01/05/2025
‘অতি সত্বর কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন বাতিল করতে হবে’
------- মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী (দা.বা.)
--------------------------------------------------------
হেফাজতে ইসলামের যুগ্মমহাসচিব ও দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী বলেছেন, সম্প্রতি সরকার নিযুক্ত ‘নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন’ যে প্রতিবেদন পেশ করেছে তা জনমনে গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠা সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, এই সংস্কার প্রতিবেদন নারীর প্রকৃত অধিকার নিশ্চিত করতে নয়, বরং দেশবাসীর অন্তর থেকে ইসলামী মূল্যবোধ মুছে ফেলা এবং পারিবারিক কাঠামোর ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাতহানাই এর উদ্দেশ্যে।
আজ (১ মে) বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী আরো বলেন, নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন যে সুপারিশমালা দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ ও একাধিক বিবাহ প্রতিরোধের উদ্যোগ, যা সরাসরি ইসলামী শরীয়াহ বিরোধী। ইসলাম প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিবাহকে বৈধ ও উৎসাহিত করেছে এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে একাধিক বিবাহের অনুমতি প্রদান করেছে। এসব বিধানকে উপেক্ষা করে আইন প্রণয়নের চেষ্টার মাধ্যমে ইসলামী পারিবারিক কাঠামোতে হস্তক্ষেপ করা সরাসরি ঈমানবিরোধী অবস্থান এবং সুস্পষ্ট কুফরির শামিল।
তিনি বলেন, তাছাড়া কমিশন যৌনকর্মীদের স্বীকৃতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে এমন কিছু সুপারিশ করেছে, যা নারীর মর্যাদা, পবিত্রতা এবং সামাজিক শালীনতার ঘোরতর পরিপন্থী। এতে নারীদের অবমাননাকর জীবনধারাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে, যা ইসলাম ও নৈতিকতার সম্পূর্ণ বিপরীত ও মানবতার ভবিষ্যতের জন্য এক অশনি সংকেত।
হেফাজত নেতা মাওলানা নিজামপুরী বলেন, দেশের বাস্তবতা হলো—প্রতিদিন কোথাও না কোথাও নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, অনৈতিকতা ও ব্যভিচারের খবর আসছে। দেশের শহর এলাকার আবাসিক হোটেলগুলোতে ব্যবসার ছত্রছায়ায় নারীকে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। অথচ এসব বিষয়ে সরকারের অবস্থান নীরব। এর বিপরীতে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার নামে এমন কিছু সুপারিশ ও আইন বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, যা কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট পরিপন্থী।
মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী পবিত্র কুরআনের সূরা মায়েদার ৪৪ নং আয়াতের উল্লেখ করে বলেন, এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দ্বারা বিচার করে না, তারাই কাফের”। কাজেই আল্লাহর বিধানকে উপেক্ষা করে সেক্যুলার ধাঁচে সমাজ পরিচালনা করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও নারী-বিপর্যয় বাড়বেই।
দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা নিজামপুরী বলেন, আমরা মনে করি, নারী-অধিকার মানে তার মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পবিত্রতা রক্ষা করা, যা ১৪০০ বছর পূর্বে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে। ইসলাম নারীদের যে অধিকার ও সম্মান দিয়েছে, পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র, কোনো মতবাদ এমন সম্মান দিতে পারেনি, পারবেও না। রাষ্ট্র যদি সত্যিই নারীর কল্যাণে কাজ করতে চায় তবে আগে পর্নো-সংস্কৃতির বিস্তার বন্ধ, নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী বিধানই পারে নারীকে প্রকৃত মুক্তি ও সম্মান দিতে। অতএব, আমাদের জোর দাবি হচ্ছে, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এই কমিশন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, ইনশাআল্লাহ।