আগডুম-বাগডুম

আগডুম-বাগডুম � ছোট ছোট ছন্দ, মনের কথা
� প্রতিদিন নতুন রিলস
� ভালো লাগলে ফলো করুন

09/08/2026

সকাল ৬টা।
অ্যালার্ম বাজার আগেই মিতুর ঘুম ভেঙে যায়।
ঘুম থেকে উঠে প্রথমে রান্নাঘর। তারপর নাস্তা, স্বামীর অফিসের টিফিন, শ্বশুরের ওষুধ, শাশুড়ির চা, সন্তানের স্কুলের প্রস্তুতি—সবকিছু একা হাতে সামলায়।
এদিকে তার স্বামী আরিফ তখনও ঘুমাচ্ছে।
মিতু কখনও অভিযোগ করে না।
কারণ সে ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছে—
"মেয়েদের সংসার করতে হলে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়।"
সকাল ৮টায় আরিফ অফিসে যাওয়ার আগে শুধু একটা কথাই বলল,
— "শার্টটা ঠিকমতো ইস্ত্রি করো না কেন?"
মিতু কিছু বলল না।
সে জানে, সে যদি বলে যে রাত ২টা পর্যন্ত বাচ্চার জ্বর নিয়ে জেগেছিল, তাহলে উত্তর আসবে—
— "এসব তো সব মায়েরাই করে।"..
দিন কেটে যায়।
একদিন মিতুর প্রচণ্ড জ্বর।
১০২ ডিগ্রি।
তবুও সে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ভাত রান্না করছে।
শাশুড়ি পাশ দিয়ে যেতে যেতে বললেন,
— "জ্বর হয়েছে তো কী হয়েছে? সংসার কি থেমে থাকবে?"
মিতুর চোখ ভিজে উঠল।
সেদিন রাতে আরিফ বাসায় ফিরল।
সে শুধু জিজ্ঞেস করল,
— "খাবার হয়েছে?"
একবারও জিজ্ঞেস করল না—
"তুমি কেমন আছো?"..
পরের সপ্তাহে আরিফের অফিসে একজন নতুন সহকর্মী যোগ দিল।
নাম—সারা।
সারা সবসময় হাসিখুশি।
অফিসে সবাইকে সম্মান করে।
একদিন দুপুরে সারা বলল,
— "ভাইয়া, আপনার স্ত্রী নিশ্চয়ই অনেক ভাগ্যবতী।"
আরিফ হেসে বলল,
— "কেন?"
সারা বলল,
— "আপনি তো খুব দায়িত্বশীল মানুষ মনে হয়।"
কথাটা শুনে আরিফ একটু চুপ হয়ে গেল।
সে ভাবল...
সে কি সত্যিই দায়িত্বশীল?
টাকা রোজগার করলেই কি দায়িত্ব শেষ?..
সেদিন রাতে বাসায় ফিরে সে দেখল—
মিতু সোফায় বসে ঘুমিয়ে পড়েছে।
হাতে সুঁই-সুতা।
ছেলের ছেঁড়া স্কুল ড্রেস সেলাই করতে করতেই ঘুমিয়ে গেছে।
তার হাতের আঙুলে ছোট্ট একটা কাটা দাগ।
আরিফ অনেকদিন পর প্রথমবার স্ত্রীর দিকে মন দিয়ে তাকাল।
তার চোখের নিচে কালো দাগ।
মুখ শুকিয়ে গেছে।
চুলগুলো এলোমেলো।
সে মনে করার চেষ্টা করল...
শেষ কবে সে মিতুকে বলেছিল—
"তুমি অনেক কষ্ট করো।"
মনে করতে পারল না।..
পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার সময় আরিফ দেখল, তার মানিব্যাগে একটা ছোট্ট কাগজ।
সম্ভবত ভুল করে মিতু রেখে দিয়েছে।
তাতে লেখা—
"এই মাসে নিজের জন্য একটা শাড়ি কিনব ভেবেছিলাম। কিন্তু ছেলের স্কুলের বেতন আর শ্বশুরের ওষুধ কিনতে গিয়ে আর হলো না। সমস্যা নেই। হয়তো আগামী মাসে কিনব।"
কাগজটা পড়ে আরিফের বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে গেল।
সে বুঝতে শুরু করল—
একটা সংসার শুধু টাকা দিয়ে চলে না।
কেউ একজন নীরবে নিজের ইচ্ছেগুলো প্রতিদিন একটু একটু করে মেরে ফেলে বলেই সংসারটা টিকে থাকে।
আর সেই মানুষটার খবর অনেক সময় কেউই রাখে না...
(চলবে — পার্ট ২)

গল্প: “রাত ২টার কল”(পার্ট–৩ : শেষ পর্ব)নীলার হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।স্ক্রিনে এখনও লেখা—"পাঁচতলার শেষ রুমে যা...
06/08/2026

