বাড়ি-ঘর । Genuine Properties BD

বাড়ি-ঘর । Genuine Properties BD বই : খুলুকিন আযীম
লেখক: মুহাম্মাদ আতীক ?

বই : খুলুকিন আযীম
লেখক: মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ
বাঁধাই : হার্ডকভার। ডায়েরি স্টাইল
মুদ্রিত মূল্য : ৯০০ টাকা
বিক্রয় মূল্য : ৪৫০ টাকা

 #মাকতাবাতুল_আযহার_রিভিউ_প্রতিযোগিতা_২০২২বই : খুলুকিন আযীমলেখক : মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহপ্রকাশনায় : মাকতাবাতুল আযহারপৃষ্ঠা...
19/08/2022

#মাকতাবাতুল_আযহার_রিভিউ_প্রতিযোগিতা_২০২২

বই : খুলুকিন আযীম
লেখক : মুহাম্মাদ আতীক উল্লাহ
প্রকাশনায় : মাকতাবাতুল আযহার
পৃষ্ঠাসংখ্যা : ৬৪০
রিভিউ লেখক : Rashed Mohammad Zia

✍️লেখক পরিচিতি :

শায়খ আতীক উল্লাহ একটি নাম। একটি আবেগ। একটি ভালোবাসা। বাংলাভাষায় দ্বীনি বিষয়াবলী নিয়ে জীবনঘনিষ্ঠ লেখালেখিতে তাঁর তুলনা নিতান্তই অপ্রতুল। তাঁর রচনাসম্ভার যেন ফুলেফলে সুশোভিত একটি উন্মুক্ত বাগান। শায়খ আতীক উল্লাহর ব্যক্তিসত্তা ও লেখকসত্তার মধ্যকার যোগসূত্র খুবই মজবুত। তাই তাঁর প্রতিটি লেখা পাঠকের হৃদয়ে ভাবাবেগের জোয়ার তুলে। লেখক পাঠকের মধ্যে তৈরী হয় এক আত্মিক সম্পর্ক। যে সম্পর্কের সূচনা হয় পাঠকের হৃদয়ে লেখকের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে। কুরআনকে ভালোবাসার বিনম্র প্রয়াস' স্লোগান ধারণ করে তিনি কুরআন গবেষণায় নিজেকে নিয়ে গিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছেন 'কুরআনের পাখি' নামে। তাছাড়া জীবনজাগার গল্প রচনায় তাঁর মননশীল অভিরুচি পাঠকমাত্রই বিমোহিত করে।

📚গ্রন্থপরিচিতি :

বাংলাভাষায় নবীজীবনীর উপর অসংখ্য সীরাহগ্রন্থ রচিত হয়েছে। সীরাহ রচনার এ ধারা ইদানিং গতিময়তা লাভ করেছে। নিঃসন্দেহে এটি বাংলাভাষী পাঠকবর্গের জন্য তৃপ্তিকর বিষয়। তবে দু' একটি বই ব্যতিত প্রায় প্রতিটি গ্রন্থে নবীজিকে গতানুগতিক রীতিতেই তুলে ধরা হয়েছে। এক্ষেত্রে শায়খ আতীক উল্লাহর 'সুনানিয়্যাত' সিরিজের প্রথম সংকলন 'খুলুকিন আযীম' ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে। এ গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত বর্ণনারীতি নবীজির সীরাহ রচনার জগতে এক নতুনধারার সূচনা করেছে। নবীজি তো আমাদের জন্য উসওয়াতুন হাসানাহ। উত্তম আদর্শ।
সুরা আহযাবের ২১ নং আয়াতে মহান আল্লাহর সুস্পষ্ট ঘোষণা,
لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡ رَسُوۡلِ اللّٰہِ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰہَ وَالۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ وَذَکَرَ اللّٰہَ کَثِیۡرًا.
- অবশ্যই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।

অতএব সেই আদর্শ আমাদের জীবনে বাস্তবায়িত করতে হলে সর্বাগ্রে তাঁর দৈনন্দিন জীবনধারা সম্পর্কে বিস্তৃত ও গভীর জ্ঞান রাখা উচিত। আমরা জানি, শেষরাতে তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য জাগ্রত হওয়ার মধ্য দিয়ে নবীজির দিন শুরু হতো এবং রাতের সর্বশেষ সালাত বিতর আদায়ের মাধ্যমে নবীজির একেকটি কর্মব্যস্ত দিনের সুন্দর পরিসমাপ্তি ঘটতো। এ গ্রন্থে সুলেখক শায়খ আতীক উল্লাহর হাতে নবীজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ 'দৈনন্দিন জীবনযাপন রীতির পরিপূর্ণ একটি প্রতিচ্ছবি পরিস্ফুটিত হয়েছে।

📌বিষয়বস্তু :

সুলেখক শায়খ আতীক উল্লাহ তাঁর ঢাউস সাইজের এ গ্রন্থে নবীজির দৈনিক যে সকল সুন্নাহ ও রীতিনীতির উপর আলোকপাত করেছেন, সংক্ষেপে তা তুলে ধরছি।

▪️যিকরুল্লাহ - আল্লাহর যিকির (২১-১০৪ পৃ.) :

এ শিরোনামের অধীনে লেখক নবীজির পঠিত দৈনন্দিন যিকিরসমূহের বর্ণনা দিয়েছেন। সারাদিনের যিকিরসমূহের ফজীলত ও গুরুত্বের কথাও তুলে এনেছেন হাদীসের আশ্রয়ে। মূলত নবীজির দিনগুলি ছিল যিকিরময়। তাঁর কোন ক্ষণই যিকিরমুক্ত ছিলনা। বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত নবীজির পঠিত যিকিরগুলোই এ শিরোনামের অধীনে স্থান পেয়েছে।

▪️সকাল-সন্ধ্যা ( ১০৫ - ১৬৬ পৃ.) :

এ শিরোনামের অধীনে লেখক নবীজির পঠিত সকাল ও সন্ধ্যার দুয়ায়ে মাসনুনাহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। হাদীস থেকে প্রতিটি দুয়া, তাসবীহাত ও ইসতিগফারের সপক্ষে সহীহ প্রমাণ পেশ করেছেন। পাশাপাশি হাদীসে উল্লেখিত দুয়া, তাসবীহাত ও নবীজির প্রতি দরূদ পাঠের বিশেষ উপকারিতার কথাও আলোচনা করেছেন।

▪️সালাত পরবর্তী আমল ( ১৬৭ - ১৮২ পৃ.) :

সালাত পরবর্তী কিছু মাসনূন আমল সালাতে কৃত ভুলত্রুটির মাশুল। এসব আমল সালাতকে সুশোভিত করে তুলে। তাই নবীজি এই আমলগুলো ছাড়তেন না।সালাত সমাপ্ত করে নবীজি কি কি দুয়া পড়তেন, নবীজির ইসতিগফারের নিয়ম, সালাত পরবর্তী সুন্নাহসম্মত দুয়াসমূহ পড়ার সময় কখন এবং উপকারিতা কি কি ইত্যাদি বিষয় এই শিরোনামের ছায়ায় সুন্দরভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

▪️তাহাজ্জুদ ( ১৮৩ - ২০৮ পৃ.) :

তাহাজ্জুদের সালাত নবীজির নিয়মিত আমল ছিল। কুরআন কারীমে এ সালাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। লেখক শায়খ আতীক উল্লাহ 'তাহাজ্জুদ' শিরোনামের অধীনে নবীজির তাহাজ্জুদ আদায়ের ধরণ ও রাকাতসংখ্যা, তাহাজ্জুদে পঠিত দুয়া, জামাত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় এবং এ সালাতের অত্যধিক উপকারিতার কথা হৃদয়গ্রাহী বর্ণনায় তুলে ধরেছেন। যা যেকোন পাঠককে তাহাজ্জুদ সালাতের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

▪️পবিত্রতা - পরিচ্ছন্নতা ( ২০৯ - ২২৮ পৃ.) :

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা মুমিন ব্যক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ পবিত্রতা - পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। নবীজিও সাহাবায়ে কিরামকে পবিত্রতার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেন। তাই লেখকও নবীজির আমলী জিন্দেগির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আঁকতে গিয়ে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা অর্জনের প্রাসঙ্গিক সুন্নাহসমূহের প্রতি পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।

▪️সালাত ( ২২৯ - ৩৭৮ পৃ.) :

