মোঃ আবুল হাশিম রফিকী

মোঃ আবুল হাশিম রফিকী ❝আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু—সবই আল্লাহর জন্য।❞

02/10/2026

الاربع قل-চার কুল

19/09/2026

#أَلْهَاكُمُ_التَّكَاثُرُ

“অধিক পাওয়ার প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে গাফেল করে রেখেছে।” — সূরা আত-তাকাসুর: ১

 #তোমার_নামাজ_তোমার_কাজের_চেয়েও_মূল্যবান।তোমার নামাজ তোমার পড়াশোনার চেয়েও মূল্যবান।তোমার নামাজ তোমার টাকার চেয়েও মূল্যবা...
17/09/2026

#তোমার_নামাজ_তোমার_কাজের_চেয়েও_মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার পড়াশোনার চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার টাকার চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার বন্ধুদের চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার পরিবারের চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার ফোনের চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার ঘুমের চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার বিনোদনের চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার খেলাধুলার চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার ব্যবসার চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার চাকরির চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার সামাজিক মর্যাদার চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার আরাম-আয়েশের চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার দুনিয়ার ব্যস্ততার চেয়েও মূল্যবান।
তোমার নামাজ তোমার দুনিয়ার যেকোনো কিছুর চেয়েও মূল্যবান।

✍️ মোঃ আবুল হাশিম রফিকী।

 #পবিত্র_কোরআনের_বিভিন্ন_আয়াতে_বিবাহেরমূল উদ্দেশ্য, দাম্পত্য জীবনের নিয়মাবলী এবং এর রহমত ও কল্যাণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়...
17/09/2026

#পবিত্র_কোরআনের_বিভিন্ন_আয়াতে_বিবাহের
মূল উদ্দেশ্য, দাম্পত্য জীবনের নিয়মাবলী এবং এর রহমত ও কল্যাণ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। নিচে প্রাসঙ্গিক আয়াতসমূহ অর্থ ও উদ্দেশ্যসহ উল্লেখ করা হলো:

➡️ প্রশান্তি, ভালোবাসা ও দয়ার আশ্রয় (সূরা আর-রুম: ২১)
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
অনুবাদ: "আর তাঁর অন্যতম নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের জন্য সঙ্গিনীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।"
উদ্দেশ্য: এটি বিবাহের মূল দর্শন। জীবনসঙ্গীর সাহচর্যে মানসিক ও আত্মিক স্থিতিশীলতা (সাকিনাহ) অর্জন করা এবং পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি বজায় রাখা।
➡️ আত্মরক্ষা, পর্দা ও পারস্পরিক সুরক্ষা (সূরা আল-বাকারা: ১৮৭)
هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ
অনুবাদ: "তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা (স্বামীরা) তাদের জন্য পোশাকস্বরূপ।"
উদ্দেশ্য: পোশাক যেমন মানুষের লজ্জা নিবারণ করে, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং শীত-গরম থেকে রক্ষা করে; তেমনি স্বামী-স্ত্রী একে অপরের চরিত্র রক্ষা করে, গোপনীয়তা বজায় রাখে এবং জীবনের দুঃসময়ে একে অপরের ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।
➡️ চারিত্রিক পবিত্রতা ও বৈধ উপায়ে চাহিদা পূরণ (সূরা আন-নিসা: ২৪)
مּُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ
অনুবাদ: "তোমরা তাদেরকে (স্ত্রীদের) বিবাহ করবে নিজেদের চরিত্র রক্ষা করার জন্য, ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে নয়।"
উদ্দেশ্য: অসৎ ও অবৈধ উপায় ত্যাগ করে একটি অনুশাসিত ও পবিত্র জীবনযাপন করা এবং নিজের চরিত্রকে হেফাজত করা।
➡️ সৎ সন্তান ও বংশধারা রক্ষা (সূরা আন-নাহল: ৭২)
وَاللَّهُ جَعَلَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا وَجَعَلَ لَكُم مِّنْ أَزْوَاجِكُم بَنِينَ وَحَفَدَةً
অনুবাদ: "আল্লাহ তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের যুগল থেকে তোমাদের জন্য সন্তান ও পৌত্রাদি সৃষ্টি করেছেন।"
উদ্দেশ্য: বিবাহের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও নৈতিক পরিবার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পৃথিবীতে মানবজাতির বংশধারা অব্যাহত রাখা।
➡️ দ্বীনি জীবনের অভাব পূরণ ও অনুদান (সূরা আন-নূর: ৩২)
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِن يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ
অনুবাদ: "তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করো এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছলতা দান করবেন।
🥀
উদ্দেশ্য: সমাজে নৈতিকতা ও পারিবারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নতুন জীবন শুরু করার মাধ্যমে রিজিক ও জীবনে বরকত অর্জন করা।
সংক্ষেপে, পবিত্র কোরআনের এই আয়াতগুলো নির্দেশ করে যে বিবাহ কেবল শারীরিক বন্ধন নয়, বরং এটি মানসিক প্রশান্তি, চারিত্রিক নিরাপত্তা, পারস্পরিক সহানুভূতি এবং সামাজিক সচ্ছলতা অর্জনের এক মহান মাধ্যম। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল বুঝার তাওফিক দান করুন আমীন 🥀