গল্প: “রাত ২টার কল”
(পার্ট–৩ : শেষ পর্ব)
নীলার হাত থেকে ফোনটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
স্ক্রিনে এখনও লেখা—
"পাঁচতলার শেষ রুমে যাও। সত্যটা সেখানে আছে। — মেহরিন"
সে একবার রাশেদের দিকে তাকাল, আরেকবার সিঁড়ির দিকে।
রাশেদ ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছে।
মুখে অদ্ভুত এক হাসি।
— "চলো, বাড়ি যাই।"
নীলা বুঝতে পারল, এখন কিছু বললে বিপদ।
সে ভয় পাওয়ার অভিনয় করে বলল,
— "ঠিক আছে... চল।"
রাশেদ একটু নিশ্চিন্ত হতেই নীলা আচমকা তাকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ির দিকে দৌড় দিল।
রাশেদ চিৎকার করে উঠল—
— "নীলা! দাঁড়াও!"
পুরো ভবন কেঁপে উঠল।
নীলা এক দৌড়ে পাঁচতলায় উঠে গেল।
শেষ মাথার রুমটা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ।
তালা অনেক পুরনো।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তালার নিচে একটা চাবি রাখা।
যেন কেউ ইচ্ছা করেই রেখে গেছে।
কাঁপা হাতে চাবি ঘুরাতেই দরজা খুলে গেল।
ভেতরে ঢুকেই একটা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ নাকে এল।
ধুলো জমে আছে।
এক কোণায় একটা পুরনো কাঠের টেবিল।
টেবিলের ওপর একটা ল্যাপটপ, কয়েকটা ফাইল আর একটা ডায়েরি।
হঠাৎ নিচ থেকে রাশেদের গলা ভেসে এল—
— "নীলা! তুমি বের হও! ওখানে কিছু নেই!"
কিন্তু নীলা জানত, কিছু একটা আছেই।
সে ডায়েরিটা খুলল।
প্রথম পাতায় লেখা—
"যদি কেউ এই ডায়েরি পড়ে, তাহলে বুঝবে আমি আর বেঁচে নেই। আমার নাম মেহরিন।"
নীলার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল।
ডায়েরির পরের পাতাগুলোতে লেখা ছিল—
মেহরিন একটি প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন প্রতিষ্ঠানে কাজ করত।
একটি নিখোঁজ মেয়ের কেস তদন্ত করতে গিয়ে সে রাশেদের সঙ্গে পরিচিত হয়।
প্রথমে রাশেদ খুব ভদ্র ছিল।
কিন্তু তদন্ত করতে গিয়ে মেহরিন আবিষ্কার করে, যেসব মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে, তাদের সবার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে রাশেদের যোগাযোগ ছিল।
প্রমাণ জোগাড় করতে শুরু করেছিল সে।
তারপর...
ডায়েরির শেষ লাইন—
"আমি যদি হঠাৎ মারা যাই, তাহলে বুঝবে এটা আত্মহত্যা নয়।"
নীলার বুক ধকধক করতে লাগল।
ঠিক তখনই সে ল্যাপটপটা চালু করল।
পাসওয়ার্ড চাইছে।
নীলা হতাশ হয়ে বন্ধ করতে যাবে, এমন সময় তার চোখে পড়ল—
একটা স্টিকি নোটে লেখা—
"M1234"
সে পাসওয়ার্ড দিল।
ল্যাপটপ খুলে গেল।
ভেতরে অনেক ভিডিও ফাইল।
একটার নাম—
"Hotel_607_Final.mp4"
ভিডিও চালু হতেই স্ক্রিনে দেখা গেল—
একটি হোটেলের করিডোর।
সিসিটিভি ফুটেজ।
সময় রাত ১টা ৪৩।
মেহরিন হেঁটে যাচ্ছে।
কয়েক মিনিট পর রাশেদ একই রুমে ঢুকছে।
তারপর...
প্রায় এক ঘণ্টা কেউ বের হয় না।
শেষে রাশেদ একাই বেরিয়ে আসে।
মুখে কোনো ভয় নেই।
খুব স্বাভাবিকভাবে হাঁটছে।
নীলার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।
তাহলে...
মেহরিন সত্যিই খুন হয়েছিল?
ঠিক তখনই দরজার বাইরে পায়ের শব্দ।
ধীরে...
ধীরে...
ধীরে...
রাশেদ।
সে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
তার হাতে একটা লোহার রড।
চোখ দুটো লাল।
— "তুমি কেন এসব দেখছ?"
নীলা কাঁপা গলায় বলল—
— "তুমি... তুমি মেহরিনকে মেরেছ?"
রাশেদ কয়েক সেকেন্ড চুপ রইল।
তারপর ঠান্ডা গলায় বলল—
— "সে বেশি জেনে ফেলেছিল।"
এই প্রথম রাশেদ নিজেই স্বীকার করল।
নীলা ধীরে ধীরে মোবাইলটা নিজের ওড়নার নিচে রেখে ভিডিও রেকর্ড চালু করে দিল।
রাশেদ বুঝতেই পারল না।
সে বলতে লাগল—
— "সবাই আমাকে ভালো মানুষ ভাবত। কেউ সন্দেহই করেনি। পুলিশও না।"
— "আর যেসব মেয়েরা হারিয়ে গেছে?"
রাশেদ মুচকি হাসল।
— "সবাই নিজের ভাগ্য নিয়ে জন্মায় না।"
এই কথাগুলোও রেকর্ড হয়ে গেল।
হঠাৎ নিচে পুলিশের সাইরেন শোনা গেল।
রাশেদ চমকে উঠল।
— "পুলিশ!"
নীলা শান্ত গলায় বলল—
— "আমি আসার আগে আমার এক বান্ধবীকে এই লোকেশন পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। আধা ঘণ্টার মধ্যে আমার খবর না পেলে পুলিশে জানাতে বলেছিলাম।"
রাশেদ দৌড়ে পালাতে গেল।
কিন্তু সিঁড়িতে গিয়ে পুলিশ তাকে ঘিরে ফেলল।
সে পালাতে পারেনি।
ছয় মাস পরে...
আদালতে বিচার শুরু হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ, ডায়েরি আর নীলার রেকর্ড করা স্বীকারোক্তি—সব মিলিয়ে মামলার মোড় ঘুরে যায়।
মেহরিনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে তদন্ত শুরু হয়।
আরও কয়েকটি পুরোনো নিখোঁজের মামলাও নতুন করে খোলা হয়।
একদিন সন্ধ্যায় নীলা নিজের বাসায় একা বসে ছিল।
অনেকদিন হলো সেই রহস্যময় ফোন আর আসেনি।
সে মনে মনে ভাবল—
"হয়তো সব শেষ।"
ঠিক তখনই ফোনে একটি নোটিফিকেশন এল।
অচেনা নম্বর।
শুধু একটি মেসেজ—
"ধন্যবাদ, নীলা। এবার আমি শান্তিতে আছি। — মেহরিন"
নীলা সঙ্গে সঙ্গে নম্বরটায় কল করল।
অপারেটরের রেকর্ড করা কণ্ঠ ভেসে এল—
"আপনি যে নম্বরে কল করেছেন, সেটি গত ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।"
নীলা ধীরে ধীরে জানালার বাইরে তাকাল।
বৃষ্টি পড়ছে।
রাস্তার বাতির নিচে সাদা পোশাক পরা একজন মেয়েকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল।
মেয়েটি একবার তাকিয়ে মৃদু হাসল...
তারপর বৃষ্টির ভেতর মিলিয়ে গেল।
নীলা আর কখনও সেই নম্বর থেকে কোনো কল পায়নি।
তবে আজও, যখনই রাত ২টা ৭ মিনিট বাজে...
সে অজান্তেই নিজের ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকে।
সমাপ্ত।

গল্প: “রাত ২টার কল”(পার্ট–২)নীলার হাত কাঁপছে।ফোনের স্ক্রিনে এখনও মেহরিনের মেসেজ জ্বলজ্বল করছে—“দরজা খুলো না। কারণ বাইরে ...
22/07/2026