এ গ্রন্থের সবচেয়ে দীর্ঘ আলোচনা সন্নিবেশিত হয়েছে সালাতের ব্যাপারেই। এটি অবশ্যই চাহিদার সাথে যথার্থ সামঞ্জস্যপূর্ণও। কারণ কুরআন কারীমে সালাতকেই মুমিনের শ্রেষ্ঠতম দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সুরা নিসার ১০৩ নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন,
فَاِذَا قَضَیۡتُمُ الصَّلٰوۃَ فَاذۡکُرُوا اللّٰہَ قِیٰمًا وَّ قُعُوۡدًا وَّ عَلٰی جُنُوۡبِکُمۡ ۚ فَاِذَا اطۡمَاۡنَنۡتُمۡ فَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ ۚ اِنَّ الصَّلٰوۃَ کَانَتۡ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ کِتٰبًا مَّوۡقُوۡتًا.
- অতঃপর যখন তোমরা সালাত পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহর স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয় সালাত মুমিনদের উপর নির্দিষ্ট সময়ে আবশ্যকীয় কর্তব্য।

ফলে নবীজির দৈনিক আমলসমূহের মধ্যে সালাতই সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব পেয়েছে। তাই সালাত সংশ্লিষ্ট বিবিধ সুন্নাহ সম্পর্কে লেখক দেড়শ পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত আলোচনা করেছেন। যা বলতে গেলে একটি বইয়ের ভিতর আরেকটি বইয়ের রূপ পরিগ্রহ করেছে। সালাতের সুন্নাহ, আদাব ও নীতির আলোচনা এসেছে। বিশেষকরে কিয়াম, রুকু ও সাজদাতে“খুশু-খুযু” সহকারে নিবিষ্টতার সাথে সালাত আদায়ের সুন্নাহ পদ্ধতি নিয়ে লেখক প্রাণভরে আলোচনা করেছেন।

▪️জুমআ ( ৩৭৯ - ৪২৪ পৃ.) :

কুরআন সুন্নাহ মুমিনদের জন্য জুমআবারকে বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ করে উপস্থাপন করেছে। জুমআবার আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামাত। নবীজি জুমআবারে নিজে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। জুমআবারের আমলসমূহ আদায়ে পরিবার পরিজন ও সাহাবা কিরামকে আলাদাভাবে তাগাদা দিতেন। 'জুমআ' শিরোনামের অধীনে লেখক জুমআবারে সুরা কাহাফ তিলাওয়াতের উপকারিতা, দরূদ পাঠের গুরুত্ব, জুমাআবের সাজশোভা, জুমার সালাতে গমন ও মাসজিদে অবস্থানের সুন্নাহপদ্ধতি, জুমাবারে আহার বিশ্রামের নববি নিয়ম ইত্যাদি বিষয় চমৎকার বর্ণনায় উপস্থাপন করেছেন।

▪️সিয়াম ( ৪২৫ - ৪৬৬ পৃ.) :

সিয়াম সাধনা মুমিন জীবনের বার্ষিক একটি উৎসবের মতোই। সমগ্র দুনিয়ায় রমাদান মাসে এক অনন্য আবহ ও পরিবেশ বিরাজ করে। নবীজির রমাদান কিরকম ছিলো, মূলত লেখক 'সিয়াম শিরোনামে এ বিষয়টির উপরে আলোকপাতে প্রয়াসী হয়েছেন। এতে ইফতার ও সাহরীর সুন্নাহ, রমাদানকালীন দুয়া- ইসতিগফার, দানশীলতা, ইতিকাফের মহত্ত্ব, লাইলাতুল কদর, রমাদান পরবর্তী সাওমের ফজীলত ইত্যকার বিষয়ে দলীলসমৃদ্ধ আলোচনা উঠে এসেছে।

▪️ঈদ উৎসব ( ৪৬৭ - ৪৮৪ পৃ.) :

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য দুনিয়াবী এওয়ার্ড হলো ঈদুল ফিতর। এ অধ্যায়ে লেখক ঈদের সুন্নাহসমূহের উপর দৃষ্টিপাত করেছেন। একজন মুমিন ব্যক্তির ঈদের দিন কিভাবে কাটানো উচিত, তার একটি মানসম্মত প্রেসক্রিপশন আমরা এখান থেকে পেতে পারি।

▪️কুরবানী ( ৪৮৫ - ৪৯১ পৃ.) :

মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব অনুষ্ঠান হলো 'ঈদুল আযহা' বা কুরবানির দিন। কুরবানি বছরে একবার আগমন করে বলে আমাদের অনেকের মন থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ বিস্মৃত হয়ে যায়। কুরবানি সংশ্লিষ্ট কতিপয় সুন্নাহ আমরা এ অধ্যায় থেকে জেনে নিতে পারি। যেমন কুরবানিতে পশু জবাইয়ের সময় কখন এবং আইয়ামে তাশরীকে তাকবীরের গুরুত্ব ও ফজীলত ইত্যাদি।

▪️পানাহার ( ৪৯২ - ৫৪০ পৃ.) :

আমাদের দৈনন্দিন জীবনধারা পানাহারের সাথে উৎপ্রোতভাবে জড়িত। পানাহার সংশ্লিষ্ট নবীজির সুন্নাহসমূহের উপর একটি সামগ্রিক ধারণা থাকলে আমাদের খাওয়াদাওয়াও ইবাদাতে পরিণত হবে, বরকত আসবে এবং স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত থাকবে। তাই লেখক এখানে পানাহার সংশ্লিষ্ট খুবই দরকারি ও উপযোগী সুন্নাহসমূহ তুলে এনেছেন। প্রতিটি সুন্নাহ যেহেতু হাদীস থেকেই আহরিত, তাই দলীলও যোগ করে দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য সূত্রের আলোকে।

▪️সফর ( ৫৪১ - ৫৭২ পৃ.) :

কুরআন কারীমে সফরকে বলা হয়েছে জীবিকা ও শিক্ষার উৎস। সফর করলে অতীতযুগের অবাধ্য জাতিসমূহের নির্মম পরিণতির কথা জানা যায়। সফর জীবিকার জন্যও হতে পারে। জীবিকার সন্ধানে সফর করার প্রতি নবীজি আমাদেরকে হাদীসে উৎসাহিত করেছেন। লেখক এখানে সফরের দুয়া, আদাব, সফর থেকে নীড়ে ফিরার সময় করণীয়, যানবাহনে আরোহণের দুয়াসহ সফরের কিছু দামি সুন্নাহর কথা তুলে ধরেছেন।

▪️হাদীস শরীফে কুরআন ( ৫৭৩ - ৬০২ পৃ.) :

শায়খ আতীক উল্লাহর এ গ্রন্থটি যেন হাদীসের চোখে জীবন দেখার একটি আয়না। হাদীস মূলত একটি আয়না। দর্পণ। এ আয়না চোখের সামনে ধরে আমরা মনের কল্পনায় নবীজিকেই দেখে থাকি। তাই লেখক এখানে হাদীসের আয়নায় কুরআনকে দেখতে চেয়েছেন। নামাযের ভিতরে বাইরে কুরআন কারীম তিলাওয়াতের ফজীলত, কুরআন পঠনপাঠনের রীতি ও নীতি, কুরআনি হালাকা ইত্যাদি বিষয় লেখকের স্বভাবজাত কলমি বর্ণনায় আকর্ষণীয়ভাবে উঠে এসেছে।

▪️বিবিধ ( ৬০৩ - ৬৪০ পৃ.) :

সর্বশেষ কোন নির্দিষ্ট শিরোনাম ছাড়া কিছু বিষয়ে লেখকের কলম কথা বলেছে। যেখানে নানাবিধ টপিকে আলোচনা হয়েছে। তবে সবগুলোতেই সুন্নাহর দিকটা ধরে রাখা হয়েছে। মূলত এগুলোও নবীজির দৈনন্দিন কিছু বহুল চর্চিত সুন্নাহ, যেগুলো আমাদের থেকে অবহেলায় ছুটে যায়। যেমন হাঁচির জবাব, শিশুকে সালাম, প্রবেশের অনুমতি, প্রিয়জনের খোঁজখবর নেয়া ইত্যাদি।

» উপর্যুক্ত আলোচনায় বিষয়বস্তু শিরোনামে গ্রন্থের সারাংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। গ্রন্থের আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিকের প্রতি নিম্নে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি :

📌চমৎকার ভূমিকা :

