Risan Lisan

Risan Lisan Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Risan Lisan, Real Estate, � Location: Ramganj, Lakshmipur, Dhaka.

𝑵𝒂𝒎𝒆 : 𝑹𝒊𝒔𝒂𝒏 𝑳𝒊𝒔𝒂𝒏
𝑯𝒐𝒎𝒆 : 𝑳𝒂𝒌𝒔𝒉𝒎𝒊𝒑𝒖𝒓
𝑪𝒍𝒂𝒔𝒔 : 10
𝒇𝒗𝒓𝒕,𝑭𝒐𝒐𝒕,𝒃𝒍𝒅
𝑨𝒈𝒆 : 𝟏𝟕+
𝑯𝒆𝒊𝒈𝒉𝒕 : 𝟓’𝟕”
𝑷𝒂𝒔𝒔𝒊𝒐𝒏 : 𝑵𝒐𝒗𝒆𝒍 𝑾𝒓𝒊𝒕𝒆𝒓
প্রেমের গল্পে আমি তোমার ওই কাজল কালো চোখের প্রেমে বারবার পড়তে রাজি।"

বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রাপার্ট – ৩১: রাষ্ট্র বনাম সত্যবাইরে বৃষ্টি তখনও থামেনি।লাইভ শেষ হওয়ার পরও ঘরের ভেতরে অদ্ভুত এক উত্ত...
05/03/2026

বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা
পার্ট – ৩১: রাষ্ট্র বনাম সত্য

বাইরে বৃষ্টি তখনও থামেনি।
লাইভ শেষ হওয়ার পরও ঘরের ভেতরে অদ্ভুত এক উত্তেজনা রয়ে গেছে। যেন ঝড় থেমে গেলেও বাতাসে এখনও বিদ্যুতের গন্ধ।
আয়ান ধীরে ল্যাপটপ বন্ধ করল।
তার বুকের ভেতর ধকধক করছে।
আয়রা জানালার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।
রাস্তায় পুলিশের গাড়ির আলো ঘুরছে, সাংবাদিকদের মাইক্রোফোন, ক্যামেরার ঝলকানি—সব মিলিয়ে বাড়ির সামনে ছোটখাটো বিশৃঙ্খলা।
স্যারফরাজ বলল,
— “তোমরা বুঝতে পারছ কি হয়েছে?”
আয়ান মৃদু হাসল।
— “হ্যাঁ… আমরা এমন কিছু প্রকাশ করেছি যেটা অনেক বড় লোকদের ঘুম হারাম করে দেবে।”
আয়রা ধীরে ঘুরে দাঁড়াল।
তার চোখে ক্লান্তি আছে, কিন্তু ভয় নেই।
— “এটা শুধু দুর্নীতির ব্যাপার না। এটা মানুষের বিশ্বাসের প্রশ্ন।”
ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল।
স্ক্রিনে নাম ভেসে উঠল—
ড. রহমান
আয়ান কল রিসিভ করল।
— “হ্যালো?”
ওপাশ থেকে গম্ভীর কণ্ঠ—
— “তোমরা খুব বড় একটা ঝড় তুলেছ।”
— “সত্য বলেছি,” আয়ান শান্ত গলায় বলল।
ড. রহমান কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বললেন,
— “সত্য বলার দাম দিতে হয়, আয়ান। এখন পুরো সিস্টেম তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।”
কল কেটে গেল।
ঘরে আবার নীরবতা।
🔎 সরকারের ভেতরে অস্থিরতা
পরদিন সকাল।
পুরো দেশ যেন এক খবরেই ভরে গেছে।
“লাইভ ভিডিওতে দুর্নীতির অভিযোগ”
“উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তার নাম জড়ালো”
“সরকার তদন্ত শুরু করবে?”
টিভি চ্যানেলগুলোতে শুধু এই আলোচনা।
কিন্তু একই সাথে শুরু হলো আরেকটা খেলা—
চরিত্রহনন।
একটি চ্যানেলে বলা হলো—
“আয়ান একজন ষড়যন্ত্রকারী।”
আরেকটি বলল—
“আয়রা বিদেশি শক্তির এজেন্ট।”
স্যারফরাজ টিভি বন্ধ করে দিল।
— “তারা পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।”
আয়ান চুপচাপ বসে রইল।
সে জানত—এই লড়াইটা এখন শুধু প্রমাণের না, মানুষের বিশ্বাসেরও।
🌧️ আয়রার ভেতরের যুদ্ধ
রাতে আয়রা একা ছাদে উঠে গেল।
বৃষ্টি হালকা পড়ছে।
সে চোখ বন্ধ করল।
একসময় সে ছিল অহংকারী, আত্মবিশ্বাসী।
সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভালো লাগত।
কিন্তু আজ সে বুঝেছে—
সত্যের জন্য লড়াই করলে কখনো কখনো নিজের জীবনও ঝুঁকিতে পড়ে।
আয়ান ধীরে এসে পাশে দাঁড়াল।
— “তুমি ঠিক আছ?”
আয়রা মৃদু হাসল।
— “আমি ভয় পাই না। কিন্তু ভাবছি… আমাদের কারণে যদি তোমার কিছু হয়?”
আয়ান তার দিকে তাকাল।
— “আমরা দুজনেই এই পথ বেছে নিয়েছি।”
কিছুক্ষণ তারা নীরব।
বৃষ্টির ফোঁটা ছাদের টিনে টুপটাপ শব্দ করছে।
আয়রা ধীরে বলল—
— “যদি এই লড়াইয়ে আমরা হেরে যাই?”
আয়ান মৃদু হাসল।
— “তাহলেও আমরা হেরে যাব না। কারণ আমরা সত্য বলেছি।”
⚠️ নতুন হুমকি
হঠাৎ আয়ানের ফোনে একটা অচেনা নম্বর থেকে কল এল।
সে ধরল।
ওপাশে ঠান্ডা কণ্ঠ—
— “তোমরা অনেক দূর চলে গেছ।”
আয়ান বলল—
— “কে বলছেন?”
— “তোমাদের ভবিষ্যৎ।”
আয়রা পাশ থেকে শুনছে।
কণ্ঠটা আবার বলল—
— “শেষ সুযোগ দিচ্ছি। ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলো। আর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাও।”
আয়ান শান্ত গলায় বলল—
— “না।”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর ঠান্ডা হাসি—
— “তাহলে প্রস্তুত হও।”
কল কেটে গেল।
আয়রা ফিসফিস করে বলল—
— “তারা কি করবে?”
আয়ান জানালার বাইরে তাকাল।
— “যা পারে।”
🔥 তদন্ত কমিটি
দুই দিন পর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করল।
কাগজে-কলমে এটা ভালো খবর।
কিন্তু স্যারফরাজ বলল—
— “এই কমিটিতেও হয়তো তাদের লোক আছে।”
আয়ান বলল—
— “তাহলে আমাদের আরও প্রমাণ লাগবে।”
ঠিক তখন দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।
দরজা খুলতেই দেখা গেল—
একজন সাংবাদিক।
সে বলল—
— “আমার কাছে কিছু তথ্য আছে।”
ঘরে ঢুকে সে একটি পেনড্রাইভ দিল।
— “এটা আমি অনেক কষ্টে পেয়েছি। ভেবেছিলাম কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না। কিন্তু তোমাদের লাইভ দেখে মনে হলো—তোমরাই পারবে।”
আয়ান পেনড্রাইভটা ল্যাপটপে লাগাল।
ভিডিও ফাইল খুলতেই সবাই স্তব্ধ।
একটি গোপন মিটিংয়ের ফুটেজ।
সেখানে কয়েকজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা বসে আছে।
আর তাদের মধ্যে একজন—
ড. রহমান।
আয়রা বিস্ময়ে বলল—
— “অসম্ভব…”
ভিডিওতে শোনা গেল—
“যদি আয়ান আর আয়রা সত্যের কাছে পৌঁছে যায়, তাদের থামাতে হবে।”
ঘর নিস্তব্ধ।
আয়ান ধীরে বলল—
— “মানে… তিনি শুরু থেকেই জানতেন।”
💔 বিশ্বাসের ভাঙন
আয়রার বুকের ভেতরটা হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেল।
ড. রহমান—
যাকে তারা এতদিন সহযোগী ভেবেছিল।
আয়ান গভীর শ্বাস ফেলল।
— “এখন বোঝা যাচ্ছে কেন তিনি সবসময় আমাদের একধাপ পেছনে রাখতেন।”
স্যারফরাজ বলল—
— “কিন্তু তিনি সরাসরি শত্রু না, আবার পুরো বন্ধু ও না। হয়তো তারও নিজের খেলা আছে।”
আয়রা ধীরে বলল—
— “তাহলে আমাদের সবচেয়ে বড় লড়াই এখন শুরু।”
🌩️ ঝড়ের আগমনী
রাতে আবার বৃষ্টি নামল।
আয়ান জানালার সামনে দাঁড়িয়ে।
তার মনে হচ্ছে—
এই শহরটা যেন সত্যিই একটা যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে গেছে।
আয়রা এসে তার পাশে দাঁড়াল।
— “আমরা কি এই ভিডিও প্রকাশ করব?”
আয়ান কিছুক্ষণ ভাবল।
— “না। এখনই না।”
— “কেন?”
— “কারণ এটা আমাদের শেষ অস্ত্র হতে পারে।”
আয়রা মাথা নাড়ল।
দূরে বজ্রপাত হলো।
ঠিক তখন আয়ানের ফোনে একটি মেসেজ এল।
স্ক্রিনে লেখা—
“তোমরা ভাবছ সব জানো? আসল গল্প এখনও শুরুই হয়নি।”
তার নিচে আরেকটা লাইন—
“Meet me tomorrow.”
লোকেশন—
শহরের পুরোনো কদম গাছের পার্ক।
আয়ান মেসেজটা আয়রাকে দেখাল।
আয়রা ধীরে বলল—
— “এটা ফাঁদ হতে পারে।”
আয়ান মৃদু হাসল।
— “হয়তো। কিন্তু এই খেলায় এখন পেছনে ফেরার রাস্তা নেই।”
বৃষ্টি তখন আরও জোরে নামছে।
আর সেই বৃষ্টির শহর জানে—
আগামীকাল এমন কিছু ঘটবে, যা এই পুরো ষড়যন্ত্রের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

