পুটির-গল্পঘর

পুটির-গল্পঘর "গল্পে গল্পে শৈশবকে ছুঁয়ে দেখার একটা ঘর- পুটির গল্পঘর"

"চুপচাপ দিনের গল্প"আজকের দিনটা অন্যসব দিনের চেয়ে একটু আলাদা। সকাল থেকেই পুটির চাচ্চু অনেকটা চুপচাপ, মন খারাপ করে বসে আছে...
26/06/2025

"চুপচাপ দিনের গল্প"

আজকের দিনটা অন্যসব দিনের চেয়ে একটু আলাদা। সকাল থেকেই পুটির চাচ্চু অনেকটা চুপচাপ, মন খারাপ করে বসে আছেন বাড়ির পেছনের বড় আমগাছটার নিচে। গ্রামের চারপাশে পাখির কিচিরমিচির শব্দ, বাতাসে আমপাতার নরম দোল, কিন্তু চাচ্চুর মুখে কোনো হাসি নেই আজ।

পুটি আজও বুঝতে পারছিল না কেন চাচ্চু এমন। সে তো সবসময় পুটির সাথে হাসে, খেলা করে, গল্প বলে। কিন্তু আজ? আজ চাচ্চু একদমই অন্যরকম।

মায়ের কাছে জানতে চেয়েছিল পুটি, "চাচ্চু মন খারাপ করে কেনো আজ?"

মা নিচু গলায় বলেছিলেন, "আজকের দিনেই ১৪ বছর আগে তোমার দাদি মারা গেছিলেন পুটি। তখন তুমিও ছিলে না, ছোট্ট বাবু। চাচ্চু তখন খুব ছোট ছিল। সেই দাদির কথা মনে পড়লেই চাচ্চুর মন খারাপ হয়ে যায়।"

পুটি ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় চাচ্চুর দিকে। গাছের নিচে বসে থাকা চাচ্চুর কাঁধে মাথা রেখে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে সে। কিছু না বলেও সবকিছু যেনো বুঝে নেয় পুটি।

চাচ্চুর চোখে তখন কিছু পুরোনো স্মৃতির ছবি। সেই দাদি, যিনি নিজে না খেয়ে অন্যকে খেতে দিতেন। এমন একটি মানুষের কাছে শোনা যায় না মানুষটি খারাপ ছিলো। তিনি ছিলেন আতীথিয়েতায় সেরা। যিনি তার ছেলেদের বলতেন,
"নিজে কষ্ট করবি, তবু কারো ক্ষতি করবি না।"আত্নীয়দের সাথে সব সময় যোগাযোগ রাখবি,কউকে কষ্ট দিবি না, বিপদে পারলে কেউকে সাহায্যে করবি। অন্যের বিপদে সব সময় এগিয়ে যাবি।

পুটি দাদির মুখ কখনো দেখেনি। কিন্তু যত গল্প শুনেছে, তাতে মনে হয় — দাদি ছিলেন একদম তার চাচ্চুর মতোই। সোজাসাপ্টা, নরম মনের মানুষ। মানুষের দুঃখে কষ্টে কাছে থাকতেন। আর চাচ্চুও ঠিক সেরকম — হয়তো একটু চুপচাপ, কিন্তু ভেতরটা একদম দাদির মতোই মায়াময়। দাদি মারা যাওয়ার পরে চাচ্চু চুপচাপ হয়ে গেছে। মানুষের সাথে মিশতে তার সময় লাগে।

১৪ বছর চাচ্চু মা বলে ডাকতে পারে না, তার মনের ভিতর অনেক কষ্ট। তাই চাচ্চু পুটিকে, পুটিমা বলে ডাকে।
পুটির বাবা আজ বাড়িতে নেই, তিনিও আজকের দিনে খুব মন খারাপ করে থাকেন। পুটির মনে হলো, হয়তো সবাই চুপচাপ থাকে কারণ দাদির শূন্যতাটা এখনো পূর্ণ হয়নি।

পুটির চাচ্চুর এক বান্ধবী প্রতিবছর এই দিনে একখানা কোরআন খতম করে দেন দাদির জন্য। সেই মেয়েটিও দাদির মতো মানুষকে শ্রদ্ধা করতেন খুব, কারণ তিনি নিজেও দাদির মমতার গল্প জানতেন।

আজ পুটি নামাজে বসে তার ছোট্ট হাতে দুয়া করে—
"আল্লাহ, আমার দাদিকে জান্নাত দিও। আমার দাদিকে তুমি কোনো কষ্ট দিও না আল্লাহ। আর আমাকেও দাদির মতো একজন ভালো মানুষ বানাও।"

চাচ্চু তখন পুটিকে কোলে তুলে নেয়। পুটি দেখতে পায়, চাচ্চুর চোখে পানি চিকচিক করছে, কিন্তু ঠোঁটে একটুকরো হাসি। যেনো দাদির ছায়াটা পুটির মাঝেই খুঁজে পান তিনি।

চুপচাপ দিনে, গাছের নিচে বসে থাকা সেই দুই প্রাণ — পুটি আর তার চাচ্চু — যেনো দাদির ভালোবাসার নিঃশব্দ প্রতিচ্ছবি।

---

পুটির ঈদ:আজ সকাল থেকে পুটি যেন ঠিক ঠিক ঘুমাতে পারেইনি। সকাল ৪টা বাজতেই সে বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠেছে—চোখে ঘুম নেই, মুখে ...
09/06/2025

পুটির ঈদ:

আজ সকাল থেকে পুটি যেন ঠিক ঠিক ঘুমাতে পারেইনি। সকাল ৪টা বাজতেই সে বিছানা থেকে লাফ দিয়ে উঠেছে—চোখে ঘুম নেই, মুখে খুশির ঝলক।

আজ ঈদ! ঈদ মানেই আনন্দ! ঈদ মানেই নতুন জামা, মিষ্টি খাওয়া, সবার কাছ থেকে সালামি নেওয়া!