গল্প: “রাত ২টার কল”
(পার্ট–২)
নীলার হাত কাঁপছে।
ফোনের স্ক্রিনে এখনও মেহরিনের মেসেজ জ্বলজ্বল করছে—
“দরজা খুলো না। কারণ বাইরে যে দাঁড়িয়ে আছে... সে মানুষ নয়।”
বাইরে তখনও টক... টক... টক...
একই ছন্দে দরজায় আঘাত পড়ছে।
নীলা সাহস করে আবার দরজার ছিদ্র দিয়ে তাকাল।
কেউ নেই।
করিডোর ফাঁকা।
কিন্তু শব্দ থামছে না।
হঠাৎ তার মনে হলো, শব্দটা দরজা থেকে আসছে না।
শব্দটা আসছে ঠিক তার পেছন থেকে।
নীলার বুকের রক্ত যেন জমে গেল।
ধীরে ধীরে সে ঘুরে দাঁড়াল।
ঘরের ভেতরে কেউ নেই।
কিন্তু ড্রয়িংরুমের কোণায় রাখা পুরনো আয়নাটা আস্তে আস্তে দুলছে।
যেন কেউ একটু আগে ছুঁয়ে গেছে।
ঠিক তখনই আবার ফোন বেজে উঠল।
মেহরিন।
— “তুমি কি এখনও বাসার ভেতরে আছো?”
— “হ্যাঁ...”
— “আয়নাটার দিকে তাকিও না।”
নীলা অবাক।
— “তুমি জানলে কীভাবে?”
ওপাশ থেকে কোনো উত্তর এল না।
কিছুক্ষণ পর মেহরিন বলল,
— “নীলা, তোমার স্বামী তোমাকে অনেক বড় একটা সত্য লুকিয়েছে।”
— “কী সত্য?”
— “ছয় মাস আগে আমি মারা যাওয়ার আগের রাতে রাশেদের সঙ্গে দেখা করেছিলাম।”
— “কেন?”
— “কারণ আমি ওর বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছিলাম।”
নীলার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠল।
— “কিসের প্রমাণ?”
— “তিনজন মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার প্রমাণ।”
ফোনটা প্রায় হাত থেকে পড়ে যাচ্ছিল।
— “তুমি কী বলছ!”
— “পুলিশ এখনও জানে না। কিন্তু আমি জেনেছিলাম।”
বাইরে বজ্রপাত হলো।
পুরো ঘর এক মুহূর্তের জন্য আলোকিত হয়ে উঠল।
আর সেই আলোয় নীলা দেখল—
আয়নায় তার প্রতিচ্ছবি আছে।
কিন্তু প্রতিচ্ছবির পেছনে আরেকজন দাঁড়িয়ে।
একজন ভেজা চুলের মেয়ে।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
নীলা চিৎকার করে ঘুরে দাঁড়াল।
পেছনে কেউ নেই।
আবার আয়নার দিকে তাকাল।
সেখানে এখন শুধু সে একা।
তার শরীর কাঁপছে।
সকালে ঘুম না করেই সে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
সে ঠিক করল, সত্যটা জানতে হবে।
যে করেই হোক।
ঢাকায় পৌঁছে রাশেদের অফিসে গেল।
কিন্তু অফিসে গিয়ে সে আরও অদ্ভুত কথা শুনল।
একজন কর্মচারী বলল,
— “আপনি রাশেদ ভাইয়ের স্ত্রী?”
— “জি।”
লোকটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— “আপনি কি জানেন উনি তিন মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন?”
নীলার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল।
— “কী?”
— “জি। উনি তো এখানে কাজ করেন না।”
নীলার পা কাঁপতে লাগল।
তাহলে এতদিন যে অফিসের কথা বলত?
ট্যুরের কথা বলত?
সব মিথ্যা?
সেদিন সন্ধ্যায় সে গোপনে রাশেদকে অনুসরণ করতে লাগল।
রাশেদ একটা পুরনো পাঁচতলা ভবনের সামনে গিয়ে থামল।
বিল্ডিংটা প্রায় পরিত্যক্ত।
চারপাশে আগাছা।
ভাঙা জানালা।
রাশেদ ভেতরে ঢুকে গেল।
নীলা দূর থেকে দেখছিল।
প্রায় দশ মিনিট পর সে সাহস করে ভেতরে ঢুকল।
ভবনের ভেতর অন্ধকার।
ধুলো জমে আছে।
মনে হচ্ছে বহু বছর কেউ আসেনি।
হঠাৎ ওপরে কারও পায়ের শব্দ।
ঠক...
ঠক...
ঠক...
নীলা সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠল।
চারতলায় গিয়ে একটা দরজা আধখোলা দেখতে পেল।
ভেতরে ক্ষীণ আলো।
সে উঁকি দিল।
আর যা দেখল, তাতে তার শরীর অবশ হয়ে গেল।
দেয়ালজুড়ে মেয়েদের ছবি।
ডজন ডজন ছবি।
কেউ হাসছে।
কেউ সেলফি তুলেছে।
কেউ অফিসে।
কেউ রাস্তায়।
আর সেই ছবিগুলোর মধ্যে মেহরিনের ছবিও আছে।
ছবির নিচে লাল কালি দিয়ে লেখা—
“টার্গেট ৪”
নীলার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
হঠাৎ পেছন থেকে একটা কণ্ঠস্বর।
— “তুমি এখানে কেন?”
রাশেদ।
নীলা ঘুরে দাঁড়াল।
রাশেদের চোখ দুটো অদ্ভুত লাগছে।
যেন সে আর আগের মানুষ নেই।
— “এগুলো কী?”
রাশেদ ধীরে ধীরে হাসল।
— “তোমার এখানে আসা উচিত হয়নি।”
ঠিক তখনই নীলার ফোনে একটা মেসেজ এল।
অজানা নাম্বার।
সে খুলে দেখল।
একটা মাত্র লাইন—
“পাঁচতলার শেষ রুমে যাও। সত্যটা সেখানে আছে।”
মেসেজের নিচে নাম লেখা—
মেহরিন।
কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—
মেসেজের সময় দেখাচ্ছে বর্তমান সময়।
আর মেহরিন তো ছয় মাস আগেই মারা গেছে...
(চলবে — পার্ট–৩, শেষ পর্ব)

বরিশালের এক ছোট শহরে থাকত নীলা। বয়স মাত্র ২৪। বিয়ের দুই বছর হয়েছে। স্বামী রাশেদ ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করত...
14/07/2026

বরিশালের এক ছোট শহরে থাকত নীলা। বয়স মাত্র ২৪। বিয়ের দুই বছর হয়েছে। স্বামী রাশেদ ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করত। কাজের চাপে মাসে একবারের বেশি বাড়ি আসতে পারত না।
নীলার দিন কাটত প্রায় একাই। শ্বশুর-শাশুড়ি গ্রামের বাড়িতে থাকতেন। শহরের ভাড়া বাসায় সে একাই থাকত।
এক বর্ষার রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল।
বাইরে ঝড়, বৃষ্টি আর বজ্রপাত।
ঘড়িতে রাত ২টা ৭ মিনিট।
হঠাৎ নীলার ফোন বেজে উঠল।
অচেনা নাম্বার।
এত রাতে কে ফোন করবে?
নীলা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কল রিসিভ করল।
— “হ্যালো?”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ নেই।
তারপর খুব আস্তে একটা মেয়ের কণ্ঠ শোনা গেল।
— “আপনি কি নীলা?”
নীলার বুক ধক করে উঠল।
— “জি... কে বলছেন?”
মেয়েটা কাঁপা গলায় বলল,
— “আপনি আমাকে চিনবেন না। কিন্তু আপনার স্বামী রাশেদকে চিনি।”
নীলা কিছুক্ষণ চুপ।
— “কেন? কী হয়েছে?”
ওপাশে আবার নীরবতা।
তারপর মেয়েটা বলল,
— “আপনার স্বামী যে অফিসে কাজ করে, আমি সেখানেই কাজ করতাম।”
“করতাম” শব্দটা শুনে নীলার কেমন যেন লাগল।
— “করতাম মানে?”
— “আমি এখন আর বেঁচে নেই...”
কথাটা শুনে নীলা হেসে ফেলল।
— “এগুলো কী ধরনের মজা?”
কিন্তু মেয়েটা কোনো হাসি দিল না।
বরং বলল,
— “আগামী শুক্রবার আপনার স্বামী বাড়ি আসবে না। সে বলবে অফিস ট্যুরে যাচ্ছে। কিন্তু সেটা মিথ্যা হবে।”
নীলার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
— “আপনি এসব জানলেন কীভাবে?”
মেয়েটা বলল,
— “কারণ আমি মারা যাওয়ার আগে সব জেনেছিলাম।”
এরপর কল কেটে গেল।
নীলা কয়েকবার কল ব্যাক করল।
ফোন বন্ধ।
সারারাত তার আর ঘুম হলো না।
সকালে উঠে সে নিজেকে বোঝাল, কেউ হয়তো বাজে মজা করেছে।
কিন্তু শুক্রবার আসতেই ঘটনা অদ্ভুত হয়ে গেল।
রাশেদ ফোন করে বলল,
— “একটা অফিস ট্যুর পড়েছে। এই সপ্তাহে আসতে পারব না।”
নীলার হাত থেকে ফোন প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
একদম সেই কথাই তো মেয়েটা বলেছিল!
নীলা কিছু না বলে ফোন রেখে দিল।
সেদিন রাতেই আবার সেই নাম্বার থেকে কল এল।
— “এখনও কি বিশ্বাস হয়নি?”
নীলার গলা শুকিয়ে গেল।
— “তুমি কে?”
— “আমার নাম ছিল মেহরিন।”
— “ছিল মানে?”
— “আমি ছয় মাস আগে মারা গেছি।”
নীলা ভয় পেয়ে কল কেটে দিল।
কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর একটা ছবি আসল হোয়াটসঅ্যাপে।
ছবিতে দেখা গেল রাশেদ একটা রেস্টুরেন্টে বসে আছে।
তার সামনে একজন নারী।
ছবির কোণে তারিখ লেখা—আজকের।
নীলার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।
সে সঙ্গে সঙ্গে রাশেদকে ভিডিও কল দিল।
রাশেদ ধরল না।
আবার দিল।
আবার না।
এক ঘণ্টা পর রাশেদ কল ব্যাক করল।
পেছনে হোটেল রুমের মতো কিছু দেখা যাচ্ছিল।
— “মিটিংয়ে ছিলাম।”
নীলা ছবির কথা বলল না।
শুধু চুপচাপ শুনল।
সেদিন রাত ৩টার দিকে আবার কল।
মেহরিন।
— “ওই মহিলাকে দেখেছ?”
— “হ্যাঁ।”
— “সে রাশেদের প্রেমিকা না।”
— “তাহলে?”
ওপাশ থেকে আস্তে উত্তর এল।
— “সে-ও এখন মৃত।”
নীলার বুকের ভেতর যেন বরফ জমে গেল।
— “কী বলছ তুমি?”
— “তোমার স্বামী যে সত্যটা লুকিয়ে রেখেছে, সেটা জানলে তুমি আর কখনও একা ঘুমাতে পারবে না।”
নীলা কাঁপতে কাঁপতে বলল,
— “কোন সত্য?”
মেহরিন কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,
— “ছয় মাস আগে ঢাকার একটি হোটেলে একজন মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল। পুলিশ সেটাকে আত্মহত্যা বলেছিল।”
— “তারপর?”
— “আমি সেই মেয়ে।”
নীলা কথা হারিয়ে ফেলল।
মেহরিন আবার বলল,
— “আর তোমার স্বামী সেই রাতের শেষ মানুষ, যে আমাকে জীবিত দেখেছিল...”
বজ্রপাতের শব্দে পুরো ঘর কেঁপে উঠল।
ঠিক তখনই নীলার বাসার দরজায় টক... টক... টক...
কেউ কড়া নাড়ছে।
রাত ৩টা ১২ মিনিটে।
নীলা ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগোল।
দরজার ছিদ্র দিয়ে বাইরে তাকাল।
কিন্তু বাইরে কেউ নেই।
একদম কেউ না।
তবু কড়া নাড়ার শব্দ থামছে না।
টক...
টক...
টক...
আর তখনই তার ফোনে একটা নতুন মেসেজ এল।
মেহরিন লিখেছে—
“দরজা খুলো না। কারণ বাইরে যে দাঁড়িয়ে আছে... সে মানুষ নয়।”
(চলবে — পার্ট ২)