 #সাইয়্যিদুল_ইস্তিগফার(ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া)اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي و...
16/09/2026

#সাইয়্যিদুল_ইস্তিগফার
(ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া)

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَىٰ عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي، فَاغْفِرْ لِي، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ۔
বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাকতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাতু, আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবূউ লাকা বি-নি‘মাতিকা ‘আলাইয়া, ওয়া আবূউ লাকা বি-যাম্বী, ফাগফির লী, ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয-যুনূবা ইল্লা আনতা।
বাংলা অর্থ:
হে আল্লাহ! আপনি আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমি যে সকল মন্দ কাজ করেছি, সেগুলোর অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আমার প্রতি আপনার যে নিয়ামত রয়েছে, তা স্বীকার করছি এবং আমার গুনাহও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই।
🌸 ফজিলত
হাদিস:
مَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا، فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا، فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ، فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ۔
অর্থ:
যে ব্যক্তি দিনের বেলা দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এই দোয়া পড়ে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যায়, সে জান্নাতবাসী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এটি পড়ে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, সেও জান্নাতবাসী হবে।
📖 সহিহ আল-বুখারি: ৬৩০৬

✍️মো আবুল হাশিম রফিকী।

আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُۥ—সূরা আত-তালাক ৬৫:৩
14/09/2026

আর যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।
وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُۥ
—সূরা আত-তালাক ৬৫:৩

13/09/2026

#মানুষ_কেন নিজের ভুল স্বীকার করে না?

মানুষ কেন নিজের ভুল দেখতে পায় না?

প্রশ্নটি খুব সাধারণ মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে মানুষের মনোজগতের অনেক গভীর বিষয়। আমি নিজেও বিষয়টি নিয়ে বারবার ভেবেছি। প্রতিবারই মনে হয়েছে, এর উত্তর এত সহজ নয়। একজন মানুষ যখন ভুল করে, তখন সে কেন নিজের ভুলটি স্বীকার করতে চায় না? কেন সে নিজের ভুলের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করায়? কেন কখনো কখনো সত্যটা বুঝতে পারার পরও বলে—‘আমি ভুল করিনি’?

আমি থেমে যাওয়ার মানুষ নই। তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকলাম। একেক সময় একেকটি কারণ মনে হলো। অবশেষে মনে হলো, এগুলো শুধু আমার মনে রেখে লাভ কী? লিখে রাখা দরকার। তাই কলম হাতে নিয়ে বসে গেলাম।

আমার চিন্তায় কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে।

১. অহংকার

নিজের ভুল স্বীকার না করার অন্যতম বড় কারণ হলো অহংকার।

মানুষ মনে মনে ভাবতে থাকে—‘আমি কেন অন্যের কাছে ভুল স্বীকার করব? আমি কি এতটাই ছোট হয়ে গেলাম?’

