Land Survey Solution

Land Survey Solution ভুমির পরিমাপ, সীমানা নির্ধারণ, জমির ভাগ বন্টন, ফরায়েজ ও ডিজিটাল সার্ভে

27/07/2025

সরকারিভাবে জমির পরিমাপ (সার্ভে) করার জন্য জজ কোর্ট (সিভিল কোর্ট) থেকে কমিশনার নিয়োগ করার প্রক্রিয়া কিছু নির্দিষ্ট আইনি ধাপে হয়ে থাকে। নিচে ধাপে ধাপে সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হলো:

✅ ১. মামলা দায়ের (সিভিল কেস ফাইল করা)
আপনি যদি মনে করেন, আপনার জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ আছে বা অন্য কেউ দখল করেছে, তাহলে:

সিভিল কোর্টে (জজ কোর্টে) একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার মামলা (Specific Performance Suit) বা ঘোষণামূলক মামলা (Title Suit) দায়ের করুন।

এফিডেভিট সহ সমস্ত জমির দলিল, খতিয়ান, পর্চা, ম্যাপ জমা দিন।

✅ ২. আবেদন করে কমিশনার নিয়োগ চাওয়া
মামলা চলাকালীন আপনি কোর্টে একটি আবেদন করবেন কমিশনার নিয়োগের জন্য। এই আবেদন সাধারণত “সার্ভে কমিশনার নিয়োগের আবেদন” নামে পরিচিত।

আবেদনপত্রে লিখবেন: জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য সার্ভে কমিশনার প্রয়োজন।

আপনি চাইলে নিজে পছন্দের কোনো অনুমোদিত কমিশনারের নাম প্রস্তাব করতে পারেন, অথবা কোর্ট নিজে একজন কমিশনার মনোনীত করবে।

✅ ৩. কোর্ট কমিশনার নিয়োগ দিবে
জজ কোর্ট একজন সিভিল কোর্ট সার্ভে কমিশনার নিয়োগ করবে, যিনি আদালতের আদেশ অনুযায়ী:

সংশ্লিষ্ট মৌজার ম্যাপ, সিএস/এসএ/আরএস/বিএস রেকর্ড দেখে

মাঠে গিয়ে জমি মেপে

প্রতিবেদন (Report) তৈরি করে কোর্টে দাখিল করবেন।

✅ ৪. কমিশনার রিপোর্ট দাখিল ও শুনানি
কমিশনার তার রিপোর্ট কোর্টে জমা দেওয়ার পরে:

দু’পক্ষের আইনজীবী রিপোর্টের ওপর শুনানি করবেন।

রিপোর্টে যদি কোনো পক্ষের আপত্তি থাকে, তা লিখিতভাবে কোর্টে জানাতে হবে।

✅ ৫. আদালতের আদেশ ও নিষ্পত্তি
শুনানি শেষে আদালত রিপোর্টসহ বিবেচনা করে রায় প্রদান করবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী জমির সীমানা নির্ধারিত হবে।

🔎 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
জমির দলিল

খতিয়ান (CS, SA, RS, BS)

মৌজার ম্যাপ

দখল সংক্রান্ত প্রমাণ (যদি থাকে)

NID ও ছবি

📌 অতিরিক্ত টিপস:
যিনি কমিশনার হবেন, তিনি অবশ্যই আদালতের তালিকাভুক্ত হতে হবে।

আপনি চাইলে কোর্টের তালিকাভুক্ত কমিশনারদের একটি তালিকা ও মোবাইল নম্বর পেতে পারেন (জেলার জজ কোর্টে সাধারণত এই তথ্য থাকে)।

প্রয়োজনে আপনি চাইলে আমি আপনাকে একটি নমুনা আবেদনপত্র (কমিশনার নিয়োগ চেয়ে) লিখে দিতে পারি। আপনি কি সেটা চান?

08/07/2025

BS নকশায় জমি কম আসছে? কী করবেন এখন?
(জেনে নিন বাস্তবিক সমস্যার বাস্তবিক সমাধান)

📌 সমস্যার চিত্রঃ

আপনার BS পর্চা অনুযায়ী জমির পরিমাণ আছে ৫০ শতক, কিন্তু বাস্তবে গিয়ে জমি পেলেন ৪০ শতক!
নকশা মিলছে না, মাপ অনুযায়ী ঘাটতি… আপনি বিভ্রান্ত
এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন?

🔍 প্রথমে বুঝে নিন – জমি কম পাওয়ার সম্ভাব্য কারণগুলো:

✅ BS থেকে RS বা SA রেকর্ডে দাগ বা পরিমাণ পরিবর্তন
✅ সরকারি রাস্তা বা খালজমি দখলে গেছে
✅ অন্য কেউ আপনার জমির দখলে রয়েছে
✅ নকশা বা পরিমাপে ভুল
✅ স্কেল ব্যবহার না করে মাপ নেয়া

✅ সমাধানের জন্য ধাপে ধাপে যা করতে হবে:
🧾 Step 1: জমির সব রেকর্ড সংগ্রহ করুন

📄 BS, RS, SA, CS পর্চা ও নকশা
📍 মৌজা নাম, খতিয়ান ও দাগ নম্বর, জমির মালিকের নাম

📐 Step 2: স্কেল দিয়ে জমি মাপুন
প্রতিটি পর্যায়ের নকশা (BS → RS → SA → CS) তুলনা করুন.!
স্কেল দিয়ে জমির পরিমাপ নিশ্চিত করুন!
জমির দিক, পাশের দাগ ও রাস্তা মিলিয়ে দেখুন!

