30/11/2025
অপবিত্র কাপড়কে পবিত্র করার সঠিক নিয়ম
ইসলামে পবিত্রতা (তাহারাত) হলো ঈমানের অঙ্গ।।
ইরশাদ করেছেন—রাসূলুল্লাহ (সা:) "পবিত্রতা অর্ধেক ঈমান। (সহিহ মুসলিম ২২৩)
আমাদের পোশাক, দেহ ও জায়গা যদি অপবিত্র থাকে,
তবে নামাজ, তাওয়াফ, কুরআন তেলাওয়াত—
কোনো ইবাদতই কবুল হয় না।
তাই জানা জরুরি, অপবিত্র কাপড়কে
কীভাবে পবিত্র করতে হয়।
অপবিত্র কাপড় চেনার নিয়ম :
যে কাপড়ে নাপাক বা অপবিত্র বস্তু লেগেছে—
যেমন: প্রস্রাব, পায়খানা, মদ, বমি, রক্ত, বীর্য,
মযী (সাদা আঠালো তরল) মৃত প্রাণীর রক্ত বা চর্বি,
অথবা অন্য কোনো শরিয়তসম্মত নাপাক বস্তু
এসব কিছু লাগলে কাপড় অপবিত্র হয়ে যায় ৷
অপবিত্র কাপড় পবিত্র করার সঠিক নিয়ম:
১। যদি অপবিত্রতার দাগ, রঙ ও গন্ধ— সব কিছু থাকে:
কাপড়টি ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
যতক্ষণ পর্যন্ত অপবিত্রতার রঙ ও গন্ধ না যায়,
ততক্ষণ ধোয়া জরুরি। তিনবার পানি ঢেলে প্রতিবার চেপে
পানি বের করে দেওয়া উত্তম।
২। যদি শুধু দাগ বা রঙ থাকে, গন্ধ না থাকে:
যতক্ষণ পর্যন্ত দাগ মুছে না যায় বা পানি দিয়ে
দাগ দূর হয়, ততক্ষণ ধোয়া ।
যদি দাগ সম্পূর্ণ না যায় কিন্তু আর অপবিত্রতা না থাকে
(যেমন রক্তের হালকা দাগ), তবে কাপড় পবিত্র বলে গণ্য
হবে।
৩। যদি অপবিত্রতা শুকিয়ে যায় এবং চিহ্নও না থাকে:
কাপড় ধুয়ে নিলে পবিত্র হয়ে যাবে।
৪। যদি অপবিত্র বস্তু তরল হয় (যেমন প্রস্রাব):
যে জায়গায় লেগেছে, সেখানে তিনবার পানি ঢেলে বা
কাপড় ডুবিয়ে ধুয়ে নিতে হবে, যেন অপবিত্রতার প্রভাব
পুরোপুরি চলে যায়।
৫। যদি শুকনো মলিন বস্তু (যেমন পায়খানা বা
রক্ত জমে যাওয়া অংশ) লেগে থাকে:
প্রথমে সেটা খোসা দিয়ে তুলে ফেলতে হবে,
তারপর জায়গাটা ধুতে হবে।
→ বিশেষ পরামর্শ:
কাপড় ধোয়ার সময় আলাদা করে ধুলে ভালো,
যেন অন্য কাপড় নাপাক না হয়
ওয়াশিং মেশিনে ধুলেও সমস্যা নেই,
তবে আগে অপবিত্র অংশটি ভালোভাবে
ধুয়ে নিতে হবে।
পবিত্র পানি ছাড়া (যেমন দুধ, জুস, সুগন্ধি পানি ইত্যাদি)
দিয়ে ধুলে তা বিশুদ্ধ হবে না।
* একটি সুন্দর হাদীস মনে রাখুন:
রাসূলুল্লাহ বলেছেন
-
“আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকে ভালোবাসেন।”
(তিরমিজি ২৭৯৯)
তাহলে আসুন, আমরা নিজেদের,
আমাদের পোশাক ও পরিবেশকে সর্বদা
পবিত্র ও পরিষ্কার রাখি।
পবিত্রতা মানেই শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়,
এটি একধরনের ইমানের প্রতিফলন।