18/08/2026
দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় আছি। Facebook, YouTube, Instagram, TikTok—সব মিলিয়ে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা যেমন পেয়েছি, তেমনি প্রতিদিনই ইনবক্স ও কমেন্ট বক্সে এসেছে কটু কথা, গালাগালি, অপমান, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ আর নানান নেতিবাচক মন্তব্য।
একসময় এসব দেখে খুব খারাপ লাগত। কখনো আবেগের বশে নেতিবাচক উত্তর দিয়েছি, কখনো কোনো মন্তব্য সহ্য করতে না পেরে হাইড করেছি। মনে হতো—একজন মানুষ আমাকে না জেনে, আমার মনের কথা না বুঝে এতটা খারাপ কথা কীভাবে বলতে পারে?
কিন্তু সময় আমাকে ধীরে ধীরে অন্যভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
এখন কেউ আমাকে গালি দিলে, কটু কথা বললে কিংবা অপমানজনক মন্তব্য করলেও আগের মতো খারাপ লাগে না। বরং মাঝে মাঝে মনে হয়—এই মানুষটাও তো তার মূল্যবান সময়ের কিছুটা আমাকে দিয়েছে। আমাকে মনে করেছে বলেই আমার পোস্টে এসে কিছু লিখেছে।
হয়তো আমার প্রতি জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ কিংবা বিরক্তিটুকু প্রকাশ করে তার মনটা একটু হালকা হয়েছে। আমাকে দুটো গালি দিয়ে যদি তার বুকের ভেতরের চাপটা একটু কমে, আমাকে কটু কথা বলে যদি সে সামান্য মানসিক প্রশান্তি পায়—তাহলে সেই প্রশান্তিটুকুও তার প্রাপ্য।
জীবনে সব মানুষের ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব নয়। কেউ ভালোবাসবে, কেউ সমালোচনা করবে, কেউ ভুল বুঝবে, আবার কেউ হয়তো বিনা কারণেই অপছন্দ করবে। আমি এখন ভালোবাসার মানুষগুলোর প্রতি যেমন কৃতজ্ঞ, তেমনি যারা আমাকে অপছন্দ করেন, সমালোচনা করেন কিংবা কটু কথা বলেন—তাদের প্রতিও আমার কোনো রাগ বা বিদ্বেষ নেই।
কারণ দিন শেষে আমরা সবাই মানুষ। প্রত্যেকের বুকের ভেতরেই কিছু না কিছু কষ্ট, ক্ষোভ, হতাশা আর না বলা গল্প জমে থাকে।
তাই যারা আমাকে গালি দেন, বাজে মন্তব্য করেন, কটূক্তি করেন—আপনারাও ভালো থাকুন। আপনার পরিবার ভালো থাকুক। আপনার জীবনে শান্তি আসুক। আমাকে দুটো কথা বলে যদি আপনার মনটা হালকা হয়, যদি কিছুটা স্বস্তি পান, তাতেও আমার আপত্তি নেই।
শুধু চাই, আপনার মনের রাগ-ক্ষোভগুলো একদিন ভালোবাসায় পরিণত হোক। কারণ ঘৃণা নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকাটা অনেক বেশি শান্তির।
আপনি আমাকে ভালোবাসুন কিংবা অপছন্দ করুন—আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্য ভালোবাসা ও শুভকামনাই থাকবে।
হয়তো এটাই সময়ের সঙ্গে আমার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন— এখন আর মানুষের ঘৃণার জবাবে ঘৃণা দিতে ইচ্ছে করে না; বরং মনে হয়, মানুষটা ভালো থাকুক, শান্তিতে থাকুক। ❤️
চট্টগ্রাম বৃদ্ধাশ্রম আবু তাহের,