05/04/2026
✈️ 🇧🇩
Fahim Al Choudhury Trust একটি ছোট্ট ফুলের মতো নিষ্পাপ প্রাণ, ফাইজার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। কয়েকদিন আগে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই শিশুটিকে যখন প্রথম দেখি, হাতে কিছু ফুল, অথচ জীবনের কঠিন বাস্তবতা তার কোমল কাঁধে, তখন হৃদয়ের ভেতর এক অদ্ভুত ব্যথা জেগে উঠেছিল। তার চোখে কোনো অভিযোগ ছিল না, কোনো অভিমান ছিল না… ছিল শুধু নীরব সহনশীলতা, আর এক টুকরো স্বপ্ন, যা প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার।
হয়তো অনেকেই জানেন না, এই পথচলা আমার জন্য নতুন কিছু নয়। অনেক দিন ধরেই আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি, পথশিশুদের জীবনের গভীর অন্ধকারে একটি ক্ষুদ্র আলোর প্রদীপ হয়ে দাঁড়াতে। তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়, সুশিক্ষার সুযোগ, ভালোবাসার স্পর্শ এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার একটি পথ তৈরি করতে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা কিংবা বনানী কড়াইল বস্তির আশেপাশে যারা আছেন, তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, আমি নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে, কোনো প্রচারের আকাঙ্ক্ষা ছাড়াই এই কাজগুলো করে যাচ্ছি।
ফাইজার দায়িত্ব নেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ তার ভাইরাল হওয়া। কারণ এই ভাইরাল হওয়া যেমন তাকে মানুষের সামনে এনেছে, তেমনি তাকে কিছু অজানা অন্ধকারের মুখোমুখিও দাঁড় করিয়েছে। এই পৃথিবীতে কিছু মানুষ আছে, যারা নিষ্পাপতার দিকে তাকিয়ে সুযোগ খোঁজে, দুর্বলতার সুযোগ নেয়। আমাদের সমাজ আসলেই সুন্দর, ভালোবাসা, মায়া, সহমর্মিতা দিয়ে গড়া। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালে কিছু হায়েনার মতো মানুষ লুকিয়ে থাকে, যারা নিষ্পাপতার ওপর আঘাত হানতে চায়। আমি চাইনি সেই ছায়া তার জীবনে কখনো পড়ে। তাকে রক্ষা করা, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এটাই আজ আমার কাছে একটি ইবাদত, একটি আমানত।
আমাদের ট্রাস্ট ইতোমধ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছে প্রাথমিক সহায়তা নিয়ে। পাশাপাশি, আমি তার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছি, যেখানে থাকবে নিরাপত্তা, শিক্ষা, মানসিক বিকাশ এবং সম্মানের একটি পূর্ণাঙ্গ পথচিত্র। ইনশাআল্লাহ, সে তার নানুর স্নেহ-ভালোবাসার মাঝেই থাকবে, তার শিকড়ের সাথেই বড় হবে, আর আমরা থাকব তার পাশে, নীরব অভিভাবকের মতো।
খুব শীঘ্রই আমি সিলেটে গিয়ে তার সাথে সরাসরি দেখা করব, তার অভিভাবকদের সাথে বিস্তারিতভাবে কথা বলব, এবং আপনাদের সবার সাথে আমার এই পরিকল্পনাটি ভাগ করে নেব। এছাড়াও, আমি এই পথচলায় সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ, সচেতন নাগরিক এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মূল্যবান পরামর্শ গ্রহণ করব, যাতে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ আরও পরিপূর্ণ, স্বচ্ছ ও কল্যাণমুখী হয়।
একজন গর্বিত সিলেটি হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা সিলেটিরা হৃদয়ে এক, মানবতায় এক, দায়িত্ববোধে অটুট। কোনো অসহায়, অবহেলিত বা দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আমরা কখনো বিভক্ত হই না, আমরা একসাথে দাঁড়াই, একসাথে লড়ি, একসাথে ভালোবাসি। আমরা অনেক কিছুতে আপস করতে পারি, কিন্তু আমাদের অঙ্গীকার, আমাদের ভালোবাসা, আমাদের সহমর্মিতা এবং আমাদের ঐক্যের ক্ষেত্রে কখনোই আপস করি না। এটাই আমাদের পরিচয়, এটাই আমাদের শক্তি, সিলেট মানেই হৃদয়ের টান, দায়িত্বের বন্ধন, আর মানুষের পাশে থাকার এক অটল প্রতিজ্ঞা।