পুটির গায়ে আজ একটা হলুদ ফুলফুলে ফ্রক, মাথায় ডেইজি ফুলের টায়রা, আর পায়ে চকচকে স্যান্ডেল। সে আয়নায় নিজেরে দেখে হাসছে, ঘুরছে, আবার আয়নায় তাকাচ্ছে।

চাচ্চু মাহমুদ বললো,
“আহা! পুটি তো রাজকন্যী হয়ে গেছে!”
পুটি লাজুক মুখে বললো, “চাচ্চু, আমি আজ বেশি সালামি পাবো, তুমি দেখো!” 😄

দাদু তার সাদা পাঞ্জাবি আর টুপি পরে রেডি। বয়স ৬৫ হলেও আজ তিনি যেন ২৫-এর তরুণ! পাশে পুটির বাবা, ৩৫ বছরের এক গম্ভীর মানুষ, তবে আজ তাঁর মুখেও ঈদের হাসি।

চারজন একসাথে রওনা হলো ঈদের ময়দানের দিকে। রাস্তার পাশে লাইন ধরে দোকান—কেউ আতর বিক্রি করছে, কেউ টুপি, কেউ রকমারি মিষ্টি। পুটি মাঝেমাঝেই থেমে যায়।

“চাচ্চু, ওই যে জিলাপি! ঈদের পরে খাবো?”
“অবশ্যই খাবি! আজ তোর জন্য সবই আছে।”

ঈদের নামাজ শেষে পুটি সালাম দিয়ে সবার কাছে ছুটে যায়। একেক জনকে জড়িয়ে ধরে বলে,
—“ঈদ মোবারক! সালামি দেন!”
চাচ্চু হাসে, দাদু পকেট থেকে একটা ২০ টাকার নতুন নোট তুলে দেয়।
বাবা একটু রাগী রাগী মুখে বলে,
“আহা, এত সালামি চাইছো কেন?”
পুটি বলে,
“ঈদ মানে তো সালামি! আমি বড় হয়ে আবার আপনাদের দিতাম!”

পুটির খুশির সীমা নেই। তার হাতভর্তি টাকাগুলো সে সযত্নে একটা ছোট পিচ ব্যাগে ভরে রাখে। আর বলে,
“এই টাকা দিয়ে আমি মায়ের জন্য বালার কিনবো।”

ঐদিকে গ্রামের মসজিদের সামনে আজ বিশেষ আয়োজন—মিষ্টির প্যাকেট, ছোটদের জন্য খেলনা। পুটি আর চাচ্চু সেখানে দাঁড়িয়ে দেখলো কেউ একজন পুতির বয়সি একটা বাচ্চা ছেলেকে কিছু দিচ্ছে না। পুটি দৌঁড়ে গিয়ে তার একটা খেলনা দিয়ে বললো,
“তুমি আমার ভাই! এটা রাখো!”

চাচ্চু মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,
“পুটি শুধু মিষ্টি না, তুই মনটাও মিষ্টি পেয়েছিস।”

সন্ধ্যার দিকে যখন পুরো গ্রাম আলোয় ঝলমল করছে, পুটি তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফুঁ দিয়ে বাতাসে ফোটা দিচ্ছে।

“হে ঈদ, আবার এসো। অনেক সালামি নিয়ে, অনেক আনন্দ নিয়ে, অনেক মানুষকে নিয়ে। কারণ আমি পুটি, আর আমি সবাইকে ভালোবাসি!”

---

গল্প: চাচ্চুর ছুটি!কমলাপুর রেলস্টেশন, রাত ১১টা।ঢাকার বুকে ঈদের আগের রাত। স্টেশন যেন মানুষের ঢল আর অপেক্ষার উত্তাপে কাঁপছ...
05/06/2025

গল্প: চাচ্চুর ছুটি!

কমলাপুর রেলস্টেশন, রাত ১১টা।
ঢাকার বুকে ঈদের আগের রাত। স্টেশন যেন মানুষের ঢল আর অপেক্ষার উত্তাপে কাঁপছে। কেউ গার্মেন্টসে কাজ করে, কেউ রাজমিস্ত্রি, কেউ অফিস কর্মচারী—সবাই ফিরছে নিজের গাঁয়ে, নিজের আপনজনের কাছে। ভিড়ের ভেতরেও এক অদ্ভুত আনন্দের বাতাস, কারণ "ঈদ" মানেই ঘরে ফেরা।

এই ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন মাহমুদ, পুটির চাচ্চু। ঢাকায় একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন, সারা বছর ছুটি মেলে না বললেই চলে। ঈদের এই ক'দিনের ছুটি যেন সারা বছরের সুখের উৎস। বুকের গভীরে জমে থাকা আবেগ আজ উথলে পড়ছে—কারণ পুটি তার অপেক্ষায়।

পাশে আছেন মাহমুদের বন্ধু সাদিক। দুজনের ছোটবেলার বন্ধুতা, এবার একসাথে গ্রামের পথে ফেরা। চোখে চোখে কথা হয়, মুখে হাসি—আসলে ঈদের ছুটি শুধু পরিবার না, বন্ধুত্বেরও উৎসব।

কমলাপুরের প্রতিটা প্ল্যাটফর্মে ভিড়, হৈচৈ, চা-বিক্রেতার হাঁক। কেউ মাদুর পেতে বসে আছে, কেউ বাচ্চাকে বুকের মধ্যে চেপে ধরে ঘুম পাড়াচ্ছে।
ট্রেনের নাম—বেনাপোল এক্সপ্রেস। রাত ১১:৩০ মিনিটে ছাড়বে। সময়মতো লাইনে আসে ট্রেন। দরজা খুলতেই হুড়োহুড়ি—সিট বাঁচানো, ব্যাগ তোলা, জানালার পাশে বসার প্রতিযোগিতা!

মাহমুদ জানালার পাশে সিট পেয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন। চোখ মেলে তাকিয়ে আছেন দূরের অন্ধকারে, কিন্তু মনে শুধু একটাই মুখ—পুটি।

গ্রামের বাড়িতে তখন গভীর রাত। কিন্তু পুটির ঘুম নেই। পাঁচ বছর বয়সী এই মায়াবতী মেয়েটি বারান্দায় বসে, আকাশের দিকে তাকিয়ে, মায়ের হাত ধরে বলছে,
“চাচ্চু কি এখনো ট্রেনে? এখন কোথায়?”
“আরে মা, একটু পরেই পৌঁছাবে। ঘুমাও এখন।”
“না ঘুমাব না, আমি চাচ্চু আইলে আগে দেখবো।”

পুটির বাবা বললেন, “আমি ভোরে স্টেশনে যাবো। চল, তুইও যাবি?”
পুটি খুশিতে লাফিয়ে উঠল—“হ্যাঁ! আমি চাচ্চু লাইগা যামু!”