পার্ট ২: “নীরবতার মূল্য”মৌসুমীর জীবন তখন শুধু কাজ আর কান্নার মধ্যে সীমাবদ্ধ।সকালে ঘুম থেকে উঠে রাত পর্যন্ত সে যেন একটা ম...
12/07/2026

পার্ট ২: “নীরবতার মূল্য”
মৌসুমীর জীবন তখন শুধু কাজ আর কান্নার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে রাত পর্যন্ত সে যেন একটা মানুষ না, একটা যন্ত্র।
যে যেটা বলত, সেটাই করত।
তবুও কারও মন জিততে পারত না।
একদিন তার বাবা ফোন করলেন।
— “মা, কেমন আছিস?”
বাবার কণ্ঠ শুনেই মৌসুমীর চোখ ভিজে উঠল।
কিন্তু সে কিছুই বলল না।
কারণ সে জানত, বাবা যদি সত্যিটা জানতে পারেন তাহলে সারাজীবন নিজেকে দোষ দেবেন।
তাই সে মিথ্যা হাসি দিয়ে বলল,
— “আমি ভালো আছি বাবা।”
ফোন রাখার পর সে অনেকক্ষণ একা বসে কাঁদল।
কেউ সেই কান্না দেখল না।
দেখলেও হয়তো গুরুত্ব দিত না।
এর কিছুদিন পর মৌসুমী জানতে পারল সে মা হতে চলেছে।
সংবাদটা শুনে সে ভেবেছিল এবার হয়তো সব বদলে যাবে।
একটা শিশুর আগমন হয়তো সংসারে একটু ভালোবাসা নিয়ে আসবে।
কিন্তু বাস্তবে কিছুই বদলালো না।
বরং শাশুড়ি বলল,
— “গর্ভবতী হলেই কাজ বন্ধ হয়ে যায় না।”
ননদ বলল,
— “আমাদের সময়েও তো মেয়েরা কাজ করত।”
মৌসুমী তখনও সব সহ্য করছিল।
কারণ সে শুধু নিজের জন্য না, পেটের শিশুটার জন্য বাঁচতে চাচ্ছিল।
একদিন দুপুরে ভারী একটা চালের বস্তা সরাতে গিয়ে সে পড়ে গেল।
প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলো।
সে কাঁদতে কাঁদতে রাকিবকে ফোন করল।
— “আমাকে হাসপাতালে নিতে হবে।”
রাকিব বলল,
— “আমি মিটিংয়ে আছি। একটু পরে দেখি।”
সেই "একটু পরে" আর আসেনি।
পাশের বাসার এক খালা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন।
ডাক্তার পরীক্ষা করে জানালেন, বাচ্চাটাকে আর বাঁচানো যায়নি।
মৌসুমীর মাথার ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল।
হাসপাতালের সাদা বিছানায় শুয়ে সে শুধু ছাদের দিকে তাকিয়ে ছিল।
তার চোখে পানি ছিল না।
কারণ কিছু কিছু কষ্ট আছে, যা কান্নাকেও হার মানিয়ে দেয়।
সন্ধ্যায় রাকিব এল।
মৌসুমী ভেবেছিল এবার হয়তো সে কাঁদবে, তাকে জড়িয়ে ধরবে।
কিন্তু রাকিব শুধু বলল,
— “যা হওয়ার হয়ে গেছে। এত ভেঙে পড়ো না।”
সেদিন প্রথমবারের মতো মৌসুমীর মনে হলো, সে এই মানুষটাকে আর চেনে না।
বাড়ি ফেরার পরও কেউ তাকে সান্ত্বনা দিল না।
উল্টো শাশুড়ি বলল,
— “কাজকর্ম ঠিকমতো করলে এসব হতো না।”
এই কথাটা শুনে মৌসুমীর বুকের ভেতরে জমে থাকা বছরের পর বছর কষ্ট যেন আগুন হয়ে জ্বলে উঠল।
সেই রাতে সে আয়নার সামনে দাঁড়াল।
নিজের মুখের দিকে তাকাল।
চোখের নিচে কালো দাগ।
মুখ শুকিয়ে গেছে।
হাসি নেই।
স্বপ্ন নেই।
সে নিজেকেই চিনতে পারল না।
হঠাৎ তার মনে হলো, সে কি সত্যিই বেঁচে আছে?
নাকি শুধু নিঃশ্বাস নিচ্ছে?
পরদিন সকালে সবাই যখন নাস্তা খাচ্ছিল, মৌসুমী শান্ত গলায় বলল,
— “আমি বাবার বাড়ি যাব।”
শাশুড়ি হেসে বলল,
— “রাগ দেখাচ্ছিস?”
ননদ বলল,
— “দুই দিন পর আবার ফিরে আসবে।”
কিন্তু মৌসুমী এবার চুপ থাকল না।
প্রথমবারের মতো সবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “আমি আর ফিরব না।”
ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে এল।
রাকিব অবাক হয়ে বলল,
— “মানে?”
মৌসুমী ধীরে ধীরে উত্তর দিল,
— “যে সংসারে একজন মানুষ প্রতিদিন অপমানিত হয়, আর তার স্বামী সব দেখেও চুপ থাকে, সেই সংসার ঘর নয়।”
— “তুমি কখনো আমার পাশে দাঁড়াওনি।”
— “তোমার নীরবতা আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে।”
রাকিব কিছু বলতে পারল না।
কারণ সে জানত, কথাগুলো মিথ্যা নয়।
মৌসুমী নিজের ব্যাগটা নিয়ে দরজার দিকে হাঁটল।
বহু বছর পর তার চোখে আবার পানি এলো।
তবে সেই পানি কষ্টের না।
সিদ্ধান্তের।
দরজার বাইরে বের হওয়ার সময় সে একবারও পেছনে তাকায়নি।
কয়েক মাস পরে মৌসুমী একটা ছোট চাকরি পেল।
নিজের জীবন নতুন করে শুরু করল।
প্রথম দিকে অনেক কষ্ট হয়েছিল।
কিন্তু প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে তার মনে একটা শান্তি থাকত।
কেউ তাকে অপমান করত না।
কেউ তাকে ছোট করত না।
একদিন বাজারে হঠাৎ রাকিবের সঙ্গে দেখা হলো।
রাকিবের চেহারায় আগের সেই আত্মবিশ্বাস ছিল না।
সে আস্তে করে বলল,
— “আমি ভুল করেছি।”
মৌসুমী মৃদু হেসে বলল,
— “ভুল সবাই করে।”
রাকিব বলল,
— “তুমি কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে?”
মৌসুমী কিছুক্ষণ চুপ থেকে উত্তর দিল,
— “ক্ষমা করতে পারি। কিন্তু কিছু সম্পর্ক ভাঙে ঝগড়ায় না, ভাঙে নীরবতায়।”
এই কথা বলে সে চলে গেল।
রাকিব দাঁড়িয়ে রইল।
আর প্রথমবারের মতো বুঝতে পারল—
মানুষকে হারানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, যখন সে তোমার পাশে দাঁড়ানোর অপেক্ষা করে, তখন চুপ করে থাকা।
সমাপ্ত।

