কাদেরিয়া - চিশতীয়া খানকা শরীফ তেলিবিল

  • Home
  • Bangladesh
  • Moulvibazar
  • কাদেরিয়া - চিশতীয়া খানকা শরীফ তেলিবিল

কাদেরিয়া - চিশতীয়া খানকা শরীফ তেলিবিল Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from কাদেরিয়া - চিশতীয়া খানকা শরীফ তেলিবিল, Real Estate, Vill & Post : Telibil, 11 Sharifpur Union, Kulaura, Moulvibazar.

30/04/2026

মাত্র ৪টা আয়াত।

পড়তে ১৫ সেকেন্ড।

কিন্তু নবীজি ﷺ বলেছেন — "কুলহু আল্লাহু আহাদ কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।" (সহীহ মুসলিম: ৮১১)

এক-তৃতীয়াংশ! মানে ৩ বার পড়লে? পুরো কুরআন পড়ার সওয়াব!

কিন্তু কেন? মাত্র ৪ আয়াতে পুরো কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ কীভাবে?

কারণ কুরআনের মূল বিষয় ৩টা — তাওহীদ (আল্লাহর একত্ব), আহকাম (বিধান) ও কিসাস (ঘটনা)। সূরা ইখলাস পুরো তাওহীদকে ৪ আয়াতে সারসংক্ষেপ করেছে। তাওহীদ = কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ। তাই সূরা ইখলাস = এক-তৃতীয়াংশ।

আর নবীজি ﷺ-এর এক সাহাবী ছিলেন যিনি প্রতি নামাজে সূরা ইখলাস পড়তেন। অন্য সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন — "কেন শুধু এই সূরা?" তিনি বললেন — "কারণ এতে আল্লাহর গুণাবলি আছে। আমি এটা পড়তে ভালোবাসি।" নবীজি ﷺ বললেন — "তাকে জানিয়ে দাও — আল্লাহও তাকে ভালোবাসেন।" (সহীহ বুখারী: ৭৩৭৫)

সূরা ইখলাস ভালোবাসলে — আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন!

আজ এই ৪ আয়াতের ৪টা শিক্ষা জানবো — আর বুঝবো, কেন এই ক্ষুদ্র সূরা এত মহান।

সূরা ইখলাস মক্কী সূরা। আয়াত সংখ্যা ৪। নাযিলের কারণ — মক্কার মুশরিকরা নবীজি ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলো: "তোমার রব কেমন? তাঁর বংশ কী? তিনি কিসের তৈরি?" আল্লাহ উত্তরে পুরো সূরা নাযিল করলেন — ৪ আয়াতে নিজের পূর্ণ পরিচয় দিলেন।

---

✅ আয়াত ১: "কুলহু আল্লাহু আহাদ" — আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

উচ্চারণ: কুলহু আল্লাহু আহাদ।

"বলুন — তিনিই আল্লাহ, এক ও অদ্বিতীয়।"
(সূরা ইখলাস: ১)

"আহাদ" — এক। কিন্তু এটা সাধারণ "এক" না। আরবিতে "ওয়াহিদ" মানে সংখ্যায় এক (১, ২, ৩-এর মধ্যে ১)। কিন্তু "আহাদ" মানে — একক, অদ্বিতীয়, যার কোনো তুলনা নেই, যার মতো আর কেউ নেই।

আল্লাহ শুধু সংখ্যায় এক না — তিনি সত্তায় এক, গুণে এক, ক্ষমতায় এক, ইবাদতে এক। তাঁর মতো আর কেউ ছিল না, নেই, হবে না।

এই আয়াত কী শেখায়?

আমরা কত কিছুকে "এক" মানি — টাকাকে, ক্ষমতাকে, মানুষকে। "বস এক বলবে তো চাকরি যাবে।" "স্বামী এক বলবে তো সংসার ভাঙবে।" "সমাজ এক বলবে তো ইজ্জত যাবে।"

কিন্তু "আহাদ" শুধু আল্লাহ। তিনিই একমাত্র যাঁকে ভয় করা যায়, ভালোবাসা যায়, ভরসা করা যায়। বাকি সব — শূন্য।

---

✅ আয়াত ২: "আল্লাহুস সামাদ" — তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী

اللَّهُ الصَّمَدُ

উচ্চারণ: আল্লাহুস সামাদ।

"আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, সবার আশ্রয়স্থল।"
(সূরা ইখলাস: ২)

"সামাদ" — এই শব্দটা অসাধারণ। এর অর্থ বহুস্তরের —

তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন — খাবার লাগে না, ঘুম লাগে না, সাহায্য লাগে না।
সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী — মানুষ, জিন, ফেরেশতা, আসমান, জমিন — সবকিছু তাঁর ওপর নির্ভরশীল।
তিনি পূর্ণ — কোনো অভাব নেই, কোনো দুর্বলতা নেই, কোনো ত্রুটি নেই।

ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন — "সামাদ মানে — এমন সর্দার যাঁর সর্দারত্ব পূর্ণ। এমন মহান যাঁর মহত্ত্ব পূর্ণ। এমন ধৈর্যশীল যাঁর ধৈর্য পূর্ণ। এমন ক্ষমতাবান যাঁর ক্ষমতা পূর্ণ। এমন জ্ঞানী যাঁর জ্ঞান পূর্ণ।"

এই আয়াত কী শেখায়?

আমরা কত কিছুর মুখাপেক্ষী — বসের মুখাপেক্ষী, টাকার মুখাপেক্ষী, মানুষের সাহায্যের মুখাপেক্ষী। কিন্তু আসল মুখাপেক্ষিতা শুধু আল্লাহর কাছে। তিনি "সামাদ" — তাঁর কাছে গেলে সব প্রয়োজন পূরণ হয়। মানুষের কাছে গেলে? কখনো পূরণ হয়, কখনো হয় না। কখনো অপমানিত হতে হয়।

মুসা (আ.) বলেছিলেন — "রাব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকীর" — আমি আপনার খাইরের মুখাপেক্ষী। মানুষের কাছে যাননি — আল্লাহর কাছে গেছেন। কারণ আল্লাহ "সামাদ।"

---

✅ আয়াত ৩: "লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ" — তাঁর কোনো সন্তান নেই, তিনি কারো সন্তান নন

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ

উচ্চারণ: লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ।

"তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও কেউ জন্ম দেয়নি।"
(সূরা ইখলাস: ৩)

খ্রিস্টানরা বলে — ঈসা (আ.) আল্লাহর পুত্র (নাউযুবিল্লাহ)। মক্কার মুশরিকরা বলতো — ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা (নাউযুবিল্লাহ)। আল্লাহ পরিষ্কার বললেন — না। তাঁর কোনো সন্তান নেই। তিনিও কারো সন্তান নন।

কেন? কারণ সন্তান মানে — দুর্বলতা থেকে সৃষ্ট প্রয়োজন। মানুষের সন্তান দরকার কেন? বার্ধক্যে সেবা করবে, বংশ টিকিয়ে রাখবে, সম্পত্তি রক্ষা করবে। আল্লাহর কি এসব দরকার আছে? তিনি চিরজীবী — বার্ধক্য নেই। তিনি চিরস্থায়ী — বংশ রক্ষার দরকার নেই। সবকিছুর মালিক — সম্পত্তি রক্ষার দরকার নেই।

এই আয়াত কী শেখায়?