ট্রেন চলতে শুরু করল। শহরের আলো পেছনে ফেলে ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ল অন্ধকার গ্রামবাংলার বুক চিরে।
মাহমুদের মনে কত স্মৃতি ভিড় করে—মায়ের মুখ, পুটির হাসি, পুকুরঘাট, আমগাছের ছায়া, ঈদের সকালে সাদা পাঞ্জাবি পড়ে নামাজে যাওয়া।

সাদিক পাশে বসে বলল, “তোর পুটির excitement তো ভাই দেখার মতো হবে।”
মাহমুদ হেসে বলল, “ওর জন্যই তো এত কিছু। ওর একখান হাসি সব কষ্ট মুছে দেয় রে!”

চারপাশের মানুষদের কথাবার্তাও একেকটা গল্প—কেউ পাঁচ বছর পর ফিরছে, কেউ পরিবার নিয়ে যাচ্ছে, কারো আবার এটা জীবনের প্রথম ট্রেন যাত্রা।
এক বৃদ্ধা বললেন, “বাবা, আমি পোলার লগে ঈদ করব, আল্লাহ কেমন কইরা কইরা সুস্থ রাখছে।”

ভোর ৩:৩০—পোড়াদহ স্টেশন

ভোর রাত, চারপাশ নিঝুম। প্ল্যাটফর্মে কয়েকটা হ্যাজার্ড লাইটের আলোয় দাঁড়িয়ে পুটি আর তার বাবা।
দূর থেকে হুইসেল বাজে—বেনাপোল এক্সপ্রেস এসে থামে।

ট্রেন থামতেই পুটি লাফিয়ে উঠে চিৎকার করে,
“চাচ্চু আইছে! আমি দৌড়ামু!”
আর কিছু বোঝার আগেই ছোট্ট পায়ে ছুটে যায় ট্রেনের দিকে।
মাহমুদ ট্রেন থেকে নামতেই পুটি ঝাঁপিয়ে পড়ে তার কোলে, জড়িয়ে ধরে, যেন তার পুরো জগতটাই এখন পেয়ে গেছে।

মাহমুদের চোখে পানি। তিনি বললেন,
“তুই তো অনেক বড় হইয়া গেছিস রে পুটি!”
পুটি বলল, “আমি রোজ নামাজে দোয়া করি, চাচ্চু ঈদে আইসো।”

সাদিক সেই দৃশ্য দেখে আবেগে আপ্লুত। বলেন, “এইরকম ভালোবাসা শহরে নাই ভাই...”

গল্প: আমার বন্ধু শিমুল- (পার্ট-১)গ্রামের এক সরু মাটির রাস্তার পাশে বিকেলটা যেন থমকে গেছে। সোনালি রোদে ভিজে থাকা সবুজ ঘাস...
30/05/2025

গল্প: আমার বন্ধু শিমুল- (পার্ট-১)

গ্রামের এক সরু মাটির রাস্তার পাশে বিকেলটা যেন থমকে গেছে। সোনালি রোদে ভিজে থাকা সবুজ ঘাসের উপর বসে আছে শিমুল। বয়স পনেরো, এসএসসি পরীক্ষা দিবে। গায়ে সাদা শার্ট, পরনে কালো প্যান্ট। পাশে একটা ছোট সাইকেল আর ব্যাগ রাখা। চুপচাপ বসে আছে ছেলেটা, চোখে কি যেনো একটা গোপন কষ্ট।

একসময় এই শিমুলই ছিল গ্রামের সবচেয়ে হাসিখুশি ছেলেগুলোর একটা। ছোটবেলায় তার দিনগুলো ছিল রঙিন — স্কুলে বন্ধুদের সাথে খেলা, গাছে চড়া, নদীতে ঝাঁপ দেওয়া, বিকেলে মাঠে দৌড়, আর রাতের বেলায় মায়ের কোলে ঘুম। লেখাপড়ায়ও ছিল অসাধারণ, ক্লাসে সবসময় ভালো রেজাল্ট করত। তার চোখে ছিল স্বপ্ন, আর মুখে চিরচেনা সেই মিষ্টি হাসি।

প্রাইমারি শেষ করে যখন হাইস্কুলে উঠল, সবকিছু একটু একটু করে বদলাতে শুরু করল। নতুন স্কুল, নতুন বন্ধুরা—তবে সবার সাথে ঠিক মিশতে পারত না। সে একটু নিঃশব্দ প্রকৃতির। কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হতে সময় লাগে তার। একেকজন আসে, হেসে কথা বলে, আবার দূরে সরে যায়। শিমুল একাই নিজের জগতে বাঁচে।

এরই মাঝে একদিন খবর আসে—তার মা অসুস্থ।

প্রথমে ছোটখাটো মনে হয়েছিল। ভাবা হয়েছিল, কয়েকদিনের মধ্যেই ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অসুখ ভয়ংকর হয়ে ওঠে। পরিবার মায়ের চিকিৎসার জন্য দৌড়াতে থাকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে, গ্রাম থেকে শহরে, কবিরাজ থেকে ডাক্তার—কিন্তু ফলাফল শূন্য।

মা বিছানায় পড়ে গেলেন। পুরো পরিবারে নেমে এলো এক ভারী স্তব্ধতা।
তবে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছিল শিমুল।

সে তো মায়ের ছোট ছেলে, আদরের। এখনো মায়ের কোলেই ঘুমায়। মায়ের অসুস্থতা তাকে তছনছ করে দিলো। প্রতিরাতে সিজদায় পড়ে আল্লাহকে ডেকে বলতো—
"আল্লাহ, তুমি আমার মাকে ভালো করে দাও। আমি আর কিচ্ছু চাই না।"