লেখকের প্রতিটি বইয়ে আমি প্রথমেই তাঁর ভূমিকাটি পড়ার লোভ সামলাতে পারিনা। কারণ এখানে থাকে লেখালেখির সময় লেখকের কিছু বাস্তবিক টুকরোটুকরো অভিজ্ঞতা ও অল্পসল্প গল্পকথা। বইটি রচনার প্রেক্ষাপট, রচনার সময় কোন কোন উৎস গ্রন্থের আশ্রয় নেয়া হয়েছে ইত্যাদি বিষয়। এ গ্রন্থের শুরুতেও লেখক 'বিসমিল্লাহ' শিরোনামে সুন্দর একটি ভূমিকা লিখেছেন। যা এক কথায় অনবদ্য লেগেছে।

📌আকর্ষণীয় শিরোনাম :

লেখালেখিতে শায়খ আতীক উল্লাহর একটি ভিন্নরুচির দেখা মেলে। তা বইয়ের নাম নির্ধারণে হোক বা শিরোনাম নির্ধারণে। এটাকে লেখক স্বয়ং নিজের ছেলেমানুষি দুর্বলতা বলেছেন এই গ্রন্থের ভূমিকায়। এ গ্রন্থেরও কিছুকিছু শিরোনাম আমার খুবই ভালোলেগেছে। যেমন, তিনকুল পাঠের ফজীলত বলতে গিয়ে লেখক শিরোনাম দিয়েছেন এন্টিভাইরাস, তাহাজ্জুদ সালাতের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে শিরোনাম দিয়েছেন 'মুসতাগফির বিল আসহার', জুমাআবারের ফজীলতের কথা বলতে গিয়ে শিরোনাম দিয়েছেন 'জুমআবারীয় অফার', ঘরে নামায আদায়ের বিশেষ স্থান রাখার কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন 'ঘরোয়া মাসজিদ', ঠাণ্ডা পানির প্রতি নবীজির আগ্রহের কথা তুলে ধরতে গিয়ে শিরোনাম দিয়েছেন 'শীতল শরাবান তাহুরা', ডানদিক থেকে কাজ শুরু করার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে শিরোনাম দিয়েছেন 'বরকতময় ডান' ইত্যাদি।

📌ভাষার প্রাঞ্জলতা :

শায়খ আতীক উল্লাহর যেকোন লেখা পাঠকের হৃদয়ে দাগ কাটার আরেকটি মৌলিক কারণ হলো, ভাষার প্রাঞ্জলতা। সাবলীল বর্ণনা ও ঝরঝরে গদ্যে তিনি যেকোন লেখায় একটি মিষ্টি আবহ ছড়িয়ে দিতে পারেন। তাঁর লেখাগুলো পড়লে মনে হয় এ যেন লেখক ও পাঠকের একটি গল্পের আসর। এ বইতেও লেখক যথার্থ শব্দচয়ন ও মুগ্ধকর ঢংয়ে এবং ছোট ছোট বাক্যে বর্ণনাগুলোকে ফুলের মালার মতো করে গেঁথেছেন। এজন্য তাঁকে বাংলা গদ্যের একজন সুনিপুণ বুননশিল্পী বলা যায়।

📌দুয়ার সম্ভার :

দুয়াকে হাদীসে বলা হয়েছে 'হিসনুল মুসলিম' তথা একজন মুমিনের সুরক্ষাকবচ। ইবাদতের প্রাণই দুয়া। লেখক এ গ্রন্থের পাতায় পাতায় অসংখ্য দুয়ার কথা এনেছেন, যেগুলো বিশুদ্ধে সনদে নবীজি থেকে বর্ণিত হয়েছে। আমি মনে করি, ঘরোয়া পাঠচক্রে নিয়মিত এ গ্রন্থটির তা'লীম করা হলে পরিবার পরিজনে বিশেষ করে শিশুদের মনে দুয়ার প্রতি বাড়তি আগ্রহ তৈরী হবে। ইনশাআল্লাহ।

📌হাদীসের মূলভাব থেকে বহুমুখী শিক্ষা উপকরণ :

লেখক উল্লেখযোগ্য প্রতিটি হাদীসকে গভীর থেকে গভীরে গিয়ে বুঝার ও বুঝানোর চেষ্টা করেছেন। যেমন ৫৬৯ নং পৃষ্ঠায় রাস্তার হক সংক্রান্ত হাদীসটি থেকে লেখক আমাদের বর্তমান সমাজব্যবস্থায় বহুল প্রচলিত মানুষকে কষ্ট দেওয়া এবং অপরের হক নষ্ট করার ১৬/১৭ দিক নিয়ে লিখেছেন। এরকম অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা গ্রন্থের বহুস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

📌হাদীস বর্ণনায় সচেতনতা :

শর'ঈ যে কোন আমল অনুমোদন লাভের পিছনে অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহর কোন বিশুদ্ধ নস থাকতে হবে। এ বইয়ের আলোচনাগুলো যেহেতু নবীজির কথামালা ও আমল ঘিরেই গড়ে উঠেছে, তাই লেখক যথাসম্ভব সহীহ হাদীসের আশ্রয় নিয়েই নিজের বক্তব্য সাজিয়েছেন। হাদীসের সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু মান উল্লেখ করা হয়নি এ আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ নেই। কারণ সংকলিত প্রতিটি হাদীসই সনদের দিক থেকে বিশুদ্ধতার মানে উত্তীর্ণ। এ ব্যাপারে লেখকের বক্তব্য হল,“হাদীসগুলোতে সনদের মান সম্পর্কে আলাদা করে কিছু বলিনি। সংকলনে বর্ণিত প্রতিটি হাদীসই সহীহ। তাই আলাদা করে মান বলতে যাইনি। আমল ও ফযিলতের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীসও গ্রহণযোগ্য। তাই কোথাও যয়ীফ হাদীস সংযোজিত হলে শুধু সেটার মান বলেছি। আমরা হাদীসের ‘ইবারত’ সংগ্রহ করেছি "আল বাহিসুল হাদীসি' ওয়েবসাইট থেকে। সেখানে আল্লামা আলবানী রহ.-এর তাখরীজ দেওয়া ছিল। মাঝেমধ্যে যয়ীফ হাদীস আলোচনায় সংযোজন করলে সেটার মান বলে দিয়েছি”।

লেখকের কঠোর পরিশ্রম, সাধনা, নিষ্ঠার বদৌলতেই আমরা পেয়েছি এরকম একটি মাস্টারপিস রচনা। এই গ্রন্থের প্রতিটি শব্দ ও বাক্য যেন নবীজির প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা থেকেই উৎসারিত।

» পরিশেষে, এ গ্রন্থটির লেখকের কলমে মহান আল্লাহ বারাকাহ দিন। প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কবুল করুন। পাঠকসমাজকে সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আমীন।

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম। রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদু আনহু।

#মাকতাবাতুল_আযহার_রিভিউ_প্রতিযোগীতা_২০২২
রিভিউ লেখক : রাশেদ মুহাম্মাদ জিয়া
১৯-০৮-২০২২

খুলুকিন আযীমনবীজিকে ভালবাসার বিনম্র প্রয়াস---------বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম১. আমাদের পেয়ারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ও...
09/08/2022

