15/10/2022
কয়েকটি মিডিয়া পল্লী শিরোনাম করেছে, "সাকা চৌধুরির ছেলের বিতর্কিত শ্লোগান।"
"নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার" বিতর্কিত শ্লোগান? কেন??
সাকা চৌধুরীর ছেলে দিয়েছে বলে?
পাকিস্তান আমলে এই শ্লোগান দেয়া হতো বলে?
বিএনপির মহাসমাবেশে উচ্চারিত হয়েছে বলে?
এক. যদি সাকা চৌধুরীর মানবতা বিরোধী পরিচয়ের কারণে তার ছেলের মুখে উচ্চারিত মুসলিম জাতিসত্তার সর্বোচ্চ চেতনাধারী শ্লোগান বিতর্কিত হয়ে যায়, তাহলে তো চিহ্নিত চোর, লুটেরা, সন্ত্রাস ধর্ষক, খুনি ও মাদক ব্যবসায়ীদের মুখে বারংবার উচ্চারিত হবার ফলে "জয় বাংলা"কেও (যে শ্লোগানকে রাষ্ট্রীয় শ্লোগান ঘোষণা করা হয়েছে) বিতর্কিত বলতে হবে। এমন স্পর্ধা কি হয়েছে কারও?
দুই. পাকিস্তান আমলে নারায়ে তাকবিরের শ্লোগান যতোটা আইয়ুব-ইয়াহইয়া আর ভুট্টো-জিন্নারা দিয়েছে, ততোটাই দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের মানুষ। সে হিসাবে এটা কেবল মুসলিম জাতীয়তাবাদী শ্লোগান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বাঙালি জাতিসত্তার সাথে এই শ্লোগান ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সুতরাং নারায়ে তাকবিরকে বিতর্কিত বলা স্ব-জাতির গাদ্দারগুলোকে এখনই চিহ্নিত করা জাতীয় স্বার্থেই প্রয়োজন।
তিন. বাকি রইলো সমাবেশ!
যদি আপত্তির জায়গা হয় বিএনপি, তাহলে তো বিতর্কিত হবে দল বা সমাবেশ। শ্লোগান তো নয়! যদি বলা হয় এটা ধর্মের অপব্যবহার, তাহলে নিশ্চয়ই আলোচিত তাহাজ্জুদ, তিলাওয়াতও ধর্মের অপব্যবহারই হবে। নতুবা কোনটাই নয়।
বলি কি! চিহ্নিত বামপাড়া ও অবিশ্বাসী মহলে নারায়ে তাকবিরের শ্লোগান গাত্রদাহের কারণ হবে, এটা তো অনুমেয়। কিন্তু যে বিএনপির সমাবেশে এই শ্লোগান উচ্চকিত হলো, মিডিয়ার প্রশ্নে তারা কেন বিব্রত? বিএনপিকে ইসলামী মূল্যবোধের দল পরিচয় দিতেই যেখানে তার সমর্থকরা বেশি সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, সেখানে ধর্মীয় বিষয়ে এমন লুকোচুরি তাদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বৈ কী হতে পারে? বিএনপির উচিত অফিসিয়ালি অবস্থান স্পষ্ট করা। তারা তাকবিরের পক্ষে না বিপক্ষে? একদিকে তাকবির দিয়ে ধর্মীয় সেন্টিমেন্টও ঠিক রাখবে আবার অপর দিকে ধর্মবিদ্বেষীদের সাথে কণ্ঠও মেলাবে–অতীতের মতো এমন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড চরিত্র তাদের সুদিন বয়ে আনবে না কখনও।
আর হ্যাঁ! আওয়ামী লীগ তো নূহ আ. এর নৌকায় চড়ে মদীনা সনদে রাষ্ট্র চালানো দল, নারায়ে তাকবিরের শ্লোগানে তাদের দুঃখটা কোথায়, সেটাও বোধগম্য না। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক সেই 'ইনশাআল্লাহ'কে যেখানে বাংলাদেশ স্বাধীনতার সূচনা বলা হয়, সেখানে 'আল্লাহু আকবার' নিয়ে তাদের কেন বিপত্তি হবে? আওয়ামী লীগের যেসকল নেতা-কর্মীর নারায়ে তাকবিরে আপত্তি আছে, নির্দ্বিধায় বলা যায় এরা প্রধানমন্ত্রীর তাহাজ্জুদ (!) আর কুরআন তিলাওয়াতেরও ঘোর বিরোধী। সুতরাং তাদেরকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হলো। নিজেদের আত্মপরিচয় ও ইসলাম নিয়ে অবস্থান পুনঃঘোষণা করতে হবে।
পরিশেষে বলি, 'নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার' শ্লোগান নিয়ে এমন শিরোনাম ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। নিঃসন্দেহে এটা স্পর্ধা। ধর্মানূভুতিতে প্রকাশ্য আঘাত। মুসলিম জাতীয়তা বিরোধী এই অপরাধের জন্য তাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে টুডে অর টুমরো।
#নারায়ে_তাকবির #আল্লাহু_আকবার
-নূরুল করীম আকরাম