মায়ের পায়ের কাছে বসে সে মাথায় হাত বুলিয়ে দিত, পানি খাইয়ে দিত, ছোট ছোট আবদার মেটানোর চেষ্টা করত। মা অনেক কষ্টে বলতেন—
"তুই থাকলে আমি সব কষ্ট ভুলে যাই রে শিমুল..."
কিন্তু সেই কষ্টেরও এক সীমা ছিল।

এক বিকেলে মা আর ফিরে উঠলেন না।
শিমুলের ছোট পৃথিবীটা যেন মুহূর্তেই ভেঙে পড়ল।
সেই রাতে তার বুকের ভেতর থেকে ভেঙে গিয়েছিল ‘মা’ ডাকটা।

এরপর আর কিছু আগের মতো রইল না।
পরিবারের সবাই চেষ্টা করল তাকে আগের মতো ফিরিয়ে আনতে—বাবা, বড় ভাই, এমনকি তার একমাত্র বন্ধু মোমিন।
মোমিন প্রায়ই এসে বসে গল্প করত, ঘুরতে নিয়ে যেত।
কিন্তু শিমুল যেন এক অদৃশ্য দেয়ালের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিল।

খেলাধুলা ছেড়ে দিল, বন্ধুদের থেকে দূরে থাকতে লাগল, কারো চোখে চোখ রাখত না। মুখে হাসি হারিয়ে গেল, আর চোখে ঘনঘন ভেসে উঠত জল।
তবুও কাউকে বুঝতে দিত না সে।
রাতে একা একা কাঁদত—নীরবে।
যখন অন্য কেউ তার মাকে "মা" বলে ডাকত, তার বুকটা হাহাকার করে উঠত, ভেতরে যেন ঝড় বয়ে যেত।

বছর পার হতে লাগল।
মায়ের অনুপস্থিতিতে সে একটু একটু করে নিজেকে শক্ত করে তুলল।
সামনে এসএসসি পরীক্ষা।
মায়ের মুখটা মনে করে সে আবার বইয়ের পাতায় ফিরে গেল।
সে জানে, ভালো রেজাল্ট করতে হবে।
তাকে বড় হতে হবে—যে ছেলেটা একদিন মায়ের সব স্বপ্ন পূরণ করবে।

আজ সে যে বিকেলের মনখারাপ নিয়ে রাস্তার পাশে বসে আছে, এটা কেবল দুঃখ নয়—এটা একরাশ ভালোবাসা, স্মৃতি আর প্রতিজ্ঞার প্রতিচ্ছবি।
পেছনে হারানোর যন্ত্রণা আর সামনে এক সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ।
আর শিমুল—সে সেই ছেলেটা, যাকে জীবন অনেক কিছু কাঁদিয়ে শিখিয়েছে, কিন্তু তবুও থামিয়ে রাখতে পারেনি।

---

গল্পের নাম: “পুটির প্রিয় খালামণি”শুক্রবার মানেই ছুটি। আর ছুটি মানেই পুটির সবচেয়ে আনন্দের দিন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই পুট...
23/05/2025

গল্পের নাম: “পুটির প্রিয় খালামণি”

শুক্রবার মানেই ছুটি। আর ছুটি মানেই পুটির সবচেয়ে আনন্দের দিন। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই পুটি মাকে বলে,
“আম্মু, আজকে আমি খালামনির বাসায় যাবো, হাবিবা খালামনি আমাকে ডেকেছে।”

পুটির খালামণি, হাবিবা—মাত্র বিশ বছর বয়স, অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। চিকন-চাকনা গড়ন, ফর্সা, আর মিষ্টি মুখটা এমনভাবে হাসে যেন চোখে-মুখে আলো ঝলমল করে ওঠে। কিন্তু সৌন্দর্যের চেয়েও বড় গুণ, তার বুদ্ধি আর দায়িত্ববোধ। হাবিবাকে দেখে মনে হয় সে যেন একটা গোছানো সংসার নিজের হাতে সামলাচ্ছে—বাবা-মা, ভাইবোন, পড়াশোনা, রান্নাবান্না—সব কিছুই সে এমনভাবে মেইনটেইন করে যে, পরিবারের সবাই বলে,
“হাবিবা থাকলে ঘর যেন নিজের মতো চলতে থাকে।”

"যাকে বলা যায় গর্ভানেন্স টাইপের মতো"--- সবকিছু নিজের মতো করে গুছিয়ে রাখে,নিজের পরিবারের মানুষদের ও পরিবার টাকে।

পুটি যখন হাবিবার বাসায় পৌঁছায়, তখন হাবিবা রান্নাঘরে। পুটি দৌড়ে গিয়ে তার খালামণির কোমর জড়িয়ে ধরে।
“খালামনি, আমি এসে গেছি!”
হাবিবা হেসে বলে,
“এসে তো দেখতেই পাচ্ছি, এবার একটু বসো, তাড়াতাড়ি রান্না শেষ করে তোমার জন্য সেমাই আর আলুর চপ বানাচ্ছি।”

রান্না শেষে দুজন একসাথে বিছানায় বসে গল্প করে। হাবিবা বলে কিভাবে ছোটবেলা থেকে মাকে সাহায্য করতো, কিভাবে সময় বাঁচিয়ে পড়াশোনাও চালিয়ে গেছে।
পুটি বিস্ময়ে বলে,
“খালামনি, তুমি কি সব জানো?”
হাবিবা মুচকি হেসে বলে,
“জীবন শিখতে হলে শুধু বই পড়লে হবে না, মায়েদের পাশে থাকতে হয়।”

দুপুরে তারা নদীর পাড়ে হাঁটতে যায়। হাবিবার বান্ধবী স্বর্ণা আর মরিয়মও আসে। সবাই মিলে নদীর পাশে গাছের নিচে বসে ফুসকা খায়। হঠাৎ স্বর্ণা বলে,
“হাবিবা, মনে আছে সেই দিন কলেজে তুমি প্রিন্সিপালের সামনে পুরো ক্লাসকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলে?”
মরিয়ম হেসে বলে,
“আর বলিস না, হাবিবার মতো মাথা ঠান্ডা আর সাহসী মেয়ে আমি জীবনে দেখি নাই।”