আল্লাহকে মানুষের মতো ভাববেন না। তিনি সৃষ্টির ঊর্ধ্বে। মানুষের গুণ দিয়ে তাঁকে পরিমাপ করা যায় না। তিনি অনন্য। আর এই অনন্যতাই তাঁকে ইবাদতের একমাত্র যোগ্য করে।

---

✅ আয়াত ৪: "ওয়া লাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ" — তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই

وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণ: ওয়া লাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

"তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।"
(সূরা ইখলাস: ৪)

"কুফুওয়ান" — সমকক্ষ, সমতুল্য, তুলনীয়। কেউ নেই — ফেরেশতা নেই, নবী নেই, জিন নেই, মানুষ নেই — কেউই আল্লাহর সমকক্ষ না।

ক্ষমতায় সমকক্ষ নেই। জ্ঞানে সমকক্ষ নেই। দয়ায় সমকক্ষ নেই। সৃষ্টিতে সমকক্ষ নেই। কোনো দিক দিয়ে কেউ তাঁর ধারেকাছেও না।

এই আয়াত কী শেখায়?

আমরা মানুষকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ে ফেলি — বুঝি না। বসকে এত ভয় করি যেন আল্লাহকে ভয় করা উচিত। টাকাকে এত ভালোবাসি যেন আল্লাহকে ভালোবাসা উচিত। মানুষের কাছে এত আশা করি যেন আল্লাহর কাছে আশা করা উচিত।

আল্লাহর "কুফু" কেউ নেই — তাহলে কেন অন্য কাউকে তাঁর জায়গায় বসাচ্ছেন?

---

✅ ৪টা শিক্ষা — এক নজরে

▪️আয়াত ১ — "আহাদ": আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। ভয়, ভরসা, ভালোবাসা — শুধু তাঁর জন্য।

▪️আয়াত ২ — "সামাদ": তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী। প্রয়োজন শুধু তাঁর কাছে বলুন।

▪️আয়াত ৩ — "লাম ইয়ালিদ": তাঁর সন্তান নেই, তিনি কারো সন্তান নন। তিনি সৃষ্টির ঊর্ধ্বে।

▪️আয়াত ৪ — "লাম ইয়াকুল লাহু কুফুওয়ান আহাদ": তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। কাউকে তাঁর জায়গায় বসাবেন না।

৪টা আয়াত। ৪টা তাওহীদের স্তম্ভ। পুরো ইসলামের ভিত্তি এই ৪ আয়াতে।

আর এই ৪ আয়াত ৩ বার পড়লে? পুরো কুরআন পড়ার সওয়াব। কারণ তাওহীদ = কুরআনের মূল বার্তা। আর সূরা ইখলাস = তাওহীদের সারসংক্ষেপ।

মনে রাখবেন!

সূরা ইখলাস ছোট — কিন্তু মহান।

৪ আয়াত — কিন্তু পুরো তাওহীদের সারসংক্ষেপ।
১৫ সেকেন্ড — কিন্তু কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ।
৩ বার পড়া — কিন্তু পুরো কুরআন পড়ার সওয়াব।

আর সবচেয়ে সুন্দর কথা? নবীজি ﷺ বলেছেন — যে সূরা ইখলাস ভালোবাসে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।

আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চান? সূরা ইখলাস ভালোবাসুন। বেশি বেশি পড়ুন। বুঝে পড়ুন। আমল করুন।

সকালে ৩ বার। সন্ধ্যায় ৩ বার। ঘুমানোর আগে ৩ বার হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে মাসেহ করুন। প্রতি ফরজ নামাজের পর ১ বার। প্রতি রাকাতে ফাতিহার পর পড়তে পারেন।

মাত্র ৪ আয়াত। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা — আল্লাহ এক। তিনি অমুখাপেক্ষী। তাঁর কোনো সন্তান নেই। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।

এটুকু বিশ্বাস করলে — জীবনের সব জটিলতা সহজ হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সূরা ইখলাস বুঝে পড়ার, তাওহীদে অটল থাকার, শিরক থেকে বাঁচার, আর আল্লাহর ভালোবাসা অর্জনের তাওফিক দিন। আমিন।

সূরা ইখলাসের কোন আয়াতটা আপনাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করলো?
কমেন্টে লিখুন — ১/২/৩/৪

রেফারেন্স:
— সূরা ইখলাস: ১-৪
— সহীহ বুখারী: ৭৩৭৫
— সহীহ মুসলিম: ৮১১
— তাফসীরে ইবনে কাসীর

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)যাঁর তেজে শয়তানও পথ হারাত!​ইসলামের ইতিহাসে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁর নাম শু...
20/04/2026

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)
যাঁর তেজে শয়তানও পথ হারাত!

​ইসলামের ইতিহাসে উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁর নাম শুনলে অন্যায়ের ভিত্তি কেঁপে উঠত। তিনি ছিলেন ন্যায়ের মানদণ্ড বা 'আল-ফারুক'। তাঁর ঈমানি দৃঢ়তা এবং তাকওয়া কেবল মানুষের জন্যই অনুকরণীয় ছিল না, বরং তা জিন-শয়তানের জন্য ছিল আতঙ্কের কারণ।

রাসূলে কারীম (ছা.)-এর সোহবতে তিনি নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে শয়তানের প্ররোচনা পৌঁছানোর সাহস পেত না।
​হাদিসের আলোকে উমর (রা.)-এর প্রভাব...

​রাসূলুল্লাহ (ছা.) বিভিন্ন সময়ে উমর (রা.)-এর ঈমানি শক্তির প্রশংসা করেছেন।

​রাসূলুল্লাহ (ছা.) উমর (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন,

"হে ইবনুল খাত্তাব! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম করে বলছি—শয়তান যখনই তোমাকে কোনো পথে চলতে দেখে, তখনই সে ওই পথ ছেড়ে অন্য পথে চলতে শুরু করে।"
📚সহীহ বুখারি হাদিস নং ৩২৯০
📚সহীহ মুসলিম হাদিস নং ২৩৯৬

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছা.) বসে ছিলেন, এমন সময় বাইরে কিছু শোরগোল শোনা গেল। তিনি দেখলেন কিছু হাবশি মানুষ খেলাধুলা করছে এবং ছোট ছেলেমেয়েরা তা দেখছে। রাসূল (ছা.) আয়েশা (রা.)-কেও তা দেখতে বললেন। হঠাৎ উমর (রা.) সেখানে উপস্থিত হলেন এবং তা দেখে মানুষকে সরিয়ে দিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছা.) মুচকি হেসে বললেন,
​"আমি মানুষের মধ্য থেকে এবং জিনদের মধ্য থেকে শয়তানদের দেখলাম যে, তারা উমরকে দেখে পালিয়ে যাচ্ছে।"
📚সুনানে আত তিরমিযি হাদিস নম্বর ৩৬৯১ ✅সনদ হাসান

​দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও আল্লাহভীতি
​উমর (রা.)-এর এই প্রভাব কোনো জাদুকরী বিষয় ছিল না; বরং এটি ছিল তাঁর তাকওয়া ও নিষ্ঠার ফল।

​সত্যের প্রশ্নে আপসহীন... তিনি সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী ছিলেন। ইসলামের স্বার্থে তিনি নিজের আবেগকে বিসর্জন দিতে দ্বিধা করতেন না।

