30/07/2025
৩ বছর ২ মাস হয়ে গেল, আমার আকামা নেই। প্রতিদিন ১ ভয় নিয়ে ঘুম থেকে উঠি, আর একটা দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুমাতে যাই—যদি ঘুম আসেই কোনোদিন।
মা ফোনে কাঁদতে কাঁদতে বলে, "বাবা, দেশে আয়, তোকে দেখি না কত বছর হলো!"
কিন্তু মা কী করে বোঝে, দেশে গিয়ে খাওয়ার মতো অবস্থা নাই। তিন বেলার খাবারের নিশ্চয়তা নাই। আমি যে এখনো টিকে আছি, সেটাও অলৌকিক কিছু।
এখানে আমি একটা কন্সট্রাকশনের কাজে ডিউটি করি। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করি। কাজ শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে রুমে ফিরে শুধু একটাই চিন্তা ঘুরপাক খায় মাথায়—যদি কোনোদিন পুলিশ ধরে ফেলে?
প্রতিদিন রাস্তায় বের হলে মনে হয়, আজই বুঝি শেষ দিন। আকামাহীন জীবন মানে শুধু ভয়, আতঙ্ক আর বাঁচার লড়াই। কেউ বুঝে না, যার বৈধ কাগজ নেই, তার জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত কতটা অস্থিরতায় কাটে।
তিন বছর আগে এক দালালের পাল্লায় পড়ে আসছিলাম সৌদি। বলছিল—“সব ক্লিয়ার, দুই মাসেই আকামা পাইবা।” কিন্তু সেই দুই মাস এখন তিন বছর দুই মাস হয়ে গেছে। সেই দালাল এখন আর ফোনও ধরে না।
মাঝে মাঝে মনে হয়—ভুল করেছিলাম আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে। কিন্তু দেশে থাকার মতো অবস্থাও তো ছিল না তখন।
মাকে বলি না আসল সত্যিটা, শুধু বলি—“ভালো আছি মা, একটু কষ্ট হচ্ছে, ইনশাআল্লাহ ঠিক হয়ে যাবে।”
মায়ের কান্না চাপা পড়ে যায় আমার মিথ্যা আশ্বাসের আড়ালে।
উপসংহার:
এই গল্প শুধু নাহিদের না, হাজারো প্রবাসীর, যারা দালালের খপ্পরে পড়ে আকামা ছাড়াই বছরের পর বছর ভিনদেশে দিন কাটায়। তারা চায় না স্বপ্নভঙ্গ হোক, চায় শুধু একটা বৈধ পরিচয় আর একটু শান্তি।
সরকার ও প্রবাসী সংস্থার উচিত দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আকামাহীন প্রবাসীদের পুনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। কারণ একজন প্রবাসীর কান্না শুধু তার একার না—পুরো পরিবারের হাহাকার।