25/10/2022
❏ চোর থেকে খাদিম
ড. আবদুর রহমান বলেন, মুরতাজা নামের এক পাকিস্তানি যুবক রিজিকের অন্বেষণে নিজ দেশ ছেড়ে সৌদি আরব আসে। তারিফে একটি সাধারণ চাকুরী করে প্রায় ১,৫০০ রিয়াল উপার্জন করতো। বিয়ে আর নিজ দেশে ফিরে সচ্ছল জীবন-যাপনের জন্য তাঁর অর্থের দরকার ছিল। হঠাৎ একদিন তার কাছে দুঃসংবাদ এল যে , তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে এবং যদি তিনি দ্রুত চিকিৎসা না পান, তবে মারা যেতে পারেন। মায়ের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৭,০০০ রিয়ালের প্রয়োজন। সে সৌদিতে আর তার মা পাকিস্তানে টাকা জোগাড়ের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছিল, যাতে এ প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসা করতে পারে। মুরতাজার কাছে মাত্র ১,০০০ রিয়াল ছিল। কারখানার অনেকের কাছে সাহায্য বা ঋণ চেয়েও কোনো সাহায্য পায়নি। মুরতাজা বলেন, ‘আমি কোনো উপায় পাচ্ছিলাম না। তাই চুরি করার সিদ্ধান্ত নিই। 'তাই সে কারখানা ছেড়ে পাশের এক বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার চুরির জন্য যায়। রাতের দ্বিতীয়াংশে সে বাড়িতে ঢুকে আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সে ধরা পড়ে যায়। তাকে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সে বলে, “এক ঘন্টা পার না হতেই লোকজন আমার হাতকড়া ও দরজা খুলে দেয়।
আমি খুব কাঁদছিলাম কারণ আল্লাহই জানেন যে আমি কেবল দারিদ্র্য ও অভাবের জন্যই চুরি করেছিলাম। 'তার হাতকড়া খুলে আবার পুলিশের গাড়িতে বসিয়ে দেওয়া হলো এবং যে বাড়িতে সে চুরি করার চেষ্টা করেছিল সেখানে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। তাকে বসার জায়গা করে দেওয়া হলো। তারপর তাকে রুমে রেখে দরজা বন্ধ করে সবাই চলে গেল। সে চুপচাপ বসেছিল। এরপর এক যুবক খাবার নিয়ে রুমে এসে সালাম দিলো আর সে রাতের খাবার খেয়েছিল কি না জিজ্ঞেস করল। সে বলল, না। এরপর সে খাবার খেলো, তখন ফজর হতে ১৫ মিনিট বাকি ছিল। এরপর সেই যুবক তার পাশে এক অন্ধ বৃদ্ধকে নিয়ে এলো। বৃদ্ধলোকটি সালাম দিলে, সে সালামের জবাব দিলো। বৃদ্ধলোকটি তাকে বলল, কেমন আছো বৎস? এসো ফজরের সালাত আদায় করি। এরপর দুজনে ফজরের সালাত পড়লেন। সালাত শেষে ইমামের জন্য নির্ধারিত একটি চেয়ারে বৃদ্ধলোকটিকে বসানো হলো। তিনি লোকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে দারস দিতে শুরু করলেন। তখন মুরতাজা কৌতুহলবশত পাশের লোকজন থেকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন যে, এই বৃদ্ধ লোকটিই শাইখ বিন বায। আর মনে মনে চিন্তা করল, ‘ আমি কি তাহলে শাইখ বিন বাযের বাড়িতে চুরি করতে এসেছিলাম?
'দারস শেষে শাইখ ছাত্রদের সঙ্গে তাকে তাঁর ঘরে নিয়ে গেলেন এবং সবার জন্য সেখানে নাস্তা তৈরিই ছিল। শাইখ তাকে পাশে বসালেন আর খাওয়া শেষে কেন সে চুরি করার চেষ্টা করেছিল তা জিজ্ঞেস করলেন। সে আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলল, খুব প্রয়োজনের কারণে চুরি করেছে। তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য ৭,০০০ রিয়াল প্রয়োজন তা জানালো। কীভাবে তার টাকা ব্যবস্থার সব চেষ্টা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে তা জানালো। তখন শাইখ তাঁর ছেলে বা অন্য কাউকে ডাকলেন এবং তাকে ১৯,০০০ রিয়াল প্রদান করলেন। মুরতাজা বলল, হে শাইখ! আমার তো ৭,০০০ রিয়াল লাগবে! কিন্তু শাইখ বাকি টাকা তার খরচ হিসেবে রাখতে বললেন। এরপর সে তার মায়ের কাছে চলে যায়; চিকিৎসা করে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় সে সুস্থ হয়ে উঠে। এরপর সে শাইখের কাছে ফিরে আসে। সে বলে, শাইখের স্বজনরা আমাকে জানায় যে কীভাবে সেই রাতে আমি ধরা পড়েছিলাম। তখন রাতের দ্বিতীয়াংশ আর শাইখ কিয়ামুল লাইল আদায় করছিলেন। তিনি প্রচণ্ড আওয়াজ শুনতে পান এবং বুঝতে পারেন যে চোর ঢুকেছে। শাইখের কাছেই একটি অ্যালার্ম ছিল যা দিয়ে তিনি পরিবারের লোকজনকে কিয়ামুল লাইল বা ফজরের সালাতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। শাইখ বোতাম চেপে পরিবারকে জাগিয়ে দেন। তারা তাঁর কাছে এসে জানতে পারে যে, বাসায় চোর এসেছে। তারা গার্ডকে জানায়। আর গার্ড পুলিশে খবর দেয়।
ফলে সে পালিয়ে যাওয়ার আগেই সে গ্রেফতার হয়। তাকে যখন জেলে নেওয়া হয় তখন শাইখকে জানানো হয়। তিনি বলেন, ‘না, তাকে ছেড়ে দাও এবং এখানে নিয়ে এসো। 'মুরতাজা আরো বলেন, ‘যখন আমি পাকিস্তান থেকে ফিরে শাইখের কাছে যাই, তাঁর কপালে চুমু দেই। আমি তাঁর কাছে আবেদন করি আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে তাঁর খাদিম হিসেবে গ্রহণ করতে। আমি তাঁকে ১,৫০০ রিয়াল ফেরত দেই। 'শাইখ বলেন, 'এটা কী? 'আমি বললাম, 'হে শাইখ! এটা অবশিষ্ট রিয়াল। ’শাইখ বললেন, ‘এটা পুরোটাই তোমার। 'এই যুবক শাইখের ব্যক্তিগত খাদিম হিসেবে নিয়োজিত হয় এবং শাইখ’ র মৃত্যু পর্যন্ত খিদমতের দায়িত্ব পালন করে।
📕 Source: How Bin Baz Dealt With A Thief Breaking Into His Home.
📓 বই : (বিংশ শতাব্দীর তিন কিংবদন্তী বই পৃ: ৭৫-৭৭)
জান্নাহ্