03/04/2026
প্রথম ওহী প্রাপ্তি
মুহাম্মাদের (সা) বয়স তখন চল্লিশ বছর। তিনি হিরা গুহায় বসে ভাবতেন। মাহে রামাদানের শেষ ভাগ। একদিন এক ফিরিশতা এসে হাজির হলো তাঁর সামনে। এই ফিরিশতার নাম জিবরাঈল। এই ফিরিশতার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুহাম্মাদের (সা) নিকট পৌঁছালেন এই বাণী-
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ : خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ ، اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ لَا الَّذِي عَلْمَ بِالْقَلَمِ لَا عَلْمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمُ.
“পড় স্রষ্টা রবের নামে যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট বাঁধা রক্ত থেকে। পড় এবং তোমার রব অতীব সম্মানিত যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে এমন সব শিখিয়েছেন যা মানুষ জানতো না।” (সূরা আল আলাক : ১-৫)
এইভাবে মুহাম্মাদ (সা) প্রথম ওহী পেলেন। তিনি হলেন নবী। অভিভূত মুহাম্মাদ (সা) বাড়ি ফিরে এলেন। স্ত্রী খাদীজাকে বললেন, زملونِی زملونی
“আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও। আমার গায়ে কম্বল জড়িয়ে দাও।”
আল্লাহর দিকে আহ্বান
প্রথম ওহী নাযিলের পর কেটে গেলো প্রায় ছ’টি মাস। এবার দাওয়াতী কাজের সূচনা করার জন্যে নির্দেশ এলো-
يَأَيُّهَا الْمَديرَ قَرْ فَانْذِرْ وَرَبِّكَ فَكَيْر وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ وَالرَّجْزَ فَاهْجُرْ ولا تمنن تَسْتَكْثِرُ. وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ.
“হে কম্বল আচ্ছাদিত ব্যক্তি, ওঠো এবং লোকদেরকে সাবধান কর। তোমার রবের বড়ত্ব শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ কর। পোশাক পবিত্র রাখ। অপবিত্রতা থেকে দূরে থাক। বেশী পাওয়ার উদ্দেশ্যে কারো প্রতি অনুগ্রহ করো না। তোমার রবের খাতিরে বিপদ মুসিবতে ধৈর্যধারণ কর।” (সূরা আল-মুদ্দাসিরঃ ১-৭)
এই নির্দেশ পাওয়ার পর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (সা) এক একজন ব্যক্তির কাছে গিয়ে আল্লাহর সঠিক পরিচয় তুলে ধরতে লাগলেন। আর এই পৃথিবীর জীবনে কর্তব্য সম্বন্ধেও তাদেরকে সচেতন করে তোলার প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন।
প্রথম যাঁরা সাড়া দিলেন
নীরবে চলছিল দাওয়াতে দীনের কাজ। একেবারে শুরুতে যাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেন তাঁরা হচ্ছেন-
১. খাদীজা বিনতু খুয়াইলিদ (রা),
২. আলী ইবনু আবি তালিব (রা),
৩. যায়িদ ইবনু হারিসাহ (রা),
৪. আবু বাকর ইবনু আবি কুহাফা (রা),
৫. উসমান ইবনু আফফান (রা),
৬. আযযুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা),
৭. আবদুর রাহমান ইবনু আউফ (রা),
৮. সা’দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রা),
৯. তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ (রা),
১০. আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ (রা),
১১. আবু সালামাহ ইবনু আবদিল আসাদ (রা),
১২. আল আরকাম ইবনু আবিল আরকাম (রা),
১৩. উসমান ইবনু মাযউন (রা),
১৪. কুদামা ইবনু মাযউন (রা),
১৫. আবদুল্লাহ ইবনু মাযউন (রা),
১৬. উবাইদাহ ইবনুল হারিস (রা),
১৭. সাঈদ ইবনু যায়িদ ইবনু আমর (রা),
১৮. ফাতিমা বিনতুল খাত্তাব (রা),
১৯. আসমা বিনতু আবি বাকর (রা),
২০. আয়িশা বিনতু আবি বাকর (রা),
২১. খাব্বাব ইবনুল আরাত (রা),
২২. উমাইর ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রা),
২৩. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা),
২৪. মাসউদ ইবনু কারী (রা),
২৫. সালীত ইবনু আমর (রা),
২৬. আইয়াশ ইবনু আবি রাবীয়া (রা),
২৭. আসমা বিনতু সুলামা (রা),
২৮. খুনাইস ইবনু হুযাফাহ (রা),
২৯. আমের ইবনু রাবীয়া (রা),
৩০. আবদুল্লাহ ইবনু জাহাশ (রা),
৩১. আবু আহমাদ ইবনু জাহাশ (রা),
৩২. জা’ফর ইবনু আবি তালিব (রা),
৩৩. আসমা বিনতু উমাইস (রা),
৩৪. হাতিব ইবনুল হারিস (রা),
৩৫. ফাতিমা বিনতু মুজাল্লাল (রা),
৩৬. হুতাব ইবনু মুহাল্লাল (রা),
৩৭. ফুকাইহা বিনতু ইয়াসার (রা),
৩৮. মা’মার ইবনুল হারিস (রা),
৩৯. সায়েব ইবনু উসমান ইবনু মাযউন (রা),
৪০. মুত্তালিব ইবনু আযহার (রা),
৪১. রামলাহ বিনতু আবি আউফ (রা),
৪২. নাঈম ইবনু আবদিল্লাহ (রা),
৪৩. আমের ইবনু ফুহাইরা (রা),
৪৪. খালিদ ইবনু সাঈদ ইবনুল আস (রা),
৪৫. আমীনা বিনতু খালাফ (রা),
৪৬. হাতিব ইবনু আমের (রা),
৪৭. আবু হুযাইফা ইবনু উতবা ইবনু রাবীয়া (রা),
৪৮. ওয়াকিদ ইবনু আবদিল্লাহ্ (রা),
৪৯. খালিদ ইবনু বুকাইর (রা),
৫০. আমের ইবনু বুকাইর (রা),
৫১. আকিল ইবনু বুকাইর (রা),
৫২. ইয়াস ইবনু বুকাইর (রা),
৫৩. আম্মার ইবনু ইয়াসার (রা) ও
৫৪. সুহাইব ইবনু সিনান (রা)
এই সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের প্রায় সকলেই ছিলেন যুবক ও যুবতী। কা’বার অদূরেই ছিলো আল আরকাম ইবনু আবিল আরকামের ঘর। সেই ঘরে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (সা) মুসলিমদেরকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দিতেন। প্রকৃতপক্ষে এই দারুল আরকামই মুসলিমদের প্রথম শিক্ষালয়।