07/02/2026
হ্যাঁ–না ভোটের তামাশার নিন্দা করলেন খতিব বায়তুল মোকাররম: যুক্তির সহজ ব্যাখ্যায় মুগ্ধ শ্রোতারা
ঢাকা: জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব শ্রদ্ধেয় আলেম আব্দুল মালেক সাহেব হ্যাঁ–না ভোটের প্রচলিত পদ্ধতির যৌক্তিকতা নিয়ে শক্ত ও প্রাঞ্জল বক্তব্য দিয়েছেন। তার যুক্তিনির্ভর ও সহজ উদাহরণভিত্তিক ব্যাখ্যায় উপস্থিত মুসল্লি ও শ্রোতারা মুগ্ধ হন বলে জানিয়েছেন মুহাইমিন পাটোয়ারী।
খতিব তার বক্তব্যে বলেন, যদি প্রশ্ন করা হয়—“ঢাকা এবং দিল্লি বাংলাদেশের রাজধানী”—তাহলে একটিমাত্র উত্তরে হ্যাঁ বা না বলা যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ এখানে দুটি পৃথক প্রশ্ন রয়েছে—একটির উত্তর হ্যাঁ, অন্যটির উত্তর না। অথচ বাস্তবে জনগণকে একাধিক বিষয়ের প্যাকেজে একক উত্তর দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা যুক্তি ও ন্যায়ের পরিপন্থী।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৮৪টি ভিন্ন বক্তব্য বা শর্ত একসাথে গ্রহণ কিংবা একসাথে বর্জনের বাধ্যবাধকতা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? সব বিষয় কি একসাথে ঠিক বা বেঠিক হওয়া অবশ্যম্ভাবী? এ ধরনের পদ্ধতিকে তিনি জনগণের সাথে তামাশার শামিল বলে আখ্যায়িত করেন।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, সমাজের নানা দিক থেকে এমন সামাজিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে যেন ‘হ্যাঁ’ বলতেই হবে, নচেৎ দেশের উন্নয়ন থেমে যাবে—যা বাস্তবসম্মত নয়। প্রকৃত উন্নয়ন কখনো জোর করে বা বিভ্রান্তিকর প্রশ্নের মাধ্যমে আসে না।
মুহাইমিন পাটোয়ারী জানান, খতিব কিংবা তিনি কেউই সরাসরি ‘না ভোট’-এর প্রচার করেননি; বরং তারা এই প্রশ্নবিদ্ধ ভোট ব্যবস্থার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “খতিব সাহেব তার কথার মাধ্যমেই প্রমাণ করেছেন তিনি কতটা জ্ঞানী। যেসব খুঁত বহু ডিগ্রিধারীও ধরতে পারেননি, তিনি তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “একশোটি কথার সবগুলো অন্ধের মতো মানতে বা বর্জন করতে হবে—মাঝামাঝি কোনো অবস্থান নেই—এই সিস্টেমটাই মূলত ভুল।”