খুলুকিন আযীম
নবীজিকে ভালবাসার বিনম্র প্রয়াস
---------
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
১. আমাদের পেয়ারা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ।
২. নবীজির উসীলায় আমরা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত।
৩. আল্লাহ তাআলা আমাদের ‘খাইরা উম্মাহ’ (خَيْرَأُمَّةٍ) বা সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত বলে আখ্যায়িত করেছেন।
৪. সর্বশ্রেষ্ঠ নবীজির আদর্শই সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ।
৫. নবীজির আদর্শকে সুন্নাহ বলে।
৬. নবীজির সুন্নাহকে ধারণ করে আমরা হতে পারি খাইরা উম্মাহ।
৭. নবীজির সুন্নাহ দুনিয়াতে আমাকে দিতে পারে প্রশান্তিময় জীবন।
৮. নবীজির সুন্নাহ আমাকে আখেরাতে দিতে পারে চিরসুখের জান্নাত।
৯. নবীজির সুন্নাহ আমাকে এনে দেবে কেয়ামতের দিন নবীজির সুপারিশ।
১০. নবীজির সুন্নাহ আমাকে এনে দেবে কাওসারের অমিয়সুধা।
১১. খরায় ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া উষর নিরস ধূসর জমি, বৃষ্টির শান্তিধারায় সবুজ লকলকে হয়ে ওঠে। নবীজির সুন্নাহও আমার জীবনকে এমন বসন্ত-শ্যামল সুশোভিত করে তুলবে।
১২. দিগন্তবিস্তৃত মরুতে পথ হারিয়ে ফেলা মুসাফির আকাশের ঝিকিমিকি তারা দেখে পথের হদিস খুঁজে পায়। নবীজির প্রতিটি সুন্নাহও আমার জন্য মুক্তির কম্পাস।
১৩. উত্তাল সাগরে দিকভ্রান্ত নাবিক, জ্বলজ্বলে তারা দেখে পরম নিশ্চিন্তে গতিপথ খুঁজে পায়। পাপসমুদ্রে হাবুডুবু খেতে থাকা আমিও নবীজির সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে পৌঁছে যেতে পারব মুক্তির সোনালী বন্দর জান্নাতে।
১৪. কুরআন কারীমে আল্লাহ তাআলা নবীজিকে সম্বোধন করে বলেছেন,
وَإِنَّكَ لَعَلَىٰ خُلُقٍ عَظِیْمٍ
এবং নিশ্চয়ই আপনি চরিত্রের সর্বোচ্চ স্তরে অধিষ্ঠিত আছেন (সূরাতুল কালাম ৪)
১৫. কুরআনবর্ণিত এই খুলুকিন আযীম মানে মহোত্তম চরিত্রই ‘নবীজির সুন্নাহ’। খুলুকিন আযীম বইটিতে, সাগর সেঁচে মুক্তো আহরণের মতো, তারকাসদৃশ সুন্নাহগুলো পরম যত্নে কোঁচড় ভরে তুলে আনা হয়েছে সাবলীল ভাষায়।
১৬. ৬৪০ পৃষ্ঠার এই বইয়ে প্রায় (২৩০) দুইশ ত্রিশটি শিরোনামে অসংখ্য সুন্নাহর কথা আলোচিত হয়েছে। নিত্যদিনের প্রতিটি মুহূর্তকে সুন্নাহর রঙে রঙিন করে তুলতে, বইটি
১৭. নবীজির প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে ‘খুলুকিন আযীম’ হতে পারে আমার অনিবার্য পাথেয়।
১৮. নবীজিকে ভালবাসতে ‘খুলুকিন আযীম’ বইটি হতে পারে আমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। আমার ‘শিয়রসঙ্গী’। আমার সফরসঙ্গী। আমার পাঠসঙ্গী।
১৯. বইটি জন্মলগ্ন থেকে প্রকাশের চৌকাঠ পাড়ি দেয়া পর্যন্ত অসংখ্য আল্লাহর বান্দার যত্ন, মহব্বত, মেহনত পেয়েছে। রাব্বে কারীম সবাইকে কবুল করে নিন। সবার দুনিয়া-আখেরাত হাসানাপূর্ণ করে দিন। প্রকাশক, লেখক ও পাঠককেও দুনিয়া-আখেরাতে হাসানা দান করুন।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
রাদিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদূ আনহু।

10/07/2022
লিখেছেন জনাব Abdul Hai সাহেব।এখন যা পড়ছি- ৩০ #খুলুকিন_আযীমলেখক- Atik Ullah ( হাফিজাহুল্লাহ)প্রকাশনা- Maktabatul Azhar  ম...
16/05/2022

লিখেছেন জনাব Abdul Hai সাহেব।
এখন যা পড়ছি- ৩০
#খুলুকিন_আযীম
লেখক- Atik Ullah ( হাফিজাহুল্লাহ)
প্রকাশনা- Maktabatul Azhar মাকতাবাতুল আযহার
🤲🏽
'খুলুকিন আযীম' এর আদর্শ কিভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে এ নিয়ে সংযুক্ত চিত্রায়িত দৃশ্যটির রূপক ধারণা আমরা মুসলিম ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল এক অধ্যায় থেকে নেই।
মুতার প্রান্তর। রোমকরা একদিকে আমরা একদিকে।
🤲🏽
আমরা বলতে প্রিয় নবিজীর লড়াকু সৈনিকরা। সংখ্যায় আকাশ আর জমিন ব্যবধান। দুইলাখ কা/ফের আর আমরা মাত্র ৩ হাজার। নবিজী সা. বাহিনী পাঠানোর আগে বললেন, আমীর হবে যায়েদ, তিনি শহীদ হলে জাফর বিন আবু তালেব, তিনিও শহীদ হলে আব্দুল্লাহ রাওয়াহা। তিনিও শহীদ হলে তোমরা পরামর্শ করে আমীর বানিয়ে নিও।
🤲🏽
তিনজনের যেহেতু লিস্ট করা হয়েছে মোটামুটি সবাই নিশ্চিত ছিলো এটাই তাদের জীবনের শেষ সফর। যুদ্ধে তিনজনেই শাহাদাত বরণ করেছিলেন। নবিজীর কাছে কারগুজারি শোনানো হলো, এরপর বানানো হয়েছিলো খালিদ বিন ওয়ালীদকে। নবিজী সা. বললেন, খালিদ আল্লাহর তরবারি। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া রাদ্বোয়ান।
