06/01/2026
আমাদের হুগড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান,,আজগর আলী,, আপনার জন্য শুভকামনা রইল,,,
"টাঙ্গাইল সদর আসন এবং মোঃ আজগর আলী "
দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন। ২০০১ পরবর্তী সময়ে, অর্থাৎ বিএনপি সরকারের শাহসনামলে স্থানীয় সংসদ সদস্যের [মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ] আস্থাভাজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন এবং গ্রাম ঘুরে বেড়িয়েছেন। তৃণমূলে মানুষের কাছাকাছি যাবার চেষ্টা করেছেন। আওয়ামী লীগ আমলে উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে জনমনে নিজের পরিচিতি এনে দিয়েছেন।
সদর আসনে নির্বাচনি কার্যক্রমে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর টার্নিং পয়েন্ট হচ্ছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী । নমিনেশন কনফার্ম হবার আগেই প্রতিটি গ্রামে নিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। এবং কেন টুকু সাহেবকে নির্বাচনে বিজয়ী করা দরকার, সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।
প্রথমে ভেবেছিলাম, সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ গ্রহণ করবেন। তার অভিজ্ঞতাই তাকে যোগ্য করে গড়ে তুলতো। বিএনপির অন্য কেউ নমিনেশন চাইলেও তিনি হতেন শক্ত প্রতিদন্ধী। প্রতিটি ইউনিয়নের বেশিরভাগ নেতাকর্মীদের কাছে নিয়ে এসেছেন। পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সাথে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কে সমর্থন দিবে এটাই তো স্বাভাবিক।
শহর কেন্দ্রীক রাজনীতির কারণে হয়তো কেউ কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে বাস্তবতা এটাই। আবার অনেকেই আছেন, যারা বড় মাপের নেতা। মঞ্চে বড় মাপের বক্তা হলেও বাস্তবে তাদের কাউন্সিলর হবার মতো ভোট নেই। শহরের বাইরে তাদের কেউ চেনে না। তাদের কাজ হচ্ছে মঞ্চে বসে থাকা এবং বক্তব্য দেয়া।
আগেই বলেছি,
আমাদের গ্রাম এবং আশপাশে যদি কেউ বিএনপি কিংবা জিয়া পরিবারের প্রসংশা করে, তাহলে তাদের আচরণ হবে মায়ের কাছে মামুর বাড়ি গল্প করার মতো। এখানকার কেউ বড় নেতা হতে চায় না, কিন্তু বিএনপি সম্পর্কে ভালো জানাশোনা আছে। ব্যক্তিগত কারণে হয়তোবা কারো সাথে দ্বিমত হতে পারে। আমরা চেয়েছি আজগর আলী ভাই চরাঞ্চলে বিএনপির রাজনীতির হাল ধরুক। তাছাড়া, সেসময় এভাবে আর কাউকে এগিয়ে আসতে দেখিনি। যেহেতু না তার বিএনপির রাজনীতির শুরু টা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল, তাই বলছি।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের টাঙ্গাইল সদর আসনের সেসময়কার সংসদ সদস্য সানোয়ার হোসেনের সাথে যে আচরণ করেছিল, সেটা এখন টকশোর উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । যেটা ছিল সদর আসনের জন্য লজ্জার। আবদুল মান্নান সাহেব কিংবা মাহমুদুল হাসান সাহেবের সাথে কেউ কি এমন আচরণ করার সাহস পেতো ? আমরা চাই এমন নেতা, যাকে সবাই সম্মান করবে, ভালোবাসবে।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যখন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ছিলো তখন অনেকেই তাকে ব্যবহার করেছে। তার মূল্য ছিলো বিএনপির অনেক বড় বড় নেতা কিংবা মন্ত্রীর থেকেও বেশি।
ছাত্র হিসেবে টুকু কেমন ছিলেন? কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করেছেন? তাদের পারিবারিক অবস্থান কেমন এবং কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান কেমন? এ সকল বিষয়ে শহরের মানুষ জানলেও, গ্রামের মানুষ জানতো না। এখন জানে।
১৯৯৯ সালের পর ইচ্ছে ছিল রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার। রাস্তাও খুঁজে নিয়েছিলাম অনেক দূর পর্যন্ত যাবার। পারিবারিক কারনে সেখান থেকে ফেরত এসেছি।
এসি আকরাম হোসাইন ভাই আমৃত্যু খোঁজ খবর রেখেছেন। অনেক আদর করতেন। ভোটের বিষয়ে একবার কথা হচ্ছিল। তাকে বলেছিলাম, "ছোট বেলা থেকে আপনাদের দেখে বড় হয়েছি। নিজ এলাকার স্বার্থে খুবই স্বার্থপর। আমিও ঠিক তাই। " প্রবাসী হবার পর দু'জন মানুষ খোঁজ নিতেন। একজন ছিলেন আকরাম ভাই।
মতবিরোধ কিংবা মতপার্থক্য থাকতেই পারে। যেহেতু আমি এবং আমার পরিবার প্রবাসি। এলাকায় বর্তমান নই। বিপদে আপদে কারো কাজে লাগি না। এলাকায় এমন কাউকে চাইব, যিনি সবসময় মানুষের পাশে থাকবেন। অর্থাৎ, নিজ এলাকার স্বার্থে আমি বড়ই স্বার্থপর। কথা বলতে গিয়ে যদি কোথাও মতপার্থক্য হয়েছে, সাইলেন্ট হয়ে গিয়েছি। যেহেতু না এলাকায় আমার পক্ষে কন্টিনিউ করা সম্ভব হবে না। কোন কোন জায়গায় ভুল বোঝাবুঝি থাকলেও অবসান ঘটানো খুবই দরকার।
কারণ, এই মুহুর্তে চরাঞ্চলে আজগর আলীর বিকল্প আর কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
(ছবিটি ২০১০ সালে আনুহলা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রামে তুলেছিলাম।)
তথ্য সূত্র: Mirza Rubel Parves
#টাঙ্গাইল_৫
ী
#দুইবার_উপজেলা_পরিষদ
#নির্বাচনের_অভিজ্ঞতা