19/07/2025
#নিঃশব্দের #আর্তনাদ
গল্প: নিঃশব্দের আর্তনাদ
নামটা ছিল নিঝুম। ক্লাসের সবার চেয়ে আলাদা, নিরব আর মেধাবী। ছোট শহরের একটি নামী স্কুলে ক্লাস টেনে পড়ত। সে জানত, শিক্ষাই তার একমাত্র মুক্তির পথ। মা একজন সেলাই-কর্মী, বাবা নেই। প্রতিটি দিন ছিল তার কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ।
স্কুলে তার ইংরেজি শিক্ষক – মিহির স্যার – প্রথমে তার প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন। কখনো খাতা একটু আলাদাভাবে দেখা, কখনো ক্লাস শেষে ডেকে কথা বলা। নিঝুম প্রথমে ভেবেছিল, স্যারের ভালবাসা বাবার শূন্যতা পূরণ করবে। কিন্তু একদিন সব কিছু বদলে যায়।
পরীক্ষার পরের দিন স্যার তাকে স্টাফরুমে ডেকে বলেন,
“তোমার রেজাল্ট ভালো, তবে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমার কোচিংয়ে আসবে তো?”
সে রাজি হয়। কোচিংয়ের আড়ালে স্যার ধীরে ধীরে তার উপর দখল নিতে শুরু করেন। একদিন নিঝুম একা পড়ে থাকার সুযোগে স্যারের আসল রূপ উন্মোচিত হয়—তার শরীরের ওপর লালসার হাত পড়ে। সে কিছুই করতে পারে না—চিৎকার আসে না, কান্না আটকে যায়।
ঘটনার পর নিঝুম একেবারে ভেঙে পড়ে। কদিন স্কুলেই যায়নি। কিন্তু চুপ করে থাকতে পারেনি। সে সিদ্ধান্ত নেয়—আরও কেউ যেন এই নিঃশব্দ দুঃখে না পড়ে। এক সাহসী বন্ধুর সাহায্যে সে অভিযোগ দায়ের করে।
প্রথমে স্কুল ঢাকতে চেয়েছিল ঘটনা। মেয়েটাকেই দোষারোপ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মিডিয়ার সামনে এলে, প্রতিবাদ শুরু হলে, মিহির স্যার গ্রেফতার হয়। নিঝুম আজও সেই ভয়াবহ স্মৃতি নিয়ে বেঁচে আছে, কিন্তু এখন সে অন্য মেয়েদের সহায়তায় কাজ করে।
তার মুখে একটাই কথা—
"চুপ করে থাকলে অপরাধ বাড়বে। সাহস দেখাও, নিজের গল্প বদলাও।"