👨‍💼 Step 3: সরকারি আমিন বা লাইসেন্সধারী সার্ভেয়ারের সহায়তা নিন।
তারা সঠিকভাবে নকশা ও স্কেল মিলিয়ে জমির অবস্থান নির্ধারণ করবে

📝 Step 4: জমি কম পেলে করণীয়
উপজেলা ভূমি অফিসে রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করুন
সাথে দিন:
🔹 জমির দলিল
🔹 পর্চাগুলি (BS, RS, SA, CS)
🔹 স্কেলযুক্ত ম্যাপ
🔹 জমি মাপের প্রতিবেদন

⚖️ Step 5: জমি দখলে থাকলে
আদালতে রেকর্ড সংশোধন ও দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করুন।

মনে রাখবেন,
জমি নিয়ে আবেগ নয়, নেন আইনের পথে সিদ্ধান্ত ✊
সঠিক কাগজপত্র, স্কেল অনুযায়ী মাপ এবং আইনি সহায়তা – এই তিনটি মিলে আপনি আপনার জমির প্রকৃত অধিকার নিশ্চিত করতে পারবেন।

05/11/2024

ফ্ল্যাট কেনার সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন, যাতে আপনি ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলায় না পড়েন। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নজরে রাখা খুবই জরুরি:

◼️ ১. আইনি বৈধতা ও কাগজপত্র

- ফ্ল্যাটের মালিকানার কাগজপত্র: ফ্ল্যাটের ডেভেলপারের কাছে প্রয়োজনীয় জমির দলিল, প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, এবং অন্যান্য কাগজপত্র চেক করা অত্যন্ত জরুরি।

- খতিয়ান ও পর্চা: জমির বৈধতা নিশ্চিত করতে জমির খতিয়ান ও পর্চা যাচাই করতে হবে। এটি ভূমির প্রকৃত মালিকের প্রমাণ দেয়।

- সিটি কর্পোরেশন বা RAJUK অনুমোদন: ফ্ল্যাটের নকশা এবং নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন থাকা আবশ্যক।

- BNBC (বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড): ফ্ল্যাটের নির্মাণ BNBC-এর নিয়ম মেনে হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। এটি ফ্ল্যাটের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

◼️ ২. প্রকল্পের অবস্থান ও পরিবেশ

- অবস্থান: ফ্ল্যাটের লোকেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিকটবর্তী স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, মার্কেট, এবং অফিস থেকে দূরত্ব লক্ষ্য করুন। এছাড়াও পরিবহন সুবিধা, রাস্তা, এবং নিকটবর্তী যানজটের অবস্থা বিবেচনা করুন।

- ভবিষ্যৎ উন্নয়ন: এলাকার উন্নয়ন সম্ভাবনা আছে কিনা তা বিবেচনায় রাখুন, যেমন রেলওয়ে, মেট্রোরেল, বা অন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প।

◼️ ৩. বিল্ডিংয়ের মান ও নির্মাণের গুণগত মান**

- নির্মাণ সামগ্রী: ফ্ল্যাট নির্মাণে ব্যবহার করা সামগ্রী (সিমেন্ট, ইট, রড ইত্যাদি) ভালো মানের কিনা তা নিশ্চিত করুন। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহৃত হলে ভবিষ্যতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

- প্লাম্বিং এবং বৈদ্যুতিক কাজ: ভবনের ভিতরে যে প্লাম্বিং এবং ইলেকট্রিক্যাল কাজ করা হয়েছে, তা ভালোভাবে চেক করুন। পানির প্রবাহ, ইলেকট্রিক্যাল ওয়্যারিং, এবং ফিটিং সঠিক মানের কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।

◼️ ৪. জমির মালিকানার স্ট্যাটাস ও প্রকল্পের আইনি অবস্থান

- জমির মালিকানার স্ট্যাটাস: জমির উপরে কোনো আইনি সমস্যা (মামলা, বিরোধ) আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে আপনার আইনজীবীর মাধ্যমে জমির মালিকানার খোঁজ নিতে পারেন।

- ডেভেলপারের রেপুটেশন: ডেভেলপারের পূর্ববর্তী প্রকল্প এবং তাদের রেপুটেশন যাচাই করুন। ডেভেলপার নির্দিষ্ট সময়ে ফ্ল্যাট ডেলিভারি দিতে সক্ষম হয়েছে কিনা তা দেখুন।

◼️ ৫. ফ্ল্যাটের ডিজাইন ও ফ্যাসিলিটিজ

- ইন্টেরিয়র ডিজাইন: ফ্ল্যাটের ডিজাইন, ঘরের আকার, প্রয়োজনীয় বাথরুম এবং বেডরুমের সংখ্যা, এবং অন্যান্য ফ্যাসিলিটিজ চেক করুন।

- উত্তরণ ও আলো-বাতাসের ব্যবস্থা: ফ্ল্যাটে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করছে কিনা, এবং প্রতিদিনের রোদ-বাতাসের প্রবাহ কেমন, তা যাচাই করুন।

