04/09/2025
যেভাবে কাল এক ভয়াবহ বিপদ থেকে বেঁচে গেলাম!
ভাবতেই গা শিউরে উঠছে, কী ভয়ঙ্কর এক বিপদ থেকে আল্লাহ গতকাল আমাদের রক্ষা করেছেন! সামান্য অসতর্ক হলে আজ হয়তো আমাদের সর্বস্বান্ত হয়ে যেতে হতো। ঢাকার এই ব্যস্ত শহরে আপনার বা আপনার পরিবারের সাথেও এমনটা ঘটতে পারে, তাই আমার অভিজ্ঞতাটি সবার জানা প্রয়োজন।
গতকাল দুপুরে তিনজন ভদ্র চেহারার তরুণী আমাদের দরজায় নক করে। আমি সাধারণত সারাদিন একা থাকি বলে অপরিচিত কারো জন্য দরজা খুলি না। কিন্তু ভাগ্যক্রমে বাবা বাসায় থাকায় দরজা খোলা হয়।
মেয়েরা জানায়, বাড়িওয়ালা তাদেরকে ফ্ল্যাট দেখার জন্য পাঠিয়েছেন। আমি অবাক হয়ে বলি, "আমরা তো ফ্ল্যাট ছাড়ছি না!" তাদের চটজলদি উত্তর, "না আন্টি, পাঁচতলার ফ্ল্যাটটা খালি হবে। ওনারা বাসায় নেই, তাই বাড়িওয়ালা আঙ্কেল আপনাদের ফ্ল্যাটটা দেখতে বললেন। ডিজাইন তো একই।"
তাদের কথায় একটা খটকা লাগার পরেও আমরা সরল মনে বিশ্বাস করি। কিন্তু এরপরই শুরু হয় তাদের আসল খেলা। ঘরে ঢুকেই তারা আমাকে কথার জালে এমনভাবে জড়িয়ে ফেলে যে, আমি অন্য কিছু ভাবার বা বলার সুযোগই পাচ্ছিলাম না। একজন একটার পর একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করছে, আরেকজন ঘরের চারপাশ দেখছে। তাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল আমাকে ব্যস্ত রেখে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া।
এক পর্যায়ে তারা ভেতরের রুম দেখতে চায়। আমি অনুমতি দিতেই তারা ভেতরে গিয়ে বাবাকে দেখে একেবারে থমকে যায়! তাদের মুখের রঙ মুহূর্তেই পাল্টে যায়। অপ্রস্তুত হয়ে তারা দ্রুত বলে, "আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা বাড়িওয়ালার সাথে কথা বলে নেব।" বলেই তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর বাড়িওয়ালার সাথে দেখা হলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করি। তিনি হতভম্ব হয়ে বলেন, "নাতো! আমি কাউকেই পাঠাইনি!"
আর সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, আজ সকালেই জানতে পারলাম, সেই একই চেহারার তিনটি মেয়ে পাশের বিল্ডিংয়ের একটি বাসায় ঠিক একই কৌশলে ঢুকে মোবাইল, দামী গহনা আর নগদ টাকা নিয়ে পালিয়েছে।
এক মুহূর্তের জন্য ভেবে দেখুন, কাল যদি বাবা বাসায় না থাকতেন, তাহলে কী হতো? আমার বাবার ব্যবসার জন্য রাখা নগদ টাকা, আমাদের পরিবারের শেষ সম্বল স্বর্ণালঙ্কার—সবকিছুই হয়তো কাল চলে যেত। তারা শুধু চোর নয়, প্রয়োজনে আরও বড় ক্ষতিও করতে পারতো।
এই ঘটনাটি শেয়ার করার উদ্দেশ্য আপনাদের আতঙ্কিত করা নয়, বরং সর্বোচ্চ সতর্ক করা। এই প্রতারক চক্রগুলো আমাদের সরলতার সুযোগ নেয়।
এই ধরনের ঘটনা এড়াতে যা যা করণীয়
দরজায় যেই আসুক—বাড়িওয়ালার লোক, ইলেক্ট্রিশিয়ান, গ্যাসের লোক বা ডেলিভারিম্যান—পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ফোন করে যাচাই না করে দরজা খুলবেন না।
দরজায় 'ডোর-ভিউয়ার' (Door Viewer/Peephole) লাগিয়ে নিন। দরজা খোলার আগে বাইরে কে আছে দেখে নিন। পুরোপুরি দরজা না খুলে 'ডোর-চেইন' (Door Chain) লাগিয়ে কথা বলুন।
আপনি যদি বাসায় একা থাকেন, তাহলে পারতপক্ষে অপরিচিত কাউকে ঢুকতে দেবেন না। জরুরি হলে প্রতিবেশীকে ডেকে নিন বা ফোনে কাউকে লাইনে রেখে কথা বলুন।
আগন্তুকদের সাথে বেশি কথা বলবেন না। তাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো আপনাকে बातों में उलझाकर আপনার মনোযোগ সরানো। সরাসরি এবং সংক্ষেপে কথা বলুন।
যদি কারও আচরণ বা উদ্দেশ্য নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ হয়, তাহলে ভয় না পেয়ে চিৎকার করুন বা প্রতিবেশীদের ডাকুন। আপনার নিরাপত্তা সবার আগে।
দুর্ভাগ্যবশত এমন ঘটনা ঘটে গেলে আপনার করণীয়
নিজের জীবন বাঁচান। মনে রাখবেন, জিনিসের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। ডাকাত বা চোরের সাথে কোনো প্রকার বিতর্কে জড়াবেন না বা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবেন না। তারা যা চায়, তা দিয়ে দিন।
তারা চলে যাওয়ার সাথে সাথে দরজা বন্ধ করে প্রতিবেশীদের ডাকুন এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) ফোন করে পুলিশকে জানান।
আতঙ্কিত না হয়ে অপরাধীদের চেহারা, পোশাক, উচ্চতা, এবং তারা কোন ভাষায় কথা বলছিল—এই বিষয়গুলো মনে রাখার চেষ্টা করুন। এটি পুলিশকে তদন্তে সাহায্য করবে।
পুলিশ আসার আগে ঘরের কোনো কিছু ধরবেন না বা এলোমেলো করবেন না। অপরাধীর আঙুলের ছাপ বা অন্য কোনো প্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
আপনার একটি শেয়ার হয়তো আপনার কোনো প্রিয়জনকে এমন বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে। সবাই নিরাপদে থাকুন, সতর্ক থাকুন।
"একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: উপরে বর্ণিত অভিজ্ঞতাটি সংগৃহীত। সাধারণত আমি অন্যের লেখা প্রকাশ করি না, কিন্তু এই সতর্কতামূলক বার্তাটি প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি মনে হওয়ায়, এটি এখানে শেয়ার করলাম। মূল লেখকের প্রতি রইলো কৃতজ্ঞতা, যার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা সচেতন হওয়ার সুযোগ পেলাম।"