14/04/2026
শাশ্বত বাঙালিয়ানা: সম্প্রীতি ও অভিন্ন অস্তিত্বের ইশতেহার
— মো: মাসুম
ফাউন্ডার এন্ড সিইও, শিফটিং বিডি.কম
ভূমিকা:
জাত, দল, ধর্ম—সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমি একজন বাঙালি। পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে আমার বাঙালিয়ানায় হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম, খ্রিস্টান এবং পাহাড়ের মং-বং-নং সকল প্রাণ সমমর্যাদায় স্পন্দিত হয়। বৈশাখের এই মুক্ত আকাশে যেমন রঙিন ঘুড়ি ওড়ে, তেমনি ডানা মেলে শঙ্খচিল, টিয়ে আর ফিঙে। এখানে হুতুম পেঁচা যেমন বৈশাখী সাজে সাজে, তেমনি হাতি-ঘোড়ার মেলায় মেতে ওঠে আমাদের শৈশব।
প্রবন্ধ: মানবতার অভিন্ন মানচিত্র
বাঙালি নারী বা পুরুষ—আমাদের পরিচয় কি কেবল ধর্মীয় আওয়াজে? ধর্ম তো থাকে মানুষের মনে, লালনের দর্শনে। তাহলে আজ কেন আমরা ‘সংখ্যালঘু’ বা ‘সংখ্যাগুরু’ তকমা দিয়ে মানুষকে ভাগ করি? ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত দিয়ে কেনা এই ‘সোনার বাংলা’ তো কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের নয়, এ দেশ আমাদের সবার।
ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখি, ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে যাঁর জন্ম হয়েছিল, সেই বিশ্ব নবী (সা.) শিখিয়েছেন সহিষ্ণুতার পরম পাঠ। যে বৃদ্ধা তাঁর চলার পথে প্রতিদিন বিষাক্ত কাঁটা বিছিয়ে রাখত, অসুস্থ হওয়ার পর সেই বৃদ্ধারই সেবা করে তিনি প্রমাণ করেছেন—ধর্ম মানে ঘৃণা নয়, ধর্ম মানে সেবা ও মমতা। স্রষ্টার নিরানব্বই নামের মহিমা তো তাঁর সৃষ্টির মাঝেই বিরাজমান। তবে কেন জাতে-ধর্মে-পাতির বিভেদ তুলে আমরা স্রষ্টার সৃষ্টিকেই ছোট করি?
কবিতা:
এক আকাশের গান
জাতের বিচার, দলের লড়াই—সবই কি আর বড়?
তার চেয়ে ভাই, মানুষ হওয়ার স্বপ্নটুকু গড়ো।
আমার আকাশ অনেক বড়, মেঘের আনাগোনা,
সেথায় ওড়ে রঙিন ঘুড়ি, মাখে রোদের সোনা।
ধর্ম থাকে লালন মনে, অন্তরে তার ঘর,
মানুষ তবে কেন হবে আপন এবং পর?
'সংখ্যালঘু' তকমা দিয়ে করিস না ভাগাভাগি,
রক্ত দিয়ে কেনা এই মাটি—সবার অনুরাগী।
৫৭০ সনে এলেন নবী, ক্ষমার যে কী রীতি,
কাঁটা বিছানো পথেও তিনি ছড়িয়েছেন শুধু প্রীতি।
নিরানব্বই নামের খোদা, সৃষ্টি মাঝে জাতে-পাতির বিভেদ কি?
বুড়ির সেবায় রাসুল দেখান—আসল ধর্মের পরিচয় কি?
উপসংহার:
আসুন, এই নববর্ষে আমরা শপথ নিই—ভেদাভেদ ভুলে আমরা আগে মানুষ হবো, তারপর বাঙালি। শুভ নববর্ষ!
বিনীত,
মো: মাসুম
ফাউন্ডার এন্ড সিইও, শিফটিং বিডি.কম
shiftingbd.com