👉 চলবে — পার্ট ৩২: “কদম গাছের নিচে গোপন সাক্ষাৎ” 🌧️

বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রাপার্ট – ৩০: লাইভে সত্যের বিস্ফোরণলেখক রিসান লিসান বৃষ্টি থামেনি।শহরের আকাশ কালো। যেন প্রকৃতিও অপেক...
23/02/2026

বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা
পার্ট – ৩০: লাইভে সত্যের বিস্ফোরণ
লেখক রিসান লিসান
বৃষ্টি থামেনি।
শহরের আকাশ কালো। যেন প্রকৃতিও অপেক্ষা করছে—আজ কিছু একটা ঘটবে।
আয়রা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। চোখে অদ্ভুত এক দৃঢ়তা।
আজ সে শুধু আয়ান-এর স্ত্রী না।
সে আজ সত্যের কণ্ঠস্বর হতে চলেছে।
আয়ান ধীরে বলল—
— “তুমি নিশ্চিত?”
আয়রা ঘুরে তাকাল।
— “তারা আমাদের বিয়ে ব্যবহার করেছে। আমাদের সম্পর্ককে অস্ত্র বানাতে চেয়েছে। এবার আমরা সেই অস্ত্রটাই ফিরিয়ে দেব।”
টেবিলের ওপর ল্যাপটপ।
ক্যামেরা সেট করা।
ইন্টারনেট লাইভ হওয়ার অপেক্ষায়।
🔴 লাইভ শুরু
৩…
২…
১…
“আমরা লাইভে আছি।”
স্ক্রিনে হাজার হাজার মানুষ জুড়ে গেল।
আয়রা শান্ত গলায় শুরু করল—
“আজ আমি কোনো গুজবের জবাব দিতে আসিনি।
আমি সত্য বলার জন্য এসেছি।”
চ্যাটবক্স ভরে উঠছে।
কেউ সমর্থন করছে, কেউ সন্দেহ করছে।
আয়রা একে একে ডকুমেন্ট দেখাতে শুরু করল—
গোপন ফাইল।
চুক্তিপত্র।
ভিডিও ফুটেজ।
আয়ান পাশে বসে প্রতিটি তথ্য ব্যাখ্যা করছে।
“সরকারের ভেতরে কিছু মানুষ ক্ষমতা ধরে রাখতে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে,” আয়ান বলল।
হঠাৎ লাইভে কমেন্ট এল—
“প্রমাণ ভুয়া!”
আরেকটা—
“তোমরা দেশবিরোধী!”
আয়রা থামল না।
সে বলল—
“আমাদের বিয়ের দিনও আমাদের নজরদারি করা হয়েছিল।
আমাদের ব্যক্তিগত জীবনকে চাপের হাতিয়ার বানানো হয়েছিল।”
হাজারো মানুষ স্তব্ধ হয়ে শুনছে।
⚠️ হ্যাকের চেষ্টা
হঠাৎ স্ক্রিন কাঁপল।
স্যারফরাজ, যে পেছনে বসে ছিল, চিৎকার করল—
— “কেউ সার্ভার হ্যাক করার চেষ্টা করছে!”
লাইভে গ্লিচ দেখা দিল।
আয়ান দ্রুত ব্যাকআপ লিঙ্ক চালু করল।
আয়রা মাইক শক্ত করে ধরে বলল—
— “দেখলেন? সত্য সামনে এলে তারা ভয় পায়।”
সংখ্যা আরও বাড়তে লাগল।
লাইভ এখন ট্রেন্ডিং।
💣 বিস্ফোরক প্রকাশ
শেষে আয়রা সেই ভিডিও চালু করল—
যেখানে বিয়ের দিন এক উচ্চপর্যায়ের উপদেষ্টা ফোনে নির্দেশ দিচ্ছে।
ভিডিওতে পরিষ্কার শোনা গেল—
“ওদের সম্পর্কটাই হবে আমাদের নিয়ন্ত্রণের চাবি।”
লাইভে নিস্তব্ধতা।
তারপর বিস্ফোরণ।
চ্যাটবক্স ভরে গেল—
“এটা কি সত্যি?”
“তদন্ত চাই!”
🌧️ বাইরে ঝড়
ঠিক তখনই দরজায় জোরে ধাক্কা।
আয়ান তাকাল।
বাইরে কয়েকজন অচেনা লোক।
আয়রা ফিসফিস করে বলল—
— “তারা এসেছে।”
আয়ান ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলল—
— “যদি আজ আমাদের কিছু হয়… এই ভিডিও প্রমাণ হিসেবে থাকবে।”
দরজা ভাঙার শব্দ।
স্যারফরাজ বলল—
— “পুলিশকেও জানিয়েছি। সময় লাগবে।”
আয়রা শেষবারের মতো ক্যামেরার দিকে তাকাল।
তার কণ্ঠে কোনো ভয় নেই।
— “সত্যকে চুপ করানো যায় না।”
দরজা ভেঙে খুলে গেল।
কিন্তু ঠিক তখনই দূরে সাইরেনের শব্দ।
অচেনা লোকগুলো একে অপরের দিকে তাকাল।
পুলিশের গাড়ি থামল বাড়ির সামনে।
🌩️ ঝড়ের পর
লোকগুলো পালাতে বাধ্য হলো।
লাইভ এখনও চলছে।
আয়ান ধীরে বলল—
— “এটা শুধু শুরু। আমরা থামব না।”
আয়রা নিঃশ্বাস ফেলল।
তার চোখে জল জমেছে, কিন্তু সেটা ভয় না—স্বস্তি।
স্ক্রিনে শেষ মেসেজ ভেসে উঠল—
“Phase Three Loading…”
আয়ান ফিসফিস করল—
— “তারা থামেনি।”
আয়রা তার হাত ধরল।
— “আমরাও থামব না।”
বৃষ্টি ঝরছে।
আর বৃষ্টির শহর প্রস্তুত—
সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের জন্য।

