17/08/2021
কানাডার পার্লামেন্টের মেয়াদ চার বছর। দু বছরও হয় নি বর্তমান সংসদের মেয়াদ। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী জাষ্টিন ট্রুডো কানাডার গভর্নর জেনারেলকে সংসদ ভেঙে দেবার অনুরোধ করেছেন।
ফলে মাত্র এক বছর ১১ মাস পরেই নির্বাচন কমিশন আগামী সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে সংসদের নুতন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে।
বিরোধী দলের আন্দোলন ছিল না, ভাঙচুর ছিল না, কোন রকম চাপও ছিল না, দাবীও ছিল না। ছিল না কোন বুদ্ধিজীবি নামক ভিন্ন গোষ্ঠির আলোচনা সমালোচনা। এদেশে কারা বুদ্ধিজীবি তা বিগত ২৫ বছরে টের পেলাম না। কথায় কথায় তাদের বিবৃতিও চোখে পড়ে না। আমলা বলে কারো দেখা পেলাম না।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, চার বছরের সংসদ, চার বছরের প্রধানমন্ত্রীত্ব ত্যাগ করে দু বছরের কম সময়ে কেন আবার নির্বাচন? এদেশে নির্বাচন মানে ভোট চুরি নয়, ভোট ডাকাতি নয়, প্রশাসনিক কারচুপি নয়, ষড়যন্ত্রমুলক কোন ইচ্ছা আকাংখা বা কারো ব্যক্তিগত খায়েশ পূরণের বিষয় নয়। পরিস্কার জনগনের মুখোমুখি হওয়া।
এখনো মহামারী পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে নি। মানুষের চলাচল, ব্যবসা বাণিজ্য পুরো মাত্রায় শুরু হয় নি, এমনকি হাজার হাজার অফিস ভবন এখনো পরিত্যক্ত কারণ প্রায় দেড় বছর যাবত তারা বাসা থেকে রিমোটলি কাজ করছে। আরো মজার ব্যাপার হলো অন্যতম বিরোধী দল এনডিপি অগ্রিম নির্বাচনের সমালোচনা করেছে। তাহলে কেন এই নির্বাচন?
মোটা দাগে উত্তর একটাই। তা হলো জনগনের মুখোমুখি হওয়া। দেশ চালাতে তাদের ম্যান্ডেট নেয়া। চার বা পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়া মানে এই না যে ছয়মাস পরে জনগন মত পরিবর্তন করতে পারবে না। ভোটের মালিক জনগন। মানে দেশের মালিক জনগন। জনগন কারো মিষ্টি কথায় তুষ্ট হয়ে যদি কোন দলকে ভোট দিয়ে ছয়মাস বা এক বছর পরে দেখে যে সেই দল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করছে না তাহলে তারা মত পরিবর্তন করতে পারে। তারা বলতে পারে যে এই সরকারকে আমরা আর চাই না অথবা অমুক দলকে ভোট দিয়ে ভুল করেছি। প্রশ্ন হলো জনগন যদি এসব সত্যিই বলে, তা যাচাই করার উপায় কী?
সরকারী লিবারেল পার্টি যদি বলে না, না, জনগন এখনো আমাদেরকেই চায়, আর বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি যদি বলে, জনগন তোমাদের আর এক মুহুর্ত ক্ষমতায় দেখতে চায় না, এসব যাচাই করার উপায় কী?
উপায় হলো ক্রমাগত নানা ধরনের টুলস ব্যবহার করে জনমত যাচাই করা। তারপর সেই জনমতকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা। সম্মান করা। অর্থাৎ জনমতকে সম্মান করে নুতন নির্বাচনের ব্যবস্হা করা ও বিনা বাক্যে জনগনের রায়কে মেনে নেয়া।
বিগত ১৮ মাস যাবত দেশে মহামারী চলছে। বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে করোনা মোকাবিলায়। এমনিতেও কানাডা ঘাটতি বাজেটে ছিল, তার উপর এত টাকা খরচ করার পরে এখন যখন পরিস্হিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে তখন দেশের ভবিষ্যত অর্থনৈতিক পরিস্হিতি আসলে কেমন হবে, সরকারের আর্থিক ব্যবস্হাপনা বিগত দিনগুলিতে কেমন ছিল, দুর্নীতি হয়েছে কিনা, অপচয় হয়েছে কিনা, ভ্যাকসিন আমদানী ও বন্টন প্রক্রিয়াই বা কেমন ছিল, বেকার সমস্যা আগামী দিনে কেমন রুপ নিতে পারে ইত্যাদি প্রশ্নে নুতন করে জনগনের মুখোমুখি হতে তথা দেশের মালিক জনগনের রায় নিতেই এ নির্বাচন। কারণ নির্বাচন ছাড়া জনগনের রায় সংহত করার অন্য কোন উপায় নেই। প্রকৃত গণতান্ত্রিক দেশ কানাডার মত দেশগুলি এ বিষয়ে কখনো ইতস্তত করে না। সে কারণেই মাত্র ২২ মাস পরই নুতন করে নির্বাচন হতে চলেছে কানাডায়।
জনমত জরীপে সরকারী দল কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। হয়তো মোক্ষম সুযোগ বুঝেই লিবারেল পার্টি আগামী সেপ্টেম্বরকে বেছে নিয়েছে। এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল। সব দলেরই নীতি ও কৌশল রয়েছে। এতে দোষের কিছু নেই। বিরোধী এনডিপি অগ্রিম নির্বাচনের সমালোচনা করলেও প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল আগেই, আজ ভোটারদেরকে সরকারের খারাপ কাজগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন তাদের নেতা এরিন অটুল এবং সে অনুযায়ী ভোট দিতে আহবান করলেন।
গনতন্ত্র মানে আইনের সুশাসন ও জবাবদিহিতা, জনগনের মতামতের ভিত্তিতে জনগনের কল্যাণে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করা। সেটা নিশ্চিত করাই আলটিমেটলি সকল রাজনৈতিক দলের প্রধান কর্তব্য। সে লক্ষ্যেই গণতান্ত্রিক দেশ কানাডা এগিয়ে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও যাবে তা আশা করা বাতুলতা হবে না।
(Collected)