05/09/2026
#বেলা_অবেলায় #পর্ব_৩
লেখনী : কুলচুমা ইয়াছমিন কনা
ড্রয়িং রুমে ঢুকে দেয়ালে টাঙানো বড় ছবি টি দেখে অবাক হয়ে গেলো বাঈজিদ।
মাহনূর তাহলে আমজাদ হোসেন এর মেয়ে!
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক এবং কলেজের অধ্যাপক। উনার অবস্থান,চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, পরোপকারিতার প্রভাব কক্সবাজারে এতো বেশি যে, উনাকে চেনে না, উনার সম্পর্কে জানে না এমন মানুষ খুব কমই আছে । বিভিন্ন প্রোগ্রাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, শিক্ষণীয় সেমিনার, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানসহ শহরের নানাবিধ সামাজিক কালচারাল অনুষ্ঠানে উনার উপস্থিতি প্রায় দেখা যেতো।
আমজাদ হোসেন কে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে বাঈজিদের। ভালো পরিচয়ও ছিলো। চমৎকার একজন মানুষ। কক্সবাজারে যে ক'জন ভালো মানুষের দেখা পেয়েছে, তাঁর মধ্যে আমজাদ হোসেন একজন। চোখে-মুখে, কথায় যেমন আন্তরিক ছিলেন তেমনি দারুণ মোটিভেট করার ক্ষমতা ছিলো।
বাঈজিদকে খুব স্নেহ করতেন। প্রায় ভালো-মন্দ খোঁজ নিয়ে বলতেন,বাঈজিদ এটা তোমার শহর মনে করবে। যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে ইনফর্ম করবে। কক্সবাজার কে আপন করে দেখো,কক্সবাজারের মানুষের আন্তরিকতা তোমাকে মুগ্ধ করবে।
প্রায় বলতেন, একদিন বাড়িতে এসো। কিন্তু আমি বাড়িতে থাকি রাত ১২ টার পর,হা হা।
তারপর নিজেই হাসতে হাসতে বলতেন, তুমি আসলে, আমি বাড়িতে থাকবো। একদিন জানিয়ে, চলে এসো কেমন? তোমার আন্টি কিন্তু দারুণ মজার মজার পিঠা বানায়!
ভরাট কন্ঠে কবিতা আবৃত্তি করতেন ভদ্রলোক । চৌকস বক্তৃতা দিতেন। নিজের জীবনের ছোট ছোট ঘটনা দিয়েই তরুণ প্রজন্ম কে মোটিভেট করতেন।
উনার মৃত্যুর সংবাদ যখন পায়,তখন বাঈজিদ একটা অপারেশনে ছিলো। বাড়িতে আসার সুযোগ না হলেও, উনার জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিল।
মাহনূর একবারও উচ্চারণ করেনি, তাঁর বাবা আমজাদ হোসেন। অদ্ভুত মেয়ে!
বাঈজিদ নামটা পড়েছে, দেখেছেও। কিন্তু কত আমজাদ হোসেন-ই তো থাকতে পারে। তাছাড়া এই মেয়েটা তাঁর কথায়, আচরণে একবারের জন্যও নিজের পরিচয় প্রকাশের চেষ্টা করেনি।
বাঈজিদের আগেই মনে হয়েছিল, এই মেয়েটা আর দশটা মেয়ে থেকে একটু ভিন্ন। কিন্তু এখন দেখছে,আপাদমস্তক ভিন্ন।
ইন্টারেস্টিং!