​অন্তরে আল্লাহর ভয়... খলিফা হওয়ার পরও তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। রাতের আঁধারে প্রজাদের দুঃখ দেখতে বের হতেন। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয়ই তাঁকে নির্ভীক করে তুলেছিল।

​শয়তান মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে আক্রমণ করে। কিন্তু উমর (রা.)-এর নফস বা প্রবৃত্তি ছিল সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর অনুগত। ফলে শয়তান তাঁর কাছে কোনো ছিদ্র খুঁজে পেত না।

​উমর (রা.)-এর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আমাদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়...
​ঈমানের শক্তিই শ্রেষ্ঠ শক্তি। মানুষের বাহ্যিক শক্তির চেয়ে তার আত্মিক ও ঈমানি শক্তি শয়তানকে বেশি পরাজিত করে।

​তাকওয়ার পথে নিরাপত্তা... আমরা যত বেশি আল্লাহভীরু হব, কুপ্রবৃত্তি ও শয়তানি ধোঁকা আমাদের ওপর তত কম প্রভাব ফেলবে।

​ন্যায়বিচারের সুফল, সত্যের পথে অটল থাকলে আল্লাহ তায়ালা মানুষের অন্তরে ওই ব্যক্তির প্রতি সম্মান ও ভীতি সৃষ্টি করে দেন।

​পরিশেষে বলা যায়, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) কেবল একজন শাসক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন সত্যের এক প্রতীক। তাঁর জীবন আমাদের শেখায় যে, যখন কোনো মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে, তখন সৃষ্টির কোনো অশুভ শক্তি তার ক্ষতি করতে পারে না। শয়তানের পথ পরিবর্তনের এই ঘটনাটি উমর (রা.)-এর শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য দলিল, যা কিয়ামত পর্যন্ত মুমিনদের হৃদয়ে সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সাগর হারুন রশিদ সালাফী

⭕ যৌন জাদু ( সিহরুত-তাহইজ ) এ ধরনের জাদুকে যৌন উত্তেজনার জাদু বলা হয়। জাদু এবং অশ্লীলতার এক ভয়ংকর সমন্বয় এটি সবচেয়ে বিপজ...
31/03/2026

⭕ যৌন জাদু ( সিহরুত-তাহইজ )

এ ধরনের জাদুকে যৌন উত্তেজনার জাদু বলা হয়। জাদু এবং অশ্লীলতার এক ভয়ংকর সমন্বয় এটি সবচেয়ে বিপজ্জনক জাদুগুলোর একটি।

⤵️ যৌন জাদুর লক্ষণসমূহ

▪️ নারীর ইচ্ছাশক্তি কেড়ে নেওয়া
▪️জাদুগ্রস্ত নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জাদুকরের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া।
▪️ গোপন অঙ্গে অস্বাভাবিক উত্তেজনা ও উত্তাপ অনুভব।
▪️ অকারণে প্রচণ্ড ভয়।
▪️ হারাম ও অশ্লীলতার প্রতি ঝোঁক বেড়ে যাওয়া।
▪️ শরীয়াত ও ঈমান সম্পর্কে প্রচুর কু-ওয়াসওয়াসা হওয়া।
▪️ অতিরিক্তভাবে হস্তমৈথুনের দিকে ঝুঁকে পড়া।
▪️পুরুষ ও নারী দু’জনের ক্ষেত্রেই
▪️নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দিকভ্রান্তভাবে হাঁটা এবং শয়তান তাকে জাদুকরের দিকে নিয়ে যাওয়া।
▪️জাদুকারের ‘নামানো পানি’ ছাড়া প্রশান্তি না পাওয়া।
▪️এটি জাদুকরের ব্যবহৃত নাপাক পানি যা দিয়ে সে জাদু প্রভাবিত রাখে।
▪️জাদুর প্রভাব কেটে গেলে নারী নিজের করা কাজ দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওঠা।
▪️ ব্যক্তিগত অঙ্গগুলো অস্বাভাবিকভাবে নোংরা থাকা।
▪️ফাঙ্গাস, দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক ময়লা ইত্যাদি দেখা দেওয়া।
▪️এমন মাত্রার ওয়াসওয়াসা যা মানুষকে শিরকে ঠেলে দিতে পারে।
▪️ পবিত্র স্থান ও ইবাদত থেকে দূরে সরে থাকা।
▪️অতিরিক্ত চুল পড়া এবং মাথায় খুসকি।
▪️শরীরে অস্বাভাবিক চলাচল বা নড়াচড়া অনুভব হওয়া
▪️মাথায় বারবার কাঁপুনি বিশেষ করে সহবাসের পর।
▪️ অতিরিক্ত ভুলে যাওয়া
▪️সামনে কিছু রাখে, মুহূর্ত পরেই ভুলে যায়।
--------------------------------------------------------

⤵️ যৌন জাদুর চিকিৎসা

▪️ আল্লাহর জিকির

আল্লাহ বলেন:
তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব।”

▪️জলপাই তেল (Olive Oil) ব্যবহার

রাসুল ﷺ বলেছেন:
তোমরা জলপাই তেল খাও এবং শরীরে মাখো—এটি একটি বরকতময় গাছ থেকে আসে।”

▪️ প্রতিদিন সূরা বাকারা একবার করে তিলাওয়াত।
▪️ সালাত নিয়মিত ও সময়মতো আদায় করা
▪️দৈনিক ১০০ বার আয়াতুল কুরসি পড়া
▪️ প্রচুর দোয়া করা এবং আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করা।
▪️ নিচের আয়াতগুলো ৭ বার করে পানিতে পড়া।পরে তা পান করা ও সেই পানি দিয়ে গোসল করা ইনশাআল্লাহ জাদু ভেঙে যাবে:
আয়াতসমূহ

১) সূরা ইউনুস ৮১–৮২
২)সূরা আরাফ ১১৭–১২২
৩) সূরা ত্বাহা ৬৯

যৌন জাদু অত্যন্ত নোংরা ও ভয়ংকর এক জাদু।এ থেকে মুক্তির জন্য কুরআন, জিকির, দোয়া, নিয়মিত নামাজ,
ও সুরা বাকারা ইনশাআল্লাহ সবচেয়ে শক্তিশালী চিকিৎসা।

নোট: অহেতুক ইনবক্সে চিকিৎসা ছাড়া নক হতে বিরত থাকুন, সকল চিকিৎসা পোস্ট দেওয়া আছে খুঁজে নিন। এমন কোন চিকিৎসা আমরা গোপন রাখেনি, জাজাকাল্লাহ খাইরান।

22/03/2026

এই ১০টি সংকেত দেখলে বুঝবেন, আপনার বিজয় খুব নিকটেই!

