যেমন CS খতিয়ান, RS খতিয়ান…
“পর্চা” কাকে বলে?
ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ান প্রস্তত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভুমি মালিকদের প্রদান করা করা হ তাকে “মাঠ পর্চা” বলে। এই মাঠ পর্চা রেভিনিউ/রাজস্ব অফিসার কর্তৃক তসদিব বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোন আপত্তি থাকে তাহলে তা শোনানির পর খতিয়ান চুড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়। আর চুড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকে “পর্চা” বলে।
“মৌজা” কাকে বলে?
যখন CS জরিপ করা হয় তখন থানা ভিত্তিক এক বা একাধিক গ্রাম, ইউনিয়ন, পাড়া, মহল্লা অালাদা করে বিভিন্ন এককে ভাগ করে ক্রমিক নাম্বার দিয়ে চিহ্তি করা হয়েছে। আর বিভক্তকৃত এই প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে।
“তফসিল” কাকে বলে?
জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরণকে “তফসিল” বলে। তফসিলে, মৌজার নাম, নাম্বার, খতিয়ার নাম্বার, দাগ নাম্বার, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণ সহ ইত্যাদি তথ্য সন্নিবেশ থাকে।
“দাগ” নাম্বার কাকে বলে?
যখন জরিপ ম্যাপ প্রস্তুত করা হয় তখন মৌজা নক্সায় ভূমির সীমানা চিহ্নিত বা সনাক্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদা আলাদ নাম্বার দেয়া হয়। আর এই নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে। একেক দাগ নাম্বারে বিভিন্ন পরিমাণ ভূমি থাকতে পারে। মূলত, দাগ নাম্বার অনুসারে একটি মৌজার অধীনে ভূমি মালিকের সীমানা খূটিঁ বা আইল দিয়ে সরেজমিন প্রর্দশন করা হয়।
“আমিন” কাকে বলে?
ভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তত ও ভূমি জরিপ কাজে নিজুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলে।
“খাজনা” ককে বলে?
সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে প্রজার নিকট থেকে ভূমি ব্যবহারের জন্য যে কর আদায় করে তাকে খাজনা বলে।
“দাখিলা” কাকে বলে?
ভূমি কর/খাজনা আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফর্মে ( ফর্ম নং১০৭৭) ভূমি কর/খাজনা আদায়ের প্রমান পত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলা হয়।
DCR কাকে বলে?
ভূমি কর ব্যতিত আন্যান্য সরকারি পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফর্মে (ফর্ম নং ২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে DCR বলে।
“নাল জমি” কাকে বলে?
২/৩ ফসলি সমতল ভূমিকে নাল জমি বলা হয়।
“খাস জমি” কাকে বলে?
সরকারের ভূমি মন্ত্রনালয়ের আওতাধিন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর বা ডিসি তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।
“ওয়াকফ” কাকে বলে?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোন ভূমি তার মালিক কর্তৃক ধর্মীয় ও সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন দান করাকে ওয়াকফ বলে
ভিপি সম্পত্তি কাকে বলে?
ভিপি সম্পত্তি (VP Property) বলতে বাংলাদেশে মূলত "অর্পিত সম্পত্তি" (Vested Property) বোঝানো হয়, যা পাকিস্তান আমলে বা স্বাধীনতার পর ভারত বা অন্য দেশে চলে যাওয়া হিন্দু/সংখ্যালঘু নাগরিকদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং যা 'শত্রু সম্পত্তি' হিসেবে পরিচিত ছিল। এটি এমন সম্পত্তি যা ১৯৫০ সালের 'বাস্তু সম্পত্তি (Evacuee Property) আইন'-এর অধীনে শত্রু সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল এবং পরে বাংলাদেশে 'অর্পিত সম্পত্তি' বা 'ভিপি সম্পত্তি' নামে পরিচিতি পায়, যা সরকার ইজারা বা অন্য উপায়ে পরিচালনা করে।
খাসজমি কি?
খাস জমি হলো সেইসব সরকারি মালিকানাধীন ভূমি যা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার মালিকানাধীন নয়, বরং সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং জেলা প্রশাসকের নামে রেকর্ডভুক্ত থাকে। এই জমিগুলো সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন ভূমিহীন, গৃহহীন বা নিম্নবিত্তদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়, অথবা অন্য কোনো সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয়, যেমন—শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প।
তফসিল কি?
জমির তফসিল হলো কোনো একটি নির্দিষ্ট জমির বিস্তারিত পরিচিতিমূলক বিবরণ, যা জমি শনাক্তকরণ ও মালিকানা হস্তান্তরের জন্য অপরিহার্য; এতে মৌজার নাম, খতিয়ান ও দাগ নম্বর, জমির চৌহদ্দি (চারপাশের সীমানা) এবং পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য থাকে,
“মোতয়াল্লী” কাকে বলে?
যিনি ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধান করেন তাকে মোতওয়াল্লী বলে। ওয়াকফ প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত মোতওয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না।
“ফারায়েজ” কাকে বলে?
ইসলামি বিধান মোতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন করার নিয়ম ও প্রক্রিয়াকে ফারায়েজ বলে।
“ওয়ারিশ” কাকে বলে?
ওয়ারিশ অর্থ উত্তরাধিকারী । ধর্মীয় বিধানের অনুয়ায়ী কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যু বরন করলেতার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণকে ওয়ারিশ বলে।
“পয়ন্তি” কাকে বলে?
নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়ন্তি বলে।