13/02/2025
শবে বরাত (لَيْلَةُ ٱلْبَرَاءَةِ) অর্থ "মুক্তির রাত"।
☞এটি শা'বান মাসের ১৫তম রাত, যা অনেক মুসলিম সমাজে ইবাদত-বন্দেগির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। তবে কুরআন ও সহিহ হাদিসে এই রাতের জন্য কোনো বিশেষ ইবাদতের স্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
✪ কিছু হাদিসে শা'বান মাসের গুরুত্ব ও ১৫ তারিখের রাত সম্পর্কে আলোচনা এসেছে, তবে এগুলোর মধ্যে অনেক হাদিস দুর্বল (ضعيف) বা জাল (موضوع) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
✪ শবে বরাতের হাদিসসমূহ:
কিছু বর্ণনাতে এসেছে:
১. আল্লাহ এই রাতে বান্দাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেন—আবু মুসা আশ'আরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
> إِنَّ اللَّهَ لَيَطَّلِعُ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِجَمِيعِ خَلْقِهِ، إِلَّا لِمُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ
"নিশ্চয়ই আল্লাহ শা'বান মাসের মধ্যরাতে (১৫ তারিখের রাতে) তাঁর সকল সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টিপাত করেন এবং তাদেরকে ক্ষমা করে দেন, তবে মুশরিক এবং পরস্পর বিদ্বেষ পোষণকারীদের (ক্ষমা করেন না)।"
[সহিহ ইবনে হিব্বান: 5665, আলবানী সহিহ বলেছেন]
2. এই রাতে আমলনামা উত্থাপন হয়:
কিছু হাদিসে এসেছে, শা'বান মাসে আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়, তবে এই বিষয়েও নির্দিষ্ট ১৫ তারিখের কথা সহিহ সূত্রে নেই।
✪ শবে বরাত সংক্রান্ত ভুল ধারণা:
১. এই রাতে বিশেষ নামাজের প্রচলন: অনেক সমাজে ৬, ১০ বা ১০০ রাকাত নামাজের কথা প্রচলিত আছে যা নির্ভরযোগ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
২. হালুয়া বা বিশেষ খাবার তৈরি করা: এটি একটি সামাজিক রীতি, তবে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোনো ভিত্তি নেই।
৩. কবর জিয়ারত করা: কবর জিয়ারত করা সুন্নাত, তবে বিশেষভাবে শবে বরাতের রাতে করার জন্য নির্ভরযোগ্য হাদিস নেই।
✪ শবে বরাতের গুরুত্ব নিয়ে কিছু দুর্বল হাদিস থাকলেও, একে বিশেষ ইবাদতের রাত হিসেবে নির্ধারণ করা কিংবা দলবদ্ধ ইবাদতের আয়োজন করা সহিহ সুন্নাহ অনুযায়ী নয়। বরং সাধারণ রাতগুলোর মতো ইবাদতে কাটানোই উত্তম।
আপনাদের ভাই
----------------------------------------------
Abdul Hakim Aiyub Ali
শিক্ষার্থী মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়।