১. আপনার ওপর বিপদ আসার কোনো মানবিক সমাধান নেই। এটি আসলে আল্লাহর একটি 'ছদ্মবেশী রহমত', যা আপনাকে দুনিয়ার মোহ থেকে সরিয়ে তাঁর সিজদায় নিয়ে এসেছে।

২. যখনই আপনি তওবা করে ঠিক পথে চলতে শুরু করবেন, মানুষ বা শয়তানের পক্ষ থেকে বাধা, ঠাট্টা বা কুমন্ত্রণা আসবে। মনে রাখবেন, চোর কখনোই খালি বাড়িতে চুরি করতে যায় না; আপনার হৃদয়ে ঈমানের সম্পদ জমা হচ্ছে দেখেই শয়তান হানা দিচ্ছে।

৩. হারাম ছেড়ে দিলে সাথে সাথেই হয়তো হালাল রিযিক আসবে না। মাঝখানে একটি পরীক্ষার সময় আসবে যখন মনে হবে সব আটকে গেছে। এটি আপনার সততার পরীক্ষা।

৪. কষ্টের সময় দীর্ঘ হতে হতে যখন আপনি প্রায় হাল ছেড়ে দেবেন, তখনই আল্লাহর সাহায্য আসার সময়। হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ৯ বছরের জেলের পর মিশরের শাসনভার পাওয়ার ঘটনাটি এর বড় প্রমাণ।

৫. যখন দেখবেন নামায আর ভারী মনে হচ্ছে না, কুরআন তিলাওয়াত আপনার সঙ্গী হয়ে গেছে। বুঝবেন আল্লাহ আপনাকে বড় নিয়ামত দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন।

৬. ইস্তিগফারের কয়েক মাস পর আল্লাহ স্বপ্ন বা যে কোনো মাধ্যমে আপনাকে বা আপনার শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাধ্যমে বিভিন্ন শুভ সংকেত পাঠাতে শুরু করবেন।

৭. যে সব পাপে আপনি আগে আসক্ত ছিলেন, সেগুলোর প্রতি আপনার মনে প্রচণ্ড অনীহা তৈরি হবে। এই চারিত্রিক পরিবর্তনই বস্তুগত রিযিক আসার পূর্বশর্ত।

৮. আপনার বড় সমস্যাটি হয়তো এখনও সমাধান হয়নি, কিন্তু ছোট ছোট বিষয়ে (যেমন- অসুস্থতা থেকে মুক্তি বা পারিবারিক শান্তি) আল্লাহর সাহায্য টের পাবেন। এটি আপনার দীর্ঘ সফরের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পাথেয়।

৯. আপনি বুঝতে শুরু করবেন যে, রিযিক বা সফলতা কেবল মেধা দিয়ে অর্জন হয় না। এটাও মনে রাখতে হবে, গাড়ি (নেয়ামত) দেওয়ার আগে আল্লাহ আপনাকে ড্রাইভিং (উপলব্ধি) শেখাচ্ছেন।

১০. আপনার চারপাশের চাটুকার বা হিংসুকদের আসল চেহারা আপনার সামনে প্রকাশ হয়ে যাবে। আল্লাহ চান আপনি যখন বড় সফলতার স্তরে পৌঁছাবেন, তখন যেন আপনার আশেপাশে কোনো মুনাফিক না থাকে।

বিজয় আসার সময়টি একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে (কারও এক বছর, কারও পাঁচ বছর)। তবে সবচেয়ে বড় ফাঁদ হলো ‘বাধার পর্যায়’ এবং ‘শয়তানের আক্রমণ’। ৯০% মানুষ এই স্তরে এসে ইস্তিগফার ছেড়ে দেয়। আপনি যদি এই বাধা পার হতে পারেন, তবে আল্লাহর সাহায্য অবধারিত।

(আরবি থেকে অনূদিত)

Nur Islam

এক ব্যক্তি প্রতি রাতে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ বলে যিকির করত। একদিন শয়তান তার মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে বলল, “তুমি তো সারারাত ধরে ‘আল্...
22/03/2026

এক ব্যক্তি প্রতি রাতে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ বলে যিকির করত। একদিন শয়তান তার মনে কুমন্ত্রণা দিয়ে বলল, “তুমি তো সারারাত ধরে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ বলে চিৎকার করছ। কিন্তু কই? আল্লাহর পক্ষ থেকে তো একবারও ‘লাব্বাইক’ (আমি হাজির ) উত্তর এলো না। আল্লাহর দরবার থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, তবুও তুমি কেন নির্লজ্জের মতো ডেকেই যাচ্ছ?”

শয়তানের এই কথায় লোকটির মন ভেঙে গেল। সে ভাবল, “সত্যিই তো! আল্লাহ যদি আমাকে গ্রহণ করতেন, তবে কোনো একটা ইশারা তো অবশ্যই দিতেন।” দুঃখে সে যিকির বন্ধ করে দিল এবং মন খারাপ করে ঘুমিয়ে পড়ল।

স্বপ্নে সে হযরত খিজির (আ.)-কে সবুজ উদ্যানে দেখতে পেল। হযরত খিজির আ. তাকে জিজ্ঞেস করলেন:
“হে আল্লাহর বান্দা! তুমি হঠাৎ যিকির করা থামিয়ে দিলে কেন? তুমি কি আল্লাহকে ডাকতে অনুতপ্ত?”

লোকটি বলল, “আমি এত ডাকলাম, কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো ‘লাব্বাইক’ (সাড়া) পেলাম না। তাই আমার ভয় হচ্ছে, আমি হয়তো আল্লাহর দরবারে প্রত্যাখ্যাত। তিনি হয়তো আমাকে চান না।”

হযরত খিজির (আ.) তাকে বললেন, “আল্লাহ তোমাকে এই কথাগুলো জানাতে বলেছেন,

‘তোমার এই 'আল্লাহ আল্লাহ' বলাটাই হলো আমার লাব্বাইক। তোমার মনের এই যে ব্যথা, আবেগ এবং জ্বালা এগুলো সব আমারই পাঠানো দূত। আমি তোমাকে তাওফিক দিয়েছি বলেই তুমি আমাকে ডাকতে পারছ।

‘তোমার এই ভয় এবং ভালোবাসা হলো আমার দয়ার রশি, যা দিয়ে আমি তোমাকে আমার কাছে ধরে রেখেছি।’

‘তুমি যতবার ‘ইয়া রব’ (হে প্রভু) বলো, প্রতিটি ডাকের ভেতরে আমার অসংখ্য ‘লাব্বাইক’ (আমি হাজির) লুকিয়ে থাকে।’

‘মূর্খ ও গাফেল মানুষদের আমি এই সুযোগ দিই না। তাদের মুখে ও হৃদয়ে আমি তালা লাগিয়ে দিই, যাতে তারা আমাকে ডাকতে না পারে। আমি ফেরাউনকে বিপুল ধন-সম্পদ ও রাজত্ব দিয়েছিলাম, কিন্তু তাকে কোনো দুঃখ-কষ্ট দিইনি। ফলে সে জীবনে একবারও ‘আল্লাহ’ বলে ডাকার প্রয়োজন অনুভব করেনি। সে নিজেকেই খোদা দাবি করেছিল।’

‘যে সম্পদ বা সুখ তোমাকে আমার কাছ থেকে ভুলিয়ে রাখে, তার চেয়ে সেই দুঃখ বা ব্যথা অনেক ভালো, যা তোমাকে গোপনে আমার কাছে নিয়ে আসে।’

- কবিতার পরের অংশে আল্লামা রুমী (রহ.) আত্মসংযম ও শয়তানের ধোঁকা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন:

◑১. বিনা কষ্টে এবং ধৈর্য ছাড়া কোনো বিজয় আসে না।‘সবর’ হলো সুখের চাবি।

◑২. শয়তান এবং দুনিয়ার মোহ তোমাকে প্রতিনিয়ত ডাকছে, ‘এসো বন্ধু, আমি তোমাকে পথ দেখাই’। কিন্তু সাবধান! এরা ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের মতো, যারা নেকড়ে বাঘের স্বভাবে ভরা। এরা তোমাকে মিষ্টি কথা বলে ফাঁদে ফেলবে।