অথচ ভুল স্বীকার করা মানুষকে ছোট করে না; বরং তার চরিত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ مُخْتَالٍ فَخُورٍ

“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো অহংকারী ও গর্বকারীকে ভালোবাসেন না।”

অহংকার মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। সে নিজের ভুলকে ভুল হিসেবে দেখতে চায় না, কারণ নিজের সম্পর্কে তার একটি অতিরঞ্জিত ধারণা তৈরি হয়ে যায়।

২. সম্মান হারানোর ভয়

অনেক মানুষ মনে করে, ‘আমি যদি আমার ভুল স্বীকার করি, তাহলে মানুষের কাছে আমার সম্মান কমে যাবে।’

সে ভাবে, অন্যরা তাকে দুর্বল মনে করবে। তার ব্যক্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তাই ভুল বুঝতে পারলেও সে চুপ থাকে, অজুহাত তৈরি করে কিংবা নিজের ভুল অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—ভুল স্বীকার করলে সম্মান সবসময় কমে না। বরং একজন মানুষ যখন আন্তরিকভাবে বলে, ‘হ্যাঁ, এখানে আমার ভুল হয়েছে’, তখন তার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়তে পারে।

কারণ নিখুঁত মানুষ হওয়া বড় কথা নয়; নিজের ভুল বুঝে সংশোধন করতে পারা বড় কথা।

৩. নিজের কাছে নিজেকে ভালো প্রমাণ করার চেষ্টা

মানুষ সাধারণত নিজের সম্পর্কে একটি ভালো ধারণা ধরে রাখতে চায়।

সে নিজেকে মনে মনে ভালো মানুষ, বুদ্ধিমান মানুষ কিংবা সঠিক মানুষ হিসেবে দেখতে চায়। তাই নিজের ভুল সামনে এলে তার ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়।

তখন সে ভুলটি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে নিজেকে বোঝাতে শুরু করে—

‘আমি আসলে ভুল করিনি।’

‘পরিস্থিতিই এমন ছিল।’

‘ও আমাকে বাধ্য করেছে।’

‘আমি এটা না করলে আরও বড় সমস্যা হতো।’

এভাবে মানুষ সত্যের পরিবর্তে নিজের মনকে শান্ত করার জন্য যুক্তি তৈরি করে।

৪. অন্যকে দোষ দেওয়ার অভ্যাস

নিজের ভুল স্বীকার করা কঠিন হয়ে যায় যখন অন্যকে দোষ দেওয়া আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়।

কোনো সম্পর্ক নষ্ট হলে আমরা বলি—‘ওর কারণেই হয়েছে।’

কাজে ব্যর্থ হলে বলি—‘সুযোগ পাইনি।’

কোনো ঝামেলা হলে বলি—‘ও আগে শুরু করেছে।’

অর্থাৎ নিজের ভূমিকা খুঁজে দেখার পরিবর্তে আমরা অপরাধী খুঁজি।

কিন্তু আত্মশুদ্ধির শুরু হয় তখনই, যখন মানুষ অন্যকে প্রশ্ন করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করে—

‘এই ঘটনার পেছনে আমার ভুলটা কোথায় ছিল?’