পার্ট ১: “নিঃশব্দ কান্না”মৌসুমীর বিয়ে হয়েছিল খুব সাধারণভাবে। গ্রামের সবাই বলেছিল, “মেয়েটার ভাগ্য ভালো। ছেলেটা শহরে চাকরি...
04/07/2026

পার্ট ১: “নিঃশব্দ কান্না”
মৌসুমীর বিয়ে হয়েছিল খুব সাধারণভাবে। গ্রামের সবাই বলেছিল, “মেয়েটার ভাগ্য ভালো। ছেলেটা শহরে চাকরি করে, সংসারও ভালো।”
বিয়ের দিন মৌসুমীর চোখে ছিল হাজার স্বপ্ন। সে ভেবেছিল নতুন ঘর হবে, নতুন মানুষ হবে, একটু মানিয়ে নিলেই সবাই আপন হয়ে যাবে।
কিন্তু বিয়ের পর প্রথম সপ্তাহেই সে বুঝতে পারল, তার কল্পনার সংসার আর বাস্তবের সংসার এক নয়।
শাশুড়ি সকাল পাঁচটায় দরজায় ধাক্কা দিয়ে বলত,
— “এখনও ঘুমাস? আমাদের বাড়িতে বউরা সূর্য ওঠার আগে উঠে।”
মৌসুমী তাড়াহুড়ো করে উঠে যেত।
সারাদিন রান্না, থালা-বাসন ধোয়া, কাপড় কাচা, ঘর মোছা—সব কাজ তাকে একাই করতে হতো।
ননদ তানিয়া কলেজে পড়ত। কিন্তু নিজের এক গ্লাস পানিও নিজে নিয়ে খেত না।
— “ভাবি, পানি আনো।”
— “ভাবি, আমার জামাটা ইস্ত্রি করে দাও।”
— “ভাবি, আমার চুলটা বেঁধে দাও।”
একটা কাজ শেষ হওয়ার আগেই আরেকটা কাজ এসে হাজির হতো।
মৌসুমী কখনও না বলত না।
সে ভাবত, কিছুদিন পর হয়তো সবাই তাকে আপন করে নেবে।
কিন্তু দিন যত যাচ্ছিল, পরিস্থিতি তত খারাপ হচ্ছিল।
একদিন রান্নায় একটু বেশি লবণ হয়েছিল।
শাশুড়ি পুরো প্লেটটা ছুঁড়ে ফেলে দিল।
— “এত বড় হয়ে রান্না শিখিস নাই? আমার ছেলের কপালে কি জুটছে!”
মৌসুমী মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল।
তার চোখে পানি চলে এসেছিল।
ঠিক তখন তার স্বামী রাকিব অফিস থেকে ফিরল।
সবকিছু নিজের চোখে দেখল।
কিন্তু কিছুই বলল না।
চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেল।
সেদিন রাতে মৌসুমী আস্তে করে বলেছিল,
— “তুমি কিছু বললে না কেন?”
রাকিব ফোন স্ক্রল করতে করতে উত্তর দিয়েছিল,
— “মা তো রাগের মাথায় বলেছে। এত সিরিয়াস হওয়ার কি আছে?”
মৌসুমীর বুকের ভেতরটা হঠাৎ করে ভারী হয়ে গেল।
যে মানুষটাকে সে নিজের সবচেয়ে বড় আশ্রয় ভাবত, সেই মানুষটাই যেন সবচেয়ে দূরে।
এরপর শুরু হলো মানসিক নির্যাতনের নতুন অধ্যায়।
শাশুড়ি প্রায়ই বলত,
— “তোর বাপের বাড়ি থেকে কি এনেছিস?”
— “একটা ফ্রিজ আনতে পারল না?”
— “আমার আত্মীয়দের সামনে মুখ দেখাবো কিভাবে?”
মৌসুমীর বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক।
অনেক কষ্ট করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন।
তাই এসব কথা শুনে সে শুধু চুপ করে থাকত।
একদিন ননদ তার আলমারি থেকে একটি সোনার কানের দুল লুকিয়ে রাখল।
তারপর বাড়িতে চিৎকার শুরু করল।
— “আমার দুল চুরি হয়েছে!”
সবাই একসাথে মৌসুমীর দিকে আঙুল তুলল।
— “নিশ্চয়ই তুই নিয়েছিস!”
মৌসুমী কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— “আমি নেইনি, বিশ্বাস করুন।”
কিন্তু কেউ বিশ্বাস করল না।
এমনকি রাকিবও না।
সে শুধু বলল,
— “যদি নিয়ে থাকো, ফেরত দিয়ে দাও। ঝামেলা শেষ হবে।”
মৌসুমী যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল।
নিজের স্বামীও তাকে চোর ভাবছে!
দুই দিন পর দুলটা ননদের ব্যাগ থেকেই পাওয়া গেল।
কিন্তু কেউ ক্ষমা চাইল না।
বরং শাশুড়ি বলল,
— “ভুল তো হতেই পারে।”
মৌসুমী বুঝে গেল, এই বাড়িতে তার সম্মানের কোনো মূল্য নেই।
শীতের এক রাতে তার জ্বর এসেছিল।
শরীর কাঁপছিল।
১০২ ডিগ্রি জ্বর।
তবুও তাকে রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে সবার জন্য রান্না করতে হয়েছিল।
সে যখন বলেছিল,
— “মা, শরীরটা খুব খারাপ লাগছে...”
শাশুড়ি উত্তর দিয়েছিল,
— “আমাদের সময় জ্বর হলে কাজ বন্ধ থাকত না।”
রাকিব পাশেই বসে ছিল।
সব শুনছিল।
কিন্তু একবারও বলেনি,
— “মা, ওকে একটু বিশ্রাম নিতে দিন।”
সেদিন রান্না করতে করতে মৌসুমী অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে গিয়েছিল।
জ্ঞান ফেরার পর দেখল সে নিজের ঘরে।
রাকিব পাশে বসে আছে।
এক মুহূর্তের জন্য তার মনে হয়েছিল, হয়তো এবার স্বামী তার পাশে দাঁড়াবে।
কিন্তু রাকিব শুধু বলল,
— “তুমি একটু শক্ত হও। সব মেয়েকেই মানিয়ে নিতে হয়।”
এই কথাটা শুনে মৌসুমীর ভেতরের শেষ আশাটুকুও ভেঙে গেল।
সে বুঝতে পারল, তার সবচেয়ে বড় কষ্ট শাশুড়ি বা ননদ নয়।
সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো, তার স্বামী সবকিছু দেখেও নীরব।
আর সেই নীরবতাই প্রতিদিন তাকে একটু একটু করে ভেতর থেকে মেরে ফেলছে...
চলবে — পার্ট ২-এ, যেখানে মৌসুমীর জীবনে এমন একটি ঘটনা ঘটবে যা পুরো সংসারের চেহারা বদলে দেবে।