◑৩. শিকারি যেমন পাখির ডাক নকল করে অন্য পাখিকে ফাঁদে ফেলে, দুনিয়াও তেমন। সে তোমাকে ডাকে, “এসো, এটা তোমারই ঘর।” কিন্তু বুদ্ধিমান পাখি (মুমিন) সেই ডাকে সাড়া দেয় না।

✨ঘটনার শিক্ষনীয় দিক :
★১. আমরা যে আল্লাহকে ডাকার সুযোগ পাচ্ছি, এটাই প্রমাণ করে যে আল্লাহ আমাদের ডাক শুনছেন এবং পছন্দ করছেন। উত্তর না এলেও ডাক থামানো যাবে না।
★২. বিপদ-আপদ মানুষকে আল্লাহর কাছে নিয়ে আসে, তাই এটিও এক প্রকার রহমত।
★৩. শয়তান মানুষকে নিরাশ করতে চায়। সে বলে, “তোমার ইবাদত কবুল হচ্ছে না।” এই চিন্তাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

📖 মাসনবী মা'নাবী
✒️ আল্লামা জালালুদ্দীন রূমী রহ.

আস সালামু আলাইকুম । কাদেরীয়া- চিশতীয়া খানকা শরীফ তেলিবিল, শরীফপুর ইউনিয়ন কুলাউড়া উপজেলার পক্ষ থেকে দেশবাসী সহ প্রবাসীদে...
20/03/2026

আস সালামু আলাইকুম । কাদেরীয়া- চিশতীয়া খানকা শরীফ তেলিবিল, শরীফপুর ইউনিয়ন কুলাউড়া উপজেলার পক্ষ থেকে দেশবাসী সহ প্রবাসীদের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা । ঈদ মোবারক ।

সুফিবাদ হলো ইসলামের একটি আধ্যাত্মিক দর্শন, যার মূল লক্ষ্য হলো আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ। সহজ কথায়, বাহ্যিক আচার-...
22/02/2026

সুফিবাদ হলো ইসলামের একটি আধ্যাত্মিক দর্শন, যার মূল লক্ষ্য হলো আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ। সহজ কথায়, বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে অন্তরের পবিত্রতা এবং স্রষ্টার প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকেই এখানে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

শরিয়ত হলো নৌকা, আর তরিকত হলো সমুদ্র। সমুদ্রের গভীরে না নামলে যেমন মুক্তো পাওয়া যায় না, তেমনি অন্তরের গভীরতা ছাড়া স্রষ্টাকে অনুভব করা যায় না।

আত্মোপলব্ধি নিয়ে
মসজিদে গেলেই যদি খোদা পাওয়া যেত, তবে তো ঝাড়ুদার সবার আগে পেত। কপালে সিজদাহর চিহ্ন থাকলেই মুমিন হওয়া যায় না, যদি না অন্তরে আল্লাহর ভয় আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকে।"
— মূলভাব: ইমাম গাজ্জালী (র.)

মানুষকে ভালো না বেসে স্রষ্টাকে পাওয়া অসম্ভব। যার অন্তরে সৃষ্টির প্রতি মমতা নেই, তার সিজদায় কোনো সার্থকতা নেই।"
— খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (র.)

বাইরের দরজায় তালা মারা সহজ, কিন্তু ভেতরের নফসের দরজায় পাহারা দেওয়া বড় কঠিন। প্রকৃত মুক্তি ইবাদতের সংখ্যায় নয়, বরং ইবাদতের গভীরতায়।"
— সুফিবাদী দর্শন

👉 সুফিবাদ কাহাকে বলে?
সুফিবাদ বা তাসাঊফ হলো ইসলামের এমন একটি ধারা যেখানে একজন মুমিন তার নফস বা কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে নিজের চরিত্রকে সুন্দর করে তোলেন। সুফিদের মতে, কেবল ইবাদত করলেই হয় না, বরং সেই ইবাদতের পেছনে গভীর ভালোবাসা ও একাগ্রতা থাকতে হয়। একজন সুফি দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে কেবল স্রষ্টার সন্তুষ্টির জন্য জীবন অতিবাহিত করার চেষ্টা করেন।

👉 সুফিবাদ শব্দটি কোথা থেকে এসেছে?
'সুফি' শব্দের উৎপত্তি নিয়ে গবেষকদের মধ্যে কয়েকটি প্রধান মতবাদ রয়েছে:

সুফ (Suf): এর অর্থ পশম। প্রাচীনকালে সাধক ও দরবেশরা ত্যাগের প্রতীক হিসেবে মোটা পশমী কাপড় পরিধান করতেন। অধিকাংশের মতে, এখান থেকেই 'সুফি' নামের উৎপত্তি।
সাফা (Safa): এর অর্থ পবিত্রতা। যেহেতু সুফিরা অন্তর পবিত্র রাখার সাধনা করেন, তাই তাদের সুফি বলা হয়।

আহলে সুফফা: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে মদিনার মসজিদে নববীতে একদল দরিদ্র ও নিবেদিতপ্রাণ সাহাবী ছিলেন যারা সব সময় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। অনেকের মতে, তাদের জীবনদর্শনই সুফিবাদের অনুপ্রেরণা।

👉 সুফিবাদের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
সুফিবাদের ইতিহাসকে মূলত তিনটি প্রধান যুগে ভাগ করা যায়:
১. প্রাথমিক যুগ (৭ম - ৮ম শতাব্দী):
ইসলামের শুরুর দিকে সুফিবাদ কোনো আলাদা মতবাদ ছিল না। সাহাবী এবং তাবেয়ীদের মধ্যে যারা খুব বেশি পরহেজগার ছিলেন, তারাই ছিলেন আদি সুফি। হাসান বসরী (র.)-কে এই ধারার অন্যতম পথিকৃৎ ধরা হয়। এই সময়ে সুফিবাদ ছিল মূলত দুনিয়া বিমুখতা ও কৃচ্ছ্রসাধনের ওপর ভিত্তি করে।

২. শাস্ত্রীয় ও দর্শনের যুগ (৯ম - ১২তম শতাব্দী):
এই সময়ে সুফিবাদ একটি পূর্ণাঙ্গ শাস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ইমাম গাজ্জালী (র.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'এহ্ইয়াউ উলুমিদ্দীন' এর মাধ্যমে শরিয়ত (ইসলামী আইন) এবং তরিকতের (আধ্যাত্মিকতা) মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেন। মনসুর হাল্লাজ, বায়েজিদ বোস্তামী এবং রাবেয়া বসরীর মতো বিখ্যাত সুফিরা এই যুগেই তাদের আধ্যাত্মিক দর্শনের প্রসার ঘটান।

৩. ত্বরিকা বা সুফি ঘরানার যুগ (১৩তম শতাব্দী থেকে বর্তমান):
এই সময়ে সুফিবাদ বিভিন্ন 'ত্বরিকা' বা সিলসিলায় বিভক্ত হয়। পীর-মুরিদ প্রথার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শিক্ষা ছড়িয়ে পড়তে থাকে। উল্লেখযোগ্য চারটি প্রধান ত্বরিকা হলো:

কাদেরিয়া (হযরত বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী রহ. দ্বারা প্রতিষ্ঠিত)

চিশতিয়া (হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ. দ্বারা প্রতিষ্ঠিত)

নকশবন্দিয়া ( হযরত বাহাউদ্দিন নক্সেবন্দি রহঃ)

মুজাদ্দিদিয়া ( হযরত মুজাদ্দিদ আল ফেসানী রহঃ)

উপমহাদেশে সুফিবাদ
ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলাম প্রচারে সুফিদের অবদান অপরিসীম। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (র.), শাহজালাল (র.), শাহ পরান (র.) এবং খান জাহান আলী (র.)-এর মতো মহান সুফিদের উদারতা এবং চারিত্রিক গুণাবলীতে মুগ্ধ হয়ে এ অঞ্চলের মানুষ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করে।

সুফিবাদ আমাদের শেখায় যে, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে স্রষ্টার সৃষ্টিকে ভালোবাসার মাধ্যমেই স্রষ্টাকে পাওয়া সম্ভব। SSF,

#সুফিবাদ #আধ্যাত্মিকতা #তাসাঊফ #ইসলামিক_উক্তি #আত্মশুদ্ধি #সুফি_দর্শন #মরমী_বাণী #শান্তি

কাদেরিয়া তরীকার প্রবর্তক সৈয়্যদনা বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর শিক্ষা ও দর্শনে পরকালীন প্রতিটি বিষয়ের একটি গ...
15/02/2026

কাদেরিয়া তরীকার প্রবর্তক সৈয়্যদনা বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর শিক্ষা ও দর্শনে পরকালীন প্রতিটি বিষয়ের একটি গভীর আধ্যাত্মিক ও রূহানি তাৎপর্য রয়েছে। কাদেরিয়া তরীকার দৃষ্টিতে পুলসিরাত কেবল একটি বাহ্যিক সেতু নয়, বরং এটি মানুষের রূহানি পূর্ণতা অর্জনের চূড়ান্ত পরীক্ষা।

পুলসিরাত কেবল পরকালের একটি সেতু নয়, বরং এটি ইহকালে আমাদের নফস বা কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক পরম পরীক্ষা। কাদেরিয়া তরীকার মহান ইমাম, গাউসুল আজম হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) শিখিয়েছেন— যে ব্যক্তি দুনিয়াতে শরীয়ত ও তরিকতের সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে পারবে, পরকালে তার জন্য পুলসিরাত হবে বিদ্যুতের মতো দ্রুত এবং আলোকোজ্জ্বল।

১. দুনিয়াই হলো রূহানি পুলসিরাত
কাদেরিয়া তরীকার মূল দর্শন হলো 'শরীয়ত' ও 'তরিকত'-এর সুসমন্বয়। বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'ফুতুহুল গায়ব' ও 'গুনিয়াতুত ত্বলিবীন'-এ গুরুত্ব দিয়েছেন যে, একজন মুমিন দুনিয়াতে থাকাকালীন শরীয়তের প্রতিটি হুকুম পালনের মাধ্যমে যে কঠিন পথ অতিক্রম করে, সেটিই হলো তার রূহানি পুলসিরাত।
যদি কেউ দুনিয়াতে প্রবৃত্তির (নফস) প্রলোভন থেকে বেঁচে শরীয়তের সূক্ষ্ম পথে চলতে পারে, তবে পরকালে তার জন্য সেই সেতুটি প্রশস্ত হয়ে যাবে।

২. ভারসাম্যই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি
পুলসিরাতকে বলা হয় চুলের চেয়ে সূক্ষ্ম এবং তলোয়ারের চেয়ে ধারালো। কাদেরিয়া তরীকার ব্যাখ্যায় এর অর্থ হলো— আধ্যাত্মিক জীবনে 'ইফরাত' (সীমালঙ্ঘন) এবং 'তাফরিত' (শিথিলতা) এই দুইয়ের মাঝামাঝি থাকা।
অত্যধিক বৈরাগ্য অবলম্বন করে দুনিয়া ত্যাগ করা (যাতে হক্ব নষ্ট হয়)।
আবার দুনিয়াতে নিমজ্জিত হয়ে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া। এই দুই প্রান্তের মাঝে যে সূক্ষ্ম ভারসাম্যের পথ, তাই হলো প্রকৃত সিরাত।

৩. নফসের সাথে জিহাদ ও পুলসিরাত
বড় পীর (রহ.) শিখিয়েছেন, মানুষের নফস বা কুপ্রবৃত্তি হলো সেই জাহান্নাম যার ওপর দিয়ে রূহকে জান্নাতের দিকে যেতে হয়।
নফসে আম্মারা: এটি মানুষকে নিচের দিকে (জাহান্নামে) টেনে নামাতে চায়।
নফসে মুতমাইন্না: এটি মুমিনকে পুলসিরাতের ওপর দিয়ে বাতাসের গতিতে পার করে দেয়। কাদেরিয়া তরীকার জিকির ও সাধনার মাধ্যমে যখন নফস পবিত্র হয়, তখন পুলসিরাতের সেই অন্ধকার পথ আল্লাহর 'নূর'-এ আলোকিত হয়ে যায়।

৪. পীরের ফয়েজ ও শাফায়াত
কাদেরিয়া তরীকার অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে, হাশরের সেই কঠিন দিনে কামেল পীর বা মুর্শিদের আধ্যাত্মিক সাহায্য (ফয়েজ) মুমিনকে সাহস জোগাবে।
বড় পীর (রহ.)-এর একটি বিখ্যাত উক্তি রয়েছে— "আমার মুরিদ যদি প্রাচ্যে থাকে আর তার সতর (লজ্জা) উন্মোচিত হয়ে যায় এবং আমি প্রতীচ্যে থাকি, তবে আমি হাত বাড়িয়ে তার সতর ঢেকে দেব।" এই আধ্যাত্মিক অভিভাবকত্ব পুলসিরাত পার হওয়ার সময় মুমিনকে বিচলিত হতে দেয় না। তবে এর জন্য শর্ত হলো— মুমিনকে অবশ্যই পীরের দেখানো পথে (সুন্নাহর অনুসারী হয়ে) চলতে হবে।

৫. 'আনানিয়ত' বা অহংবোধ বিসর্জন
কাদেরিয়া তরীকার সারকথা হলো 'ফানা' হওয়া বা আল্লাহর কাছে নিজেকে বিলীন করা। পুলসিরাত দিয়ে কোনো 'ভারী' জিনিস পার হতে পারে না। এখানে 'ভার' মানে হলো গুনাহ এবং 'অহংকার'। যার ভেতর "আমি বড়" এই বোধ থাকে, সে পুলসিরাতের ভার সহ্য করতে পারে না। যে ব্যক্তি নিজেকে তুচ্ছ মনে করে এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা করে, সে পালকের মতো হালকা হয়ে পুল পার হয়ে যায়।

সংক্ষেপে: কাদেরিয়া তরীকা আমাদের শেখায় যে, পরকালের পুলসিরাত আসলে আমাদের ইহকালের আমল ও অন্তরের অবস্থারই একটি প্রতিফলন।