- সার্ভিস সুবিধা: লিফট, জেনারেটর, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পার্কিং, এবং কমন স্পেসের অবস্থা যাচাই করতে হবে। পার্কিংয়ের জন্য আলাদা ফি বা জায়গার ব্যবস্থা আছে কিনা তা নিশ্চিত করুন।

◼️ ৬. ফ্ল্যাটের মূল্যের সাথে তুলনা

- মূল্য নির্ধারণ: ফ্ল্যাটের দাম বাজারের সঙ্গে তুলনা করে দেখুন। একই এলাকায় অন্যান্য ফ্ল্যাটের মূল্য কত, তা জেনে নেওয়া ভালো।

- EMI বা লোন সুবিধা: ব্যাংক লোনের মাধ্যমে ফ্ল্যাট কিনতে চাইলে সেই অপশনগুলি সম্পর্কে জানতে হবে। কোন ব্যাংক কত শতাংশ ইন্টারেস্টে লোন দিচ্ছে তা যাচাই করা প্রয়োজন।

◼️ ৭. রক্ষণাবেক্ষণ খরচ

- মাসিক বা বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ: ডেভেলপার বা অ্যাসোসিয়েশন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নেয় কিনা এবং তা কী কী সার্ভিসের জন্য, তা আগে থেকেই জেনে নিতে হবে।

◼️ ৮. প্রকল্পের ডেলিভারি সময়

- নির্ধারিত সময়: ফ্ল্যাট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে কিনা তা নিয়ে ডেভেলপারের কাছ থেকে নিশ্চিত হতে হবে। সময়মতো ডেলিভারি না পেলে কীভাবে সমাধান হবে, সেই শর্তগুলো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

◼️ ৯. অ্যামেনিটিস

- কমন ফ্যাসিলিটিজ: ভবনের কমন ফ্যাসিলিটিজ যেমন কমিউনিটি হল, গার্ডেন, সুইমিং পুল ইত্যাদি আছে কিনা তা জেনে নিন। এই সুবিধাগুলোর জন্য অতিরিক্ত ফি লাগবে কিনা তাও জানুন।

◼️ ১০. রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি খরচ

- ফ্ল্যাট কেনার সময় স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি, ভ্যাট, এবং নামজারি খরচ কত হবে তা আগেই হিসাব করে নিন।

এসব বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই করলে, ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ ও নিরাপদ হবে।

যেকোনো ফ্ল্যাট সংক্রান্ত পরামর্শের জন্য আমাদের কনসালটেন্টদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

01/08/2023
মৌজা ম্যাপ/ নকশার এই ধরনের চিহ্ন দেখলে বুঝতে পারবেন কোন  চিহ্ন দ্বারা কি বুঝানো  হয়েছে।
28/06/2023

মৌজা ম্যাপ/ নকশার এই ধরনের চিহ্ন দেখলে বুঝতে পারবেন কোন চিহ্ন দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে।

09/03/2023

👉👉👉ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল👈👈👈
++++++++++++আসুন জেনে নেই +++++++++++++
***ল্যান্ড সার্ভে মোকদ্দমা করে ফাইনাল খতিয়ানের রেকর্ড সংশোধন করা***

🇧🇩🇧🇩🇧🇩রেকর্ড সংশোধনের মামলা🇧🇩🇧🇩🇧🇩

→ সরকার বিভিন্ন সময়ে খাজনা আদায়ের উদ্দেশ্যে সারাদেশে জরিপ করে থাকে এবং এই জরিপের রিপোর্ট হিসাবে এই খতিয়ান প্রকাস করে থাকে। সরকারের এই ভূমি জরিপের মূল উদ্দেশ্য হল ভূমির প্রকত দখলকারী থেকে খাজনা আদায় করা। খতিয়ান হচ্ছে দখলের প্রামাণ্য দলিল, মালিকানার দলিল নয়।

→ খতিয়ানে মালিক ছাড়া অন্য কারো নাম অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে ওই ভূমিতে - যেমন সেই ব্যক্তির কোনোরূপ মালিকানা সৃষ্টি হয় না, তেমনি প্রকৃত মালিকের মালিকানা স্বত্ব ও নষ্ট হয় না। কিন্তু খতিয়ান একটি সরকারি দলিল, ভূমি হস্তান্তর, খাজনা/রাজস্ব আদায়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই খতিয়ানে ভুল হলে তা সংশোধন করা বাধ্যতামূলক ।

→ যদিও জরিপ চলাকালিন সময়ে খতিয়ানে কোন ভুল ধরা পরলে তখন সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট ৩০ ধারা / ৩১ ধারায় আপিল করে খুব সহজেই ভুলগুলো সংশোধন করে নেওয়া যায়।
কিন্তু যদি এই সময়ের মধ্যে ভুলগুলো সংশোধন করা না হয় এবং চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশিত হয়ে যায় , তবে উক্ত খতিয়ান সংশোধনের ক্ষমতা আর সেটেলমেন্ট অফিসারের থাকে না তখন এই খতিয়ান সংশোধন করতে হয় কোর্টে মামলা করে।
এখন আমি দেখাবো কিভাবে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত একটি খতিনের ভুল সংশোধন করা যায় ।