জাফর বিন আবি তালিবের হাতে যখন নেতৃত্ব ঈমানের ঝাণ্ডা তখন তাঁর হাতে। কা/ফেররা তাঁর এক হাতে আঘাত করলো সেটা কেটে পড়ে গেলো। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটলো। আবার আঘাত করলো আরেক হাতে। সেটাও প্রায় আলাদা হয়ে গেছে কিন্তু চামড়ার সাথে কিছুটা লেগে ছিলো। ঝান্ডা তখনও চিবুক আর বুক দিয়ে চেপে ধরে আছেন। ঝুলে পড়া হাত সমস্যা করছিলো তাই হাতটিকে নিচে রেখে পা দিয়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলেন।
চিবুক আর বুক চেপে জীবনের অন্তিম শ্বাস চলমান থাকাবস্থায় ‘খুলুকিন আযীম’ এর আদর্শ বাস্তবায়নে দ্বীনের ঝাণ্ডাকে উন্নীত রেখে গেছেন। ইয়া আল্লাহ আপনি তাদেরকে জান্নাতের ‍উঁচা মাকাম দান করেন। তাঁদেরকে আপনি সন্তুষ্ট করে দেন। আমাদেরকে তাদের উসিলায় মাফ করে দেন। আমীন। ‘খুলুকিন আযীম’ এর পরিপূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ দান করেন।
🤲🏽
বক্ষ্যমাণ বইটি নবিজীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুনানিয়্যাত ধারাবাহিকতার প্রথম প্রকাশ। আমাদের ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে বইটির পর্যালোচনা ক্রমান্বয়ে তুলে ধরা হলো।
🌱🌸🕊
১) ধারাবাহিকতা।
লেখক কিতাবটিকে একটি সুশৃঙ্খল ধারাবাহিকতায় রাখার চেষ্টা করেছেন। ঈমানের মূল স্তম্ভ তাওহীদ, আল্লাহর স্বীকারোক্তি। আল্লাহ তায়ালার নিরঙ্কুশ আধিপত্য মেনে তাঁর গুণগান করা অর্থাৎ ‘যিকরুল্লাহ’ দিয়ে বইটির শুভসূচনা করেছেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য বিষয়গুলোর সন্নিবেশন করেছেন।
🌱🌸🕊
২) সুন্নাহকে জীবন ঘনিষ্ঠ করে তোলা
নবিজীর জীবনের সুন্নাহর সাথে আমাদের জীবনে সুন্নাহর প্রয়োগ ও আমালে পরিণত করার ব্যাপারে লেখকের প্রেরণাদায়ক আহবান খুব সহজেই একজন পাঠককে নবিজীর সুন্নাহর প্রতি আগ্রহী করে তোলে। আমরা চাইলেই আমাদের জীবনে একটু সচেতন হলেই সুন্নাহর চর্চা করতে সক্ষম হবো, এটা আমার জীবনে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয় লেখক এই বিষয়টি পাঠককে বুঝাতে সক্ষম হয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস। লেখক শুধু সুন্নাহ এবং হাদিসের বয়ান করেই ক্ষান্ত হয়ে যাননি প্রাত্যহিক জীবনে সে সুন্নাহটির আমলের সম্ভাব্য পদ্ধতি। সহজতর উপায়ে বিনাশ্রমে কিভাবে সুন্নাহটি আমলে রূপান্তরিত করা যায় সেটার বটিকাও বাতলে দিয়েছেন।
🌱🌸🕊
৩) সুন্নাহকে ভালোবাসার নিবেদনমাখা পয়গাম ‘খুলুকিন আযীম’
বইটির প্রথম শব্দ থেকে শেষ শব্দ অবধি নবিজীর ভালোবাসায় উজার করে দেওয়ার এক নিবেদনমাখা আবেদন রয়েছে। পাঠকের অন্তরে নবিজীর প্রতি মুহাব্বাতের বীজ বুনন করে দেওয়ার এক সুতীব্র পিপাসা আছে। লেখক গল্পের ছলে, জীবনের সাথে মিলিয়ে, ঘটনার আবহে, উদাহরণের সাথে বুঝিয়ে পাঠকের হৃদয়ের গহীনে সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসার এক সলতে দীপশিখা প্রজ্বলিত করার চেষ্টা করেছেন। যার আলোতে আলোকিত হবে পবিত্র হবে হৃদয়। পাঠকের অন্তর হয়ে ‍উঠবে নববী ইশকের চেতনা জাগানিয়া বাতিঘর।
🌱🌸🕊
৪) সুন্নাহর রঙে জীবন রাঙানোর প্রভাবক
কিতাবটি মূলত জীবন জাগানিয়া একটি কিতাব। অধ্যয়ন শুরুর সাথে সাথে তার জীবন সুন্নাহর রঙে রঙিন হতে শুরু করবে ইন শা আল্লাহ। তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল বিস্তৃত সমগ্র জীবনে সুন্নাহর পবিত্র ছোঁয়া লাগবে । সালাত, কিয়াম, তাসবীহ তাহলীল, কুরআন, সকাল সন্ধ্যা, আত্মীয়, স্বজন, পরিবার পরিজন অর্থাৎ মুমিনের জীবনের জন্য নবিজীর বরকতময় জীবনের সকল অধ্যায়কে পরিচিত করানো হয়েছে। কিতাবটির সঙ্গে গভীর মনোযোগের সাথে থাকলে একজন মুুুুুমিন যেন স্বয়ং নবিজীর সঙ্গেই আছে এমনটা মনে হবে। রাব্বে কারীম কবুল করেন।
🌱🌸🕊
৫) ঝরঝরে গতিশীল সুখপাঠ্য রচনাশৈলী
হাদিস কিংবা কুরআনের আয়াত পাঠে গৎবাঁধা বর্ণনাকেন্দ্রিক বিবরণ নয় বরং স্বাভাবিক আলাপচারিতার মত বোধগম্য ও সহজবোধ্য ভাষায় মনোযোগ ধরে রেখে পাঠককে সঙ্গে নিয়ে চলেছেন পুরো কিতাবটিতে। ফলে পাঠে একঘেঁয়েমি কিংবা হাই তোলবার ফুরসত মিলে না। একটি অধ্যায় শেষ হবার পর পরবর্তী অধ্যায় সম্পর্কে জানবার আগ্রহ তীব্র হয়। স্বপ্রণোদিত হয়েই পাঠক নববী আদর্শের সুরা পান করতে থাকে আকণ্ঠ।
🌱🌸🕊
এছাড়াও বইটি রুহানী খোরাকের এক অমিয় সুধা। সুমিষ্ট এক পবিত্র ঝর্ণাধারা। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসায় বুঁদ হওয়া ‘হাশিশ’। তাঁর ভালোবাসায় নিজেকে কুরবান করে দেওয়ার চেতনা জাগানিয়া দৃঢ় প্রত্যয়।
🌱🌸🕊
রাব্বে কারীম আমাদেরকে ‘খুলুকিন আযীম’ এর আদর্শ পরিপূর্ণরূপে ধারণ করার তাওফিক দান করেন। হাউজে কাউসার এর পেয়ালা ভর্তি পানির সৌভাগ্য নসীব করেন। জান্নাতে তাঁর কাছাকাছি থাকার তাওফিক দান করেন।
🌱🌸🕊
ছবির কথা- বিদুৎষ্পৃষ্ট হয়ে দু’হাত হারানো ১২ বছর বয়েসি বালকটি সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে। ওর জন্য দোয়া করবেন। রাব্বে কারীম যেন তাকে কবুল করেন।