বাঈজিদকে দেয়ালে টাঙানো ছবির দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মাহনূর বললো, আমার বাবা,আমজাদ হোসেন।
জ্বি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন।
আমজাদ স্যার আমার ভালো পরিচিত। স্যারের বাড়ি এসে পড়লাম বুঝতে ই পারিনি। স্যার প্রায় আসতে বলতেন, কিন্তু এভাবে আসবো ভাবিনি।
মুচকি হেসে, খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে, মাহনূর বসার জন্য বললো।
আপনারা বসুন প্লিজ,আমি চা-নাস্তার ব্যবস্থা করছি। আর মাকে ডেকে দিচ্ছি।
মাহনূর প্রস্থান করার সাথে সাথে, হল রুমের মতো বড় ঘর টা তে চোখ বুলাতে শুরু করলো বাঈজিদ।
ঘরটা হুট করে দেখলে খুব স্বাভাবিক মনে হবে। কিন্তু মনোযোগ স্থির করে দেখলে, চোখে পড়বে অনেক কিছুই। বিশাল বড় ড্রয়িং রুমটা ভালো করে খেয়াল করলে বুঝা যায়, একই ঘরের মাঝখানে একটা অদৃষ্ট দেয়াল আছে। যেন দুটি আলাদা জগত, আলাদা সময় কিংবা আলাদা রুচি।
বুঝিয়ে বলছি-
যেই পাশে এই মুহূর্তে বাঈজিদ দাঁড়িয়ে আছে, সেই পাশ টা ই আভিজাত্যের ছড়াছড়ি। যেমনটা আমজাদ হোসেনের বাড়িতে হওয়া একদম স্বাভাবিক। ইতালিয়ান মার্বেলের মেঝের ওপর, গাঢ় কাঠের ভারী ফার্নিচারগুলো দারুণ দেখাচ্ছে। দক্ষিণ দেয়ালের পাশে চেস্টারফিল্ড সোফা, তাঁর কিছু টা দূরত্বে দুটো উইংব্যাক চেয়ার, মাঝখানে কাচের টপের সেন্টার টেবিল।
দেয়ালঘেঁষা কনসোল টেবিলের ওপর দামি টেবিল ল্যাম্প, চকচক করছে। পাশে পালিশ করা কাঠের ক্যাবিনেট। ভারী পর্দা আর নরম আলোয় অংশটুকু আভিজাত্যপূর্ণ, তবে কোথাও বাড়াবাড়ি নেই।
অন্য পাশটার দিকে হেঁটে গেলো বাঈজিদ। মিলিয়ে দেখলে এই পাশটা সম্পূর্ণ আলাদা।
পুরোনো ধাঁচের এক সেট কাঠের সোফা, সাদা কাপড়ের কভার, দুটো হাতলওয়ালা চেয়ার।
আর ছোট গোল কাঠের টেবিল,যেটা সাদা রানার দিয়ে আবৃত । তাঁর উপর কাঁচের ফুলদানি,তাতে তাজা, শুভ্র, কিছু ফুল রাখা। যার মোহনীয় ঘ্রাণ পুরো ঘরে ছড়াচ্ছে।
জানালার পাশে বেতের আরাম কেদারা। দেয়ালে কয়েকটি পুরোনো সাদাকালো ছবি, দামি কিছু নেই, কিন্তু সবকিছুতেই একটা শান্ত, স্নিগ্ধ ঘরোয়া সৌন্দর্য।
পাতলা সাদা পর্দাগুলো মৃদু বাতাসে এদিক ওদিক সরে যাচ্ছে। পর্দাগুলোর ওপাশে একটা বারান্দা। লম্বা বারান্দা জুড়ে নানান ফুলের গাছ।
বাঈজিদ পুরো ঘরটা দেখে অবাকই হলো।
এই পাশটায় বাঈজিদের বেশ ভালো-স্নিগ্ধ মনে হলো। স্বাচ্ছন্দ্যে এই পাশের একটা কাঠের সোফায় বসে পড়লো। সাদা কাভারে আবৃত কুশন টা কোলে তোলে নিলো।
তাজা ফুলগুলোর সুগন্ধিতে একবার চোখ বন্ধ করে নিলো। মাহনূর এসে বললো, একি! আপনি এদিকে চলে আসলেন যে?