→ তবে চূড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়ে গেলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট অফিসার রেকর্ড সংশোধন করতে পারে, যেমন উক্ত ভুলগুলো যদি হয় শুধুমাত্র কারণিক ভুল / প্রন্টিং -এ ভুল সেক্ষেত্রে এ ধরনের সামান্য ভুল গুলো অবশ্য সেটেলমেন্ট অফিসার সংশোধন করতে পারে, তবে অন্যান্য সকল প্রকারের ভুল সংশোধনের ক্ষমতা একমাত্র আদালতের।

👉 খতিয়ান সংশোধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগবে 👇

উক্ত জমিতে আপনার মালিকানার সকল দলিল পত্র (যেমন – মূল দলিলের, বায়া দলিল , পুর্বের খতিয়ানের কপি )
চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত ভুল রেকর্ডের/ ভুল খতিয়ানের কপি,
নিজের আইডি কার্ডের ফটো কপি।

👉 কি মামলা করতে হবেঃ-
ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে (ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল)/ দেওয়ানী আদালতে রেকর্ড সংশোধনীর জন্য একটি “ঘোষণা মূলক” মোকাদ্দমা করতে হবে

কেমন সময় লাগতে পারেঃ-

আমাদের দেশের দুর্বল বিচার ব্যবস্থার কারনে এই সামান্য কাজটি করতেও আপনার ২-৩ বছর লেগে যেতে পারে, খতিয়ান ভুল এই মর্মে আদালত ডিক্রি/রায় দিলে সেই ডিক্রির সার্টিফাইড কপি নিয়ে খতিয়ান সংশোধনের জন্য সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে।সেটেলমেন্ট অফিসার সবকিছু দেখে সন্তুষ্ট হলে পূর্বের ভুল রেকর্ডটি সংশোধন করে নতুন করে একটি রেকর্ড প্রকাশ করবে।

উল্লেখ্য, ভুলক্রমে কোনো ব্যক্তির জমি ১ নং খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে একই পদ্ধতিতে তা সংশোধন করতে হয়।।।

27/02/2023

অগ্রক্রয় অধিকার- Right of Pre emption:

অগ্রক্রয় অধিকার (Right of Pre emption) হলো পুনঃ কেনার অধিকার। জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের মধ্য থেকে আইনে কিছু বিশেষ ক্রেতাদেরকে অন্যান্য ক্রেতাদের থেকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। ইংরেজিতে একে প্রি-এমপশন (pre emption), আরবিতে সুফা বলে। এটি বিশেষ ধরনের একটি অধিকার।

জমির শ্রেনী অনুযায়ী অগ্রক্রয় সম্পর্কিত বিধান ভিন্ন।

যথা:

১. কৃষি জমির অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে
২) অকৃষি জমির অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রে

কৃষি জমি ও অকৃষি উভয় প্রকারের জমির অগ্রক্রয় দাবি করে আদালতে মামলা করা যায়। মহানগরী এলাকা, পৌরসভা এলাকা, হাটবাজার ইত্যাদি কে অকৃষি জমি হিসেবে গণ্য করা হয়।

কৃষি জমির অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রেঃ

State Acquisition Tenancy Act, 1950 এর ৯৬ ধারা প্রযোজ্য।

অকৃষি জমির অগ্রক্রয়ের ক্ষেত্রেঃ

Non Agricultural Tenancy Act, 1949 এর ২৪ ধারা প্রযোজ্য।

State Acquisition Tenancy Act, 1950 এর ৯৬ ধারা অনুসারে, পার্শবর্তী জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে যারা অগ্রাধিকার পাবেন তারা হলেন:

১. ওয়ারিশ সূত্রে সহ অংশীদার।
২. ক্রয়সূত্রে যারা সহ অংশীদার।

আইনে অগ্রক্রয় অধিকার যে জন্য দেওয়া হয়ঃ

কোন আগন্তুকের প্রবেশ ঠেকানোর জন্য এ ধরণের অধিকার আইনে বলবৎ আছে। আপনার পার্শ্ববর্তী জমিতে উত্তরাধিকারী বা বিক্রয় কবলা মূলে সহ মালিক বাদ দিয়ে অপরিচিত কেউ যেন আসতে না পারে সেজন্য এ ধরণের বিধান রয়েছে।

যে ধরণের জমিতে অগ্রক্রয় অধিকার প্রয়োগ করা যায়ঃ

মামলা করার সময়সীমা / যখন অগ্রক্রয় অধিকার সৃষ্টি হয়ঃ

SAT Act, 1950 এর ৮৯ উল্লেখিত উক্ত জমির বিক্রয় নোটিশ পাওয়ার পরদিন থেকে ২ মাসের মধ্যে অথবা নোটিশ না পেলে উক্ত বিক্রয় সম্মন্ধে জানার পর থেকে। এবং জমি রেজিস্ট্রির তারিখ থেকে ৩ বছরের পর অগ্রক্রয় দাবি করে আর মামলা করা যাবে না। এই সময় নিয়ে অনেকে বিভ্রান্ত হতে পারেন। আসলে 'বিক্রয় সম্মন্ধে খবর পাওয়ার পর থেকে' এই কথাটির অর্থের ব্যাপকতা থাকায় ৩ বছরের আরেকটি সীমা টেনে দেয়া হয় যাতে মামলার সংখ্যাধিক্য কমে।

