14/11/2023
দান-সাদাকা
দান-সাদাকায় আত্মীয় স্বজনকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমরা এই জায়গায় অনেকেই ভুল করি। মনে করি, আত্মীয়কে দান করার চেয়ে অন্যকে দান করা ভালো! অথচ সাদাকার আদব হলো, আত্মীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘(অনাত্মীয়) মিসকিনকে দান করলে তা (কেবল) দান আর নিকটাত্মীয়কে দান করলে দুটো (সওয়াব)—সাদাকাহ (করার নেকি) এবং আত্মীয়তা সম্পর্ক রক্ষা (করার নেকি)।’’
[ইমাম ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ১৮৪৪; হাদিসটি সহিহ]
কোনো আত্মীয় যদি আমাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে বা সম্পর্ক না রাখে, তাহলেও তাকে দান করা উচিত। এক ব্যক্তি নবিজিকে প্রশ্ন করলো, ‘কোন সাদাকাহ সর্বোত্তম?’ নবিজি বলেন, ‘‘(সর্বশ্রেষ্ঠ সাদকা হলো) শত্রুতাপোষণকারী নিকটাত্মীয়কে দেওয়া (সাদাকাহ)।”
[ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ১৪৮৯৬; শায়খ আলবানি, সহিহুল জামি’: ১১১০; হাদিসটি সহিহ]
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিগণকে সবসময় এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদিনার আনসারদের মধ্যে আবু তালহা (রা.) সবচেয়ে বেশি খেজুরবাগানের মালিক ছিলেন। মসজিদে নববির নিকটবর্তী বায়রুহা নামক বাগানটি তাঁর কাছে অধিক প্রিয় ছিলো। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বাগানে প্রবেশ করে এর সুপেয় পানি পান করতেন (অন্য বর্ণনায় এসেছে, তিনি এর ছায়ায় বিশ্রামও নিতেন)। আনাস (রা.) বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো, “তোমরা যা ভালবাসো, তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯২)”, তখন আবু তালহা (রা.) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে গিয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা যা ভালবাসো তা হতে ব্যয় না করা পর্যন্ত তোমরা কখনো পুণ্য লাভ করবে না”, আর আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ হলো বায়রুহা (বাগানটি)। এটি আমি আল্লাহর নামে সাদাকা করলাম। আমি এর প্রতিদান কামনা করি এবং তা আল্লাহর নিকট আমার জন্য সঞ্চয়রূপে থাকবে। কাজেই আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে আপনি এখান থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করুন।’ তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘‘চমৎকার! এতো লাভজনক সম্পদ! এতো লাভজনক সম্পদ! তুমি যা বললে তা তো শুনলাম। আমার মত হলো, তুমি তোমার আপনজনদের মধ্যে এটি বণ্টন করে দেবে।’’ আবু তালহা (রা.) বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি তাই করবো।’ অতঃপর তিনি তাঁর আত্মীয়-স্বজন এবং তাঁর চাচার বংশধরের মধ্যে তা বন্টন করে দিলেন।
[ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ১৪৬১]