15/09/2025
দুআ কবুল হওয়ার টিপস দিব অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম
দুআ কবুলের শর্ত আছে, শর্ত আর টিপ্স কিন্তু এক না। শর্ত হলো যা না মানলে দুআ কবুল হবে না, আর টিপ্স হলো যা ফলো করলে কবুল হওয়ার চান্স বেড়ে যাবে ইন-শা-আল্লাহ। তবে এখন আলোচনা করা যাক।
▪️দুআ করার সময় অবশ্যই হাত তুলে দুআ করা, এটা মাস্ট বি করবেন। কোন ভাবেই বাদ যেন না যায়। কারণ আল্লাহ খালি হাতে তার বান্দাকে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান।
▪️দুআ করার শুরুতে আল্লাহ আযযা ওয়া জালের প্রশংসা দিয়ে শুরু করবেন। এখন সেটা নিজের ভাষায় বলেন, আর কোন দোয়ার মাধ্যমে বলেন সেটা আপনার ইচ্ছে। সুবাহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি, আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ, ইত্যাদি ইত্যাদি ও বলতে পারেন।
▪️দুআর শুরুতে 'আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা' এটাও বলবেন, চেষ্টা করবেন কষ্ট করে হলেও। হাদিসে আছে এ দুআ'র মাধ্যমে আসমানের দরজা খুলে যায়। আপনার দুআ আসমানের মাধ্যমেই আল্লাহ'র কাছে যাবে, আসমানের দরজা খোলা থাকলে আরো সহজ।
▪️দুআ করার সময় আল্লাহ'র বিভিন্ন নামের মাধ্যমে স্মরণ করা, কিছু উল্লেখ করি। যেমন: ইয়া হাইয়্যু-ইয়া কাইয়্যুম, ইয়া আরশেল আযিম, ইয়া যুল যালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া-সাবুর, ইয়া গাফুর, ইয়া রহমান, ইয়া রহিম, ইয়া আহাদ, ইয়া সামাদ, ইয়া মুজিব, ইয়া আন নূর, ইয়া আর-রাফি, ইয়া বাসিত, ইয়া মুমিন, ইয়া মুহাইমিন, ইয়া মালিকউল মুলক। সব একবারে বলা লাগবে না, দোয়া করার সময় মাঝে দিয়ে এভাবে ডাকবেন।
▪️মাস্ট বি রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দুরুদ পাঠ করবেন। এটা (খ.) নং পয়েন্টের সাথে পড়ে নিবেন। দুআর শুরুতে মাঝে, শেষে দুরুদ পড়বেনই।
▪️যে অবস্থায় ই থাকেন না কেন আল্লাহর কাছে শোেকর আদায় করবেন, ভালো হোক কিংবা খারাপ সেটা দেখবেন না। আল্লাহ বলেছে, যদি আমরা শুকরিয়া আদায় করি তাহলে আমাদের নেয়ামত আরো বৃদ্ধি করে দিবেন।
▪️দোয়া কাবুলের সময় গুলো কাজে লাগাবেন। যেমন: বৃষ্টির সময়, সফরের সময়, ইফতারের আগের সময় টা, শেষ রাতে। ইকামাতের সময় ও করবেন।
▪️কিয়ামুল লাইল আদায়ের ব্যাপারে আরো বেশি জোড় দেয়া যায়। কারণ রাতের শেষ ভাগে আল্লাহ প্রথম আসমানে আসেন। আর তাহাজ্জুদ এমন একটি তীর যা তার লক্ষ্য কখনো ছেদ করে না।
▪️প্রতি ওয়াক্তে ফরজ নামাযের পর যিকির শেষে দুআ করবেন। এক ওয়াক্ত ও যেন বাদ না যায় সেটা মাথায় রাখবেন।
▪️সেজদায় দুআ করা। কারণ এ সময় বান্দা তার রবের নিকটবর্তী অবস্থায় থাকেন।
▪️দুআ মুখস্তের মত করবেন না, কি বলছেন তা মনে প্রাণে বুঝে অনুভব করে তারপর বলবেন। বাচ্চারা যেমন মায়ের কাছে আকুতি মিনতি করে চকলেট চায়, আপনিও আপনার প্রয়োজন আকুতি মিনতি করে বলবেন।
▪️সূরা ফাতিহা পড়ে, তারপর সূরাহ বাকারাহ'র শেষ দুই আয়াত পড়ে দুআ করা হাত তুলে। পয়েন্ট এ কয়টাই থাক। আর হ্যাঁ আপনি যা কিছুর জন্যই দুআ করেন না কেন একটা জিনিস দুআ করার সময় অবশ্যই বলবেন, 'ইয়া আমার রব, এই জিনিস টা জন্য আমার জন্য দুনিয়া এবং আখিরাতে কল্যাণকর হয়ে থাকে তবে আমাকে দান করো। যদি কল্যাণ না থাকে তবে তা থেকে আমাকে বিরত রাখো। নিশ্চয়ই তুমি উত্তম ফয়সালাকারী।