যেভাবে অগ্রক্রয় অধিকার বাস্তবায়ন করা যায়ঃ

অগ্রক্রয় অধিকারী ব্যক্তিকে আদালতে প্রি-এমপশনের মামলা করতে হবে। মামলা করার সময় অবশ্যই তামাদির কথা মাথায় রাখতে হবে। কারণ, আইনে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ বা সময় নির্ধারিত থাকে যার ভিতরে মামলা না করলে তার অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। অর্থাৎ উপরে উল্লেখিত সময়সীমার পরে মামলা করলে সে মামলা আদালতে টিকবেনা (একে আইনের ভাষায় তামাদি বলে বারিত বলে)। এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে মামলাটি দায়ের করতে হবে। বিক্রীত জমির সব কবলা দলিলে উল্লেখিত মূল্যমান অনুযায়ী আর্থিক এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে মামলা করতে হবে।

মামলা দায়ের করতে হলে আদালতে চার ধরণের টাকা জমা দিতে হয় অন্যথায় মামলাটি আদালত খারিজ করে দেবে।

যেমন -

ক) সাব কবলা দলিলে উল্লেখিত জমির মূল্য
খ) উক্ত মূল্যের উপর বার্ষিক ২৫% হারে ক্ষতিপূরণ বাবদ।
গ) উক্ত মূল্যের বার্ষিক সরল সুদে ৮% হারে।
(২ এবং ৩ নং হিসাব করতে হবে দলিল রেজিস্ট্রির তারিখ থেকে মামলা দায়েরের সময় পর্যন্ত)
ঘ) প্রথম ক্রেতা কতৃক উন্নয়ন বাবদ অন্যান্য টাকা যা পরবর্তীতে আদালত সমীচীন মনে করলে জমা দিতে নির্দেশ দিবে।

অগ্রক্রয় মামলা কত দিনের মধ্যে করতে হবেঃ

কৃষি জমির অগ্রক্রয় মামলা করতে হবে বিক্রয় নোটিশ পাওয়ার পর থেকে বা বিক্রয় সম্পর্কে জানার ২ মাসের মধ্যে এবং অকৃষি জমির ক্ষেত্রে ৪ মাসের মধ্যে।

কোন আদালতে মামলা করতে হবে:

বিক্রীত জমির দখল উদ্ধারের জন্য যে আদালতে মামলা দায়ের করতে হতো সেই আদালতে প্রি এমপশনের মামলা করতে হবে।

অগ্রক্রয় সম্পর্কিত আইন:

প্রথম Bengal Tenancy Act, 1885 এর ২৬ ধারায় অগ্রক্রয় সম্পর্কিত বিধান প্রণয়ন করা হয়। এ আইনটি কৃষকদের মুক্তির সূচনামূলক আইন হলেও অনেক ক্ষেত্রে আইনটি অকার্যকর ও অসম্পূর্ণ হওয়ায় আইনটি বাতিল করে ১৯৫০ সালে State Acquisition and Tenancy Act প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের ৯৬ ধারায় অগ্রক্রয় সম্পর্কে বিস্তারিত বিধান প্রণয়ন করা হয়।

17/02/2023

হিন্দু আইনে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের নিয়মঃ


হিন্দু আইনে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ে দুই ধরনের উত্তরাধীকার পদ্ধতি চালু আছে:

(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি

(খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।
বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।



নিম্নে মোট ৫৩ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ

১। পুত্র

২। পুত্রের পুত্র

৩। পুত্রের পুত্রের পুত্র

৪। স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।

৫। কন্যা

৬। কন্যার পুত্র

৭। পিতা

৮। মাতা

৯। ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই।

১০। ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র

১১। ভাই এর পুত্রের পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্রের পুত্র।

১২। বোনের পুত্র

১৩। পিতার পিতা

১৪। পিতার মাতা

১৫। পিতার ভাই

১৬। পিতার ভাইয়ের পুত্র

১৭। পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র

১৮। পিতার বোনের পুত্র

১৯। পিতার পিতার পিতা

২০। পিতার পিতার মাতা

২১। পিতার পিতার ভাই

২২। পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র

২৩। পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র

২৪। পিতার পিসির পুত্র

২৫। পুত্রের কন্যার পুত্র

২৬। পুত্রের পুত্রের কন্যার পুত্র

২৭। ভাইয়ের কন্যার পুত্র

২৮। ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র

২৯। খুড়ার কন্যার পুত্র

৩০। খুড়ার পুত্রের কন্যার পুত্র

৩১। পিতার খুড়ার কন্যার পুত্র

৩২। পিতার খুড়ার পুত্রের কন্যার পুত্র

৩৩। মাতার পিতা (নানা)

৩৪। মাতার ভাই (মামা)

৩৫। মাতার ভাইয়ের পুত্র (মামার পুত্র)

৩৬। মাতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র (মামার পুত্রের পুত্র)

৩৭। মাতার বোনের পুত্র (মাসির পুত্র)