নিদ্রা, জাগরণ ও ওজু-ইস্তিঞ্জার মাসনুস দোয়া১.বিছানা ঝাড়াশোয়ার আগে তিনবার বিছানা ঝেড়ে, ডানকাতে শুয়ে দুআটি পড়বো,سُبْحَانَكَ...
14/05/2022

নিদ্রা, জাগরণ ও ওজু-ইস্তিঞ্জার মাসনুস দোয়া
১.বিছানা ঝাড়া
শোয়ার আগে তিনবার বিছানা ঝেড়ে, ডানকাতে শুয়ে দুআটি পড়বো,
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ رَبِّيْ بِكَ وَضَعْتُ جَنْبِيْ، وَبِكَ أَرْفَعُهُ، إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِيْ، فَاغْفِرْ لَهَا، وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِه عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ.
(সুবহা-নাকাল্লাহুম্মা রাব্বী বিকা ওয়াদা‘তু জাম্বী, ওয়া বিকা আরফাউহু, ইন আমসাকতা নাফসী ফাগফির লাহা, ওয়া ইন আরসালতাহা ফাহফাজহা বিমা তাহফাজু বিহি ইবা-দাকাস স্বলিহীন।)
‘হে আল্লাহ, আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আপনারই নামে আমার দেহ বিছানায় রাখলাম, আপনারই সাহায্যে দেহ বিছানা থেকে উঠাবো। যদি ইতোমধ্যে আমার জান কবয করে নেন; তা হলে, আমার প্রাণের প্রতি দয়া করবেন। আর যদি তা আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে তাকে এমনভাবে হেফাযত করবেন, যেভাবে আপনি আপনার নেক বান্দাদের হেফাযত করে থাকেন (মুসলিম, হাদিস নং : ২৭১৪)।’
২. বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে পড়বো,
اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ أَحْيَا وَأَمُوْتُ.
(আল্লাহুম্মা বিসমিকা আহইয়া ওয়া আমূতু।)
আপনার নামে মৃত্যুবরণ করছি ও জীবনধারণ করছি (বুখারি, হাদিস নং : ৭৩৯৪)।
৩. দিনশেষের আশ্রয়
ঘুমানোর সময় হাত মাথার নিচে রেখে বলবো,
اَللّٰهُمَّ قِنِيْ عَذَابَكَ يَوْمَ تَجْمَعُ أَوْ تَبْعَثُ عِبَادَكَ.
(আল্লাহুম্মা কিনী আযাবাকা ইয়াওমা তাজমাউ আও তাবআসু ইবাদাক।)
‘হে আল্লাহ, আপনি যেদিন বান্দাদেরকে জমায়েত করবেন (পুনরুত্থিত করবেন), সেদিন আমাকে আযাব থেকে রক্ষা করবেন (তিরমিযী, হাদিস নং : ৩৩৯৮)।’
৪. শোয়ার পর বলবো—
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلكُ، وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، لَاحَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ الْعَليِّ الْعَظِيْمِ، سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَلَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ، واللهُ أَكْبَرُ.
(লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর। লা হাওলা ওয়া লা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম। সুবহানাল্লাহি, ওয়াল হামদুলিল্লাহি, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।)
আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ-উপাস্য নেই। তিনি এক। তার কোনো শরীক নেই। সমস্ত ক্ষমতা-রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। তিনিই সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। মহান সমুন্নত আল্লাহ ছাড়া আরও শক্তি আর ক্ষমতা নেই। আল্লাহ সবধরনের অসম্পূর্ণ থেকে মুক্ত পবিত্র। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই (ইবনে হিব্বান, হাদিস নং : ৫৫২৮)।
৫. ঘুমের আগে ‘হামদ’।
বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে বলবো,
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَطْعَمَنَا وَسَقَانَا، وَكَفَانَا وَآوَانَا، فَكَمْ مِمَّنْ لَا كَافِيَ لَهُ وَلَا مُؤْوِيَ.
(আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আতা‘আমানা ওয়া সাকা-না ওয়া কাফা-না ওয়া আ-ওয়ানা। ফাকাম মিম্মান লা কা-ফিয়া লাহু ওয়ালা মুবিয়া।)
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের আহার দান করেছেন, পান করিয়েছেন। পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। আশ্রয় দিয়েছেন। এমন কতজন আছে, যাদের দেখাশোনার কেউ নেই, আশ্রয়দাতা নেই (মুসলিম, হাদিস নং : ২৭১৫)।
৬. ঘুমের আগে তিনকুল
ক. শোয়ার আগে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীর মুছবো (বুখারী, হাদিস নং : ৫৪১৬)।
খ. তিন সূরা একসাথে পড়ে, হাতের দুই তালুতে ফুঁ দেব। প্রথমে মুখ মুছব। তারপর মাথা থেকে শুরু করে, পুরো শরীর। সব সময় ডানপাশটা আগে মুছব। এভাবে তিনবার। নিজে না পারলে, অন্য কাউকে দিয়ে পড়িয়ে হলেও, পুরো শরীরে তিনবার হাত বুলিয়ে নেব।
সূরাতুল ইখলাস
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ ۚ﴿۱﴾ اَللهُ الصَّمَدُ ۚ﴿۲﴾ لَمْ یَلِدْ ۬ۙ وَ لَمْ یُوْلَدْ ۙ﴿۳﴾ وَ لَمْ یَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ﴿۴﴾
আল্লাহর নামে শুরু, যিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু। বলে দিন, কথা হলÑ আল্লাহ সব দিক থেকে এক। আল্লাহই এমন যে, সকলে তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন। তার কোনো সন্তান নেই এবং তিনিও কারও সন্তান নন। এবং তার সমকক্ষ নয় কেউ।
সূরাতুল ফালাক
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۙ﴿۱﴾ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ۙ﴿۲﴾ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۳﴾ وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِ ۙ﴿۴﴾ وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ﴿۵﴾
‘আল্লাহর নামে শুরু, যিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু। বলুন, আমি ভোরের মালিকের আশ্রয় গ্রহণ করছি। তিনি যা—সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। এবং অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা ছেয়ে যায়। এবং সেই সব ব্যক্তির অনিষ্ট হতে, যারা (তাগা বা সুতার) গিরায় ফুঁ দেয়। এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।’
সূরাতুন নাস
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۙ﴿۱﴾ مَلِکِ النَّاسِ ۙ﴿۲﴾ اِلٰهِ النَّاسِ ۙ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ۬ۙ الْخَنَّاسِ ۪ۙ﴿۴﴾ الَّذِیْ یُوَسْوِسُ فِیْ صُدُوْرِ النَّاسِ ۙ﴿۵﴾ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ ﴿۶﴾
‘আল্লাহর নামে শুরু, যিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু। বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি সমস্ত মানুষের প্রতিপালকেরÑ সমস্ত মানুষের অধিপতির। সমস্ত মানুষের মাবূদের। সেই কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে পেছনে আত্মগোপন করে। যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। সে জিনদের মধ্যে হতে হোক বা মানুষের মধ্যে হতে।’
৭. ঘুমের আগে দুআ
ওযু করে ডান কাতে শুয়ে এই দুআটি পড়বো,
اَللَّهُمَّ أَسْلَمْتُ وجْهِيْ إِلَيْكَ، وَفَوَّضْتُ أمْرِيْ إِلَيْكَ، وَأَلْجَأْتُ ظَهْرِيْ إِلَيْكَ، رَغْبَةً وَرَهْبَةً إلَيْكَ، لَا مَلْجَأَ وَلَا مَنْجَا مِنْكَ إِلَّا إِلَيْكَ، اَللّٰهُمَّ آمَنْتُ بِكِتَابِكَ الَّذِيْ أَنْزَلْتَ، وبِنَبِيِّكَ الَّذِيْ أَرْسَلْتَ.
(আল্লাহুম্মা আসলামতু ওয়াজহী ইলাইকা, ওয়া ফাউয়াদতু আমরী ইলাইকা, ওয়া আলজা‘তু যাহরী ইলাইকা, রাগবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়ালা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আল্লাহুম্মা আমানতু বিকিতাবিকাল্লাযী আনযালতা, ওয়া নাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালতা।)
আল্লাহুম্মা! আমার চেহারা (মানে পুরো সত্তা) আপনার কাছে সোপর্দ করছি (আপনার কাছে আমানত রাখছি)। আমার সমস্ত বিষয় আপনার কাছে ন্যস্ত করছি (সব বিষয়ে আপনার উপর তাওয়াক্কুল করছি, এই আশায়, আপনি সব ব্যাপারে আমার জন্যে যথেষ্ট হয়ে যাবেন, সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করবেন)। আমার পিঠ আপনার আশ্রয়ে রাখছি (আপনার আশ্রয় ও নিরাপত্তা বলয়ে প্রবেশ করে সুরক্ষা কামনা করছি। আপনার সদাজাগ্রত দৃষ্টি আমার উপর রাখার আবেদন করছি)। আপনার রহমতের প্রতি আগ্রহ আর আযাবের ভয় থেকেই এটা করেছি। আপনি ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। আপনার আযাব থেকে পালিয়ে বাঁচার মতোও কোনো স্থান নেই। আল্লাহুম্মা, আপনার নাযিলকৃত কিতাবের প্রতি, আপনার প্রেরিত নবীর প্রতি ঈমান এনেছি (বুখারি, হাদিস নং : ৭০৫০, ২৮১০)।
৮. ঘুমের আগে দুই আয়াত
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়বো (বুখারি, হাদিস নং : ৪০০৮)।
اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُوْنَ ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللهِ وَمَلٰٓئِکَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ ۟ وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ٭۫ غُفْرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیْکَ الْمَصِیْرُ ﴿۲۸۵﴾ لَا یُکَلِّفُ اللهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ؕ لَهَا مَا کَسَبَتْ وَعَلَیْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَیْنَاۤ اِصْرًا کَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَاعْفُ عَنَّا ٝ وَاغْفِرْ لَنَا ٝ وَارْحَمْنَا ٝ اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ ﴿۲۸۶﴾