দেখতে, দেখতে চলে এলাম। এদিক টা-ই বেশ আরামবোধ করছি। এতো সুন্দর করে সাজানো! এতো স্নিগ্ধ! অসাধারণ সত্যি।
এই পাশটায় বাপ্পি বসতো। বাপ্পির প্রিয় কর্ণার বলতে পারেন। সকালে খুব ভোরে এদিক দিয়ে হুড়মুড়িয়ে বাতাস ঢুকে। বাপ্পি ঐ বেতেরচেয়ার টায় বসে কুরআন তেলাওয়াত করতো। বারান্দার ফুলের সুবাস, সকালের বাতাস, গ্রিন টি আর শুভ্র এই পরিবেশ টা তে বাপ্পি যতক্ষণ সম্ভব কাটাতেন। বাপ্পির স্টাডি রুমটাও এমন সাদামাটা। তবে বেডরুম টা মাম্মির পছন্দে,তাই ওটা দামী দামী আসবাবে ভরা। বাপ্পি বেডরুমে শুধু ঘুমাতেন। বাকি যতক্ষণ বাড়ি থাকতেন, ড্রয়িং রুমের এই সাইড আর স্টাডি রুমে ই সময় কাটাতেন। আসলে বাপ্পি চাকচিক্যময় জীবন কম পছন্দ করত। তাই এপাশ টা বাপ্পি নিজের মতো ই রেখেছে। আমরাও আর পরিবর্তন করিনি। আমারও ভালো লাগে। এখন এদিক টা আমিই ইউজ করি বেশিরভাগ।
চলুন, আমরা ওপাশ টা-ই গিয়ে বসি।
মাহনূর পাশের উইংব্যাক চেয়ারে বসলো। সুতির একটা কুর্তি পরনে। সাদা কুর্তির সাথে কালো পায়জামা। গলায় স্কার্ফ ঝুলানো। চুলগুলো ক্লিপ দিয়ে আটকনাো। সম্ভবত সকালে চিরুনি লাগানো হয়নি। পাখির বাসার মতো ঝাঁগড়া হয়ে আছে।
তবে এতটুকু অগোছালো লাগছে না। কথায়, বেশভূষায় এতটুকু জড়তা নেই, ঢং নেই।
এই জেনারেশনে এমন এক পিস, কীভাবে? আপন মনে ভেবেই হেসে উঠলো বাঈজিদ।
নীরবতা ভেঙে মাহনূর বাঈজিদ কে উদ্দেশ্য করে বললো, আপনি বাপ্পির পরিচিত আমি জানি। আপনার কথা বাপ্পির কাছে শুনেছিলাম।
কিন্তু আপনি সেটা থানায় বললেন না কেন?
খুব হেয়ালি ভাবে উত্তর দিলো মাহনূর,এমনি।
মাথাটা সামান্য দুলে, কাত করে বলল। মাথার চেয়ে বেশি দুললো তাঁর কার্লি চুল।
বাঈজিদ নিজেই বুঝতে পারছে না, এই মেয়েটার প্রতিটি পলক সে এতো বেশি খেয়াল করছে কেন? অবশ্য তাঁর পেশায় এটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা অপরাধীর ক্ষেত্রে। জীবনে প্রথমবার কোনো মেয়ে কে এভাবে খেয়াল করছে। নিজের ভেতর কিছু একটা হচ্ছে। কিছু একটা.. কিন্তু কি সেটা বুঝে উঠতে পারছে না।
বাঈজিদের ৩৪ বছরের জীবনে এমন অনাসৃষ্টি কারবার কখনো ঘটেনি। নিজের উপরই বিরক্ত হলো বায়ঈজিদ!