পুটি হাঁ করে শুনে। তার চোখে তখন খালামনি একজন ‘সুপারওম্যান’।
সন্ধ্যার সময় সবাই মিলে ছাদে যায়। পুটি খালামনিকে বলে,
“আমি বড় হয়ে তোমার মতো হতে চাই।”
হাবিবা তাকে জড়িয়ে ধরে বলে,
“তাহলে এখন থেকেই শিখে রাখ, ভালো মেয়ে হতে হলে মনটা বড় রাখতে হয়। সবাইকে ভালোবাসতে হয়, সাহায্য করতে হয়। তবেই সবাই তোমাকে ভালোবাসবে।”

সেই রাতে পুটি খালামনির পাশে ঘুমায়। চোখ বুজে ভাবে—আজকের দিনটা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলোর একটি।

---

শিরোনাম: পুটির বৃক্ষরোপণপুটি গ্রামের একটি ছোট্ট মেয়ে। দেখতে শ্যামলা, মুখে সারাক্ষণ হাসি লেগেই থাকে। পুটি তার বাবা-মা আর ...
22/05/2025

শিরোনাম: পুটির বৃক্ষরোপণ

পুটি গ্রামের একটি ছোট্ট মেয়ে। দেখতে শ্যামলা, মুখে সারাক্ষণ হাসি লেগেই থাকে। পুটি তার বাবা-মা আর ছোট বোনকে নিয়ে একটি মাটির ঘরে থাকে। তাদের বাড়ির সামনে ছোট্ট একটা আঙিনা, আর চারপাশে অনেক গাছপালা, পাখির কিচিরমিচির।

একদিন সকালে স্কুলে গিয়ে পুটি দেখল, তাদের শিক্ষক রবিউল স্যার সবাইকে একটা বিশেষ বিষয়ে পড়াচ্ছেন— বৃক্ষরোপণ। স্যার বললেন,
“বাচ্চারা, গাছ আমাদের বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ছায়া দেয়, ফল দেয়, এমনকি ওষুধও দেয়। তাই প্রত্যেকে যদি একটা করে গাছ লাগায়, আমাদের পৃথিবীটা অনেক সুন্দর হয়ে যাবে।”

স্যারের কথা পুটি মন দিয়ে শুনল। ক্লাসে সেদিন স্যার কিছু ফলজ, বনজ আর ঔষধি গাছের নাম বললেন—আম, জাম, কাঁঠাল, নিম, তেঁতুল, তুলসি, অর্জুন—আরও কত কী!

সেদিন থেকেই পুটি ঠিক করল, সে বাড়ি গিয়ে গাছ লাগাবে। স্কুল থেকে ফিরেই সে মাকে জড়িয়ে ধরল।
“মা, আমি গাছ লাগাবো! আমরাও কি আমাদের বাড়িতে একটা বাগান বানাতে পারি?”

পুটির মা হেসে বললেন,
“অবশ্যই পারবি মা। গাছ লাগানো খুব ভালো কাজ।”

পরদিন সকালেই পুটি তার বন্ধুদের ডেকে আনল—রাজু, মিনা, হাসান, আর শিউলি। সবাই মিলে পুটির বাড়ির আঙিনায় এসে গোল হয়ে বসল।
পুটি বলল, “চলো, আমরা সবাই মিলে আমাদের গ্রামটাকে সবুজ করে তুলি। প্রত্যেকে একটা করে গাছ লাগাবো।”

তাদের খেলা বন্ধ হয়ে গেল, শুরু হলো গাছ লাগানোর অভিযান।
রাজুর বাবা দিলেন একটি আমগাছের চারা, মিনার মা দিলেন তুলসির চারা, হাসানের দাদু দিলেন একটা নিমগাছের চারা। শিউলি বাড়ি থেকে নিয়ে এলো লেবু গাছ। পুটি নিজে একটি অর্জুন গাছের চারা এনে আনল পাশের বাজার থেকে।

সবাই মিলে মাটি খুঁড়ল, চারা বসাল, জল দিল। তাদের মুখে আনন্দের ঝিলিক। পুটি সেই মুহূর্তে বুঝল—এটাই প্রকৃত ভালোবাসা।

দিন কেটে যায়। পুটির লাগানো গাছগুলো বাড়তে থাকে। তার আঙিনা এখন একটা ছোট্ট বাগান হয়ে গেছে। পাখিরা এসে বসে গাছে, প্রজাপতিরা ওড়ে ফুলে ফুলে।

একদিন রবিউল স্যার পুটির বাড়িতে এলেন। গাছগুলো দেখে তিনি অবাক হয়ে গেলেন।
“বাহ পুটি! তুমি তো আমাদের সবার জন্য একটা উদাহরণ হয়ে গেছো!”

পুটি লাজুক হেসে বলল,
“স্যার, আমি শুধু শুরু করেছি। এখন আমাদের পুরো গ্রামে গাছ লাগানোর কাজ করব আমরা সবাই মিলে।”

পুটির সেই স্বপ্ন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। স্কুলে, মাঠে, বাড়িতে—প্রতিটা জায়গায় ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা গাছ লাগাতে শুরু করে। পুটি হয়ে ওঠে গ্রামের ‘সবুজ কন্যা’।

---

গল্পের নাম: পুটির ফুলবাগানপুটি গ্রামের এক ছোট্ট, ছয় বছর বয়সী মেয়ে। দেখতে খুবই মিষ্টি, চোখ দুটো বড় বড় আর হাসিটা এমন যে, ত...
20/05/2025

গল্পের নাম: পুটির ফুলবাগান

পুটি গ্রামের এক ছোট্ট, ছয় বছর বয়সী মেয়ে। দেখতে খুবই মিষ্টি, চোখ দুটো বড় বড় আর হাসিটা এমন যে, তাকালে মন ভরে যায়! পুটি শুধু দেখতে সুন্দরই না, ওর মনটাও খুব সুন্দর।

একদিন বিকেলে স্কুল থেকে ফিরে পুটি দেখল তাদের বাড়ির সামনে জায়গাটা একদম ফাঁকা পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে ওর মাথায় একটা আইডিয়া এল—"আমি এখানে একটা ফুলবাগান বানাবো!"

