12/04/2026
কেন আমরা 'জাশি-র ইসলাম' এর সাথে একমত নই...
জাশি-র ইসলামের একটা বিশেষ আন্ডারস্ট্যান্ডিং আছে। সেটা হল ক্ষমতার ফিকহ। তাদের মাজহাব হল ক্ষমতার মাজহাব, মাসলাকে গণতন্ত্র। কাফিরদের সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে ক্ষমতা... এটা হল তাদের সকল ফতোয়ার উসুল বা মূলনীতি।
দীর্ঘদিন এটা আমি বুঝিনি। হাসিনার আমলে 'আমিই শিবির' ক্যাম্পেইন শুরু করেছি। তাদের প্রতি সমর্থন থেকে, মজলুম হিসেবে তাদের প্রতি দরদ থেকে। কওমী আলেমদের মোটামুটি দোষারোপ করতাম, কেন তারা জাশি-র বিরুদ্ধে এত কথা বলে, কোন তারা একটা ইসলামী ঐক্য করে না। এখন টের পাচ্ছি। হাসিনা পলানোর পর তারা স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছে।
জাশি-র ক্ষমতার ফিকহ বুঝতে স্রেফ একটা ঘটনা বুঝাই যথেষ্ট। আমীর বিদেশী কূটনীতিকদের পেছন থেকে জড়িয়ে ধরছে, এমন অস্বস্তিকর ভিডিও ভাইরাল হল। একজন বিরোধীদলীয় নেতার এহেন ব্যক্তিত্বহীন কাজ নিয়ে অনলাইনে নিন্দামন্দ শুরু হল। এর জবাবে আমীর বলল, এটা সুন্নাহ। নবিজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভরা বাজারে এক সাহাবিকে পেছন থেকে জড়িয়ে সজোরে বলেছিলেন: ভালো এই গোলামটা কেউ কিনবেন? তিনি নবীজীর সকল সুন্নাতকে ভালবাসেন, ভবিষ্যতে উৎসাহ পেলে আরও করবেন এই কাজ, এমন জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন।
এই ঘটনা থেকে তাদের ক্ষমতা মাজহাব ও গণতান্ত্রিক মাসলাক বুঝতে পারবেন। নবিজি যে কাজটা করেছেন, এটা নিতান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্ক থেকে একজন সাহাবির সাথে। নবিজি কোন কাফিরকে এভাবে জড়িয়ে ধরে আন্তরিকতা দেখিয়েছেন, এটা নবিজি থেকে নয়, কোন সাহাবি থেকেও দেখানো যাবে না। বরং কুরআন থেকে জানি, সাহাবিরা ছিলেন আশিদ্দাহুম আলাল কুফফার (কাফিরদের প্রতি কঠোর) ও মুমিনদের প্রতি রহমদিল।
>
এর আগেও উমর রা. এর ন্যায়পরায়ণতার গল্প বলে তিনি বললেন, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বাহ। এই কাজটাই তারা সকল ক্ষেত্রে করে। সকল মানে সকল ক্ষেত্রে। সেইম এই প্যাটার্ন। করব লিবারেল রাজনীতি, নাম দিব ইসলামী আন্দোলন, জি*হা%দ। অবাধ ব্যবহার করব সদস্য চাঁদা হিসেবে, নাম নেব যাকাতের। জান্নাতের নাম দিয়ে ভোট চাওয়া। তাদের দলীয় অবস্থানের সমালোচনা করলে খারেজিদের মত তাকফির থিওলজির গ্রাউন্ডে (লীগ, ভাদা এগুলো তাকফিরই)। এদের এই আউট-অব-কনটেক্সট এবং ইসলামের শুদ্ধতার পরিপন্থী এই বিশেষ আন্ডারস্ট্যান্ডিং-এর সাথে আমরা একমত না।
ক্ষমতা ঝুঁকিতে পড়লে মুসলিম ভাইয়ের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হবেন, অনলাইনে বটর লেলিয়ে দেবে, ফ্রেমিং-ট্যাগিং করে মুসলমানকে হত্যাযোগ্য করবে। সেই ক্ষমতার স্বার্থেই কাফেরকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরবে, রোজা-পূজা এক করে তাদের মন জয় করার আপ্রাণ চেষ্টা করবে। এটা হল তাদের ক্ষমতার ফিকহ। উসুল হল ক্ষমতা। ক্ষমতার একটা বিশেষ মাসলাক। সেটা হল কাফেরদের তুষ্ট করে ক্ষমতা, বেজার করে না। এই উসুলের উপর তাদের সকল সিদ্ধান্ত নির্মিত, সকল মাসআলা বের করা।