👉 চলবে — পার্ট ৩১: “রাষ্ট্র বনাম সত্য”

উপন্যাস: বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রাপার্ট – ২৯: সবচেয়ে কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতালেখক রিসান লিসান! রাশেদকে গ্রেপ্তার করার পর...
14/02/2026

উপন্যাস: বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা
পার্ট – ২৯: সবচেয়ে কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা
লেখক রিসান লিসান!
রাশেদকে গ্রেপ্তার করার পর শহরে সাময়িক শান্তি ফিরেছিল।
কিন্তু আয়ানের মনে শান্তি নেই।
রাশেদের শেষ কথা—
“আমি একা না…”
এই বাক্যটা যেন তার মাথার ভেতর ঘুরতেই থাকে।
🌧️ সন্দেহের ছায়া
রাত প্রায় দুইটা।
আয়ান পুরোনো সার্ভার লগ ঘাঁটছিল।
হঠাৎ সে একটা অদ্ভুত মিল খুঁজে পেল—
তাদের প্রতিটি গোপন মিটিংয়ের আগে একটি নির্দিষ্ট আইপি থেকে ডেটা অ্যাক্সেস হয়েছে।
লোকেশন ট্র্যাক করে সে থেমে গেল।
ইমতিয়াজ স্যারের অফিস।
তার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
ঠিক তখন আয়রা এসে বলল,
— “কিছু পেয়েছ?”
আয়ান ধীরে স্ক্রিনটা দেখাল।
আয়রা চুপ করে রইল কয়েক সেকেন্ড।
তারপর বলল—
— “আমরা কি সরাসরি জিজ্ঞেস করব?”
আয়ান গভীর শ্বাস ফেলল।
— “হ্যাঁ। সত্যি যদি কষ্টও দেয়, তবুও জানতে হবে।”
🔎 মুখোমুখি সত্য
পরদিন সকালে তারা ইমতিয়াজ স্যারের অফিসে গেল।
স্যার তাদের দেখে হালকা হাসলেন,
— “এত ভোরে?”
আয়ান সরাসরি বলল,
— “স্যার, আমাদের তথ্য আপনার অফিস থেকেই বাইরে গেছে।”
ঘর নিস্তব্ধ।
ইমতিয়াজ স্যারের চোখের হাসি মিলিয়ে গেল।
তিনি ধীরে চেয়ারে বসলেন।
— “তোমরা জেনে গেছ তাহলে…”
আয়রার বুক ধক করে উঠল।
— “মানে সত্যি?”
স্যার মাথা নিচু করলেন।
— “আমি পুরোপুরি না… কিন্তু কিছু তথ্য দিয়েছি।”
আয়ানের চোখে আঘাত স্পষ্ট।
— “কেন?”
💔 চাপের গল্প
ইমতিয়াজ স্যার ধীরে বললেন—
— “তারা আমার পরিবারকে হুমকি দিয়েছিল। আমি যদি কিছু তথ্য না দিই… তারা আমার ছেলেকে ফাঁসাবে।”
ঘর ভারী হয়ে গেল।
আয়রা ধীরে বলল,
— “আপনি আমাদের বিশ্বাস ভেঙেছেন।”
স্যার কষ্টের হাসি দিলেন।
— “আমি জানি। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম তোমরা পুরো ঝুঁকির মুখে না পড়ো। আমি ভেবেছিলাম অল্প তথ্য দিলে তারা সন্তুষ্ট থাকবে।”
আয়ান দাঁত চেপে বলল,
— “কিন্তু তারা সন্তুষ্ট হয়নি।”
⚠️ নতুন ধাক্কা
ঠিক তখন আয়ানের ফোনে একটি এনক্রিপ্টেড ভিডিও এল।
ভিডিওতে দেখা গেল—
তাদের বিয়ের দিন।
ক্যামেরার ভিড়ে দাঁড়িয়ে একজন লোক ফোনে কথা বলছে।
জুম করে দেখতেই আয়রার মুখ ফ্যাকাশে।
লোকটা—
সরকারের আরও উচ্চ পর্যায়ের একজন উপদেষ্টা।
আয়ান ফিসফিস করে বলল,
— “তারা অনেক আগে থেকেই আমাদের পরিকল্পনায় রেখেছিল…”
আয়রা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
তার অহংকার, তার শক্ত ভাব—সবকিছু এখন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।
— “মানে আমাদের বিয়েটাকেও তারা ব্যবহার করেছে?”
আয়ান তার দিকে তাকাল।
— “হয়তো আমাদের ভাঙতে চেয়েছিল।”
আয়রা ধীরে মাথা তুলল।
তার চোখে পানি নেই।
শুধু আগুন।
— “তাহলে এবার আমরা লুকাব না।
পুরো শহরের সামনে সত্যটা আনব।”
বাইরে বৃষ্টি শুরু হলো।
আয়ান হাত বাড়িয়ে বলল,
— “এই লড়াই সহজ হবে না।”
আয়রা তার হাত ধরল।
— “আমাদের ভালোবাসা যদি তাদের ষড়যন্ত্রের অংশ হয়ে থাকে…
তাহলে সেই ভালোবাসাই হবে তাদের পরাজয়ের কারণ।”
দূরে বজ্রপাত।
স্ক্রিনে আবার একটি মেসেজ ভেসে উঠল—
“Phase Two Initiated.”
আয়ান শান্ত গলায় বলল—
— “যুদ্ধ শুরু।”

👉 চলবে — পার্ট ৩০: “লাইভে সত্যের বিস্ফোরণ”

অহংকার, ভালোবাসা আর ষড়যন্ত্রপার্ট – ২৮: সরকারের ভেতরের বিশ্বাসঘাতকলেখক রিসান লিসান, রাতটা অদ্ভুতভাবে নীরব ছিল। যেন শহর জ...
13/02/2026

অহংকার, ভালোবাসা আর ষড়যন্ত্র
পার্ট – ২৮: সরকারের ভেতরের বিশ্বাসঘাতক
লেখক রিসান লিসান,

