01/06/2026
জনগণকে আর কতদিন এভাবে বোকা বানিয়ে রাখা হবে?
একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন তো, আমাদের সাথে আসলে কী হচ্ছে?
কদিন আগেই বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম। তার পরপরই চাপিয়ে দেওয়া হলো মোটরবাইকের অতিরিক্ত করের বোঝা। দেশের একটা বড় অংশ যখন এই অন্যায্য করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামলো, ঠিক তখনই সামনে চলে এলো রামিসার মর্মান্তিক ধর্ষণের ঘটনা। একটা জঘন্য অপরাধের আড়ালে ধামাচাপা পড়ে গেল জনগণের ন্যায্য অধিকারের আন্দোলন। মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়া, সাধারণ মানুষ—সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো নতুন ইস্যু নিয়ে। আর সেই সুযোগে করের সিদ্ধান্তটা ঠিকই বহাল রয়ে গেল।
এখন আবার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো! এবার যদি জনগণ আবারও রাজপথে নামে, আবার নতুন কোনো ঘটনা আমাদের সামনে এনে হাজির করা হবে।
এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, এটা একটা সুনির্দিষ্ট 'সিস্টেম'। যখনই জনগণ নিজেদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়, তখনই এমন কোনো ইস্যু সামনে ছুড়ে দেওয়া হয় যাতে সবার মনোযোগ অন্য দিকে ঘুরে যায়। মাঝখান থেকে দিনশেষে সাধারণ জনগণই দিশেহারার মধ্যে থাকে। আর তারা ঠিকই তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাবে।
প্রশ্ন হলো, এই তথাকথিত গণতন্ত্রের নামে আর কতদিন জনগণের ওপর এই জুলুম-অত্যাচার চলবে? ভোটের আগে জনগণের কথা বলা হলেও, ভোট শেষে সাধারণ মানুষের মতামতের কি বিন্দুমাত্র মূল্যায়ন আছে এই দেশে? এক দল যায়, আরেক দল আসে কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। শুধু শোষকের চেহারা বদলায়, শোষণের ধরণ একই থাকে।
এই গনতন্ত্র শাসনব্যবস্থা কোনোদিন সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারবে না। নামমাত্র আন্দোলন বা ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দীর্ঘমেয়াদী জুলুম থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। যতদিন না পর্যন্ত আল্লাহর দেওয়া ইনসাফপূর্ণ 'শরিয়াহ শাসন' এই জমিনে কায়েম হচ্ছে, ততদিন সাধারণ মানুষ এই অত্যাচারী চক্র থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাবে না। একমাত্র শরিয়াহ ব্যবস্থাপনাই পারে শাসক ও শাসিতের মধ্যকার এই বৈষম্য দূর করে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে।
তাই ভাঙা সিস্টেমের পেছনে পেছনে না ছুটে, স্থায়ী এবং প্রকৃত সমাধানের জন্য আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। এই অন্যায় আর কতদিন মুখ বুজে সহ্য করবেন? জেগে উঠুন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে, শরিয়াহ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিজেকে প্রস্তুত করুন।