17/06/2026
দলিলের দাগ নম্বর ভুল বনাম সীমানার প্রাধান্য: স্বত্ব ঘোষণা ও দখল পুনরুদ্ধারে হাইকোর্টের যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ
- Advocate Saddam Hossen
_______________________________
✅ [𝐁𝐋𝐃, 𝟑𝟎 (𝐇𝐂𝐃), 𝟒𝟐𝟒]
✅সিভিল রিভিশন নং ৪১২৬/২০০৫
✅ #মামলার_পটভূমিঃ
এই মামলার মূল বিবাদ ছিল ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন ১৩৮ নং দাগের (সি.এস খতিয়ান ৫৬৯) জমি নিয়ে। মামলার বাদী আব্দুল জব্বার ও তার ভাই আব্দুল করিম দাবি করেন যে, ১৯৪৯ সালে তাদের মা চন্দ্রভান বিবি একটি হেবা-বিল-এওয়াজ দলিলের (দলিল নং ৪৩৬৭) মাধ্যমে এই জমি তাদের প্রদান করেন।
তবে দলিলের করণিক ভুলের কারণে ১৩৮ নং দাগের পরিবর্তে ১৬৮ নং দাগ লেখা হয়েছিল। বাদীপক্ষ দাবি করে যে, তারা উক্ত জমিতে ভোগদখলে ছিলেন এবং ১৯৯৩ সালের অক্টোবর মাসে বিবাদীরা 'গ' তফসিলভুক্ত জমি থেকে তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে। অন্যদিকে বিবাদীরা দাবি করেন, এই জমি উসমান ফকিরের ছিল এবং বাদীপক্ষের মামলাটি মূলত দলিল সংশোধনের একটি তামাদি প্রচেষ্টামাত্র।
✅ #অধস্তন_আদালতের রায়ঃ
যুগ্ম জেলা জজ, ২য় আদালত, ঢাকা (Title Suit No. 278/1993) মামলাটি বিচার করে বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, ১৯৪৯ সালের দলিলে দাগ নম্বর ভুল থাকলেও জমির যে সীমানা (boundary) দেওয়া হয়েছিল তা ১৩৮ নং দাগের সাথে হুবহু মিলে যায়। এছাড়া বিবাদীরা জোরপূর্বক জমি দখল করেছেন বলে আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
✅ #আপিল_আদালতের_রায়ঃ
বিবাদীপক্ষ বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা জজ, ১ম আদালত, ঢাকায় আপিল (Title Appeal No. 149/2002) করেন। আপিল আদালত ২০০৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন এবং আপিলটি খারিজ করে দেন। আপিল আদালত বাদীর মালিকানা ও দাগ নম্বর ভুলের বিষয়টি গ্রহণ করলেও বিবাদীদের দ্বারা দখলচ্যুতির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ দেননি।
✅ ্ষের_বক্তব্যঃ
✅আবেদনকারী (বিবাদীপক্ষ):
তাদের প্রধান যুক্তি ছিল যে, দলিলে দাগ নম্বর ভুল থাকায় এটি সংশোধনের মামলা হওয়া উচিত ছিল যা অনেক আগেই তামাদি হয়ে গেছে। এছাড়া তারা দাবি করেন, বাদীরা কোনোভাবেই জমির দখলে ছিলেন না এবং দখলচ্যুতির কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ বা প্রমাণ নিম্ন আদালতগুলোতে উপস্থাপিত হয়নি।
✅বিবাদীপক্ষ (বাদীপক্ষ):
তাদের আইনজীবীর যুক্তি ছিল, তামাদির প্রশ্নটি বিবাদীরা আগে কখনো তোলেননি, তাই রিভিশন পর্যায়ে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী, দলিলের দাগ নম্বর এবং সীমানার মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে সীমানাই প্রাধান্য পাবে। তারা ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর দখলচ্যুত হয়েছেন বলে জোরালো দাবি করেন।
✅ #হাইকোর্টের_রায়_ও_পর্যবেক্ষণঃ
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং সাক্ষ্য প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে নিম্নলিখিত পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন:
#সীমানার_প্রাধান্য:
আদালত স্পষ্টভাবে জানান যে, যদি কোনো দলিলে দাগ নম্বর ভুল থাকে কিন্তু সীমানা সঠিক থাকে, তবে আইনিভাবে সীমানাই কার্যকর হবে।
#তামাদির_প্রশ্ন:
যেহেতু বিবাদীপক্ষ ট্রায়াল কোর্টে তামাদির বিষয়ে কোনো আপত্তি তোলেনি বা কোনো ইস্যু গঠন করেনি, তাই রিভিশন আদালতে এই নতুন যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
#সাক্ষ্য_পর্যালোচনা:
আপিল আদালত দখলচ্যুতির বিষয়ে নীরব থাকায় হাইকোর্ট নিজেই সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করেন। পি.ডব্লিউ-২ এবং পি.ডব্লিউ-৪, যারা উভয় পক্ষেরই আত্মীয়, তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত নিশ্চিত হন যে বাদীরা ১৯৯৩ সালের ১৫ অক্টোবর তারিখে দখলচ্যুত হয়েছিলেন।
#মহামান্য_হাইকোর্টের_সিদ্ধান্তঃ
হাইকোর্ট আবেদনকারীদের আনা রিভিশন আবেদনটি #খারিজ_করে_দেন ( )।
এর ফলে নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতের বাদীর পক্ষে দেওয়া রায় ও ডিক্রি চূড়ান্তভাবে বহাল থাকে। আদালত স্থগিতাদেশ বাতিল করে অবিলম্বে মামলার নথি নিম্ন আদালতে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
✍️
সাদ্দাম হোসাইন আবির
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।