রাতটা অদ্ভুতভাবে নীরব ছিল। যেন শহর জানে—আজ কোনো বড় সত্য প্রকাশ পেতে চলেছে।
আয়ান জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দূরের আলো দেখছিল। তার মাথায় একটাই প্রশ্ন ঘুরছিল—
“যাদের ওপর ভরসা করেছি, তারা কি সত্যিই আমার পাশে আছে?”
ঠিক তখনই আয়রা ধীরে এসে তার পাশে দাঁড়াল।
— “তুমি এখনো জেগে?”
— “ঘুম আসছে না। মনে হচ্ছে আমরা যাকে শত্রু ভাবছি, সে সামনে নেই… লুকিয়ে আছে আমাদের আশেপাশেই।”
আয়রা একটু চুপ করে থেকে বলল,
— “আজ বিকেলে একটা অদ্ভুত ফোন পেয়েছি।”
আয়ান চমকে তাকাল।
— “কেমন ফোন?”
— “কেউ নিজের পরিচয় দেয়নি। শুধু বলেছে— ‘সরকারের ভেতরে এমন একজন আছে, যে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নজর রাখছে।’”
কথাটা শুনে আয়ানের বুকের ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে গেল।
🔎 গোপন ফাইল
পরদিন ভোরে তারা ইমতিয়াজ স্যারের কাছে গেল। তিনি ইতিমধ্যেই কিছু কাগজপত্র টেবিলে ছড়িয়ে রেখেছেন।
— “আমি জানতাম তোমরা আসবে,” তিনি বললেন।
— “স্যার, আমাদের মধ্যে কেউ তথ্য পাচার করছে,” আয়ান সরাসরি বলল।
ইমতিয়াজ স্যার একটা ফাইল এগিয়ে দিলেন।
— “এটা গত ছয় মাসের যোগাযোগ রেকর্ড। দেখো—প্রতিবার তোমরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছ, তার আগেই বিরোধীরা প্রস্তুত ছিল।”
আয়রা ফাইলটা খুলে দেখল। একটা নাম বারবার চোখে পড়ছে।
“রাশেদ মাহমুদ।”
— “সে তো সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা!” আয়রা অবাক হয়ে বলল।
ইমতিয়াজ স্যার দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— “হ্যাঁ। বাইরে থেকে সৎ মানুষ মনে হয়। কিন্তু তার অতীত পরিষ্কার নয়।”
আয়ান দাঁত চেপে বলল,
— “মানে… এতদিন আমরা যাদের সাহায্য ভেবেছি, তাদের মধ্যেই একজন বিশ্বাসঘাতক ছিল!”
⚠️ ফাঁদ
সিদ্ধান্ত হলো—তারা সরাসরি অভিযোগ করবে না। আগে প্রমাণ দরকার।
আয়রা একটা পরিকল্পনা দিল।
— “আমরা মিথ্যা একটা তথ্য ছড়িয়ে দেব। বলব—আগামীকাল আমরা শহর ছাড়ছি। যদি তথ্যটা বাইরে যায়, বুঝব কে খবর দিচ্ছে।”
পরিকল্পনা মতো কাজ হলো।
শুধু চারজন জানল—আয়ান, আয়রা, ইমতিয়াজ স্যার… আর রাশেদ।
রাত বারোটার দিকে হঠাৎ ফোন এল।
— “তোমরা পালানোর চেষ্টা করছ?” অপরিচিত কণ্ঠ।
— “আমরা সব জানি।”
ফোন কেটে গেল।
আয়ান ধীরে ফোনটা নামিয়ে বলল,
— “এবার নিশ্চিত… বিশ্বাসঘাতক সে-ই।”
😨 অপ্রত্যাশিত আঘাত
পরদিন তারা বের হওয়ার আগেই রাস্তা আটকে দিল কয়েকটা কালো গাড়ি।
আয়রা ফিসফিস করে বলল,
— “আমাদের প্ল্যান তো শুধু রাশেদ জানত…”
গাড়ি থেকে নেমে এল কয়েকজন লোক। তাদের চোখে কঠোরতা।
ঠিক তখনই পিছন থেকে একটা পরিচিত কণ্ঠ শোনা গেল—
— “আমি বলেছিলাম না, বেশি দূর যেতে পারবে না।”
রাশেদ ধীরে ধীরে সামনে এল।
আয়ানের ভেতর রাগ আগুনের মতো জ্বলতে লাগল।
— “কেন? আমরা তোমার কী ক্ষতি করেছি?”
রাশেদ ঠান্ডা হাসি দিল।
— “এটা ব্যক্তিগত কিছু না। ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে মাঝে মাঝে সত্যকে চাপা দিতে হয়। আর তোমরা সেই সত্যের খুব কাছে চলে গেছ।”
আয়রা দৃঢ় গলায় বলল,
— “মানুষের ক্ষতি করে পাওয়া ক্ষমতা কখনো টিকে না।”
রাশেদ চোখ ছোট করে তাকাল।
— “তুমি খুব সাহসী, আয়রা। কিন্তু সাহস কখনো কখনো বিপদ ডেকে আনে।”
💥 হঠাৎ মোড়
পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই দূরে সাইরেন বাজল।
আরেকটা গাড়ি এসে থামল।
সেখান থেকে নামলেন—ড. রহমান।
তিনি শক্ত গলায় বললেন,
— “রাশেদ সাহেব, খেলা শেষ। আপনার সব যোগাযোগ আমরা ট্র্যাক করেছি।”
রাশেদের মুখের রঙ বদলে গেল।
— “অসম্ভব…”
ইমতিয়াজ স্যারও এসে দাঁড়ালেন।
— “অসম্ভব না। তুমি ভুলে গিয়েছিলে—বিশ্বাসঘাতকতা যতই লুকানো হোক, একদিন না একদিন সামনে আসে।”
লোকগুলো ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল।
রাশেদ শেষবার আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “তুমি জিতেছ ভেবে ভুল করো না। এই খেলায় আমি একা না…”
কথাটা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো।
🌧️ ঝড়ের আগের শান্তি
সবকিছু হঠাৎ শান্ত হয়ে গেল। কিন্তু সেই শান্তির ভেতরেও অদ্ভুত একটা ভয় রয়ে গেল।
আয়রা ধীরে বলল,
— “সে বলল—সে একা না। তাহলে…?”
আয়ান আকাশের দিকে তাকাল। কালো মেঘ জমছে।
— “মানে ঝড় এখনো শেষ হয়নি। এটা শুধু শুরু।”
আয়রা তার হাত শক্ত করে ধরল।
— “যত বড় ঝড়ই আসুক… এবার আমরা একসাথে মোকাবিলা করব।”
আয়ান হালকা হাসল।
— “এবার কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।”
কিন্তু দূরে বজ্রপাত হলো।
আর তারা কেউই জানত না—পরের আঘাতটা আসবে এমন একজনের কাছ থেকে, যাকে তারা সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে…

👉 চলবে — পার্ট ২৯: “সবচেয়ে কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা”

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”পার্ট–২৬ : আরুণোদয়ের ফাঁদলেখক রিসান। লোকেশনটা শহরের বাইরে।একসময়কার সরকারি রিসার্চ সেন্টার—এখন পর...
09/02/2026

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”
পার্ট–২৬ : আরুণোদয়ের ফাঁদ
লেখক রিসান।

