19/06/2014
আসছে মাহে রমজান! ইবাদতের মাস! খান্নাসের ধোঁকায় পড়ে ইবাদত চুরি করে ৮ রাকাত পড়ে পালাবেন নাতো?
শয়তান দুই ধরণের। যথা-
১- জিন শয়তান।
২- মানুষ শয়তান।
এই দুই শয়তান আবার দুই প্রকার। যথা-
১- শুধুই শয়তান।
২- খান্নাস।
শয়তান ও খান্নাসের কাজের মাঝে পার্থক্য
১
শয়তান বলে তারাবী পড়ারই দরকার নেই।
কিন্তু খান্নাস বলবে তারাবীতো বিশ রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা, তাই তুমি ৮ রাকাত পড়ে হৈ হুল্লোড় করে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যাবে। তাতে সুন্নতে মুআক্কাদাও আদায় হবে না আবার মনে মনে আত্মতৃপ্ত থাকবে সুন্নত আদায় করেছো।
২
শয়তান বলবে জিনা কর।
কিন্তু খান্নাস বলবে জিনা করলে মানুষ তোমাকে খারাপ বলবে, তাই তোমার স্ত্রীকে এক সাথে তিন তালাক দাও তারপর তিন তালাককে এক তালাক সাব্যস্ত করে স্ত্রীর সাথে ঘর সংসার করতে থাকো। তাহলে জিনাও হবে কিন্তু একাজকে গোনাহ মনে না করার কারণে কোনদিন তওবা নসীব হবে না।
৩
শয়তান বলবে কুরবানী করারই দরকার নেই।
কিন্তু খান্নাস বলবে কুরবানী না করলে কেমন দেখা যায়, কুরবানী কর, তবে জিলহজ্বের ১০, ১১, ১২ তারিখে নয়, বরং কুরবানীর দিন চলে যাওয়ার পর ১৩তম তারিখে কুরবানী কর। মুখে মুখে বলে বেড়াবে এটি সুন্নত যদিও রাসূল সাঃ থেকে কেবলি প্রথম তিন দিন তথা ১০, ১১, ১২ তারিখেই কুরবানী করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
৪
শয়তান বলবে, নামায পড়ারই দরকার নেই।
খান্নাস বলবে, নামায পড়বে, আর নামাযে ইচ্ছেকৃত অতি জোরে আমীন বলে পাশের জনের নামাযে ডিষ্টার্ব করবে, পা ছড়িয়ে কুস্তিগীরের মত দাঁড়িয়ে, আরেকজনের পায়ের সাথে পা লাগিয়ে অপরের নামাযের খুশুখুজু নষ্ট করবে আর একাজকেই সুন্নত সুন্নত বলে আত্মতৃপ্তি লাভ করবে।
৫
শয়তান বলবে শরীরটাকে নাপাক করে রাখ। পাক থেকো না।
কিন্তু খান্নাস বলবে, না, বীর্য লাগিয়ে রাখ শরীরে কাপড়ে। আর বলে বেড়াবে বীর্য পাক। পাক মনে করার কারণে কখনো পবিত্র হওয়ার চিন্তাও মাথায় আসবে না। একদিকে থাকবে নাপাক, আর মনে করবে পাক আছে।
৬
শয়তান বলবে দ্বীন মানারই দরকার নেই।
কিন্তু খান্নাস বলবে দ্বীন না মানলে মানুস কি বলবে? তাই তুমি দ্বীন মানবে, তবে দ্বীন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মতের আলোকে সঠিক দ্বীন মানা যাবে না, বরং নিজের ইচেছমত, খেয়ালখুশি মত কুরআন হাদীসের বাহ্যিক অর্থ দেখে যা বুঝে আসবে, সেটিকেই দ্বীন হিসেবে মেনে আত্মতৃপ্ত হবে। অনুসরণ যদিও করবে নিজের নফসের, কিন্তু মনে করবে পালন করছে দ্বীন।
৭
শয়তান বলবে, নেককার বুজুর্গদের বিরুদ্ধে লড়াই কর। তাদের মুখ বন্ধ করে দাও।
কিন্তু খান্নাস বলবে, তাদের কাফের বল, তাদের মুশরিক বল। এভাবে নেককার ও বুজুর্গদের সোহবাত থেকে সাধারণ মানুষকে বিমুখ করে দাও।
৮
শয়তান বলবে, দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ বন্ধ করে দাও।
কিন্তু খান্নাস বলবে, দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে শিরক আছে তাই তা করা যাবে না বলে অপপ্রচার চালিয়ে যাও।
এরকমভাবে শয়তান সরাসরি গোনাহ করতে প্রলুব্ধ করে, আর খান্নাসরা সওয়াব ও দ্বীনের কাজ ও সুন্নত অনুসরণের নামে গোনাহে লিপ্ত করে মানুষকে।
উভয় প্রকার শয়তান তথা খাটি শয়তান ও খান্নাস থেকে আশ্রয় চাইতে আল্লাহ তাআলা সূরা নাসে নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরশাদ হচ্ছে-
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ (1) مَلِكِ النَّاسِ (2) إِلَهِ النَّاسِ (3) مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ (4) الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ (5) مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ (6)
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার, মানুষের অধিপতির, মানুষের মা’বুদের , তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে। {সূরা নাস-১-৬}
আল্লাহ তাআলা আমাদের শয়তান ও খান্নাসের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত থেকে সঠিক পদ্ধতিতে তার ইবাদত করে তার প্রিয়ভাজন হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন। (সংগ্রহীত)