👻 কালো রাস্তার শেষ যাত্রীPart 3 (শেষ পর্ব)রাস্তার চারদিক থেকে শত শত মানুষের কান্নার শব্দ ভেসে আসছিল। রুবেল অনুভব করল তার...
04/07/2026

👻 কালো রাস্তার শেষ যাত্রী
Part 3 (শেষ পর্ব)
রাস্তার চারদিক থেকে শত শত মানুষের কান্নার শব্দ ভেসে আসছিল। রুবেল অনুভব করল তার বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা যেন ছিঁড়ে বের হয়ে আসবে। সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিল না। কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা হাতে তুলল। কিন্তু ফোনের স্ক্রিনে আর কোনো ছবি নেই। শুধু কালো পর্দা। তারপর ধীরে ধীরে স্ক্রিনে একটা লেখা ফুটে উঠল—
"যেখানে দাঁড়িয়ে আছ, সেখানেই আমরা মরেছিলাম।"
রুবেলের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। ঠিক তখনই রাস্তার দুই পাশের কুয়াশা নড়তে শুরু করল। মনে হচ্ছিল কেউ অন্ধকারের ভেতর থেকে এগিয়ে আসছে। কয়েক সেকেন্ড পর সে দেখতে পেল সাদা কাপড় পরা অনেকগুলো অবয়ব ধীরে ধীরে রাস্তার দিকে এগিয়ে আসছে। একজন, দুজন, পাঁচজন নয়—ডজন ডজন।
তাদের কারও মুখ নেই। কারও চোখ নেই। কারও শরীরের অর্ধেক অংশ নেই। যেন ভয়ংকর কোনো দুর্ঘটনার পর তারা সেই অবস্থাতেই রয়ে গেছে।
রুবেল হঠাৎ মনে করতে পারল, ছোটবেলায় তার দাদা একটা গল্প বলেছিলেন। এই রাস্তার একটা অংশকে সবাই "মৃত বাঁক" বলে ডাকত। কারণ বহু বছর আগে এখানে একটা যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে যায়। একসঙ্গে অনেক মানুষ মারা যায়। তারপর থেকে মাঝেমধ্যে গভীর রাতে লোকজন অদ্ভুত ছায়া, কান্নার শব্দ আর লিফট চাওয়া সাদা কাপড় পরা মানুষ দেখেছে।
কিন্তু রুবেল এসব কখনো বিশ্বাস করেনি।
আজ পর্যন্ত।
হঠাৎ সেই বৃদ্ধ আবার তার সামনে এসে দাঁড়ালেন। এবার প্রথমবারের মতো বৃদ্ধের মুখ স্পষ্ট দেখা গেল। মুখের এক পাশ ঝলসে গেছে। চোখের জায়গায় শুধু অন্ধকার।
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে বললেন,
"আমরা বাড়ি ফিরতে পারিনি।"
রুবেল কথা বলতে পারছিল না।
বৃদ্ধ আবার বললেন,
"আমাদের কেউ খুঁজতে আসেনি।"
তারপর রাস্তার চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সব অবয়ব একসঙ্গে মাথা তুলল।
একসঙ্গে।
একই সময়ে।
এবং একই কণ্ঠে বলল—
"আমাদের কেউ অপেক্ষা করেনি..."
সেই শব্দে পুরো রাস্তা কেঁপে উঠল।
রুবেল হঠাৎ বুঝতে পারল, এরা তাকে মারতে আসেনি।
এরা কিছু বলতে চায়।
কিছু দেখাতে চায়।
ঠিক তখনই তার সামনে কুয়াশার মধ্যে একটা দৃশ্য ফুটে উঠল।
যেন সিনেমা চলছে।
সে দেখল একটা পুরনো বাস দ্রুতগতিতে রাস্তা দিয়ে আসছে। বাসে অনেক যাত্রী। হাসাহাসি, গল্প, বাচ্চাদের কোলাহল।
তারপর হঠাৎ একটা বিকট শব্দ।
বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে গেল।
চারদিকে চিৎকার।
আগুন।
ধোঁয়া।
আর সাহায্যের জন্য অসংখ্য মানুষের আর্তনাদ।
দৃশ্যটা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মিলিয়ে গেল।
রুবেলের চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল।
হঠাৎ বৃদ্ধ তার হাতে একটা পুরনো মরিচা ধরা লকেট ধরিয়ে দিলেন।
বৃদ্ধ বললেন,
"আমার মেয়ের ছিল।"
তারপর আঙুল তুলে রাস্তার অনেক দূরে একটা বটগাছ দেখালেন।
"ওখানে..."
পরের মুহূর্তেই সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল।
রুবেল আর কিছু মনে করতে পারল না।
যখন তার জ্ঞান ফিরল, তখন সকাল হয়ে গেছে।
সে রাস্তার পাশে পড়ে ছিল।
কিছু গ্রামবাসী তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে।
রুবেল উঠে বসতেই দেখল তার হাতের মুঠোয় একটা জিনিস শক্ত করে ধরা।
সেই মরিচা ধরা লকেট।
সে ভেবেছিল সবকিছু স্বপ্ন।
কিন্তু লকেটটা বাস্তব।
গ্রামবাসীদের একজন লকেটটা দেখে হঠাৎ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
লোকটা বলল,
"এটা তো সেই বাস দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া এক যাত্রীর জিনিস!"
রুবেলের মাথা ঘুরে উঠল।
পরে গ্রামের বৃদ্ধদের নিয়ে বটগাছের কাছে খোঁজ করা হয়।
মাটির নিচ থেকে কিছু পুরনো জিনিস পাওয়া যায়।
আর পাওয়া যায় দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া কয়েকজন মানুষের স্মৃতিচিহ্ন।
সেগুলো তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এরপর থেকে ওই রাস্তার অদ্ভুত ঘটনাগুলো অনেকটাই কমে যায়।
কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয়।
কারণ কয়েক মাস পরে এক রাতে রুবেল আবার সেই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল।
এবার সে একা ছিল না।
তার সঙ্গে আরও দুজন বন্ধু ছিল।
রাত তখন প্রায় ১টা।
হঠাৎ তার এক বন্ধু জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল—
"রুবেল, ওই বৃদ্ধ লোকটা কে?"
রুবেলের বুক ধক করে উঠল।
সে রাস্তার পাশে তাকাল।
কুয়াশার মধ্যে সাদা কাপড় পরা একজন বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন।
হাতে একটা পুরনো লকেট।
মুখে অদ্ভুত হাসি।
কিন্তু এবার তিনি লিফট চাইছিলেন না।
শুধু দূর থেকে তাকিয়ে ছিলেন।
আর যখন গাড়িটা তার পাশ দিয়ে চলে গেল—
তখন তিনি ধীরে ধীরে অন্ধকারের মধ্যে মিলিয়ে গেলেন...
সমাপ্ত। 👻