মিনিট দুয়েক পরে, দিলরুবা হোসেন আসলেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করে, বসলেন।
পোশাকে,ব্যক্তিত্বে আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট।
পরনে রুচিশীল পোশাক, সাজে কোনো বাড়তি চাকচিক্য নেই। বসার ভঙ্গিতেও দারুণ আত্মসংযম আর আত্ম-অহংকার। পরিপাটি করে বাঁধা চুল, মাথার ওপর দিয়ে টেনে রাখা অর্ধেক ওড়না।
বাড়াবাড়ি রকমের রূপবতী ছিলেন, সেটা স্পষ্ট। এই বয়সেও চোখে লাগার মতো রূপ। পোশাকে,আচরণে যথেষ্ট মডার্ন। কিন্তু চোখ জুড়ায় গভীর বিষণ্নতা, যা উনার চেহারা আর বেশভূষার সাথে একেবারে ই বেমানান ।
চোখের নিচে জমে থাকা কালচে ছাপ দেখে মনে হচ্ছে, বহু রাত ঘুমহীন কাটিয়েছেন । অথচ সেই ক্লান্তি তিনি যত্ন করে আড়াল করে রেখেছেন। আভিজাত্যের আবরণ ভেদ করে শুধু চোখ দুটোই যেন, অগোচরে কিছু একটা বলে যাচ্ছে।
কন্ঠের স্বতঃস্ফূর্ততা ছাড়া কথা বলছেন দিলরুবা হোসনে।
-রাকিবের ব্যাপার টা একটু দেখবেন স্যার। আমি কোনো ঝামেলা চায় না। তাছাড়া মেয়ে দুটো কে নিয়ে ভয় হয়। এদিক ওদিক যায়, অমন খারাপ ছেলেদের কুনজর পড়লে বিপদ, ভয় হয় ! আমার হাসব্যান্ড আমজাদ হোসেন সারাজীবন মানুষের পাশে থেকেছেন, মানুষের প্রতি সদয় ছিলেন, উনার প্রতি পুরো এলাকা বিনয়ী ছিলেন কিন্তু আজ উনি গত হতেই আমাদের পেছনে লেগে পড়লেন কিছু দুষ্ট চক্র।
এরকমটা আমি কখনোই ভাবিনি।
আমাদের অর্থবিত্তের অভাব নেই, যা আছে তা নিয়েই সন্তানগুলো মানুষ করতে চাই। প্লিজ এই
ব্যাপার টা দেখে, একটা সমাধান করে দিন। কৃতজ্ঞ থাকবো।
জ্বি আন্টি, চিন্তা করবেন না। অন্যায় কে আমরা কখনোই প্রশ্রয় দেবো না। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, আমরা দেখছি ব্যাপার টা। বাঈজিদ কফির কাপ টা, কাঁচের টেবিলে রেখে আশ্বস্ত কন্ঠ বলল দিলরুবা হোসেন কে।
--------------------------------
মাহনূর এর ক্লাস শেষ হয় বিকাল তিন টায়। যেহেতু এখনো চতুর্থ বর্ষের ক্লাস পুরোদমে শুরু হয়নি,সেহেতু আজ ১২ টাতেই শেষ। সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস থাকে।
রবি,মঙ্গল, বৃহস্পতি।
ভাদ্র মাসের এই সময়ে বেলা ১২ টা মানে প্রখর রোদ।
সেই রোদে ক্লাস থেকে বের হলো মাহনূর। ক্যাম্পাসের গাছপালায় ঘেরা পথটা পেরিয়ে, রাস্তায় উঠতেই রোদে চোখ আপনাআপনি ছোট হয়ে এলো। সূর্য যখন মাথার উপর চড়ে ডিগবাজি খেলছে,মেজাজ যখন প্রচন্ড ক্ষিপ্ত, ঠিক তখন সামনে এসে দাঁড়ালো -ওসি বাঈজিদ রহমান।
দুপাটি দাঁত বের করে খিলখিল করে হাসছে। পরনে মেরুন রঙের চেকের টিশার্ট। দুই বাহুর পেশি ফুলে স্পষ্টতা জানান দিচ্ছে।
মাহনূর হুট করে কি রিঅ্যাকশন দিবে, কি বলবে বুঝে উঠতে পারলো না। তাকে সেই হতবুদ্ধি থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে বাঈজিদ বলল,-কার্লি বার্ড, কেমন আছেন?
-জ্বি ভালো, আপনি এখানে?
কলেজেও আসামি খুঁজেন নাকি!
-হুম ওরকমই কিছু। তারপর.. কি অবস্থা আপনার.. কার্লি ডল?
চোখ-মুখ শক্ত করে, ধীর-ঠান্ডা কন্ঠে মাহনূর প্রশ্ন করল, আপনি এতো রকম নাম কোথায় পান? আমাকে সিম্পলি মাহনূর ডাকবেন। শুধু মাহনূর, বুঝেছেন?