৩৮। মাতার পিতার পিতা

৩৯। মাতার পিতার ভাই

৪০। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্র

৪১। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র

৪২। মাতার পিতার বোনের পুত্রের পুত্র

৪৩। মাতার পিতার পিতার পিতা

৪৪। মাতার পিতার পিতার ভাই।

৪৫। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্র

৪৬। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের পুত্র

৪৭। মাতার পিতার পিতার বোনের পুত্র

৪৮। মাতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র

৪৯। মাতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র

৫০। মাতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র

৫১। মাতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র

৫২। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের কন্যার পুত্র

৫৩। মাতার পিতার পিতার ভাইয়ের পুত্রের কন্যার পুত্র



মোট ৫৩টি শ্রেণির সপিণ্ডের মধ্যে মহিলা শ্রেণী ৫ টি।

১। স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী (তালিকায় যার স্থান ৪র্থ)।

২। কন্যা (তালিকায় যার স্থান ৫ম)।

৩। মাতা (তালিকায় যার স্থান ৮ম)।

৪। পিতার মাতা (তালিকায় যার স্থান ১৪ তম)।

৫। পিতার পিতার মাতা ( তালিকায় যার স্থান ২০ তম)।

এই ৫ শ্রেণীর মহিলা কোন সম্পত্তি পেলেও সীমিত কিছু শর্ত (যেমন- মৃতের দাহ ও শ্রাদ্ধ, মৃতের কৃত ঋণ পরিশোধ, নাবালক সন্তানের ভরণ-পোষণ, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যয় পরিচালনা; দূরবর্তী সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ অসম্ভব হলে, প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের বিবাহের খরচ পরিচালনা ইত্যাদি) ছাড়া তা হস্তান্তর করতে পারে না। তারা মুলত জীবনস্বত্ব ভোগ করতে পারে (যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন প্রাপ্ত সম্পত্তির দখল ভোগ করবেন)। তাদের মৃত্যুর পর সম্পত্তি পূর্ব মূল মালিকের কাছে ফিরে যাবে, যা পূর্ব মূল মালিকের নিকটস্থ সপিন্ড পাবেন। কোন পুরুষ উত্তরাধিকারী সম্পত্তি না পাওয়া পর্যন্ত এভাবে সম্পত্তি বারবার মৃত মূল মালিকের কাছে ফিরে যাবে। দায়ভাগ আইনে স্বামীর মৃত্যুর পর নাবালক সন্তানের লালন-পালনের জন্য স্ত্রী নাবালকের স্বাভাবিক অভিভাবক নিযুক্ত হন এবং নাবালকের স্বার্থে সীমিত বিশেষ কারণে নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন।



১ থেকে ৪ নম্বর ক্রমিক পর্যন্ত কেউ জীবিত না থাকলে (৫ নম্বর ক্রমিকের) কন্যা সম্পত্তি পাবে। কন্যাদের মধ্যে কুমারী কন্যার দাবী অগ্রগণ্য, এরপর পুত্রবতী বা পুত্র সম্ভবা কন্যাদের দাবী। কন্যা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তি পেলে তার মৃত্যুতে তার পুত্র সন্তান সম্পত্তি পাবে।



মৃত ব্যক্তির স্ত্রী না থাকলে, এক বা একাধিক পুত্র থাকলে পুত্রই সমুদয় সম্পত্তি পাবেন। এ আইনের বিধান অনুসারে, নিকটবর্তী পুরুষ ওয়ারিশ থাকলে পরবর্তীরা সম্পত্তি পাবেন না, যেমন পুত্র থাকলে পুত্রের-পুত্র সম্পত্তি পাবেন না।



মৃত ব্যক্তির একই সাথে পুত্র ও স্ত্রী জীবিত থাকলে, মৃতের বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পাবে। একাধিক স্ত্রী থাকলে স্ত্রীর অংশ বিধবা স্ত্রীদের মধ্যে তুলাংশে বন্টন হবে। মৃতের স্ত্রী যেরূপ অংশ পাবেন, জীবিত থাকলে পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী কিংবা পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রীও অনুরূপ অংশ পাবেন।





দায়ভাগ আইনে মৃত ব্যক্তির জীবিত উত্তরাধীকারীগণের মধ্যে সম্পত্তি বন্টনের সময় যদি কোন উত্তরাধীকারী মৃত থাকেন, তবে মৃত ব্যক্তির জীবিত ওয়ারিশগণ সম্পত্তির উত্তরাধীকারী হবেন।



স্বামীর মৃত্যুর পর মৃতের জীবিত স্ত্রী মৃতের সম্পত্তিতে জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করেন (যতদিন বেঁচে থাকবেন, মৃতের সম্পত্তির দখল ভোগ করবেন)। তার মৃত্যুর পর তার ভোগ-দখলকৃত সম্পত্তি পুত্রগণ প্রাপ্ত হবেন। পুত্র জীবিত না থাকলে সম্পত্তি মূল মালিকের নিকট ফিরে যাবে।





স্বামীর মৃত্যুর পর কোন হিন্দু মহিলা দ্বিতীয় বিবাহ করলে তিনি মৃত স্বামীর সম্পত্তি পাবেন না অর্থাৎ কোন হিন্দু-বিধবা মহিলা পুনরায় বিবাহ করলে তাকে তার পূর্বের স্বামীর নিকট থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি মৃত স্বামীর জীবিত অন্যান্য ওয়ারিশের নিকট ছেড়ে দিতে হয়।