‘রাসূল (আমাদের নবীজি) তাতে ঈমান এনেছে, যা তাঁর উপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ হতে নাযিল করা হয়েছে এবং (তাঁর সাথে) মুমিনগণও। তাঁরা সকলে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। (তারা বলে,) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না (যে, কারও প্রতি ঈমান আনব এবং কারও প্রতি ঈমান আনব না)। এবং তাঁরা বলে, আমরা (আল্লাহ ও রাসূলের বিধানসমূহ মনোযোগ সহকারে) শুনেছি এবং তা (খুশিমনে) পালন করছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার মাগফিরাতের ভিখারি, আর আপনারই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন।
আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করেন না। তার কল্যাণ হবে সে কাজে, যা সে স্বেচ্ছায় করে এবং তার ক্ষতিও হবে সে কাজে, যা সে স্বেচ্ছায় করে। (হে মুসলিমগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে এই দুআ করো যে,) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দ্বারা যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে যায় তবে সেজন্য আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি সেই রকমের দায়িত্বভার অর্পণ করবেন না, যেমন অর্পণ করেছিলেন আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর এমন ভার চাপাবেন না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের (ত্রুটিসমূহ) মার্জনা করুন, আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনিই আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।
৯. আয়াতুল কুরসীঘেরা ঘুম
আয়াতুল কুরসী পড়ে ঘুমুব (বুখারি, হাদিস নং : ২৩১১)।
اَللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ ۬ۚ لَا تَاْخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّلَا نَوْمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَهٗۤ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ؕ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ اِلَّا بِمَاشَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا یَـُٔوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ ﴿۲۵۵﴾
আল্লাহ তিনি, যিনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, যিনি চিরঞ্জীব, (সমগ্র সৃষ্টির) নিয়ন্ত্রক, তাঁর কখনও তন্দ্রা পায় না এবং নিদ্রাও নয়, আকাশম-লে যা—কিছু আছে (তাও) এবং পৃথিবীতে যা—কিছু আছে (তাও)—সব তাঁরই। কে আছে, যে তাঁর সমীপে তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করবে? তিনি সকল বান্দার পূর্ব-পশ্চাৎ সকল অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত। তারা তাঁর জ্ঞানের কোনো বিষয় নিজ আয়ত্তে নিতে পারে না—কেবল সেই বিষয় ছাড়া, যা তিনি নিজে ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসী আকাশম-ল ও পৃথিবীকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে। আর এ দুটির তত্ত্বাবধানে তাঁর বিন্দুমাত্র কষ্ট হয় না এবং তিনি অতি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও মহিমাময়।
১০. ঘুমের আগে তাসবীহ
ঘুমের আগে তিন তাসবীহ পাঠ করব। তেত্রিশবার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশবার আলহামদুলিল্লাহ, চৌত্রিশবার আল্লাহু আকবার (বুখারি, হাদিস নং : ৫৩৬১)।
১১. সূরা মুলক তিলাওয়াত করব।
১২. সূরা সাজদা তিলাওয়াত করবো (তিরমিযী, হাদিস নং : ৩৪০৪)।
১৩. ঘুমের আগে মুসাব্বিহাত
ঘুমের আগে সম্ভব হলে মাঝেমধ্যে মুসাব্বিহাত মানে সূরা বনী ইসরাঈল, সূরা হাদীদ, সূরা হাশর, সূরা সফ, সূরা জুমুআ, সূরা তাগাবুন, সূরা আলা এবং সূরা যুমার তিলাওয়াত করবো (তিরমিযী, হাদিস নং ২৯২১ ও ৩৪০৫)।
১৪. দুঃস্বপ্ন দেখলে করণীয়
ক. দুঃস্বপ্ন দেখলে, বামদিকে তিনবার থুথু নিক্ষেপ করবে এবং এই স্বপ্নের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে। (অর্থাৎ আউযুবিল্লাহ পড়বে)- মুসলিম, হাদিস নং : ২২৬১
খ. সম্ভব হলে, দুঃস্বপ্ন দেখার পর উঠে সলাত দাঁড়িয়ে যাবো। স্বপ্নটির কথা মানুষকে বলবো না (মুসলিম, হাদিস নং : ২২৬৩)।
গ. শোয়ার পরও ঘুম না এলে, এই দুআ পড়বো,
اَللّٰهُمَّ غَارَتِ النُّجُوْمُ وَهَدَأَتِ العُيُوْنُ وَأَنْتَ حَيٌّ قَيُّوْمٌ يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ أهْدِيْ لَيْلِيْ وَأَنِمُ عَيْنِيْ.
(আল্লাহুম্মা গারাতিন নুজূমু, ওয়া হাদাআতিল উয়ূনূ, ওয়া আনতা হাইয়ুন কাইয়ূমুন, ইয়া হাইয়ু ইয়া কাউয়ূমু, আহদী লাইলী, আনিম আইনী।)
ইয়া আল্লাহ, তারকারাজি অদৃশ্য হয়ে গেছে, সবার চোখ ঘুমে বুজে এসেছে। একমাত্র আপনিই চিরঞ্জীব সর্বনিয়ন্তা। ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়্যুম! আপনি আমার রাতকে স্থির ও শান্ত করে দিন এবং আমার চোখকে ঘুম পাড়িয়ে দিন (মুজামুল কাবীর, হাদিস নং : ৪৬৮৩)।
--------
জাগরণের সুন্নত
১. ঘুম ভাঙার পর উভয় হাত দ্বারা মুখম-ল আর দুই চোখ হালকাভাবে মর্দন করা, যাতে ঘুমের ভাব দূর হয়ে যায়।(বুখারী শরীফ-১৮৩)
২. ঘুম থেকে জেগে উঠে পড়বো,
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَآ أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ.
(আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা, বাদা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশূর।)
‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে মৃত্যুদান করার পর জীবন দান করেছেন। আর তারই দিকে সবার প্রত্যাবর্তন (বুখারি, হাদিস নং : ৭৩৯৪)।’
৩. জেগে উঠে এই দুআ পড়বো,
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ عَافَانِيْ فِيْ جَسَدِيْ وَرَدَّ عَلَيَّ رُوْحِيْ
وَأَذِنَ لِيْ بِذِكْرِه
(আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী আফানী ফী জাসাদী ওয়া রাদ্দা আলাইয়া রূহী ওয়া আযিনা লী বিযিকরিহী।)
‘সমস্ত হামদ-প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি আমার দৈহিকভাবে সুস্থ-নিরাপদ করেছেন, আমার রূহকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন, আমাকে তাঁর যিকির করার অনুমতি (সুযোগ) দিয়েছেন (তিরমিযী : ৩৪০১)।
৪. ইবনে আব্বাস রা. একরাতে তিনি নবীজির ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, নবীজি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে মিসওয়াক করে ওযু সারলেন। এ সময় নবীজি আলে ইমরানের ১৯০ আয়াত থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করছিলেন। তারপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। নবীজি কিয়াম, রুকু-সিজদা দীর্ঘ করলেন। নামায শেষ করে শুয়ে পড়ে রীতিমতো নাক ডেকে ঘুমুলেন। পুরো রাতে তিনবার নবীজি এমন করলেন। এভাবে তিনি ছয় রাকাত সালাত আদায় করেছেন। প্রত্যেক বার তিনি মিসওয়াক করেছেন, ওযু করেছেন এবং আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেছেন। শেষবারে তিন রাকাত বিতির পড়েছেন। তারপর মুয়াযযিন আযান দিলে নবীজি সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেছেন। তখন নবীজি দুআ করেছিলেন—
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ فِيْ قَلْبِيْ نُوْرًا، وَفِيْ لِسَانِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ فِيْ سَمْعِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ فِيْ بَصَرِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ مِنْ خَلْفِيْ نُوْرًا، وَمِنْ أَمَامِيْ نُوْرًا، وَاجْعَلْ مِن فَوْقِيْ نُوْرًا، وَمِنْ تَحْتِيْ نُوْرًا، اَللّٰهُمَّ أَعْطِنِيْ نُوْرًا.
(আল্লা-হুম্মাজ আল ফী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়াফী লিসা-নী নূরাওঁ ওয়াজ‘আল ফী সামঈ নূরাওঁ ওয়াজ‘আল ফী বাসারী নূরাও ওয়াজ‘আল মিন খলফী নূরাওঁ ওয়ামিন আমা-মী নূরাওঁ ওয়াজ‘আল মিন ফাওকী নূরাও ওয়ামিন তাহতী নূরান, আল্লা-হুম্মা আত্বিনী নূরা)
‘হে আল্লাহ আমার হৃদয়-মনে আলো (নূর) সৃষ্টি করে দিন, আমার দৃষ্টিশক্তিতে আলো সৃষ্টি করে দিন, আমার পিছন দিকে আলো সৃষ্টি করে দিন, আমার সামনের দিকে আলো সৃষ্টি করে দিন, আমার উপর দিক থেকে আলো সৃষ্টি করে দিন এবং আমার নীচের দিক থেকেও আলো সৃষ্টি করে দিন। হে আল্লাহ আমাকে নূর বা আলো দান করুন (মুসলিম, হাদিস নং : ৭৬৩)।’
৫. ঘুম থেকে জেগে সম্ভব হলে আয়াতগুলো পড়বো (বুখারি ৪৫৬৯)
اِنَّ فِیْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلَافِ الَّیْلِ وَالنَّهَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الْاَلْبَابِ ﴿۱۹۰﴾ۚ
‘নিশ্চয়ই আকাশ-ল ও পৃথিবীর সৃজনে ও রাত-দিনের পালাক্রমে আগমনে বহু নিদর্শন আছে ঐ সকল বুদ্ধিমানদের জন্য—’
الَّذِیْنَ یَذْكُرُوْنَ اللهَ قِیٰمًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰی جُنُوْبِهِمْ وَیَتَفَکَّرُوْنَ فِیْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ۚ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبْحٰنَکَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ﴿۱۹۱﴾
‘যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে (সর্বাবস্থায়) আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আকাশম-ল ও পৃথিবীর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে (এবং তা লক্ষ্য করে বলে ওঠে)—হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেন নি। আপনি এমন (ফজুল) কাজ থেকে পবিত্র। সুতরাং আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’
رَبَّنَاۤ اِنَّکَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ اَخْزَیْتَهٗ ؕ وَمَا لِلظّٰلِمِیْنَ مِنْ اَنْصَارٍ ﴿۱۹۲﴾
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যাকেই জাহান্নামে দাখিল করবেন, তাকে নিশ্চিতভাবেই লাঞ্ছিত করলেন। আর জালিমগণও তো কোনো রকমের সাহায্যকারী পাবে না।’