👻 কালো রাস্তার শেষ যাত্রীPart 2তার কাঁধের ওপর দিয়ে বরফের মতো ঠান্ডা একটা হাত ধীরে ধীরে গলা স্পর্শ করছিল। রুবেলের পুরো শ...
03/07/2026

👻 কালো রাস্তার শেষ যাত্রী
Part 2
তার কাঁধের ওপর দিয়ে বরফের মতো ঠান্ডা একটা হাত ধীরে ধীরে গলা স্পর্শ করছিল। রুবেলের পুরো শরীর জমে গেল। বাইকের গতি কমে আসছিল, কিন্তু সে থামার সাহস পাচ্ছিল না।
মায়ের কথা তখনও কানে বাজছে—"পেছনে তাকাবি না।"
ঠিক তখনই বাইকের ইঞ্জিন নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
মাঝরাত। চারদিকে ঘন কুয়াশা। রাস্তার দুই পাশে বিশাল গাছ। আর সেই নির্জন কালো রাস্তার মাঝখানে রুবেল একা।
সে অনেক চেষ্টা করল বাইক স্টার্ট দিতে, কিন্তু কোনো কাজ হলো না।
হঠাৎ তার কানের কাছে একটা বৃদ্ধ কণ্ঠস্বর শোনা গেল।
"আমাদের নামিয়ে দিবি না?"
রুবেলের বুক ধক করে উঠল।
সে জানত, যদি পেছনে তাকায় তাহলে হয়তো এমন কিছু দেখবে যা কোনো মানুষ দেখার জন্য তৈরি নয়।
তবুও মানুষ কখনো কখনো নিজের ভয়কে হারাতে পারে না।
ধীরে ধীরে সে রিয়ার ভিউ মিররের দিকে তাকাল।
আর সঙ্গে সঙ্গে তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো।
পেছনে শুধু সেই বৃদ্ধ নন।
আরও চারজন বসে আছে।
তাদের মুখে কোনো চোখ নেই।
কোনো নাক নেই।
শুধু কালো ফাঁকা গর্তের মতো মুখ।
আর তারা সবাই রুবেলের দিকে তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ মিররের ভেতরে থাকা বৃদ্ধের ঠোঁট নড়ল।
"তুই আমাদের দেখতে পেলি..."
এই কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে বাইকের চারপাশে ফিসফিস শব্দ শুরু হয়ে গেল।
মনে হচ্ছিল শত শত মানুষ অন্ধকারের ভেতর থেকে কথা বলছে।
কিন্তু কোনো শব্দ স্পষ্ট নয়।
রুবেল ভয়ে কোরআনের আয়াত পড়তে শুরু করল।
ঠিক তখনই রাস্তার অনেক দূরে একটা আলো দেখা গেল।
মনে হচ্ছিল একটা চায়ের দোকান।
আলোটা দেখে তার মনে একটু সাহস ফিরে এল।
সে বাইক ঠেলে সেই আলোর দিকে এগোতে লাগল।
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, যতই হাঁটে দোকানটা ততই দূরে সরে যায়।
দশ মিনিট।
পনেরো মিনিট।
বিশ মিনিট।
তবুও সে সেখানে পৌঁছাতে পারছে না।
হঠাৎ তার ফোনে সময় দেখল।
৩:১৭।
কিন্তু সে তো প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে হাঁটছে!
তখনই তার নজর পড়ল রাস্তার পাশে একটা পাথরের ওপর।
সেখানে লাল রঙে লেখা—
"ফিরে যা।"
রুবেল ভয়ে থেমে গেল।
কারণ সে যখন এই রাস্তা দিয়ে এসেছিল, তখন এই পাথর ছিল না।
হঠাৎ তার পেছন থেকে কারও হাঁটার শব্দ ভেসে এল।
টপ...
টপ...
টপ...
যেন খালি পায়ে কেউ ভেজা রাস্তার ওপর হাঁটছে।
রুবেল ঘুরে তাকাল না।
কিন্তু শব্দটা ক্রমেই কাছে আসছিল।
তারপর একসময় শব্দটা একদম তার পেছনে এসে থেমে গেল।
ঠিক তখনই একটা ঠান্ডা নিশ্বাস তার ঘাড়ে লাগল।
আর একটা ফিসফিস কণ্ঠ বলল—
"আমরা এখনো নামিনি..."
রুবেলের হাত থেকে ফোন পড়ে গেল।
ফোনের স্ক্রিনে তখন নিজে থেকেই একটা ছবি খুলে গেছে।
ছবিটা দেখে তার বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে সেই একই রাস্তা।
একই কুয়াশা।
একই গাছ।
আর রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে রুবেল।
কিন্তু তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে অন্তত বিশজন সাদা কাপড় পরা মানুষ।
আর ছবির নিচে লেখা—
"১৯৯৮ সালের দুর্ঘটনার নতুন যাত্রী।"
রুবেল তো ১৯৯৮ সালে জন্মই নেয়নি।
তাহলে তার ছবি ওই লেখার সঙ্গে কীভাবে এল?
ঠিক তখনই রাস্তার চারদিক থেকে একসঙ্গে শত শত মানুষের কান্নার শব্দ ভেসে উঠল...
চলবে... 👻

ভয়ংকর গল্প: রাত ৩:৩৩-এর কলPart 2 (শেষ পর্ব)দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে দুটি চোখ তার দিকে তাকিয়ে ছিল।রায়হান চিৎকার করতে চেয...
03/07/2026