একমাত্র হিন্দু ধর্মে দত্তক পুত্র গ্রহনের বিধান আছে। পিন্ডদানকারী পুত্র, পুত্রের পুত্র (পৌত্র বা নাতি) কিংবা পুত্রের পুত্রের পুত্র (প্রপৌত্র বা পুতি) না থাকলে পিন্ডদানের জন্য কিংবা সামাজিক কারণে নিজ বংশের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য ৯ (নয়) বছরের উর্ধে নয় এমন পুত্র সন্তানকে দত্তক নেয়া যায়। দত্তকগ্রহনকারীর মৃত্যুর পর মৃতের দত্তক পুত্র মৃতের ঔরসজাত পুত্রের (১/৩) তিন ভাগের এক ভাগ সম্পত্তি পাবেন।



হিন্দু দায়ভাগ আইনে কোন সন্ন্যাসী ব্যক্তি উত্তরাধিকার হন না। এ আইনে সন্ন্যাসী ব্যক্তিকে মৃত ধরা হয় এবং তিনি সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন।







মৃত ব্যক্তির অন্ধ, বধির, মূক, অঙ্গহীন, পুরুষত্বহীন বা হাবাগোবা, পুরুষ ও মহিলা ওয়ারিশ থাকলে হিন্দু আইনে এমন ব্যক্তিগণ উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবেন। আইনের দৃষ্টিতে এমন ব্যক্তিগণকে মৃত হিসেবে বিবেচনা করে তাদের সন্তানগণ পিতামহ ও পিতামহীর সম্পদে উত্তরাধিকারী হন।



হিন্দু উত্তরাধীকার আইনে অসতী বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধীকার হতে বঞ্চিত হন। তবে মৃতের বিধবা স্ত্রী আইন সঙ্গতভাবে সম্পত্তি পাওয়ার পর অসতী হলে প্রাপ্ত সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হবেন না। অসতীত্বের কারনে কন্যা তার মৃত পিতার সম্পত্তির উত্তরাধীকার হতে এবং মাতা তার মৃত পূত্রের সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হন। তবে অসতীত্বের কারনে কোন নারী, মৃত কোন স্ত্রী-লোকের সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবেন না।



কোন হিন্দু লোক ধর্মান্তরিত হলে এ আইন অনুসারে তিনি উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবেন।



মৃতের হত্যাকারী এবং তার ওয়ারিশগণ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবেন।

15/02/2023

জমির খতিয়ানের ভুল সংশোধন করবেন কিভাবেঃঃ

খতিয়ান হচ্ছে দখলের প্রামাণ্য দলিল, মালিকানার দলিল নয়, খতিয়ানে মালিক ছাড়া অন্য কারো নাম অন্তরভুক্ত হয়ে গেলে যেমন সেই ব্যক্তির মালিকানা সৃস্টি হয় না তেমনি প্রকৃত মালিকের মালিকানা সত্বও নষ্ট হয় না।

জরিপ চলাকালিন সময়ে খতিয়ানে কোন ভুল ধরা পরলে তখন সেটেলমেন্ট অফিসারের নিকট ৩০/৩১ ধারায় আপিল করে খুব সহজেই ভুলগুলো সংশোধন করে নেওয়া যায়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে যদি খতিয়ানের ভুলগুলো সংশোধন করা না হয় এবং চূড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশিত হয়ে যায়, তবে চূড়ান্ত খতিয়ানের ভুল সংশোধনের পদ্ধতি উক্ত খতিয়ান সংশোধনের ক্ষমতা আর সেটেলমেন্ট অফিসারের থাকে না তখন এই খতিয়ান সংশোধন করতে হয় কোর্টে মামলা করে।

তবে চুড়ান্ত রেকর্ড প্রকাশিত হয়ে গেলেও কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সেটেলমেন্ট অফিসার রেকর্ড সংশোধন করতে পারে। যেমন উক্ত ভূলগুলো যদি হয় শুধুমাত্র করণিক ভূল, প্রিন্টিং-এ ভূল সেক্ষেত্রে এ ধরণের সামান্য ভূল অবশ্য সেটেলমেন্ট অফিসার সংশোধন করতে পারে। তবে অন্যান্য ভূলের সংশোধনের ক্ষমতা একমাত্র কোর্টের।

খতিয়ান সংশোধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগবে:
 উক্ত জমিতে মালিকানার সকল দলিলপত্র (যেমন মূল দলিলের সার্টিফাইড কপি, বায়া দলিল, পূর্বের খতিয়ানের কপি)

✔চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত ভূল রেকর্ডের কপি

✔আইডি কার্ডের ফটোকপি

এ সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে একজন দক্ষ সিভিল ল”ইয়ার এর মাধ্যমে জমির খতিয়ানের ভুল সংশোধনের জন্য ভূমি জরিপ ট্রাইব্যুনালে/ দেওয়ানি আদালতে একটি ”ঘোষনামূলক” মামলা করতে হবে।

