08/07/2026
শরীরের হরমোন
কামাল বিশ্বাস
**********************************************
মানুষের শরীরের সব ধরনের অনুভূতি, আবেগ এবং মানসিক প্রতিক্রিয়ার পেছনে মূলত আমাদের মস্তিষ্ক (Brain) এবং কিছু নির্দিষ্ট হরমোন ও নিউরোট্রান্সমিটার (রাসায়নিক দূত) দায়ী। এগুলো একেকটি অনুভূতির জন্য একেকভাবে কাজ করে।
নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো কোনটি কিসের জন্য দায়ী:
১. ভালোবাসা ও প্রেম (Love & Romance)
ক. ডোপামিন (Dopamine): এটিকে "ফিল-গুড" হরমোন বলা হয়। কারও প্রতি তীব্র আকর্ষণ বা প্রেমের প্রাথমিক দিনগুলোতে মস্তিষ্কে প্রচুর ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের মাঝে এক ধরণের অন্যরকম আনন্দ ও উত্তেজনা তৈরি করে।
খ. অক্সিটোসিন (Oxytocin): একে বলা হয় "লাভ হরমোন" বা "বন্ধন হরমোন"। দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা, বিশ্বাস, এবং গভীর সম্পর্কের টান বা মায়া তৈরিতে এটি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
গ. সেরোটোনিন (Serotonin): প্রেমের শুরুতে এই হরমোনের মাত্রা কিছুটা কমে যায়, যার কারণে আমরা সারাক্ষণ শুধু প্রিয় মানুষটির কথাই ভাবতে থাকি (এক ধরণের অবসেসড ফিলিং)।
২. ভালোলাগা ও হাসি (Happiness & Pleasure)
ক. এন্ডোরফিন (Endorphins): এটি আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক পেইনকিলর বা ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। আমরা যখন হাসিখুশি থাকি, ব্যায়াম করি বা মন খুলে হাসি, তখন এন্ডোরফিন নিঃসৃত হয়ে মানসিক চাপ কমিয়ে আমাদের মনে ভালোলাগার অনুভূতি এনে দেয়।
খ. ডোপামিন ও সেরোটোনিন: যেকোনো প্রাপ্তি, সাফল্য বা পছন্দের কাজ করার পর যে তৃপ্তি বা ভালোলাগা কাজ করে, তার পেছনে এই দুটি হরমোন দায়ী।
৩. রাগ ও ঘৃণা (Anger & Hate)
ক. অ্যাড্রেনালিন এবং নর-অ্যাড্রেনালিন (Adrenaline & Noradrenaline): যখন আমরা মারাত্মক রেগে যাই, তখন আমাদের 'ফাইট অর ফ্লাইট' (Fight or Flight) মোড অন হয়ে যায়। এই হরমোনগুলোর কারণে হার্টবিট বেড়ে যায়, রক্তচাপ বাড়ে এবং শরীর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
খ. অ্যামিগডালা (Amygdala): মস্তিষ্কের এই অংশটি মূলত আমাদের ভয় ও রাগের মতো আদিম আবেগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তি দিয়ে বিচার করার আগেই অ্যামিগডালা আমাদের দ্রুত রাগান্বিত প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য করে।
৪. কান্না ও আবেগ (Sadness & Tears)
ক. কর্টিসল (Cortisol): এটিকে প্রধান "স্ট্রেস হরমোন" বা মানসিক চাপের হরমোন বলা হয়। দুঃখ, কষ্ট বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের সময় কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, যা আমাদের আবেগী করে তোলে এবং কান্নার অনুভূতি তৈরি করে।
খ. আবেগীয় অশ্রু (Emotional Tears): কষ্টের কারণে যখন আমরা কাঁদি, তখন চোখের জলের সাথে শরীর থেকে বাড়তি স্ট্রেস হরমোন ও টক্সিন বের হয়ে যায়। এই কারণেই কান্নার পর মন কিছুটা হালকা বোধ হয়।
সংক্ষেপে মস্তিষ্কের মূল ভূমিকা:
আমাদের পুরো আবেগীয় জগত পরিচালনা করে মস্তিষ্কের একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক, যাকে বলা হয় লিম্বিক সিস্টেম (Limbic System)।
অ্যামিগডালা: রাগ, ভয় ও ঘৃণা নিয়ন্ত্রণ করে।
হাইপোথ্যালামাস: হরমোন নিঃসরণের মাধ্যমে ভালোবাসা, ভালোলাগা, কান্না ও রাগের শারীরিক প্রকাশ (যেমন: বুক ধড়ফড় করা বা ঘাম হওয়া) নিয়ন্ত্রণ করে।
সহজ কথায়, আমাদের চারপাশের পরিস্থিতি অনুযায়ী মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেম উদ্দীপিত হয় এবং সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট রাসায়নিক বা হরমোন নিঃসৃত হয়ে এই সব অনুভূতিগুলো তৈরি করে।
অনলাইন মাধ্যম থেকে সংগৃহীত ।