ভয়ংকর গল্প: রাত ৩:৩৩-এর কল
Part 2 (শেষ পর্ব)
দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে দুটি চোখ তার দিকে তাকিয়ে ছিল।
রায়হান চিৎকার করতে চেয়েও পারল না।
চোখ দুটো একদম নড়ছিল না।
মনে হচ্ছিল, ওগুলো শুধু তাকিয়ে নেই—ওকে দেখছে।
কয়েক সেকেন্ড পর ফোনে আরেকটা মেসেজ এলো।
"দরজা খোলো।"
রায়হানের হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল।
সে ধীরে ধীরে পিছিয়ে গেল।
কিন্তু তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
টক...
টক...
টক...
কোনো জোরে ধাক্কা নয়।
খুব ধীরে, খুব শান্তভাবে।
যেন বাইরে দাঁড়ানো কেউ জানে যে ভেতরে থাকা মানুষটা ভয়ে জমে গেছে।
হঠাৎ টোকা দেওয়া বন্ধ হয়ে গেল।
তারপর ফোন বেজে উঠল।
আবার সেই Unknown Caller।
কাঁপতে কাঁপতে রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে প্রথমবারের মতো একটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল।
খুব নিচু, কর্কশ গলা।
— "আমি অনেকক্ষণ ধরে তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছি..."
রায়হানের বুক ধক করে উঠল।
কারণ সে তখন দরজার দিকেই মুখ করে দাঁড়িয়ে ছিল।
ধীরে ধীরে সে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল।
কেউ নেই।
কিন্তু ফোনের ওপাশে তখনও হালকা হাসির শব্দ।
হি... হি... হি...
ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল ড্রেসিং টেবিলের আয়নায়।
আর আয়নায় যা দেখল, সেটা সে কোনোদিন ভুলতে পারেনি।
রুমে সে একা ছিল না।
তার পেছনে একজন দাঁড়িয়ে ছিল।
লম্বা কালো ছায়ার মতো একটা অবয়ব।
কিন্তু সে ঘুরে তাকাতেই পেছনে আবার কেউ নেই।
আয়নায় আছে।
বাস্তবে নেই।
রায়হান তখন প্রায় কান্না করে ফেলেছে।
সে দৌড়ে বাথরুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল।
ভেতরে বসে পুলিশে ফোন করার চেষ্টা করল।
কিন্তু ফোনে কোনো নেটওয়ার্ক নেই।
হঠাৎ তার ফোনে একটি ছবি এসে পৌঁছাল।
ছবিটা দেখে তার শরীর অবশ হয়ে গেল।
ছবিটা তোলা হয়েছে তার নিজের রুমের ভেতর থেকে।
আর ছবিতে দেখা যাচ্ছে—
সে বাথরুমে ঢোকার ঠিক আগের মুহূর্ত।
অর্থাৎ যে-ই হোক, সেটা তার রুমের ভেতরেই ছিল।
কয়েক সেকেন্ড পর বাইরে থেকে একটা শব্দ এলো।
বেডরুমের দরজা ধীরে ধীরে খুলছে।
কিঁইইইচ...
তারপর পায়ের শব্দ।
ধীরে ধীরে বাথরুমের দিকে আসছে।
ঠক...
ঠক...
ঠক...
শব্দটা এসে বাথরুমের দরজার সামনে থেমে গেল।
তারপর সম্পূর্ণ নীরবতা।
এক মিনিট...
দুই মিনিট...
পাঁচ মিনিট...
কোনো শব্দ নেই।
হঠাৎ ফোনে শেষ মেসেজটা এলো—
"আমি চলে যাচ্ছি। এবার তুমি দরজা খুলতে পারো।"
রায়হান প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করল।
ভোরের আলো ফুটতে শুরু করলে সাহস করে দরজা খুলল।
পুরো ফ্ল্যাট ফাঁকা।
কেউ নেই।
কিন্তু বের হওয়ার সময় সে একটা জিনিস খেয়াল করল।
তার মূল দরজার ভেতরের পাশে আঙুল দিয়ে লেখা ছিল—
"৩:৩৩-এ আবার দেখা হবে..."
সেদিনের পর রায়হান সেই বাসা ছেড়ে দেয়।
ঘটনাটাকে দুঃস্বপ্ন ভেবেছিল।
কিন্তু কয়েক মাস পর নতুন বাসায় এক রাতে তার ঘুম ভাঙে।
মোবাইলের স্ক্রিনে সময়—
৩:৩৩ AM
আর ঠিক তখনই ফোনটা বেজে ওঠে।
স্ক্রিনে কোনো নাম্বার নেই।
শুধু লেখা—
Unknown Caller...
সমাপ্ত। 👻📞
"রাত ৩:৩৩ বাজে। আপনি কি Unknown Caller-এর কল ধরবেন?" 😨

👻 ভয়ংকর গল্প: কালো রাস্তার শেষ যাত্রীPart 1এই ঘটনাটা নাকি আজও সিলেট সড়কের কাছের কিছু গ্রামের বয়স্ক মানুষ ফিসফিস করে ব...
02/07/2026

👻 ভয়ংকর গল্প: কালো রাস্তার শেষ যাত্রী
Part 1
এই ঘটনাটা নাকি আজও সিলেট সড়কের কাছের কিছু গ্রামের বয়স্ক মানুষ ফিসফিস করে বলে। কেউ নিশ্চিত নয় গল্প, না সত্যি। কিন্তু যারা জানে, তারা গভীর রাতে ওই রাস্তা একা পার হয় না।
প্রায় ১২ বছর আগে।
শীতের রাত।
রাত তখন প্রায় ১টা।
রুবেল নামের এক যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিল।
সেদিন রাস্তা অস্বাভাবিক ফাঁকা ছিল।
কুয়াশা এত ঘন ছিল যে বাইকের হেডলাইটের আলো কয়েক ফুটের বেশি যাচ্ছিল না।
এক সময় সে লক্ষ্য করল রাস্তার পাশে সাদা কাপড় পরা এক বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন।
বৃদ্ধ হাত তুলে ইশারা করলেন।
রুবেল থামল।
— "চাচা, কোথায় যাবেন?"
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে মাথা তুললেন।
— "সামনের মোড় পর্যন্ত।"
তার গলা অদ্ভুত ঠান্ডা।
রুবেল বৃদ্ধকে পেছনে বসিয়ে আবার রওনা দিল।
কয়েক মিনিট পর তার মনে হলো বাইকটা অস্বাভাবিক ভারী হয়ে গেছে।
যেন একজন নয়, অনেক মানুষ বসে আছে।
রিয়ার ভিউ মিররে তাকাতেই তার বুক ধক করে উঠল।
বৃদ্ধ ছাড়া পেছনে আরও তিনজন বসে আছে।
সবাই সাদা কাপড় পরা।
সবাই মাথা নিচু করে আছে।
রুবেল ভয়ে কাঁপতে লাগল।
সে ব্রেক কষে পেছনে তাকাল।
কেউ নেই।
রাস্তা ফাঁকা।
কিন্তু আবার বাইক চালু করতেই কানের কাছে ফিসফিস শব্দ শোনা গেল।
— "পেছনে তাকিও না..."
রুবেলের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।
সে বুঝতে পারছিল, তার পেছনে কেউ বসে আছে।
কিন্তু সাহস করে তাকাতে পারছিল না।
ঠিক তখনই তার ফোন বেজে উঠল।
মায়ের কল।
ফোন ধরতেই মা কাঁপা গলায় বললেন,
— "তুই এখন কোথায়?"
— "রাস্তায়।"
— "যেখানে আছিস, সেখানেই থেমে যা।"
— "কেন?"
কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর মা বললেন—
— "তোর দাদা আজকে স্বপ্নে এসে বলেছে, কালো রাস্তার যাত্রীকে যেন পেছনে না তুলি..."
রুবেলের হাত থেকে ফোন প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।
কারণ সে কাউকে বলেনি যে একজন বৃদ্ধকে লিফট দিয়েছে।
আর তখনই সে অনুভব করল—
তার কাঁধের ওপর দিয়ে বরফের মতো ঠান্ডা একটা হাত ধীরে ধীরে গলা স্পর্শ করছে...
চলবে... 👻

Address

Sylhet, Moulvibazar, Bangladesh N
Maulvi Bazar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আগডুম-বাগডুম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category