জমির খতিয়ানের ভুল এই মর্মে আদালত ডিক্রি/ রায় দিলে সেই ডিক্রির সার্টিফাইড কপি নিয়ে খতিয়ান সংশোধনের জন্য সেটেলমেন্ট অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে। সেটেলমেন্ট অফিসার সবকিছু দেখে সন্তুষ্ট হলে পূর্বের ভূল রেকর্ডটি সংশোধন করে নতুন করে একটি রেকর্ড প্রকাশ করবে।

উল্লেখ্য, ভূলক্রমে কোন ব্যক্তির জমি ১নং খাস খতিয়ানে অন্তরভুক্ত হয়ে গেলে একই পদ্ধতিতে তা সংশোধন করতে হবে।

31/10/2022

📢ওয়ারিশের সম্পত্তি বা পৈত্রিক সম্পত্তি ক্রয় করা থেকে সাবধান। ওয়ারিশ সম্পত্তি বা পৈত্রিক সম্পত্তি ক্রয়ের আগে তিনটি ডকুমেন্ট দেখে নিবেন।
তিনটি ডকুমেন্ট না থাকলে ক্রয় বায়নাপত্র লেনদেন করবেন না।
১)প্রথম ডকুমেন্ট, ওয়ারিশ সনদ পত্র, ২)দ্বিতীয় ডকুমেন্ট,, পারিবারিক ভাগবন্টন রেজিষ্ট্রেশন দলিল,,, ৩)তৃতীয় ডকুমেন্ট, নামজারি খতিয়ান। তারপর অন্যান্য কিছু বিষয় দেখতে হবে।

যেমন বিক্রেতা যে সুত্রে মালিক হলো, তার পূর্বের মালিক কোন সুত্রে মালিক তার দলিল খতিয়ান কপি যাচাই বাছাই করে নিবে।

এই তিনিটি ডকুমেন্ট যার কাছে না থাকবে তার দখলে থাকুক বা পারিবারিক মৌখিক বন্টন হউক আপনি ক্রয় করবেন না। অনেকেই মৃত পিতা মাতার নামের সম্পত্তি অন্যান্য ভাইবোন ওয়ারিশদের না জানিয়ে গোপনে বিক্রি করে দেয়,,,কেউ কেউ যতটুকু অংশ পাবে তার বেশি বিক্রি করে ফেলে,,, কেউ কেউ আছেন ভালো পজিশনের জমি বিক্রি করে দেন। কেউ কেউ আছেন ওয়ারিশদের অংশও বিক্রি করে ফেলেন। কেউ কেউ আছেন পারিবারিক মৌখিক ভাবে ভাগের অংশ বিক্রি করেন।

মৌখিক ভাগ কোনো দলিল নয়। মৌলিক বন্টনের কোনো মূল্য নেই। মৌখিক কথার দাম নেই। এক লোক দীর্ঘ বছর ধরে পারিবারিক মৌখিক ভাগ করা জমি ভোগদখল করে আসছে,,, জমিটার মূল্য অন্যান্য জমির ছেয়ে অনেক বেশি,,, বেশি দাম হওয়াতে তারই এক ভাই জমিটির অংশ দাবি করলো,,, সবাই যতই বলে মৌখিক ভাগের কথা, ভাই তা মানতে রাজি নয়,,, ভাই বোলতেছে মৌখিক ভাগ মানিনা, পুনরায় ভাগবন্টন করতে হবে।

তারা মৌখিক ভাগ না করে পারিবারিক বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল করে নিলে ভাই কখনোই দাবী করলে তা আইন সম্মত হতো না। তাই বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়ারিশ সনদ, বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল, যার আছে তার সম্পত্তিতে কখনোই কোনো ওয়ারিশ ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করতে পারবেনা। ওয়ারিশ সনদ পত্রটি প্রমাণ করে যে প্রত্যেক ওয়ারিশ সম্পত্তির মালিক। বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল প্রমাণ করে যে প্রত্যেক ওয়ারিশের সম্মত্তিতে বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিল করা হয়। আবার দেখতে হবে ওয়ারিশ সনদ সঠিক কিনা, প্রত্যেক ওয়ারিশের নাম সঠিকভাবে উল্লেখ্য আছে কিনা,,, বন্টন নামা রেজিষ্ট্রেশন দলিলে প্রত্যেক ওয়ারিশের স্বাক্ষর নাম ঠিকানা সঠিক ভাবে উল্লেখ্য কিনা।

অনেকেই বোনের অংশ না দিয়ে, বিক্রি করে দেন, যিনি ক্রয় করেন সেই লোক বিপদে পড়ে। কারণ ক্রেতা বিক্রেতার কাছ থেকে যেনে নেওয়া উচিত ছিলো বিক্রেতা কোন সুত্রে সম্পত্তির মালিক, সেই সব ডকুমেন্ট দেখা উচিত ছিলো। পৈতৃক সম্পত্তি হলে বা ওয়ারিশ সম্পত্তি হলে ক্রয়ের আগে ওয়ারিশ সনদ, রেজিষ্ট্রেশন করা বন্টন নামা দলিল,, নামজারি খতিয়ান। এগুলো দেখা। এগুলো না দেখে ক্রয় করলে অন্যান্য ওয়ারিশরা অভিযোগ সালিস মামলা করলে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট পেতে পেজে ফলো করে পাশে থাকুন।

Address

Cumilla

Telephone

+8801728942042

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Land Survey Solution posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category