পুটি দৌঁড়ে মায়ের কাছে গেল, বলল, “আম্মু, আমি একটা ফুলবাগান করতে চাই! আম্মু, তুমি হেল্প করবে?”

মা হেসে বললেন, “অবশ্যই করবো মা। তবে বাগান মানে শুধু গাছ লাগানো না—তার যত্নও নিতে হয়!”

পুটির বাবা আর চাচ্চু তখন মাঠ থেকে ফিরছিলেন। পুটি দৌঁড়ে তাদের কাছেও বলল। সবাই পুটির এই আগ্রহ দেখে খুব খুশি হল। তারপর সবাই মিলে পাটকাঠি দিয়ে ছোট্ট একখানা জায়গা ঘিরে দিল, সেখানে মাটি নরম করে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করতে পারে এমন নানা রঙের ফুলের চারা লাগাল।

গাঁদা, রজনীগন্ধা, জিনিয়া, বেলি, সূর্যমুখী—কি নেই পুটির বাগানে!

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পুটি প্রথমেই তার বাগানে যায়। মাটিতে পানি দেয়, শুকনো পাতা তুলে ফেলে, আর কোনো পোকা থাকলে সাবধানে তাড়িয়ে দেয়। মাঝে মাঝে ফুলের গাছগুলোর সাথে কথা বলে“তোমরা ভালো থেকো, অনেক ফুল দিও!”

দেখতে দেখতে গাছগুলো বড় হলো, ডালে ডালে ফুটতে লাগল রঙ-বেরঙের ফুল। পথ দিয়ে যাওয়ার সময় পুটির ফুলবাগান দেখে সবাই বলত, “আহা! পুটির বাগান কত সুন্দর!”

পুটি শুধু ফুলের বাগানই করেনি, পাশাপাশি ছোট ছোট কিছু ফলের গাছও লাগিয়েছে। পেয়ারা, কমলা, আমলকি, কুল—সবই আছে সেখানে। যদিও গাছগুলো এখনো ছোট, কিন্তু তাতে ছোট ছোট ফল ধরতে শুরু করেছে।

পুটি ফুল দিয়ে মালা গাঁথে। সেই মালা মা-কে দেয়, ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখে, কখনো স্কুলে নিয়ে যায় “শ্রেষ্ঠ বাগান কার” প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে।

একদিন স্কুলে সবাইকে জিজ্ঞেস করা হলো—“কে কী করতে ভালোবাসো?” কেউ বলল ছবি আঁকতে, কেউ বলল ক্রিকেট খেলতে, তখন পুটি বলল, “আমি ফুল আর গাছ ভালোবাসি, কারণ ওরা আমাদের শীতল রাখে, সুন্দর করে, আর প্রকৃতিকে হাসায়!”

শিক্ষক বললেন, “পুটি আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে—যত্ন, ভালোবাসা আর উদ্যোগ। আমাদের সবাইকে পুটির মতো প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে।”

সেই থেকে পুটির গল্প ছড়িয়ে পড়ে সারা গ্রামে। আর পুটির ফুলবাগান হয়ে ওঠে গ্রামের সবার প্রিয় এক জায়গা।

---

গল্পের নাম: পুটির জঙ্গলে ভ্রমণপুটি মাত্র ছয় বছরের এক ছোট্ট মেয়ে। তার মনের রঙ রাঙা রোদেলা সকালে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো।...
19/05/2025

গল্পের নাম: পুটির জঙ্গলে ভ্রমণ

পুটি মাত্র ছয় বছরের এক ছোট্ট মেয়ে। তার মনের রঙ রাঙা রোদেলা সকালে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো। সে খুবই কৌতূহলী, দুষ্টুমি করতেও ভালোবাসে, আবার মনের গভীর থেকে প্রকৃতিকে ভালোও বাসে।

পুটি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি মিষ্টি স্বভাবের। তার মায়াবী বড় বড় চোখ, হাসলে ছোট ছোট দাত দেখা যায়। কোঁকড়ানো চুলগুলো সব সময় খোলা থাকে, আর মুখে থাকে একটা নিষ্পাপ হাসি, যেন সে কোনো গল্পের বই থেকে বেরিয়ে এসেছে।

এক সকালে গ্রামের উঠোনে দাঁড়িয়ে পুটি চেঁচিয়ে উঠল, “বাবা! আমি কি আজ তোমাদের সাথে জঙ্গলে যেতে পারি?”

বাবা হেসে বললেন, “চলো মা, আজ তোমাকে নিয়ে আমরা সবাই জঙ্গলে যাচ্ছি। দাদা, আমি, আর তোমার চাচ্চু – সবাই যাব।”

পুটি তো খুশিতে লাফিয়ে উঠল! পিঠে একটা ছোট্ট ব্যাগ, তাতে বিস্কুট, পানির বোতল আর একটা নোটবুক যেখানে সে পাখি, ফুল আর গাছের ছবি আঁকে।

জঙ্গলের পথে হাঁটতে হাঁটতে পুটি চারপাশে তাকিয়ে অবাক হয়ে যাচ্ছিল। কত রকম গাছ! লম্বা, ছোট, বাঁকা, ডালে ডালে পাখি ডাকছে। কোথাও একটা কাঠঠোকরা ঠক ঠক করে গাছ খুঁটছে, কোথাও সবুজ পাতার ফাঁকে এক জোড়া টিয়া পাখি পরস্পরের দিকে তাকিয়ে আছে।

“দাদা, দাদা! ওই যে পাখি দুটো কী বলছে?” পুটি প্রশ্ন করে।

দাদা হেসে বলেন, “ওরা হয়তো প্রেমের গল্প বলছে, নাতনি।”

হঠাৎ একটা বুনো খরগোশ ঝোপের মধ্যে থেকে দৌড়ে চলে গেল। পুটি হাঁ করে তাকিয়ে থাকল। সে কখনো এত কাছ থেকে এসব দেখেনি।

আরও খানিক দূর যেতেই বিশাল একটা গাছের নিচে কয়েকটা বানর লাফালাফি করছিল। একটা বানর একটা ছোট কলা নিয়ে গাছের ডালে বসে খাচ্ছিল, আরেকটা ঝুলে ঝুলে নিচের দিকে তাকিয়ে পুটিকে দেখছিল।

“বাবা! ওই বানরটা কি আমায় দেখে হাসছে?”
বাবা হেসে বললেন, “হয়তো ভাবছে, তুইও তার মতোই দুষ্টু!”