৫. নিজের ভুলের পরিণতি মেনে নেওয়ার ভয়

কখনো মানুষ ভুল স্বীকার করতে চায় না শুধু এজন্য যে ভুল স্বীকার করলে তার পরিণতিও মেনে নিতে হবে।

সে জানে, ‘আমি ভুল করেছি’ বললে হয়তো ক্ষমা চাইতে হবে, কারও কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে, কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হবে কিংবা নিজের আচরণ সংশোধন করতে হবে।

তাই সে সহজ পথ বেছে নেয়—ভুলটাই অস্বীকার করে।

কিন্তু ভুল অস্বীকার করলে ভুলটি শেষ হয়ে যায় না। বরং সংশোধনের সুযোগটি হারিয়ে যায়।

৬. জেদ

কিছু মানুষ ভুল বুঝতে পারলেও শুধু জেদের কারণে তা স্বীকার করে না।

একবার যখন সে কোনো কথা বলে ফেলেছে, তখন নিজের কথাকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য আরও অনেক কথা বলতে থাকে।

প্রথম ভুলটি হয়তো ছোট ছিল, কিন্তু সেই ভুল ঢাকতে গিয়ে সে একের পর এক নতুন ভুল করতে থাকে।

জেদ মানুষকে সত্য থেকে দূরে নিয়ে যায়। একজন জ্ঞানী মানুষের পরিচয় হলো—সে সত্য যেখানে পায়, সেখানেই তা গ্রহণ করতে পারে।

৭. আত্মসমালোচনার অভাব

আমরা অন্যের কাজ খুব সহজে বিচার করি, কিন্তু নিজের কাজকে একই দৃষ্টিতে দেখতে পারি না।

অন্য কেউ রাগ করলে আমরা বলি—‘মানুষটা খুব রাগী।’

কিন্তু নিজের রাগের সময় বলি—‘আমার রাগ করার যথেষ্ট কারণ ছিল।’

অন্য কেউ কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে আমরা তার চরিত্র নিয়ে কথা বলি। কিন্তু নিজের খারাপ ব্যবহারের সময় পরিস্থিতিকে দায়ী করি।

এই দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গিই মানুষকে নিজের ভুল দেখতে বাধা দেয়।

তাহলে করণীয় কী?

প্রথমে আমাদের স্বীকার করতে হবে—আমি ভুল করতে পারি।

আমি মানুষ, তাই আমার ভুল হওয়া অসম্ভব নয়। আমার জ্ঞান সীমিত, আমার উপলব্ধি সীমিত, আমার সিদ্ধান্তও সবসময় সঠিক হবে না।

ভুল হয়ে গেলে নিজেকে ধ্বংস করার দরকার নেই; আবার ভুলকে জায়েজ করারও দরকার নেই।

বরং বলতে হবে—

‘হ্যাঁ, এখানে আমার ভুল হয়েছে। আমি ভুলটি বুঝতে পেরেছি। এখন আমাকে এটি সংশোধন করতে হবে।’

একটি ‘আমি ভুল করেছি’ কখনো কখনো একটি ভেঙে যাওয়া সম্পর্ককে বাঁচাতে পারে। একটি আন্তরিক ক্ষমা অনেক দিনের দূরত্ব কমিয়ে দিতে পারে। আর নিজের ভুল স্বীকার করার অভ্যাস একজন মানুষকে প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নত করতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের কাছে নিজের ভাবমূর্তি ঠিক রাখার চেয়ে আল্লাহর কাছে নিজের অবস্থান ঠিক রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা যদি প্রতিদিন রাতে কয়েক মিনিট নিজের দিকে তাকাই এবং নিজেদের প্রশ্ন করি—

আজ আমি কোথায় ভুল করেছি?

কাকে কষ্ট দিয়েছি?

কোন কথাটি বলা উচিত ছিল না?

কোন কাজটি আমাকে সংশোধন করতে হবে?

