31/03/2026
ইভটিজিং' বর্তমান সময়ের একটি বহুল আলোচিত শব্দ। ইভটেজিং মানে হচ্ছে 'যৌন হয়রানী' যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বাক্য, ভঙ্গিমা প্রদর্শন, চিঠি, ই-মেইল, টেলিফোন, মোবাইল, কার্ড, বা অন্য কোন উপায়ে বিপরীত লিঙ্গের মানুষকে উত্ত্যক্ত করাটিই হচ্ছে ইভটিজিং। একটি মেয়ে যেমন একটি ছেলে কর্তৃক ইভটিজিংয়ের শিকার হতে পারে, ঠিক তেমনি একটি ছেলেও একটি মেয়ে কর্তৃক ইভটিজিংয়ের শিকার হতে পারে এবং হচ্ছেও। তবে মেয়েরাই ছেলে কর্তৃক শিকার হওয়ার ঘটনা বেশী। আর এই ইভটিজিংয়ের মাত্রা দৈনন্দিন খুব বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইভটিজিংয়ের স্বীকার হয়ে অসংখ্য মেয়ের জীবনে ভয়াবহ দুর্ভোগ নেমে এসেছে। অপমান হচ্ছে হাজার হাজার নারী। এই আপমানের যন্ত্রণা সইতে না পেরে অনেক মেয়ে আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছে। এই ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতিত হয়েছে, জীবনও হারিয়েছে অনেকে, সাথে সাথে এই ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিদিন লেখালেখি হচ্ছে, বক্তব্য হচ্ছে, সভা-সমিতি হচ্ছে, বিজ্ঞাপন ছাপাচ্ছে, দেয়ালিকা এবং পোষ্টারও হচ্ছে। এর সাথে সাথে সরকারী ভাবে আইন হচ্ছে, প্রশাসন প্রহরা দিচ্ছে, গ্রেফতার করছে এবং শাস্তিও দিচ্ছে। এত কিছুর পরেও ইভটিজিং বন্ধ হয়না কেন? তার একমাত্র কারণ হচ্ছে আমরা আজ শান্তি শৃংখলা ও নিরাপত্তার ধর্ম ইসলামকে ত্যাগ করছি। ইসলাম ছাড়া কোন মানুষ কখনো নৈতিক চরিত্রে সমৃদ্ধ হতে পারেনা আর নৈতিকতা ছাড়া কখনো ইভটিজিং সহ সকল ধরণের অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা সম্ভব নয়। ইসলাম ধর্মের মহাগ্রন্থ আল কুরআন এমন একটি গ্রন্থ যার মধ্যে সব সমস্যার সমাধান রয়েছে। তাই ইভটিজিংয়ের মত সমস্যার সমাধানতো বটেই।
কুরআনে কারীম হল আল্লাহ তায়ালার মহা সত্য বাণী। আল্লাহ তায়ালা হলেন নারী পুরুষ সকলেরই সৃষ্টিকর্তা। তাই তিনি নারী ও পুরুষের মাঝে ইভটিজিংয়ের যত সমস্যা হতে পারে তার সমাধানও কুরআনের মধ্যে অবশ্যয় দিয়েছেন। যেমন তিনি পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোষাক নাযিল করেছি যেন তোমাদের দেহের লজ্জাস্থান সমূহ ঢাকতে পারো। এটা তোমাদের জন্য দেহের আচ্ছাদান ও শোভা বর্ধনের উপায়। আর সর্বোত্তম পোষাক হল তাকওয়ার পোষাক (সূরা আরাফ)। তিনি আরো বলেন তোমরা জাহেলী যুগের মত রূপ যৌবনের প্রদর্শনী করে বের হয়োনা (সূরা আহযাব-৩৩) মহা সৃষ্টিকর্তার শুধু উল্লেখিত দু'টি বাণী যদি আজ যুবক যুবতীরা অনুকরণ করতো তাহলে ইভটিজিংয়ের মত মহা বিপদ সৃষ্টি হতোনা। তাই বর্তমানে ইভটিজিং রোধ করতে হলে ইসলামী শরীয়ার ফরজ বিধান বোরকাকেন বাদ্যতামূলক ভাবে পরিধান করতে হবে অন্যথায় ইভটিজিং বন্ধের পরিকল্পনা হবে সুদূর ভাবনা মাত্র।