24/03/2024
হারাম শরিফে ১ম তারাবি পড়লাম | বাইতুল্লাহর মুসাফির | Episode : 15 (Page 67-74) | ইসলামিক বই
===========================================
এশার আযান হলো। এশার পর তারাবী। হারাম শরীফে জীবনের প্রথম তারাবী পড়ার সৌভাগ্য হলো। সে সৌভাগ্যের কথা কীভাবে কোন ভাষায় প্রকাশ করবো? মুখের শব্দ তো হৃদয়ের অনুভবকে কখনো সঙ্গ দেয় না, তাই অনুভবকে শুধু অনুভব করা যায়, প্রকাশ করা যায় না। শুধু বলতে পারি, সবকিছু এখানে অন্য, সবকিছু এখানে অনন্য। সবকিছু এখানে নূরে নূরানি। তিলাওয়াতে, সিজদায় এবং মুনাজাতে শুধু তৃপ্তি আর তৃপ্তি! শুধু প্রশান্তি আর প্রশান্তি!
তুমি যদি বন্ধু হও, আমি কামনা করবো; তুমি যদি শত্রু হও তবু আমি কামনা করবো, হারাম শরীফের একটি তারাবীর সৌভাগ্য যেন আল্লাহ তোমাকে দান করেন। কারণ এমন সৌভাগ্যে শত্রুর প্রতিও কৃপণতা সাজে না।
আমার জন্মভূমিতে, আমার দেশের মসজিদে অনেক তারাবী পড়েছি, কিন্তু তারাবীর স্বাদ যেন মাত্র আজ অনুভব করলাম। জানি না, এ তিলাওয়াত যমীনের, না আসমানের! মানুষের, না ফিরেশতার! এ তিলাওয়াত যদি চলতে থাকে তাহলে দিলগুলো তো গলে গলে শেষ হয়ে যাবে!
ইমামুল হারাম যখন সিজদায় গেলেন, লক্ষ লক্ষ বান্দার অবনত মস্তকের সঙ্গে আমার কপালও হারামের পবিত্র ভূমি স্পর্শ করলো। সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা। ভিতর থেকে আমার, কে যেন বলে উঠলো, হে আল্লাহ! সিজদায় যদি পাওয়া যায় তোমাকে তাহলে তো আমি আজ পেয়েছি তোমাকে! সুতরাং এ সিজদার মাঝেই কেটে যাক আমার জীবন। সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা।
ধীরে ধীরে আমি যেন নূরের সাগরে ডুবে গেলাম। হে আল্লাহ! চিরজীবন যেন ডুবে থাকি তোমার মারেফাতের নূর-সাগরে! সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা। আহ, জীবনে আরেকবার যদি নছীব হতো এমন একটি সিজদা!
বিতিরের কুনূতের সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আশ্চর্য এক মুনাজাত হলো। এ মুনাজাতও আমার জীবনে প্রথম। মুনাজাতে মানুষ কাঁদে, মুনাজাতে চোখের পানি ঝরে- এ দৃশ্য আমি দেখেছি, তুমিও দেখেছো। এ হলো মুনাজাতের কান্না, কিন্তু আজকের মুনাজাত ছিলো কান্নার মুনাজাত! এ মুনাজাত ছিলো আল্লাহর ঘরে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে। এ মুনাজাত যেন একবার দিলকে জখম করে, একবার শীতল প্রলেপ দেয়। একবার কান্নার জোয়ার আনে, একবার আনে আনন্দের উচ্ছ্বাস। ইমামের সঙ্গে সমগ্র হারামে যখন কান্নার রোল ওঠে তখন নিজেকে নিজের মাঝে ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ভিতরের আমি যেন তখন আমাকে এই বলে আশ্বাস দান করে- '
এ মুনাজাত সব কিছু ধুয়ে ফেলার এবং সবকিছু মুছে ফেলার মুনাজাত। এখন আসমান থেকে অবশ্যই নেমে আসবে কবুলিয়াত ও মাগফেরাত।'
আমি শুনছি, ইমামুল হারাম তাঁর কলবের ইযতিরাব ও হৃদয়ের আকুতি নিয়ে ফরিয়াদ করছেন, 'হে আল্লাহ! আমরা আজ বড় অসহায়, তুমি আমাদের সাহায্য করো। এ ঘোর অন্ধকারে মুসলিম উম্মাহকে তুমি হে আল্লাহ, রক্ষা করো। আফগানিস্তানে, কাশ্মীরে, ফিলিস্তীনে মুজাহিদীনদের তুমি মদদ করো।
হে আল্লাহ! তোমার এবং তোমার দ্বীনের দুশমনদের 'নিস্তনাবুদ' করো।
হে আল্লাহ! আমাদের শাসকদের তুমি সঠিক পথে পরিচালিত করো। আমাদের প্রতি তাদের নির্দয় করো না, সদয় করো।'
কোন সন্দেহ নেই, সবভাষার সবমুনাজাত আল্লাহ শোনেন এবং কবুল করেন, তবে ইমামুল হারামের আরবী মুনাজাতের যে জ্যোতির্ময়তা সেদিন আমার অন্তর অনুভব করেছে তার সত্যি কোন তুলনা নেই। মনে হয়েছে, আরবী ভাষাই যেন মুনাজাতের নিজস্ব ভাষা। ভাবের তরঙ্গে ইমামুল হারাম বারবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। মুনাজাতের প্রতিটি মিনতির সঙ্গে লক্ষ কণ্ঠের আহাজারি ও আমীন, আমীন ধ্বনি যেন আল্লাহর আরশেও কম্পন সৃষ্টি করছে।
See the full audiobook playlist:
বাইতুল্লাহর মুসাফির লেখক : মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ প্রকাশনী : দারুল কলম বিষয় : ইসলামী সাহিত্য, হজ্জ-উমরাহ ও কুরবা....