14/04/2025
•গ্যাসের দাম ৩৩ শতাংশ বাড়ল নতুন শিল্পে
বিইআরসির ঘোষণা
শিল্পে বেড়েছে ১০ টাকা, ক্যাপটিভে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। পুরোনো শিল্পকারখানায় অনুমোদিত লোডের অতিরিক্ত ব্যবহারে দিতে হবে নতুন দাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
ভোক্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের তীব্র আপত্তির পরও বাড়ল গ্যাসের দাম। নতুন শিল্পের জন্য গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৩ শতাংশ। এর ফলে শিল্পে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা বাড়তি দিতে হবে।
পুরোনো শিল্প গ্রাহকদেরও কিছু ক্ষেত্রে নতুন দাম পরিশোধ করতে হবে। পুরোনো শিল্পকারখানায় অনুমোদিত লোডের বাইরে অতিরিক্ত ব্যবহারে দিতে হবে বাড়তি দাম। যাঁরা গ্যাস-সংযোগের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন, তাঁদের অনুমোদিত লোডের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আগের দাম দিতে হবে। এর বেশি ব্যবহারে দিতে হবে বাড়তি দাম।
গতকাল রোববার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বিইআরসির শুনানি কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দেশের গ্যাস কমার সঙ্গে সঙ্গে এলএনজি আমদানি বাড়তে থাকে। এলএনজির বাড়তি দাম দিতে গিয়ে চাপে পড়ে পেট্রোবাংলা। তারা ১৫০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। তবে গণশুনানিতে বেশির ভাগ অংশগ্রহণকারী দাম বাড়ানো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।
এখন পুরোনো শিল্পে প্রতি ইউনিট ৩০ টাকা। নতুন শিল্পে ৪০ টাকা।
পুরোনো ক্যাপটিভে প্রতি ইউনিট ৩১.৫০ টাকা। নতুন ক্যাপটিভে ৪২ টাকা।
২০২৩ সালে শিল্পে ১৭৮% পর্যন্ত বাড়ানো হয় গ্যাসের দাম।
দাম বাড়ানোয় সরকার কত টাকা বাড়ি করবে, তা জানে না কমিশন। সা কোম্পানিগুলোর রাজস্ব চাহিদা হিসাক বিইআরসি। এরপর ঘাটতি পূরণে সরকার ভর্তুকির ভিত্তিতে মূল্য সমন্বয় করা হয়। ভিত্তিতে দাম বাড়ানো হলো; এমন প্রশ্নের বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব ধরলে দাম অনেক বেশি বাড়াতে হতে ভোক্তার জন্য সহনীয় রাখতে ৩৩ শতাংশ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভর্তুকিরও হিসাব করা হয়
এরপররাজস্ব চাহিদা যাচাই ছাড়া এভাবে দাম বাড়ানো বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে হয়েছে কি না; জানতে চাইলে বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, মন্ত্রণালয়ের প্রেসক্রিপশনে করা হয়নি।
নতুন ও পুরোনো শিল্পে আলাদা দাম রেখে যে বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে, এটা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে কি না; এমন প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, বিইআরসির আইনি আওতার মধ্যে থেকেই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগ কমার বিষয়টা এখনই বলা যাবে না। নতুন বিনিয়োগে প্রভাব পড়বে কি না, তা নজরে রাখা হবে। নতুন যারা আসবে, তারা যদি দেখে তাদের পোষাবে, তাহলে তারা আসবে। তারা বিকল্প জ্বালানিও ব্যবহার করতে পারে।
পুরোনোদেরও দিতে হবে বাড়তি দাম
দাম ঘোষণার সময় বলা হয়, শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা দাম বাড়ানোর বিরোধিতা করে সিস্টেম লস কমাতে বলেছিল। এটা দ্রুত কমানো খুব কঠিন। এ নিয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সব কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন মূল্যায়ন করা হবে। পেশাদার নিরীক্ষক নিয়োগ করে আয়-ব্যয়ের যথার্থতা যাচাই করা হবে। এ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি বাড়াতে বলা হয়েছে।
নতুন দাম নিয়ে বিইআরসির আদেশ অনুযায়ী, শিল্পে উৎপাদিত নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র (ক্যাপটিভ) ও
বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ দাম ছিল ৩১ টাকা টাকা। আর শিল্প থেকে বাড়িয়ে ক গতকাল থেকেই যত গ্যাস-সংযে বাড়তি দাম দিল সংযোগ সং আবেদ তাদের ক্ষেত্রে ৫০ দাম। আর পুরে লোডের বাইরে ন নতুন দাম দিত হ
নিট পোশ বিকেএমইএর স আলোকে বলেন, না। দেশের মূল না; বরং পুরোেন কমানোর দাবি ক
এর আগে ২০২৩ সালের ভশতাংশ পর্যন্ত ব ক্যাপটিভে প্রতি পরে গত বছর বা টাকা ৫০ পয়সা
বাংলাদেশ (বিটিএমএ) সা আলোকে বলেন সরকারের কোে বিনিয়োগকে স্বা কেন গ্যাসের মূ
ফ্ল্যাট বিক্রয়বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গ্যাসের ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৩১ টাকা ৫০ পয়সা। এটি বেড়ে হয়েছে ৪২ টাকা। আর শিল্প সংযোগে গ্যাসের দাম ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ টাকা। নতুন এ দাম গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। ১৩ এপ্রিলের পর যত গ্যাস-সংযোগ অনুমোদন করা হবে, তাদের বাড়তি দাম দিতে হবে। এর আগপর্যন্ত যেসব সংযোগ আবেদনের চাহিদাপত্র ইস্যু করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বেশি ব্যবহারে নতুন দাম। আর পুরোনো শিল্প গ্রাহকেরা অনুমোদিত লোডের বাইরে যতটুকু ব্যবহার করবেন, ততটুকুর নতুন দাম দিত হবে।
নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, এ দামে নতুন শিল্প টিকতে পারবে না। দেশের মূল খাতে আর কোনো বিনিয়োগ হবে না; বরং পুরোনো শিল্পের যে দাম, তা আরও কমানোর দাবি করেছিলেন তাঁরা।
এর আগে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের কথা বলে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শিল্পে ১৫০ থেকে ১৭৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয় গ্যাসের দাম। শিল্প ও ক্যাপটিভে প্রতি ইউনিটের দাম করা হয় ৩০ টাকা।
পরে গত বছর ক্যাপটিভে দাম বাড়িয়ে করা হয় ৩১ টাকা ৫০ পয়সা।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, দেশের শিল্প উদ্যোক্তাদের কাছে সরকারের কোনো অঙ্গীকার নেই। আবার বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হচ্ছে প্রস্তুতি ছাড়াই। কেন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি? দেশীয় গ্যাসঅবহেলা করে এলএনজি আমদানিতে ঝোক ছিল গত সরকারের। এ থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
নতুন দামে বৈষম্য
নতুন শিল্পকারখানার জন্য প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ টাকা ৭২ পয়সা (এলএনজি কেনার দাম ধরে) করার প্রস্তাব করে পেট্রোবাংলা ও ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। প্রস্তাব মূল্যায়ন করে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করে বিইআরসি গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বলেছিল, প্রতি ইউনিট এলএনজি কিনতে পেট্রোবাংলার খরচ হবে ৭৯ টাকা ৩৪ পয়সা। এতে তিন হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয়ের কথা।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিল্পে গ্যাসের দাম বাড়ানো নিয়ে আয়োজিত শুনানিতে অংশ নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করেছেন ভোক্তারা। শুনানি শুরুর আগে এটি বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন হয়। এরপর শুনানি চলাকালে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করেন সংক্ষুব্ধরা, দেখা দেয় হট্টগোল। দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া বাতিল করে দাম কমানোর শুনানি আহ্বান করার দাবি জানান সবাই।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে। এটা সংবিধানে সংরক্ষিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এ রায় বিভ্রান্তিকর। বিইআরসির এ মূল্যবৃদ্ধি আইনের দৃষ্টিতে অকার্যকর ও বাতিলযোগ্য। এ ছাড়া মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে রাজস্ব চাহিদার সামঞ্জস্য রাখতে হয়। একই গ্যাসে দুবার ভ্যাট না নিয়ে একটি বাদ দিলে মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে বেশি সাশ্রয় হতো l
Real ftv