তাহলে হয়তো আমরা অন্যের ভুল খোঁজার আগে নিজের ভুল দেখতে শিখব।

কারণ মানুষ তখনই সত্যিকার অর্থে পরিবর্তিত হতে শুরু করে, যখন সে অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজের দিকে তাকাতে শেখে।

নিজের ভুল স্বীকার করা পরাজয় নয়; বরং নিজেকে সংশোধনের প্রথম সাহসী পদক্ষেপ।

আমার লেখাগুলো যদি আপনাদের ভালো লাগে, তাহলে পাশে থাকবেন। আপনাদের ভালোবাসা ও উৎসাহ আমাকে আরও ভালো কিছু লিখতে অনুপ্রাণিত করবে। ❤️

পেজটি ফলো করতে ভুলবেন না।
সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

✍️মোঃ আবুল হাশিম রফিকী

13/09/2026

#সূরা_কাহাফ_নিয়ে_আমার_একটি_ভাবনা

সুরা আল-কাহাফ কেন নাযিল হয়েছিল—এই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়ে একটা কথা আমাকে গভীরভাবে ভাবায়।

মক্কার মুশরিকরা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুয়তকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে আহলে কিতাবদের কাছ থেকে কিছু প্রশ্ন নিয়ে এসেছিল। তাদের ধারণা ছিল, এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মুহাম্মাদ ﷺ দিতে পারবেন না। আর তখনই তাঁর নবুয়তের ব্যাপারে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হবে।

তাদের প্রশ্ন ছিল মূলত তিনটি—

১. আসহাবে কাহাফের ঘটনা কী?
গুহার সেই যুবকদের কী হয়েছিল? তারা কেন গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল?

২. যুলকারনাইন কে ছিলেন?
সেই ক্ষমতাবান শাসক কে, যাকে আল্লাহ তাআলা পূর্ব ও পশ্চিমের বিস্তৃত রাজত্ব দিয়েছিলেন?

৩. রূহ কী?
রূহ সম্পর্কে তাদের প্রশ্নের উত্তর কী?

আল্লাহ তাআলা তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তবে একটি বিষয় আমার কাছে আরও বেশি চিন্তার।

তারা জানতে চেয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু বিষয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা শুধু তাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েই থেমে থাকেননি। সুরা আল-কাহাফে আরও কিছু ঘটনা তুলে ধরেছেন—যেগুলো তারা জানতে চায়নি।

অতিরিক্তভাবে আল্লাহ তাআলা আমাদের শিখিয়েছেন—

১. দুই বাগানের মালিকের ঘটনা।
একজন মানুষ সম্পদ ও প্রাচুর্য পেয়ে নিজের সামর্থ্যকে বড় মনে করল, আল্লাহর নেয়ামতকে ভুলে গেল। শেষ পর্যন্ত তার সেই সম্পদই তার জন্য পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াল।

২. মূসা (আ.) ও খিযির (আ.)-এর ঘটনা।
এই ঘটনায় আমরা শিখি—মানুষের জ্ঞান যত বড়ই হোক, আল্লাহর জ্ঞানের সামনে তা অত্যন্ত সীমিত।

এখন একটু আমাদের নিজের জীবনের দিকে তাকাই।

আমরা তো অনেক সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করে অনেক কিছু প্রার্থনা করি। কিন্তু আমাদের দোয়া কবুল না হলে আমরা নিরাশ হয়ে যাই, ব্যর্থমনোরথ হয়ে হাল ছেড়ে দিই।

একটু গভীরভাবে ভাবুন—আমরা হাজার গুনাহ করলেও আমরা তো তাঁরই বান্দা। আমরা যা চাই, তিনি তার থেকে আরও হাজার গুণ বেশি দিতে পারেন।

যেখানে মুশরিকরা তাঁর নবীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তিনটি প্রশ্ন জানতে চেয়েছিল, আল্লাহ তাদের সেই প্রশ্নের দাঁতভাঙা জবাব দিয়েছেন এবং তাদেরকে বাড়িয়ে আরো দুইটি বিষয় জানিয়েছেন—

একটু ভাবুন—
আমরা তো তাঁরই বান্দা তাঁরই নবীর উম্মত এবং তাকেই সেজদা দেয় তার কাছে মোনাজাত করি

তাহলে কল্পনা করুন।

তিনি আমাদেরকে কতটা বাড়িয়ে দিতে পারেন!

Address

Motijheel
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মোঃ আবুল হাশিম রফিকী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category