رَبَّنَاۤ اِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِیًا یُّنَادِیْ لِلْاِیْمَانِ اَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَاٰمَنَّا ٭ۖ رَبَّنَا فَاغْفِرْلَنَا ذُنُوْبَنَا وَکَفِّرْعَنَّا سَیِّاٰتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ ﴿۱۹۳﴾ۚ
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক ঘোষককে ঈমানের দিকে ডাক দিতে শুনেছি যে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। কাজেই হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মন্দসমূহ আমাদের থেকে মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের মধ্যে শামিল করে নিজের কাছে ডেকে নিন।’
رَبَّنَا وَاٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰی رُسُلِکَ وَلَا تُخْزِنَا یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّکَ لَا تُخْلِفُ الْمِیْعَادَ ﴿۱۹۴﴾
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সেই সবকিছু দান করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি নিজ রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছেন। আমাদেরকে কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনও প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না।’
فَاسْتَجَابَ لَهُمْ رَبُّهُمْ اَنِّیْ لَاۤ اُضِیْعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنْكُمْ مِّنْ ذَکَرٍ اَوْ اُنْثٰی ۚ بَعْضُكُمْ مِّنْۢ بَعْضٍ ۚ فَالَّذِیْنَ هَاجَرُوْا وَاُخْرِجُوْا مِنْ دِیَارِهِمْ وَاُوْذُوْا فِیْ سَبِیْلِیْ وَقٰتَلُوْا وَقُتِلُوْا لَاُکَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَلَاُدْخِلَنَّهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ ۚ ثَوَابًا مِّنْ عِنْدِ اللهِ ؕ وَاللهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الثَّوَابِ ﴿۱۹۵﴾
‘সুতরাং তাদের প্রতিপালক তাদের দুআ কবুল করলেন এবং (বললেন,) আমি তোমাদের মধ্যে কারও কর্মফল নষ্ট করব না, তাতে সে পুরুষ হোক বা নারী। তোমরা পরস্পরে একই রকম। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং তাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, আমার পথে উৎপীড়ন করা হয়েছে এবং (দীনের জন্য) তারা যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের সকলের দোষত্রুটি মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে অবশ্যই এমন সব উদ্যানে দাখিল করব—যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। এসব কিছু আল্লাহর পক্ষ হতে পুরস্কারস্বরূপ হবে। বস্তুত আল্লাহরই কাছে আছে উৎকৃষ্ট পুরস্কার।’
لَا یَغُرَّنَّکَ تَقَلُّبُ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا فِی الْبِلَادِ ﴿۱۹۶﴾
‘যারা কুফর অবলম্বন করেছে, দেশে দেশে তাদের (স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ) বিচরণ যেন আপনাকে কিছুতেই ধোঁকায় না ফেলে।’
مَتَاعٌ قَلِیْلٌ ۟ ثُمَّ مَاْوٰىهُمْ جَهَنَّمُ ؕ وَبِئْسَ الْمِهَادُ ﴿۱۹۷﴾
‘এটা সামান্য ভোগ (যা তারা লুটছে) অতঃপর তাদের ঠিকানা জাহান্নাম, যা নিকৃষ্টতম বিছানা।’
لٰکِنِ الَّذِیْنَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ لَهُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا نُزُلًا مِّنْ عِنْدِ اللهِ ؕ وَمَا عِنْدَ اللهِ خَیْرٌ لِّلْاَبْرَارِ ﴿۱۹۸﴾
‘কিন্তু যারা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করে চলে তাদের জন্য আছে এমন সব উদ্যান—যার তলদেশে নহর প্রবাহিত। আল্লাহর পক্ষ হতে আতিথেয়তা স্বরূপ তারা সর্বদা সেখানে থাকবে। আর আল্লাহর কাছে যা—কিছু, পুণ্যবানদের জন্য তা কতই না শ্রেয়।’
وَ اِنَّ مِنْ اَهْلِ الْکِتٰبِ لَمَنْ یُّؤْمِنُ بِاللهِ وَمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْكُمْ وَمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِمْ خٰشِعِیْنَ لِلهِ ۙ لَا یَشْتَرُوْنَ بِاٰیٰتِ اللهِ ثَمَنًا قَلِیْلًا ؕ اُولٰٓئِکَ لَهُمْ اَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؕ اِنَّ اللهَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ ﴿۱۹۹﴾
‘নিশ্চয়ই আহলে কিতাবের মধ্যেও এমন লোক আছে, যারা আল্লাহর সম্মুখে বিনয় প্রদর্শনপূর্বক আল্লাহর প্রতিও ঈমান রাখে এবং সেই কিতাবের প্রতিও, যা তোমাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে আর সেই কিতাবের প্রতিও, যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছিল। আর আল্লাহর আয়াতসমূহকে তারা তুচ্ছ মূল্যের বিনিময়ে বিক্রি করে না। এরাই তারা, যারা তাদের প্রতিপালকের কাছে নিজেদের প্রতিদানের উপযুক্ত হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا ۟ وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ﴿۲۰۰﴾
‘হে মুমিনগণ! সবর অবলম্বন কর, মোকাবিলার সময় অবিচলতা প্রদর্শন কর এবং সীমান্ত রক্ষার জন্য স্থিত হয়ে থাক। আর আল্লাহকে ভয় করে বল, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।
৬ .ঘুমভাঙা দুআ
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে জেগে গেলে বলবো,
لَآ إلٰهَ إلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيٍء قَدِيْرٌ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ، وَسُبْحَانَ اللهِ، وَلَا إلٰهَ إلَّا اللهُ، وَاللهُ أَكْبَرُ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ، اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ.
(লা ইলাহা ইলাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
আলহামদুলিল্লাহ, ওয়া সুবহানাল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার। ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুউয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। আল্লাহুম্মাগ ফিরলী।)
‘এক আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তার কোনো শরীক নেই। সমস্ত রাজত্ব তাঁরই। সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি। আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ মহান। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি নেই, ক্ষমতা নেই। আল্লাহুম্মা! আমাকে ক্ষমা করে দিন।
৭. অথবা অন্য কোনো দুআ পড়বো। আর এসময় ওযু করে নামায পড়লে, আমার নামায কবুল করা হবে(বুখারি, হাদিস নং : ১১৫৪)।
৮. ইস্তেনসার
ঘুম থেকে জাগলে, তিনবার ইস্তেনসার করবো। ইস্তেনসার মানে পানি ছিটানো। নাক থেকে পানি ঝাড়া (বুখারী, হাদিস নং : ৩১২১)।
-----
পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা (ওজু-ইস্তিঞ্জা)
১. হাম্মামের দুআ
নবীজি হাম্মামে প্রবেশ করার সময় বলতেন,
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ.
(আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবায়েস।)
ইয়া আল্লাহ, আমি পুরুষ ও নারী খবীস জি¦নের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি (বুখারী, হাদিস নং : ১৪২)।
২. হাম্মাম থেকে বের হওয়ার পরও নবীজি পড়তেন,
غُفْرَانَكَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذٰى وَعَافَانِيْ.
(গুফরানাক আলহামদুলিল্লাহিল্লাযী, আযহাবা আন্নিল আযা ওয়া আফানী।)
‘ইয়া আল্লাহ, আপনার কাছে ক্ষমা চাই। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার কষ্ট দূর করেছেন এবং স্বস্তি দান করেছেন।’
(উক্ত দোয়ায় দুটি অংশ আছে। প্রথম অংশ ‘গুফরানাক’, ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩০০, আয়েশা রা.-এর সুত্রে; দ্বিতীয় অংশ-আনাস রা.-এর সূত্রে, ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩০১)
৩. ওযুর পরে তাশাহহুদ।
একবার পড়তে পারি,
أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ.
(আশ্হাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহূ ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্দুহূ ওয়া রাসূলুহূ।)
‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল (মুসলিম, হাদিস নং : ২৩৪)।’
৪. ওযু শেষ করে এই দুআ পড়বো,
سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.
(সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লা আন্তা আস্তাগফিরুকা ওয়াআতূবু ইলাইক।)
হে আল্লাহ! আপনার সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি (হিসনুল মুসিলম।)।
৫. এই দুআটি পড়বো,
اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ وَاجْعَلْنِيْ مِنَ الْمُتطَهِّرِيْنَ.
(আল্লাহুম্মাজআলনী মিনাত তাউয়াবীনা ওয়াজআলনী মিনাল মুতাতাহহিরীন।)
‘ইয়া আল্লাহ, আমাকে আন্তরিক তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। আমাকে ভালভাবে পবিত্রতা অর্জনকারীদের দলে শামিল করে নিন (মুসলিম, হাদিস নং : ২৩৪)।
৬. পেয়ারা নবীজি ওযুর পর আরেকটি দুআও পড়তেন,
اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ وَوَسِّعْ لِيْ فِيْ دَارِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيْ رِزْقِيْ.
(আল্লাহুম্মাগফিরলী যাম্বী ওয়া ওয়াসসিলী ফী দারী, ওয়া বারিক লী ফী রিযকী।)
‘ইয়া আল্লাহ, আমার গুনাখাতা মাফ করে দিন। আমার বাড়িঘর প্রশস্ত করে দিন। আমার রিজিকে বরকত দান করুন (মুসনাদ : ৮/৪৫০৬)।’
#খুলুকিন_আযীম বই থেকে।
কৃতজ্ঞতা: Maktabatul Azhar মাকতাবাতুল আযহার

©️ শায়েখ আতিক উল্লাহ

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাড়ি-ঘর । Genuine Properties BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share