চাচ্চু বললেন, “জঙ্গলে বানর থাকলে মজা দ্বিগুণ। তবে ওদের বিরক্ত করবি না, ওরাও আমাদের মতো স্বাধীন।”

পুটি বিস্ময় নিয়ে চারপাশে তাকিয়ে আছে। তখনই একটা হরিণ গাছের আড়াল থেকে মুখ বের করে তাকিয়ে থাকল, তারপর লাফিয়ে দৌড়ে চলে গেল।

“ওই যে হরিণ! কত্ত সুন্দর!” পুটি বলে উঠল।

জঙ্গলের নিচু ঘাসের ভেতর দিয়ে একটা গুঁইসাপ চুপচাপ হেঁটে যাচ্ছিল। পুটি ভয় পেয়ে দাদার পাশে গিয়ে দাঁড়াল।

“ভয় পাবি না মা, গুঁইসাপ তোর কিছু করবে না,” দাদা বললেন।

হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পুটি বলল, “দাদা, আমি একটু বসি?”

একটা বড় শালগাছের নিচে সবাই বিশ্রাম নিল। বাতাসে পাতারা যখন নেচে উঠে, পুটি চোখ বন্ধ করে বলল, “এখানে আসতে এত ভালো লাগছে! পাখির ডাক, গাছের ছায়া, আর আপনাদের সাথে থাকা—সব মিলিয়ে এটা যেন স্বপ্নের মতো।”

চাচ্চু পুটিকে কোলে নিয়ে বললেন, “তুমি সত্যি খুব সৌভাগ্যবান পুটি, এত সুন্দর মন তোমার।”

খাওয়া-দাওয়ার পর সবাই আবার হাঁটা শুরু করল। হঠাৎ এক জায়গায় পুটি একটা রঙিন প্রজাপতি দেখে দৌঁড়ে গেল। সে নরম পায়ে ধীরে ধীরে তার পিছু নিল, যেন ধরা না পড়ে।

কিছু দূরে গিয়ে সে একটুখানি খোলা জায়গা পেল। সেখানে রোদ পড়ে আছে পাতার ছায়ায়। নানা রঙের ফুল ফুটে আছে, মৌমাছিরা গুনগুন করছে। পুটি হাঁ করে সব দেখছে। তার ছোট্ট নোটবুকটা বের করে সে আঁকা শুরু করল—ফুল, প্রজাপতি, বানর, হরিণ, আর রোদে ভেজা পাতা।

বাবা পেছন থেকে এসে বললেন, “এই জায়গাটা তোমার নামেই হবে—'পুটির বাগান'।”

পুটি হেসে বলল, “তাহলে আমি এখানে প্রতিদিন আসব!”

দিন শেষে পুটির মুখে ছিল ক্লান্তি, কিন্তু চোখে ছিল অপার আনন্দ। এই জঙ্গলে সে শুধু গাছ-পাখি-প্রাণী দেখেনি, দেখেছে প্রকৃতির মায়া, ভালোবাসা আর পরিবারে একসাথে থাকার আনন্দ।

পুটির সেই দিনটা তার জীবনের সেরা ভ্রমণের গল্প হয়ে রয়ে গেল—যেটা সে আবার নোটবুকে লিখে রেখেছিল, আঁকবে ছবিতে, বলবে বন্ধুদের, আর মনে রাখবে সারাজীবন।

--------

গল্পের নাম: "পুটির অতিথি-প্রীতি"আজ পুটিদের বাড়িতে যেন এক অন্যরকম আনন্দ। সকাল থেকেই উঠানে সাজসাজ রব। পুটির চাচ্চুর বন্ধুর...
18/05/2025

গল্পের নাম: "পুটির অতিথি-প্রীতি"

আজ পুটিদের বাড়িতে যেন এক অন্যরকম আনন্দ। সকাল থেকেই উঠানে সাজসাজ রব। পুটির চাচ্চুর বন্ধুরা দূর শহর থেকে বেড়াতে এসেছে। তারা সবাই সদ্য ভার্সিটি জীবন শেষ করেছে। একসাথে পড়াশোনা করত, গল্প করত, হাসত—আজ সেই সব স্মৃতিকে আবার জিইয়ে তুলতেই তারা এসেছে এই গ্রামের বাড়িতে।

চাচ্চু নিজেই সবাইকে বরণ করে নিচ্ছেন। ভার্সিটির একঝাঁক তরুণ-তরুণী হাসিমুখে নেমে আসছে গাড়ি থেকে। কেউ পুটিকে দেখে বলছে,
“এই যে আমাদের ছোট্ট গেস্ট রিসিভার!”
কেউ আবার বলছে,
“তুইই কি সেই বিখ্যাত পুটি, যার গল্প আমরা শুনে এসেছি?”

ছেলেদের মধ্যে ছিল শামীম, আযাদ, জাহিদ আরো অনেকেই—সবাই বেশ রসিক। পুটিকে দেখেই আযাদ বলে উঠল,
“তোর বয়স কত? তুই কি আমাদের থেকে বড় নাকি?”
পুটি গাল ফুলিয়ে বলে,
“আমি ছয় বছরের বড় মেয়ে!”
সবাই হেসে কুটিকুটি।

মেয়েদের মধ্যে ছিল লিমা, মহুয়া, জলি ছাড়াও বেশ কয়েকজন। তারা পুটিকে কোলে তুলে নেয়, চুমু খায় গালে।
“তুই যদি আমাদের সঙ্গে যাস, তাহলে রোজ চকলেট খেতে দিব!”
পুটি সঙ্গে সঙ্গে বলে,
“না, আমি লাবু,গরু, হাঁস-মুরগি রেখে কোথাও যাব না!”