লোকেশনটা শহরের বাইরে।
একসময়কার সরকারি রিসার্চ সেন্টার—এখন পরিত্যক্ত। চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া, ভাঙা সিসিটিভি, আর অস্বাভাবিক নীরবতা।
গাড়ি থামতেই আয়ান বলল,
“এই জায়গাটা… ঠিক ভালো লাগছে না।”
আয়রা গভীর শ্বাস নিল।
“ভালো লাগার সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে, আয়ান। চল।”
রায়হান আর স্যারফরাজও নেমে এল। রাতের আকাশে মেঘ জমেছে, চাঁদ লুকানো।
ভেতরে ঢুকতেই পুরোনো জেনারেটরের শব্দ—
ঘররর…
“এখানে বিদ্যুৎ আছে?”
রায়হানের কণ্ঠে বিস্ময়।
স্যারফরাজ ফিসফিস করে বলল,
“মানে… জায়গাটা পুরোপুরি পরিত্যক্ত না।”
হঠাৎ করেই লাইট জ্বলে উঠল।
চারদিক সাদা আলোয় ভরে গেল।
একটি কণ্ঠ স্পিকারে ভেসে এলো—
“Welcome to Project Arunodoy.”
আয়রার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
“ড. রহমান?”
আয়ান দাঁত চেপে বলল।
হালকা হাসির শব্দ।
“না, আয়ান। আমি তার থেকেও এক ধাপ ওপরে।”
সামনের কাচের দেয়াল স্বচ্ছ হয়ে উঠল।
ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকজন স্যুট পরা মানুষ।
মাঝখানে—
একজন বয়স্ক লোক, চোখে আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টি।
“আমি মহিবুল ইসলাম,”
সে বলল,
“রাষ্ট্রের এমন কিছু সত্য জানি, যা সাধারণ মানুষ জানলে ভয় পাবে।”
আয়রা এগিয়ে এল।
“আপনারাই আমাকে হুমকি দিয়েছিলেন?”
মহিবুল মাথা নেড়ে বলল,
“হুমকি না। সতর্কতা।”
পেছনের স্ক্রিনে ভিডিও চালু হলো।
ভিডিওতে—
মানুষের উপর পরীক্ষা।
হিপনোটিক ফ্রিকোয়েন্সি।
মানুষের সিদ্ধান্ত বদলে যাচ্ছে।
আয়ানের মুঠি শক্ত হয়ে গেল।
“এটা অপরাধ!”
মহিবুল শান্ত কণ্ঠে বলল,
“রাষ্ট্র টিকিয়ে রাখতে কখনো কখনো অপরাধকেই অস্ত্র বানাতে হয়।”
আয়রা চিৎকার করে উঠল—
“মানুষ রোবট না!”
ঠিক তখনই পাশের দরজা খুলে গেল।
একটি পরিচিত ছায়া ধীরে বেরিয়ে এল।
আয়রা থমকে গেল।
“ইমতিয়াজ… স্যার?”
ইমতিয়াজ স্যারের চোখে ক্লান্তি, মুখে অপরাধবোধ।
“আমাকে বিশ্বাস করো,”
তিনি বললেন,
“আমি ভিতর থেকে সব ভাঙার চেষ্টা করেছি।”
মহিবুল ঠাণ্ডা হেসে বলল,
“আর সেই কারণেই আমরা তোমাদের এখানে এনেছি।”
আয়ান বুঝে গেল।
“এটা একটা ফাঁদ।”
চারদিক থেকে অস্ত্রধারী লোক ঘিরে ফেলল।
মহিবুল ঘোষণা করল—
“আজ দুটি পথ।
এক—আমাদের সাথে কাজ করবে।
দুই—এই জায়গা থেকে আর বেরোতে পারবে না।”
আয়রা আয়ানের দিকে তাকাল।
চোখে ভয় নেই।
আছে সিদ্ধান্ত।
সে সামনে এগিয়ে এসে বলল—
“আপনি ভুল মানুষ বেছে নিয়েছেন।”
হঠাৎ করেই স্যারফরাজ ল্যাপটপ খুলে ফেলল।
“এখন!”
লাইট নিভে গেল।
অ্যালার্ম বাজতে শুরু করল—
BEEP—BEEP—BEEP
ধোঁয়ায় ভরে গেল ঘর।
রায়হান চিৎকার করল,
“বাম দিকের দরজা!”
গুলির শব্দ।
আয়ান আয়রার হাত ধরে দৌড়াল।
পেছনে মহিবুলের গলা ভেসে এলো—
“তোমরা পালাতে পারো…
কিন্তু আরুণোদয় উঠবেই!”
তারা অন্ধকার করিডোরে হারিয়ে গেল।
শেষ দৃশ্যে—
কন্ট্রোল রুমের স্ক্রিনে একটি লাল লাইন জ্বলে উঠল।
Phase 1: Activated
বাইরে বেরিয়ে আয়রা হাঁপাতে হাঁপাতে বলল—
“এটা শুধু শুরু, তাই না?”
আয়ান তার কপালে কপাল ঠেকাল।
“হ্যাঁ।
আর এবার যুদ্ধটা শুধু আমাদের না…
পুরো শহরের।”
দূরে সাইরেনের শব্দ।
বৃষ্টির শহর আবার কাঁপছে।

চলবে… (পার্ট–২৭)

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”পার্ট–২৫ : অদৃশ্য ছায়ার বার্তালেখক রিসান লিসান। বৃষ্টি থামেনি।ক্যাম্পাসের গাছগুলো ভিজে চকচক করছে...
07/02/2026

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”
পার্ট–২৫ : অদৃশ্য ছায়ার বার্তা
লেখক রিসান লিসান।

