31/08/2026
ড্রাগ বলতে আমরা কী বুঝি?
প্রচলিত ধারণায়, ড্রাগ বলতে আমরা সাধারণত এমন কিছু নিষিদ্ধ বা ক্ষতিকর দ্রব্যকে বুঝি—যা মানুষের শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ধীরে ধীরে মানুষকে আসক্তির দিকে নিয়ে যায়।
কিন্তু WHO-এর দৃষ্টিতে ‘Drug’ ধারণাটি আরও বিস্তৃত—যে কোনো পদার্থ, যা শরীরে প্রবেশ করে তার স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটায়, তা ড্রাগের আওতায় আসতে পারে।
একজন Drug Addicted Person-কে সমাজ কতভাবেই না হেয় করে!
তাকে আমরা দুর্বল বলি, নষ্ট বলি, দূরে সরিয়ে দিই। অথচ অনেক সময় ভুলে যাই—আসক্তি শুধু একটি বস্তুতে হয় না, অভ্যাসেও হতে পারে।
মজার বিষয় হলো,
আমরা যারা তথাকথিত “Digital Drug”-এ আসক্ত, তাদের কিন্তু সমাজ অনেক সময় আসক্ত বলেই মনে করে না।
হতে পারে সেটা ঘণ্টার পর ঘণ্টা Facebook/Instagram স্ক্রল করা, অকারণে YouTube বা Reels দেখা, কিংবা ধীরে ধীরে অশ্লীল/পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়া।
ড্রাগের বোতল হাতে না থাকলেও,
যদি কোনো কিছু আমাদের সময়, মনোযোগ, বিবেক ও আত্মনিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়, তাহলে সেটাও আমাদের জীবনের জন্য ভয়ংকর আসক্তি হয়ে উঠতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর—এগুলোর প্রত্যেকটির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।”
— সূরা আল-ইসরা: ৩৬
তাই প্রশ্নটা শুধু—
“আমি কি ড্রাগ নিই?”
এটা নয়।
বরং নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার—
“আমার সময়, মনোযোগ ও হৃদয়কে আসলে কে নিয়ন্ত্রণ করছে?”
হয়তো কারও হাতে মাদকের প্যাকেট নেই,
কিন্তু তার হাতে থাকা ছোট্ট একটি মোবাইলই প্রতিদিন তার জীবনের অনেকটা সময় চুরি করে নিচ্ছে।
আসক্তি যে রূপেই আসুক—মুক্তির প্রথম ধাপ হলো, নিজের আসক্তিটাকে স্বীকার করা।
নিজেকে একটু থামান, নিজের দিকে তাকান।
কারণ সব নেশার গন্ধ পাওয়া যায় না—কিছু নেশা নীরবে জীবনটাকে গ্রাস করে।
Murshid Alam