বিকেল গড়াতে সবাই হাঁটতে বের হয় পাট-ভাটার পাশ দিয়ে, নদীর ধারে। কেউ ছবি তোলে, কেউ গাছে উঠে কাঁচা আম পাড়ে। কেউ আবার গ্রামের হাওয়ার প্রশান্তিতে চোখ বন্ধ করে বলে,
“এই জায়গাটা একদম স্বর্গের মতো!”

পুটি তাদের গাইড। সে পথ দেখায়, কোথায় কাঁদা, কোথায় কাঁটা। কেউ পড়ে গেলে সে হাত ধরে তুলে দেয়। শামীম পড়ে গিয়েছিল একবার, পুটি খিলখিল করে হেসে বলল, “আহারে বাচ্চা ছেলে! গ্রামের পথ বুঝো না!”

দুপুরে সবাই মিলে বাগানে বসে আম খেতে খেতে হাসি-ঠাট্টা করে। বড় একটা পাটি পেতে পুটির মা ফল, মুড়ি আর মিষ্টি দিয়ে রাখেন।
জাহিদ বলে,
“এই আম তো যেন সোনার মতো!”
পুটি গম্ভীর গলায় বলে,
“কারণ আমি নিজে গাছ থেকে পেড়ে এনেছি!”

তারপর সবাই গানে মেতে ওঠে। মহুয়া গুনগুন করে, লিমা তালি দেয়। আর চাচ্চুর বন্ধুরা চারপাশে গলা মিলিয়ে পরিবেশটা করে তোলে উৎসবমুখর।

সন্ধ্যার আগে সবাই প্রস্তুতি নেয় ফিরে যাওয়ার। পুটির মুখ শুকিয়ে আসে। কেউ একজন বলে,
“পুটি কাঁদবি নাকি?”
সে মাথা নাড়িয়ে বলে,
“না... কিন্তু আবার আসবে তো?”
লিমা তার গালে আলতো করে হাত রেখে বলে,
“আসবো পুটি, তোকে ছাড়া আমাদের মনই থাকে না।”

গাড়িগুলো চলে যায় ধীরে ধীরে ধুলো উড়িয়ে। পুটি বাড়ির উঠানে বসে চুপচাপ। চোখে জল নেই, তবু মনটা ভার হয়ে আসে। সারাদিনের হইচই শেষে এখন তার মনে শুধু স্মৃতি—বন্ধুদের হাসি, আড্ডা, আর সেই মধুময় দুপুরবেলা।

---

পুটির লাবু: পুটি ও খরগোশের গল্পপুটি ছিলো গ্রামের ছোট্ট মেয়ে। তার গায়ে ছিলো গাঢ় সোনালী রঙ, আর চোখে ঝিলমিল করে সরলতার আলো।...
17/05/2025

পুটির লাবু: পুটি ও খরগোশের গল্প

পুটি ছিলো গ্রামের ছোট্ট মেয়ে। তার গায়ে ছিলো গাঢ় সোনালী রঙ, আর চোখে ঝিলমিল করে সরলতার আলো। পুটির একমাত্র সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী ছিলো তার সাদা খরগোশ—লাবু। লাবু ছোট্ট, নরম লোমে ঢাকা আর সাদা রঙে ঝকঝকে। পুটি প্রতিদিন সকালে উঠে লাবুকে হাত দিয়ে আদর করতো, আর লাবু যেন পুটির ভালোবাসার প্রতিদান দিতো নরম কান নাড়িয়ে।

লাবুর সঙ্গে কাটানো সময়গুলো ছিলো পুটির জীবনের সবচেয়ে মধুর মুহূর্ত। বেলা বিকেলে পুটি লাবুকে নিয়ে মাঠে ঘুরতে যেতো, মাঝে মাঝে ঘাসে লাবুকে বসিয়ে গল্প বলতো। লাবু পুটির কথা মন দিয়ে শোনতো, আর কখনো কখনো নিজের ছোট ছোট ঠোঁট দিয়ে পুটির হাত চাটা দিতো যেন বলছে, “আমি তোমার সঙ্গে আছি।”

একদিন, পুটি খেলার সময় অসাবধানতাবশত লাবুকে হারিয়ে ফেললো। সে খুঁজে খুঁজে আর পেলো না। পুটির ছোট্ট মনে যেন অন্ধকার নেমে এলো। সে তার প্রিয় সঙ্গীকে হারানোর বেদনা সহ্য করতে পারছিলো না। সন্ধ্যা নামার আগে পুটি বার বার বলছিলো, “লাবু, তুমি কোথায়? আমি তোমাকে খুব মিস করছি।”

দিন কেটে গেলো, পুটি কিন্তু হাল ছাড়েনি। সে গ্রামের সব জায়গায় লাবুর খোঁজ করেছিলো। গাছের নিচে, পুকুর পাড়ে, রাস্তার ধারে—সবখানেই সে তাকিয়েছে। তার মন ছিলো ভরা আশা আর ভালোবাসায়।

তবে পুটি আর লাবুর দূরত্ব শুধু দূরত্বই ছিলো না, একদিন হঠাৎ গ্রামের বাজারে সে দেখতে পেলো একটা ছোট্ট খরগোশ—সাদা আর খুবই পরিচিত। পুটির চোখে জল এসে গেলো। সে চিৎকার করে উঠলো, “লাবু! তুমি কী সত্যিই তুমি?”

লাবু ও বুঝতে পারলো পুটির ডাক আর ঝট করে পুটির কাছে ছুটে এলো। পুটি তাকে আলিঙ্গন করলো, তার চোখের জল আর মুখের হাসি মিলেমিশে একটাই গল্প বলছিলো—ভালোবাসার গল্প। লাবু আর পুটি আবার একসঙ্গে, যেন হারানো সুখ ফিরে পেয়েছে।

সেই দিন থেকে পুটি বুঝতে পারলো, কোনো ভালোবাসাই হারায় না। হারানোও ফিরে আসতে পারে, যদি বিশ্বাস ও ধৈর্য থাকে। লাবু আর পুটির বন্ধুত্ব হয়ে গেলো আরও গাঢ়, আর পুটি প্রতিদিন লাবুকে আলিঙ্গন করে বলতো, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ।”

---

Address

Kushtia

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পুটির-গল্পঘর posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category