বৃষ্টি থামেনি।
ক্যাম্পাসের গাছগুলো ভিজে চকচক করছে। কিন্তু আয়ানের চোখ এখন ফোনের স্ক্রিনে আটকে।
Subject: “Project Nilchhaya wasn’t the last.”
Sender: Unknown
আয়রা ধীরে বলল,
“ওপেন করো।”
আয়ান মেইল খুলতেই একটি লাইন ভেসে উঠল—
“নীলছায়া ছিল শুধু শুরু।
পরের ধাপ ইতিমধ্যেই চালু।”
নিচে একটি এনক্রিপ্টেড ফাইল।
স্যারফরাজকে তৎক্ষণাৎ ডাকা হলো। সে ল্যাপটপ খুলে ফাইল ডিক্রিপ্ট করতে লাগল। কয়েক মিনিটের টানটান নীরবতা।
তারপর স্ক্রিনে ভেসে উঠল কিছু ছবি।
একটি আধুনিক ল্যাব।
অপরিচিত লোকজন।
আর দেয়ালে লেখা একটি কোড—
Project Arunodoy
রায়হান ফিসফিস করে বলল,
“ড. রহমান গ্রেপ্তার… তবুও প্রজেক্ট চলছে?”
স্যারফরাজ গম্ভীর গলায় বলল,
“মানে—ও একা ছিল না কখনো।”
আয়রার বুক ঠান্ডা হয়ে গেল।
“এইবার কারা?”
স্ক্রিনের পরের ছবিটা জুম করতেই সবাই থেমে গেল।
একটি পরিচিত মুখ।
আয়ান বিস্ময়ে বলল—
“অসম্ভব…”
ছবিতে দাঁড়িয়ে আছে—
ইমতিয়াজ স্যার।
ঘরে যেন হাওয়া বন্ধ হয়ে গেল।
“না…”
আয়রা মাথা নাড়ল,
“তিনি তো আমাদের সাহায্য করেছিলেন!”
স্যারফরাজ ধীরে বলল,
“হয়তো…
অথবা তিনি আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সত্য দেখিয়েছেন।”
আয়ান চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
বিশ্বাস আর সন্দেহের মাঝখানে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়ে।
ঠিক তখনই আবার মেইল এল।
“সত্য সবসময় দুই দিক নিয়ে আসে।
যাকে নায়ক ভাবো—
সে কখনো কখনো দরজা খুলে দেওয়া মানুষ।”
আয়রা দাঁত চেপে বলল,
“আমাদের ওনার সাথে দেখা করতে হবে। এখনই।”
সন্ধ্যা।
শহরের এক শান্ত রাস্তায় ইমতিয়াজ স্যারের বাড়ি। দরজা আধখোলা।
আয়ান ধীরে ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
ঘর অন্ধকার।
টেবিলের ওপর শুধু একটি ল্যাম্প জ্বলছে।
আর সেখানে—একটি চিঠি।
আয়রা তুলে পড়তে লাগল।
*“আয়রা,
যদি তুমি এটা পড়ো, বুঝবে—সময় এসে গেছে।
আমি কখনো পুরো সত্য বলিনি।
কারণ কিছু সত্য মানুষকে প্রস্তুত না করে বলা যায় না।
Arunodoy নীলছায়ার চেয়েও বড়।
আর এবার লক্ষ্য শুধু পরীক্ষা না—
মানুষের চিন্তা নিয়ন্ত্রণ।
আমাকে খুঁজতে এসো না।
বরং প্রজেক্টটাকে থামাও।
কারণ তোমরা ছাড়া আর কেউ পারবে না।”*
চিঠির নিচে একটি লোকেশন।
আয়ান ধীরে বসে পড়ল।
“আমরা কি আবার একই দুঃস্বপ্নে ঢুকছি?”
আয়রা জানালার বাইরে তাকাল।
শহরের আলো জ্বলছে, বৃষ্টি আবার নামতে শুরু করেছে।
সে শান্ত গলায় বলল—
“না।
এইবার আমরা প্রস্তুত।”
আয়ান তার দিকে তাকাল।
এই মেয়েটা একসময় শুধু ভালোবাসা বাঁচাতে লড়েছিল।
এখন সে শহরের জন্য লড়তে প্রস্তুত।
“ভয় পাচ্ছ?”
আয়ান জিজ্ঞেস করল।
আয়রা মৃদু হাসল।
“পাচ্ছি।
কিন্তু এবার আমি জানি—
অন্ধকার যত বড়ই হোক,
আমরা আলো জ্বালাতে পারি।”
দূরে বজ্রপাত।
টেবিলের ওপর রাখা চিঠিটা বাতাসে কেঁপে উঠল।
বৃষ্টির শহর আবার ডাকছে—
আরও গভীর এক রহস্যের দিকে।

চলবে… (পার্ট–২৬)

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”পার্ট–২৪ : ঝড়ের পরের আলোলেখক রিসান লিসান, ড. রহমানকে নিয়ে পুলিশের গাড়ি অন্ধকারে মিলিয়ে যাওয়ার পর...
04/02/2026

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”
পার্ট–২৪ : ঝড়ের পরের আলো
লেখক রিসান লিসান,

ড. রহমানকে নিয়ে পুলিশের গাড়ি অন্ধকারে মিলিয়ে যাওয়ার পর নদীর ঘাটটা হঠাৎ খুব নীরব হয়ে গেল।
শুধু বৃষ্টির শব্দ।
আর ভেজা বাতাস।
আয়রা স্থির দাঁড়িয়ে ছিল। যেন এতদিন ধরে বুকের ওপর চাপা একটা ভার ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।
আয়ান নরম গলায় বলল,
“এখন সত্যিই শেষ।”
আয়রা তাকাল তার দিকে।
চোখে জল চিকচিক করছে, কিন্তু সেটা দুঃখের না—স্বস্তির।
“জানো,”
সে বলল,
“আমি ভাবতাম শক্ত হওয়া মানে কখনো না কাঁদা।
আজ বুঝলাম—শক্ত হওয়া মানে ভেঙে পড়েও আবার দাঁড়ানো।”
আয়ান হালকা হেসে বলল,
“তুমি শুধু দাঁড়াওনি…
তুমি পুরো শহরকে দাঁড় করিয়েছ।”
দূরে স্যারফরাজ এগিয়ে এল।
তার মুখে বহুদিন পর স্বস্তির ছাপ।
“সব শেষ,”
সে বলল,
“নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ছে।
অনেককে আটক করা হয়েছে।”
রায়হান আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করল,
“সাত বছর পর মনে হচ্ছে…
আমি আবার বেঁচে আছি।”
আয়রা ধীরে বলল,
“এখন তোমার গল্প সবাই জানবে।”
কয়েক দিন পর।
বৃষ্টির শহর যেন বদলে গেছে।
রাস্তায় মানুষ আগের মতোই হাঁটে, দোকান খোলা, বাস ছুটছে—তবুও কোথাও একটা নতুন আলো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কদম ফুল ফুটেছে।
সেই পুরনো বেঞ্চ।
আয়ান বসে আছে, হাতে দু’কাপ চা।
আয়রা এসে পাশে বসল।
কিছুক্ষণ তারা চুপ।
এই নীরবতা অস্বস্তিকর না—
এটা শান্ত।
“আমাদের জীবনটা হঠাৎ এত বদলে গেল,”
আয়ান বলল।
আয়রা মৃদু হাসল।
“ঝড় সবসময় কিছু না কিছু বদলায়।
কখনো শহর…
কখনো মানুষ।”
একদল ছাত্র পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ফিসফিস করল—
“ওই তো আয়রা…”
কিন্তু এবার সেই ফিসফিসে কৌতূহল আছে, ঘৃণা নয়।
আয়ান ধীরে বলল,
“তুমি ভয় পাও না এখন?”
আয়রা একটু ভেবে উত্তর দিল,
“পাই।
কিন্তু ভয় আমাকে থামায় না আর।”
হালকা বাতাসে কদম ফুল ঝরে পড়ল।
আয়ান বলল,
“একটা কথা বলব?”
“বলো।”
“সবকিছু থেমে গেলে…
আমরা কি নতুন করে শুরু করতে পারি?”
আয়রার চোখ নরম হয়ে এল।
“আমরা তো কখনো শেষই হইনি, আয়ান।
শুধু পথটা কঠিন ছিল।”
ঠিক তখনই আকাশে মেঘ জমল।
আয়ান হাসল,
“দেখো—আবার বৃষ্টি আসছে।”
প্রথম ফোঁটা পড়তেই আয়রা হাত বাড়িয়ে দিল।
পানির ফোঁটা তার আঙুলে থেমে রইল।
সে ফিসফিস করে বলল—
“বৃষ্টি আমার কাছে আর হারিয়ে যাওয়ার গল্প না…
এটা ফিরে আসার গল্প।”
আয়ান তার হাত ধরল।
দূরে বজ্র ডাকলেও
এই মুহূর্তে তাদের ভেতরে শুধু শান্তি।
বৃষ্টির শহর আবার ভিজছে—
কিন্তু এবার সেই ভেজায় ভয় নেই।
আছে নতুন শুরুর গন্ধ।
তবুও…
জীবন কখনো পুরোপুরি নির্ভার হয় না।
ঠিক তখনই আয়ানের ফোনে একটি অচেনা মেইল এল।
Subject: “Project Nilchhaya wasn’t the last.”
আয়ান ভ্রু কুঁচকাল।
“কী হয়েছে?”
আয়রা জিজ্ঞেস করল।
আয়ান ধীরে বলল,
“মনে হচ্ছে…
গল্প এখনো শেষ হয়নি।”
আকাশ থেকে বৃষ্টি নামতে লাগল।
আর বৃষ্টির শহর—
হয়তো আরেকটি রহস্য লুকিয়ে রেখেছে।

চলবে… (পার্ট–২৫)