হেয়ালি ভঙ্গিতে বাঈজিদ বললো, ভেবে দেখবো নূর বেগম।
নূর বেগম? এটা কেমন নাম হ্যাঁ? নূর বেগম কে?
চকচকে সিলভার কালারের ব্রেসলেট পরা হাতটা দিয়ে, চুল পেছনে সরাতে সরাতে বললো -মাহনূর এর নূর। আর বেগম টা আমি ই যুক্ত করেছি!
মাহনূর প্রচণ্ড উত্তাপ থেকে বাঁচার চেষ্টায় ব্যাগ টা মাথার উপর রেখে, মেজাজ টা ঠান্ডা রেখে, শান্ত কন্ঠে বলল-লিসেন,আপনার বয়স আর পেশার সাথে এই ক্যারেক্টার টা ঠিক যায় না। কেমন যেন একটা বিহেভিয়ার, কাইন্ড অপ গায়ে পড়া স্বভাব! আপনার হওয়া উচিত-রাগী,গম্ভীর, রাশভারী গলার স্বর,কঠিন চোঁয়াল। সারাক্ষণ এমন ভ্যাঁ ভ্যাঁ,ফানি,জোকার টাইপ আচরণ টা ঠিক যায়না। বুঝেছেন? আসি আমি..।
কথাগুলো যতটা স্পিডে বলে শেষ করলো, ততটা স্পিডেই হন হন করে চলে গেলো।
ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি টেনে,বাঈজিদ মনে মনে বলল - আমি তো ওইরকমই কার্লি চুলের মেয়ে। তোমার ক্ষেত্রেই কেবল এমন দিশাহীন বেমানান বাক্য বেরিয়ে আসে। পূর্ণ যৌবন পেরিয়ে এসে, হেলে পড়া সূর্যের গায়ে, হঠাৎ একটুকরো ভোর হয়ে কেন আসলে?
কলেজ থেকে এসে রোজকার নিয়মে গোসল সেরে নিলো মাহনূর। তারপর ড্রয়িং রুমে অপেক্ষারত ম্যানেজার মুমিনের সাথে দেখা করতে গেলো।
কলেজ থেকে আসার পথেই মুমিন সাহেবকে কল দিয়ে আসার কথা জানিয়ে দিয়েছিল।
সাদিয়া কে দুই কাপ কফি দিতে বলে, ড্রয়িং রুমে বসলো।
আসসালামুয়ালাইকুম আঙ্কেল, কেমন আছেন?
আমি ভালো মা, তোমার কি খবর?
বেশ আছি আঙ্কেল। আঙ্কেল, বলেছিলেন হোটেলের জন্য কিছু নতুন কর্মী দরকার সেটা কি করলেন?
তোমার কথা মতো আমি বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সিভি জমা হয়েছে। তাছাড়া আগামী শনিবার বিডি জবস এর উদ্যোগে একটা জব ফেয়ার মেলা হচ্ছে। আমরা সেখানে অংশগ্রহন করেও দক্ষ কর্মী খোঁজে নিতে পারি। তারপর একদিন তোমার সময় মতো ভাইভা তে ডাকবো।
না,না আঙ্কেল। আমার দরকার নেই। আমি ওসবের কি বুঝি বলুন..। আপনি কয়েকজন কে সাথে নিয়ে একটা বোর্ড গঠন করে, ইন্টারভিউ নিয়ে নিন।
কিন্তু মা,তুমি তো বর্তমানে কোম্পানির এমডি। তোমাকে ছাড়া..।
আঙ্কেল আপনি আছেন নাহ? আপনার উপর নির্দ্বিধায় ভরসা করতে পারি। যেমনটা বাবা করতেন..। প্লিজ আঙ্কেল, আপনি আপনার মতো করে হ্যান্ডেল করুন।
চলবে..
পরবর্তী পর্ব পেতে মায়াবিনী -গল্পকথন এর সাথে থাকুন।