21/07/2026
আল-কুরআন ও সহিহ হাদিসে অশ্লীলতা (ফাহিশাহ) ও বেহায়াপনাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মুসলিমদের পবিত্র চরিত্র, লজ্জাশীলতা (হায়া) এবং শালীনতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুরআনে যা বলা হয়েছে
১. অশ্লীলতার কাছেও যেতে নিষেধ
> "তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল অশ্লীল কাজের নিকটেও যেও না।"
— সূরা আল-আন'আম ৬:১৫১
২. অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার শাস্তি
> "যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।"
— সূরা আন-নূর ২৪:১৯
৩. দৃষ্টি সংযত রাখা ও লজ্জাস্থান হেফাজত করা
> "মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থান হেফাজত করে..."
— সূরা আন-নূর ২৪:৩০
> "আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে..."
— সূরা আন-নূর ২৪:৩১
৪. শয়তান অশ্লীলতার নির্দেশ দেয়
> "শয়তান তোমাদের অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়..."
— সূরা আল-বাকারা ২:২৬৮
সহিহ হাদিসে যা বলা হয়েছে
১. লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ নবী ﷺ বলেছেন:
> "লজ্জাশীলতা (হায়া) ঈমানের একটি শাখা।"
— সহিহ আল-বুখারি, সহিহ মুসলিম
২. ইসলামের অন্যতম শিক্ষা নবী ﷺ বলেছেন:
> "যদি তোমার লজ্জা না থাকে, তবে যা ইচ্ছা তাই কর।"
— সহিহ আল-বুখারি
এর অর্থ হলো, লজ্জাবোধ হারিয়ে গেলে মানুষ সহজেই পাপের দিকে চলে যেতে পারে।
৩. উত্তম চরিত্রের গুরুত্ব নবী ﷺ বলেছেন:
> "আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে তারা, যাদের চরিত্র সবচেয়ে উত্তম।"
— জামে আত-তিরমিজি
ইসলামের শিক্ষা
ইসলাম শুধু ব্যভিচারই নয়, বরং অশ্লীল কথা, অশ্লীল ছবি-ভিডিও দেখা, অশ্লীলতা প্রচার করা, বেহায়াপনাকে উৎসাহিত করা এবং মানুষকে পাপের দিকে আহ্বান করাকেও নিন্দা করে। একই সঙ্গে ইসলাম মানুষের মর্যাদা, শালীনতা, দৃষ্টি সংযম এবং উত্তম চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দেয়।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হায়া, তাকওয়া ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।