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”পার্ট–২২ : আদালতের সিঁড়িতে ঝড়লেখক রিসান লিসান সকালের বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু আদালত চত্বরে ভিড় জ...
02/02/2026

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”
পার্ট–২২ : আদালতের সিঁড়িতে ঝড়
লেখক রিসান লিসান

সকালের বৃষ্টি থেমে গেছে, কিন্তু আদালত চত্বরে ভিড় জমেছে ঝড়ের মতো।
ক্যামেরা, মাইক, ফ্ল্যাশ—সবাই অপেক্ষায়। আজ শুধু একটি কেস না, আজ শহরের বিবেক দাঁড়াবে কাঠগড়ায়। আয়রা কালো ওড়না ঠিক করল। তার চোখে অহংকার নেই—আছে সিদ্ধান্ত।
আয়ান তার পাশে।
“তুমি ঠিক আছ?”
সে নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল।
আয়রা মাথা নেড়ে বলল,
“আমি প্রস্তুত। সত্যের জন্য।”
ভেতরে ঢুকতেই করিডোরে গুঞ্জন।
কেউ ফিসফিস— “এই সেই মেয়ে।”
কেউ— “ওই ছেলেটা নির্দোষ?”
অ্যাডভোকেট নাসির ফাইল হাতে এগিয়ে এলেন।
“শুনুন,” তিনি বললেন,
“আজ জামিন শুনানি আর সাক্ষ্য উপস্থাপন—দুটোই।
প্রসিকিউশন সময় নষ্ট করবে, বিভ্রান্ত করবে।
আপনারা শান্ত থাকবেন।”
রায়হান ধীরে শ্বাস নিল।
“আমি পারবো তো?”
নাসির দৃঢ় কণ্ঠে বললেন,
“আপনি একা নন। আইন আজ আপনার পাশে।”
কোর্টরুমে ঢুকতেই নীরবতা নেমে এলো। বিচারক আসন নিলেন। প্রসিকিউশনের টেবিলে কড়া মুখ। ডিফেন্সে নাসির—চোখে স্থিরতা।
প্রসিকিউশন শুরু করল—
“মাই লর্ড, এই কেসে সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে। রাষ্ট্রকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।”
নাসির সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়ালেন।
“আপত্তি, মাই লর্ড। প্রমাণ ছাড়া বক্তব্য।”
বিচারক মাথা নেড়ে বললেন,
“প্রমাণে আসুন।”
নাসির স্ক্রিন অন করালেন।
ডেটা, নথি, ভিডিও—প্রজেক্ট নীলছায়া।
হারানো নামগুলোর তালিকা।
“এই নথিগুলো জাল নয়,”
নাসির বললেন,
“কারণ আজ আমাদের কাছে জীবিত সাক্ষী আছে।”
রায়হান ধীরে দাঁড়াল।
তার কণ্ঠ কাঁপছিল, কিন্তু কথা স্পষ্ট।
“আমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল।
আমি সাত বছর বন্দি ছিলাম।
ড. রহমানের অধীনে।”
কোর্টরুমে শোরগোল।
বিচারক হাত তুললেন।
“শান্ত!”
প্রসিকিউশন তৎক্ষণাৎ প্রশ্ন ছুঁড়ল—
“প্রমাণ?”
রায়হান হাত বাড়িয়ে দিল।
তার কবজিতে দাগ।
তারপর স্ক্রিনে ল্যাব লগ—তার নম্বর, তার স্যাম্পল।
নাসির শান্ত গলায় বললেন,
“এই মানুষটি বেঁচে থাকা প্রমাণ।”
বিচারকের চোখ কঠিন হলো।
“ড. রহমান কোথায়?”
নাসির উত্তর দিলেন,
“পলাতক, মাই লর্ড।
কিন্তু তার নেটওয়ার্ক নয়।”
এই সময় দরজার বাইরে হৈচৈ।
একজন অফিসার এগিয়ে এলেন, কাগজ হাতে।
“মাই লর্ড, জরুরি তথ্য।”
বিচারক পড়লেন।
তারপর বললেন—
“একজন মন্ত্রী ও দুই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম এই কেসে যুক্ত হয়েছে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলো।”
কোর্টরুমে বজ্রপাতের মতো শব্দ।
আয়রা চোখ বন্ধ করল এক মুহূর্ত।
এই শহর শুনছে।
প্রসিকিউশন দিশেহারা।
নাসির শেষ আঘাত দিলেন—
“মাই লর্ড, আয়ান নির্দোষ।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হোক।”
বিচারক কণ্ঠ নামালেন।
“আয়ান—আপনাকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হলো।
রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা কার্যকর হবে।”
এক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর—ফিসফিস, কান্না, স্বস্তি।
আয়ান আয়রার দিকে তাকাল।
সে হাত বাড়াল।
আয়রা শক্ত করে ধরল।
বাইরে বেরোতেই ক্যামেরার ঝলক।
একজন রিপোর্টার চেঁচাল—
“আয়রা, এখন কী বলবেন?”
আয়রা থামল।
মাইকের সামনে দাঁড়াল।
“আমি অহংকারী নই,”
সে বলল,
“আমি শুধু নীরব ছিলাম না।
আজ যারা হারিয়েছে—
তাদের জন্যই আজকের লড়াই।”
ভিড়ের ভেতর কেউ হাততালি দিল।
আরেকজন।
তারপর অনেক।
ঠিক তখনই আয়রার ফোন কেঁপে উঠল।
একটি অজানা নম্বর।
মেসেজ—
“আদালত শেষ। যুদ্ধ নয়।
আজ রাতে দেখা হবে।”
নিচে একটি লোকেশন পিন।
আয়রার চোখ সংকুচিত হলো।
আয়ান ফিসফিস করে বলল,
“কে?”
আয়রা ধীরে উত্তর দিল—
“ড. রহমান।”
দূরে আকাশ আবার কালো হচ্ছে।
বৃষ্টির শহর
আজও চুপ করে নেই।

চলবে… (পার্ট–২৩)

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”পার্ট–২১ : শহরের সামনে মুখোশ খুলেলেখক রিসান লিসান ভোরের আলো ধীরে ধীরে বৃষ্টির শহর ছুঁয়ে গেল।রাস্...
31/01/2026

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”
পার্ট–২১ : শহরের সামনে মুখোশ খুলে
লেখক রিসান লিসান