#পুলসিরাত #সুফিবাদ #কাদেরিয়া_তরীকা #বড়পীর #আব্দুল_কাদের_জিলানী #আধ্যাত্মিকতা #ইসলামিক_জ্ঞান #তরিকত #মারিফত #নফস #জিকির #পরকাল #সুফি_দর্শন #গাউসুল_আজম #শান্তির_পথ

বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহমুসলিম উম্মার ইতিহাসের অবক্ষয়, বিচ্ছিন্নতা, অজ্ঞানতা ও বহির্শত্রুর আক্রমনের যুগের, হি...
31/01/2026

বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ
মুসলিম উম্মার ইতিহাসের অবক্ষয়, বিচ্ছিন্নতা, অজ্ঞানতা ও বহির্শত্রুর আক্রমনের যুগের, হিজরী ৬ষ্ঠ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম, ফকীহ ও সূফী ছিলেন কুতুবে রব্বানি মাহবুবে সুবহানি শায়খ সাইয়্যিদ আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)তিনি ৪৭১ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর পিতার নাম হযরত আবু সালেহ মুছা জঙ্গি (রাহ.) ও মাতার নাম সৈয়দা উম্মুল খায়ের ফাতিমা (রাহ.)। স্রষ্টার চূড়ান্ত দীদার লাভের উদ্দেশ্যে ১১ রবিউস সানী ৫৬১ হিজরী রোজ সোমবার এবং ৯০ বৎসর বয়সে ইন্তেকাল করেন।তিনি হাম্বলী মাযহাবের একজন বড় ফকীহ ছিলেন। এছাড়া তাসাউফের বড় সাধক ও ওয়ায়িয ছিলেন।তিনি মুসলিম বিশ্বের পতন যুগে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন ইসলামের শাশ্বত আদর্শকে। তার মাধ্যমেই ইসলাম পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছিল। এ জন্যই তার উপাধি ছিল মুহীউদ্দীন। হজরত আলী (রা.)-এর শাহাদাতের ৭০০ বছর পর হজরত বড় পীরের মাধ্যমেই সেই জায়গা পূরণ হয়েছে।

বাল্যশিক্ষা:
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)-এর বাল্যশিক্ষা মক্তবে শুরু হয়। প্রথম দিন মক্তবে গিয়ে দেখেন অন্যান্য ছাত্রদের ভিড়ে বসার কোনো জায়গা নেই। হঠাৎ করে উপর হতে গায়বী আওয়াজ আসল, হে মক্তবের ছাত্ররা! আল্লাহর অলির বসার স্থান প্রসস্ত করে দাও। গায়বী আওয়াজ আসার সাথে সাথে সকল ছাত্ররা চেপে বসলেন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) এর বসার ব্যবস্থা হয়ে গেল। প্রথম দিনেই অবাক কা- মক্তবের শিক্ষক হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)কে আউযু বিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ সবক দানের সাথে সাথে হযরত বড় পীর কোরআন মজিদের প্রথম ১৮ পাড়া পর্যন্ত মুখস্ত বলে ফেললেন। মক্তবের শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন, হে বৎস! তুমি কিভাবে কোরআন মুখস্ত করেছো! আজ মক্তবে তোমার প্রথম দিন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) বলেন, আমার মাতা ১৮ পাড়ার পর্যন্ত কোরআন মুখস্ত করেছিলেন। আমি গর্ভে থাকাকালীন সময় তিনি কোরআন পাঠ করতেন। আমি মায়ের তেলাওয়াত শুনে শুনে ১৮ পাড়া পর্যন্ত মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে
হিজরত ও সত্যবাদিতা:
তৎসময় কালে ইরাকে ভালো পড়াশুনা ও ব্যবসার সুযোগ ছিল। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে পড়াশুনা ও ব্যবসার জন্য মানুষ বাগদাদ আসত। পড়াশুনার উদ্দেশ্যে হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ব্যবসায়িক কাফেলার সাথে বাগদাদ যাওয়ার পথে ডাকাতের কবলে পড়েন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ)কে ডাকাত সর্দার জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সাথে কি আছে? তিনি বললেন, আমার নিকট ৪০টি স্বর্ণ মুদ্রা আছে। ডাকাত সর্দার আশ্চার্যন্বিত হয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন হে যুবক! তুমি তো মিথ্যা কথা বলে আমার নিকট থেকে স্বর্ণ মুদ্রা লুকাতে পারতে। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) বললেন, মিথ্যা কথা বলতে আমার মা নিষেধ করেছেন। এ কথা শুনে ডাকাত সর্দার বললেন, মায়ের আদেশ যুবক তুমি এভাবে পালন কর। নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর আদেশ আরো যতেœর সাথে পালন করো। আর আমি ও অন্যান্য ডাকাতরা তো আল্লাহর আদেশই পালন করি না। মায়ের কথা তো অনেক দূরের কথা। এই বলে ডাকাত সর্দার আপসোস করতে থাকেন ও বলেন, হে বালক ! তুমি সাধারণ কোন মানুষ না। হে বালক তুমি আমাকে কলেমা পড়াও। ডাকাত সর্দারের সাথে আরো ৬০ জন অশ্বারোহী ডাকাত ছিলেন। তারাও কলেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেন।

ইবাদতের কঠোর সাধনা:
তিনি একাধারে ৪০ বছর পর্যন্ত ইশার নামাজের অযু দিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করেছেন। প্রত্যহ শেষ রাত্রে পাঠ করতেন, আল মুহিতুল আলমে, আর রাব্বুশ শহীদ, আল হাসীবুল ফায়্যায়িল খাল্লাকি, আল খালিকু, আল বারিউ, আল মুসাব্বিরু। উক্ত দোয়া পাঠ করার সাথে সাথে লোক চক্ষুর সামন থেকে অদৃশ্য হয়ে যেতেন। তিনি রাতের একটা সময় জিকির ও মোরাকাবা করে কাটাতেন। যৌবনের অধিকাংশ সময় রোজা রেখে কাটিয়েছেন। যখন নফল নামাজ আদায় করতেন সুরা ফাতেহার পর সূরা আর রহমান, সূরা মুজাম্মিল কিম্বা সুরা ইখলাস পড়তেন। তন্দ্রার ভাব আসলে দেখে দেখে কোরআন তেলাওয়াত করতেন।

কাদেরীয়া তরিকার প্রবর্তক:
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহঃ) বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেছেন। মুসলামানকে ভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে কোরআন সুন্নাহ ভিত্তিক মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। মানুষকে আল্লাহ ও রাসূল (সা.) মুখী করার জন্য বিভিন্ন আমল বাতলিয়ে দিতেন। হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) যখন দুনিয়ার জীবন ত্যাগ করে পরপারে যান। তখন হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ভক্ত অনুসারীরা তাঁর আমল ও চরিত্রকে সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে কাদেরীয়া তরিকা প্রবর্তন করেন। সে সময়কাল থেকে কাদেরীয়া তরিকার প্রচলন আমাদের দেশেও প্রচলিত হয়েছে।

