23/12/2025
মোবাইল হাতে পাওয়ার পর থেকেই অনলাইনে আয় করার উপায় খুঁজতে শুরু করে সিয়াম। একবার ২৫০/- টাকা আয়ও হয়েছিলো। কিন্তু, ভালো কিছু করা পসিবল হচ্ছে না। তবে, ধীরে ধীরে আইটির প্রতি ঝোঁক বাড়তে থাকে তার।
বাবার কাছে আবদার করে কম্পিউটারের। উদ্দেশ্য, ভালো একটা ক্যারিয়ার গড়া। সিয়ামের বাবা আলিম মানুষ। বাবা চাননি ছেলে আইটিতে ক্যারিয়ার গড়ুক। তাই রাজি হননি ছেলেকে কম্পিউটার কিনে দিতে।
কিন্তু, সিয়াম নাছোড়বান্দা। বাবাকে প্রেশার না দিয়ে মোয়াজ্জেন হিসেবে একটা মসজিদে চাকরি নেন। খুবই অল্প বেতন। ৩০০০/- টাকার মতন একটা এমাউন্ট।
সিয়ামের এক বন্ধু ইউটিউবে ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলো। তারও দরকার ছিলো একটা কম্পিউটারের। সিয়াম তাকে অফার দেয়, ৫০/৫০ করে একটা পিসি নেওয়ার। যখন যার লাগবে, সে ইউজ করবে। বন্ধু রাজি হওয়ায় পরিবারকে না জানিয়ে শেয়ার একটা কম্পিউটার নিয়ে নেয় সে। রাখে বন্ধুর বাসায়।
মাঝে মাঝে গিয়ে কিছুটা এক্সপ্লোর করতো সে। দেখতে দেখতে দাখিল পরীক্ষা চলে আসলো। পরীক্ষা শেষ হওয়ার দুইদিন আগে বাবাকে অনেক কনভিন্স করে পিসিটা নিজের বাসাতে নিয়ে আসতে পারে সে।
এর মধ্যে বিজ্ঞাপন দেখে অফলাইনে একটা আইটি ট্রেইনিং সেন্টারে ভর্তি হয়। কয়েকটা কোর্স করে বেশ ভালো এমাউন্টের টাকা খরচ করে সে। ফলাফল শূন্য। হতাশ হয়ে পড়ে সে।
ফেসবুক এক্সপ্লোর করতে করতে একজনকে একটা কোর্সের ব্যাপারে পজেটিভ ফিডব্যাক দিতে দেখে সে। Complete Web Development Course by Programming Hero.
এর মধ্যে সে ফেসবুকে ঝংকার মাহবুবের একটা ভিডিও দেখতে পায় যেখান থেকে সে জানতে, ব্যাচ ফোরের এনরোলমেন্ট চলছে। বেতনের অল্প টাকা অগ্রীম নিয়ে সাথে বন্ধুদের কাছ থেকে ধার দেনা করে ভর্তি হয়ে যায় সে। বেশ ভালোভাবেই শেষ করে কোর্স। ৫৭+ গড় মার্কস ছিলো এসাইনমেন্টে।
তার রেজুমি দেখে সাভারেরই একটা আইটি ট্রেইনিং সেন্টার তাকে ডেভেলপার হিসেবে হায়ার করে। সে ছেড়ে মসজিদের চাকরি। তবে, সেখানে ট্রেইনিং-ও করাতে হচ্ছিলো তার। ক্যারিয়ার গ্রোথ কম দেখে কিছুদিম কাজ করার পর জবটা ছেড়ে দেয় সে।
এর মধ্যে সে দেখতে পায়, প্রোগ্রামিং হিরো'র অন্য এক Alumni একটা পোস্ট দিয়েছে যে, সে কোম্পানিতে কাজ করছে সেখানে একজন ডেভেলপার লাগবে।
এপ্লাই করে সিয়াম৷ ইন্টারভিউ, টাস্ক এসব কমপ্লিট করে ২২০ ডলারে জব অফার পেয়ে যায় সে। ডুবাইয়ের কোম্পানি।
প্রায় দেড় বছরের কাছাকাছি সময় সিয়াম কাজ করে সেখানে। সব ভালোই যাচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ নোটিশে পলিসি ভায়োলেশনের অভিযোগ এনে তাকে ফায়ার করে দেয় সিইও। এদিকে, এর মাত্র দুইমাস আগেই তার বাবাও জব হারান। ভেঙে পড়েন সিয়াম। এর মধ্যে একটা কোম্পানিতে মেন্টর হিসেবে জয়েন করে সে। খুব অল্প বেতন। সেটার পাশাপাশি পরিচিত এক ভাইয়ের সাথে মিলে একটা এজেন্সি দেওয়ার চেষ্টা করে সে। পুরো একটা বছর কাজ করে এজেন্সি থেকে মাত্র তারা ১ লক্ষ ২৬ টাকার মতন রেভিনিউ জেনারেট করতে পারে সে।
হতাশ হয়ে আবারও জব করার সিদ্ধান্ত নেয় সিয়াম। যোগাযোগ করে প্রোগ্রামিং হিরো'র জব প্লেসমেন্ট টিমের সাথে। টিম তাকে হেল্প করতে হাত বাড়ায়। কিন্তু, মনোযোগ দিতে পারে না সে।
আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত হিসেবে যে কোম্পানি থেকে সে এক বছর আগে টার্মিনেট হয়, সে কোম্পানির সাবেক এক কলিগ তাকে মালেশিয়ান একটা কোম্পানিতে রেফার করে এবং তার জবটা হয়েও যায় সেখানে।
নতুন কোম্পানিতে অলমোস্ট ২ বছর সময় কাজ করে ফেলেছেন সিয়াম। সিইও তাকে মালেশিয়া নিয়ে যাওয়ার অফারও দিয়েছেম তবে গ্র্যাজুয়েশন শেষ না হওয়ায় এক্ষুনি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি সিয়াম।
তার আগের কোম্পানি থেকে ফায়ার্ড হওয়ার ব্যাপারটাকে সে ব্লেসিংস হিসেবে দেখে। কারণ, বর্তমান কোম্পানির ওয়ার্ক এনভাইরনমেন্ট এবং গ্রোথ তার স্কিলকে বুস্ট করছে প্রতিদিন।