ভোরের আলো ধীরে ধীরে বৃষ্টির শহর ছুঁয়ে গেল।
রাস্তায় এখনো পুলিশ ভ্যান, মিডিয়ার ভিড়, ক্যামেরার ঝলকানি। আয়ান, আয়রা আর রায়হান একটি পুরনো গুদামের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে। সবার শ্বাস ভারী, শরীর ভেজা—কিন্তু চোখে আগুন।
স্যারফরাজ ফোনে কথা শেষ করে বলল,
“খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
‘মৃত’ রায়হান কবির জীবিত—এইটাই এখন হেডলাইন।”
রায়হান দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
“আমি এতদিন লুকিয়ে ছিলাম,
আজ সামনে আসতে ভয় লাগছে।”
আয়রা তার দিকে তাকাল।
“ভয় থাকতেই পারে।
কিন্তু আজ তুমি শুধু ভুক্তভোগী নও—
তুমি সাক্ষী।”
আয়ান ধীরে বলল,
“আর সাক্ষী মানে—
ওদের সবচেয়ে বড় ভয়।”
ঠিক তখনই বাইরে শোরগোল বাড়ল।
একজন রিপোর্টারের কণ্ঠ—
“ড. রহমানের নাম সরকারি উচ্চপর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির সাথে জড়িয়েছে!”
স্যারফরাজ ট্যাবলেট ঘুরিয়ে দেখাল।
“এই দেখো।
তোমার লাইভের পর এক মন্ত্রী, দুই সচিবের নাম উঠে এসেছে।”
আয়রার মুখ কঠিন হয়ে উঠল।
“তাহলে ওরা আমাদের চুপ করাতে আরও মরিয়া হবে।”
“হ্যাঁ,”
স্যারফরাজ বলল,
“কিন্তু এইবার ওরা একা না।”
দরজায় নক।
সবাই থমকে গেল।
স্যারফরাজ দরজা খুলতেই—
একজন মধ্যবয়সী লোক, সাদামাটা পোশাক, চোখে কঠিন দৃঢ়তা।
“আমি অ্যাডভোকেট নাসির,”
লোকটি বলল।
“হাই কোর্টের নির্দেশে এসেছি।
আপনাদের নিরাপত্তা এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
আয়রা অবাক।
“কোর্ট এত দ্রুত?”
নাসির হালকা হাসল।
“যখন সত্য খুব জোরে কথা বলে,
তখন দেরি হয় না।”
রায়হানের চোখ ভিজে উঠল।
“মানে… আমি আর গায়েব হবো না?”
“না,”
নাসির বলল,
“আজ থেকে আপনি কেসের প্রধান সাক্ষী।”
আয়ান আয়রার দিকে তাকাল।
এই প্রথম দীর্ঘ সময় পর
তার চোখে একটু স্বস্তি।
কিন্তু আয়রা জানে—
ঝড় থামেনি।
ঠিক তখনই স্যারফরাজ নিচু গলায় বলল,
“ড. রহমান পালিয়েছে।”
ঘরে আবার নীরবতা।
নাসির কঠিন কণ্ঠে বলল,
“পালালেও সে শেষ নয়।
কারণ এখন তার পেছনে শুধু আপনারা নন—
পুরো শহর।”
আয়রা জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
বাইরে বৃষ্টি থেমেছে,
কিন্তু আকাশ ভারী।
“এই শহর আমাকে অহংকারী বলেছিল,”
সে ধীরে বলল,
“আজ এই শহরের সামনেই আমি দাঁড়াবো।
কোর্টে।
রাস্তায়।
সবখানে।”
আয়ান তার পাশে এসে দাঁড়াল।
“আমি একা না,”
সে বলল।
“আমরা একসাথে।”
দূরে নিউজ স্ক্রিনে শিরোনাম ভেসে উঠল—
“বৃষ্টির শহরে সত্যের লড়াই শুরু”
আর কোথাও অন্ধকারে,
ড. রহমান দাঁড়িয়ে ফোনে বলছে—
“খেলা এখনো শেষ হয়নি।”
বৃষ্টির শহর
আরও বড় ঝড়ের দিকে এগোচ্ছে।

চলবে… (পার্ট–২২)

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”পার্ট–২০ : লাল অ্যালার্মের রাতলেখক রিসান লিসান ALERT শব্দটা এখনো কানে বাজছে।করিডোরে লাল আলো ঘুরছ...
30/01/2026

“বৃষ্টির শহরে আয়ান–আয়রা”
পার্ট–২০ : লাল অ্যালার্মের রাত
লেখক রিসান লিসান

ALERT শব্দটা এখনো কানে বাজছে।
করিডোরে লাল আলো ঘুরছে, সাইরেন কেটে কেটে উঠছে। আয়রা আয়ানের হাত ধরে দৌড়াচ্ছে—পেছনে রায়হান, সামনে অজানা পথ।
“এই দিক!”
স্যারফরাজ ইয়ারপিসে চেঁচিয়ে উঠল।
“ইস্ট স্টেয়ারওয়েল—৩০ সেকেন্ড!”
তারা মোড় ঘুরতেই গার্ডদের ছায়া দেখা গেল।
একজন চিৎকার করল—
“Stop!”
রায়হান থেমে গেল এক সেকেন্ড।
“তোমরা যাও,” সে বলল,
“আমি ওদের দৃষ্টি ঘুরাই।”
আয়রা ঘুরে দাঁড়াল।
“না। আমরা কাউকে রেখে যাই না।”
আয়ান রায়হানের কাঁধে হাত রাখল।
“আমরা একসাথে বেরোবো।
আজ নয়তো কখনো না।”
রায়হান চোখ নামাল।
তারপর মাথা নেড়ে দৌড়াল।
স্টেয়ারওয়েলে ঢুকতেই ধোঁয়ার গন্ধ।
উপরে নামার পথ ব্লক।
“নিচে!”
স্যারফরাজ বলল।
“বেজমেন্ট টানেল!”
তারা নিচে নামল।
হঠাৎ আলো নিভে গেল।
অন্ধকার।
শুধু বুটের শব্দ আর সাইরেন।
আয়রা দেয়ালে হাত রেখে হাঁটছে।
আয়ান তার হাত ছাড়েনি।
“ভয় লাগছে?”
আয়ান ফিসফিস করল।
আয়রা হালকা হাসল।
“লাগছে।
কিন্তু তোমাকে হারানোর ভয়টা বড়।”
হঠাৎ সামনে আলো।
টানেলের শেষ।
কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে আছে—
ড. রহমান।
তার চোখে ঠান্ডা হাসি।
“খুব সুন্দর পুনর্মিলন,”
সে বলল।
“বৃষ্টির শহর রোমান্টিক না হলে কী!”
গার্ডরা পেছন থেকে ঘিরে ধরছে।
ড. রহমান আয়রার দিকে তাকাল।
“একটা সিদ্ধান্ত নাও।
লাইভে ক্ষমা চাইবে—
আমি ওকে ছেড়ে দেব।”
আয়ান কথা বলতে যাচ্ছিল।
আয়রা তাকে থামাল।
সে সামনে এগোল।
“আপনি ভুল করছেন,”
আয়রা শান্ত গলায় বলল।
“ভালোবাসা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা যায় না।”
ড. রহমান হাসল।
“দেখি।”
ঠিক তখনই—
বেজমেন্টের ছাদ কেঁপে উঠল।
BOOM.
ধুলো, চিৎকার।
লাইট আবার জ্বলে উঠল।
দূরে পুলিশ ভ্যান।
মিডিয়ার ক্যামেরা।
সাইরেনের নতুন সুর।
স্যারফরাজের কণ্ঠ—
“এখন!”
হট্টগোলের মাঝে আয়ান আয়রার হাত ধরে ছুটল।
রায়হান পেছন থেকে গার্ডকে ধাক্কা দিল।
তারা টানেল পেরিয়ে বাইরে বেরোল।
বৃষ্টি ঝরছে ঝরঝর করে।
পেছনে ড. রহমানের চিৎকার—
“তোমরা পারবে না!”
কিন্তু শহর এখন জেগে উঠেছে।
আয়রা বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আয়ানের দিকে তাকাল।
“আমরা বেঁচে আছি।”
আয়ান গভীর শ্বাস নিল।
“এটা শুধু শুরু।”
রায়হান ধীরে বলল—
“এখন সত্যকে সামনে আনতে হবে।
পুরোটা।”
দূরে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ।
বৃষ্টির শহর
এই রাতে আর আগের মতো নেই।

চলবে… (পার্ট–২১)

http://risanlisan.blogspot.com/

Address

� Location: Ramganj, Lakshmipur
Dhaka
�3720

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Risan Lisan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category