বেলায়াতের উচ্চস্তরের প্রত্যেক জামানায় ৩১৩ জন অলি জমিনে বিদ্যমান থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর শান মান প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত থাকেন। সূফীতাত্ত্বিক পরিভাষায় তাঁদের আখইয়ার বলা হয়। ৩১৩ জন অলির মধ্যে ৪০ জন আবদাল, ৭ জনকে আবরার, ৫ জনকে আওতাদ, ৩ জন নকীব, ৪ জন নুজবা ও ১ জন গাউসূল আজম থাকেন। যাকে কুতুবুল আউলিয়া বা সুলতানুল আউলিয়া বলা হয়। বাকিরা অন্যান্য সাধারণ পর্যায়ের অলি। তৎজমানায় গাউসগণের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত, বেলায়েতে ওজমা ও গাউসিয়তে কোবরার সুমহান আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি হচ্ছেন হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)।

বেলায়েতের ব্যাপকতা:
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) রুহানী ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে ইসলামের প্রচার প্রসারে ৩৪২ জন আউলিয়া সারা বিশ্বে আল্লাহর সৃষ্টির খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। ইহার মধ্যে মক্কা-মদিনাতে ১৭ জন, ইরাকে ৬০ জন, সিরিয়াতে ৩০ জন, মিশরে ২০ জন, পশ্চিমাদেশে ২৭ জন, পূর্বদেশীয় অঞ্চলে ২৩ জন, আবিসিনিয়াতে ১১ জন, ইয়াজুজ মাজুজের প্রাচীরাংশে ১৭ জন, লংকাতে ১৭ জন, কুহেকাফে ৪০ বাহরে মুহীতে ৪০ জন।

উপাধিসমূহ:
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর বেলায়েতের পরিচিতি বিশ্বব্যাপী ছিল। তিনি বিভিন্ন দেশে মানুষের নিকট ভিন্ন উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। তাঁর উপাধিগুলো হলো যথাক্রমে- গাউসূল আজম, বড় পীর, মাহবুবে সোবহানী, মহিউস সুন্নাহ, কুতুবে রাব্বানী, ইমামুল আউলিয়া, সৈয়দ, পীর, মীর,মহিউদ্দিন, কামিউল বিদায়াত, নূরে হক্কানী, পীরানে পীর, জিলানী ইত্যাদি।

রচিত গ্রন্থাবলি:
আব্দুল কাদের জিলানি (রহ.) শুধু শরিয়ত ও মারফতের পণ্ডিত ছিলেন না। তিনি কাব্য, সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, ভূগোল বিষয়েরও পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর রচিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। এসব গ্রন্থের মধ্যে ‘ফতহুল গায়েব গুনিয়াতুত তালেবীন’, ‘ফতহুর রববানী’, ‘কালীদায়ে গাওসিয়া’ উল্লেখযোগ্য।

ফাতিহা ইয়াযদাহুম:
৭ নভেম্বর বুধবার (১১ রবিউস সানি ) পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হয় । ফাতিহা বলতে বোঝানো হয়, কোনো মৃতের জন্য দু‘আ করা, ঈসালে সওয়াব করা। ইয়াযদাহম ফার্সি শব্দটির অর্থ একাদশ। ৫৬১ হিজরী মুতাবিক ১১৮২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ রবিউস সানী তারিখে বড়পীর শায়খ আবদুল কাদির জিলানী রহ. ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু উপলক্ষে রবিউস সানীর ১১ তারিখে যে মৃত্যুবার্ষিকী পালন, উরস ও ফাতিহাখানী করা হয় তাকে বলা হয় ফাতিহা ইয়াযদহম।ইসলামে জন্মবার্ষিকী বা মৃত্যুবার্ষিকী পালন ও উরস করা শরী‘আত সমর্থিত অনুষ্ঠান নয়। তবে তিনি অনেক উঁচু দরের অলী ও বুযুর্গ ছিলেন। তাই এই নির্দিষ্ট তারিখের অনুসরণ না করে অন্য যে কোন দিন তাঁর জন্য দু‘আ করলে এবং জায়িয তরীকায় তাঁর জন্য ঈসালে সওয়াব করলে তাঁর রূহানী ফয়েজ ও বরকত লাভের ওসীলা হবে এবং তা সওয়াবের কাজ হবে।আর বড় পীরের আদর্শিক জীবনের সামান্য অংশ যদি আমরা পালন করতে সক্ষম হই। তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর সন্তোষ্টি অর্জন সম্ভব।

আল্লাহ আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে মহান অলি হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর আদর্শ বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করুন।

পৃথিবীর সমস্ত অলিদের সরদার বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ)...
21/01/2026

পৃথিবীর সমস্ত অলিদের সরদার বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী (রহঃ)...

খ্যাতনামা কামেল পুরুষ মহাকবি মাওলানা জালাল উদ্দিন রুমী (রহঃ ) বলিয়াছেন—আল্লাহতা’লাকে ভুলিয়া থাকাই দুনিয়া।মসজিদ ঘরেও যদি ...
20/01/2026

খ্যাতনামা কামেল পুরুষ মহাকবি মাওলানা
জালাল উদ্দিন রুমী (রহঃ ) বলিয়াছেন—

আল্লাহতা’লাকে ভুলিয়া থাকাই দুনিয়া।
মসজিদ ঘরেও যদি আল্লাহকে ভুলিয়া থাকা হয়
তখন সেখানেও আর দ্বীন-ইসলামের অর্থাৎ
আল্লাহর মসজিদ থাকে না। তখন উহাও দুনিয়া হইয়া পড়ে। সুতরাং আমরা অবাদে বলিতে পারি যে,
জাহেরি মসজিদ প্রকৃত মসজিদ নহে।

তিনি আরও বলেন-

মসজিদুকো আন্দদরুনে আওলিয়া আস্ত,
সেজদাগাহে জুমলাজা আজা খোদা ওয়াস্ত।
অর্থাৎ, আউলিয়াগন মসজিদের ভিতরেই থাকেন,
উহাই আল্লাহ লাভের জন্য সকলের সেজদা করিবার স্থান। আল্লাহর অলিগন যেরূপ মসজিদে অবস্থান করিয়া থাকেন আল্লাহ লাভের উদ্দেশে তাহাই যদি সকলের জন্য সেজদা করিবার স্থান হইয়া থাকে তাহা হইলে এখন বলুন তো জাহেরি মসজিদের স্থান কোথায়?

আল্লাহ তালাকে স্মরনে রাখিবার মত মানসিক যে পরিবেশ আত্মসর্মপন কারী ব্যক্তি তাহার মনের মধ্যে তৈরি করিয়া লইয়া থাকেন উহাই তাহার মধ্যে আল্লাহর মসজিদ। যতক্ষন আল্লাহ স্মরণের, বা সংযোগের সেই
অবস্থাটি ঠিক থাকে ততক্ষণই উহা মসজিদ।

আল্লাহর পথে যাএিক মনে প্রতিদিন এই মসজিদের ভাঙা-গড়া কত রকমে যে চলিতেছে তাহা তিনিই ভালো বুঝেন। বাহির হইতে তাহা বুঝিতে পারা যায় না।
আউলিয়া কেরামদের অন্তরে যে মসজিদ রহিয়াছে তাহাই সমস্ত জগতবাসীর সেজদার জায়গা।
তাহার আর একটি প্রমান হাদিসে ফরমাইয়াছেন,

কুলুবিল্ মোমেনীনা আরশেল্লাহ্—
অর্থাৎ - মোমিনের কলব আল্লাহ পাকের আর্শ।

Address

Vill & Post : Telibil, 11 Sharifpur Union, Kulaura
Moulvibazar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কাদেরিয়া - চিশতীয়া খানকা শরীফ তেলিবিল posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category