24/05/2021
রমযান মাসের পরবর্তী রোযার আমলঃ
(১) শাওয়ালের ছয় রোযার আমলঃ
পুরো বছর রমযান পালনের সাওয়াব হাসিলের জন্য শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল সাওম পালন করা। আবূ আইয়ুব আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ اَتْبَعَهُ سِتًّا مِّنْ شَوَّالَ، كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ»
“যে ব্যক্তি রমযান মাসের রোযা রাখল, তারপর শাওয়াল মাসে ছয়টি সাওম তার অনুগামী করল, সে যেন পুরো বছর সাওম রাখল” [মুসলিম: ২৮১৫]
(২) সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারের রোযা: আবূ হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দাহর ‘আমলসমূহ আল্লাহর সামনে পেশ করা হয়,
তাই আমি চাই, সাওম অবস্থায় আমার ‘আমল পেশ করা হোক।” [তিরমিযী: ৭৪৭]
(৩) আইয়ামে বীজের সিয়াম: আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, “তোমার জন্য প্রতি (আরবী) মাসে তিনটি (১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে) সাওম রাখাই যথেষ্ট হবে। কেননা, প্রত্যেক ‘আমলে দশটি করে নেকী দেয়া হবে। এই তিন দিনের সাওম পুরো এক বছরের সাওমের সমতুল্য।”
[বুখারী: ১৮৭৪, মুসলিম: ১১৫৯]
(৪) বছরের অন্যান্য নফল সিয়াম: হাদীসে বছরের বিভিন্ন দিবসের সিয়ামের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। সেগুলো আদায়ের চেষ্টা করা। যেমন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “রমযানের পর আল্লাহর মাস মহররমের সাওম হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।” [মুসলিম: ২৮১২] হুনায়দা ইবন খালিদ তার স্ত্রী থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো এক স্ত্রী থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহাজ্জ মাসের প্রথম নয় দিন, আশুরার দিন এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন রোযা রাখতেন। [সুনান আবূ দাঊদ: ২৪৩৭]
আবূ কাতাদাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাত দিবসে সাওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলেন, তখন তিনি বললেন, এর দ্বারা বিগত এক বছর ও আগামী এক বছরের গুনাহ মিটে যায়। [মুসলিম: ২৮০৪]
মাহে রমযানে সিয়াম সাধনা, কিয়ামুললাইল, কুরআন তিলাওয়াত-সহ বিভিন্ন নেক আমলের যে প্রশিক্ষণ পাওয়া গেল, তা আগামী এগারো মাস অব্যাহত রাখার চেষ্টা করে যেতে হবে। ভেবে দেখতে হবে, যেই মহান আল্লাহর নির্দেশে এই মাসে ‘হালাল বস্তুকেও হারাম গণ্য করে’ সিয়াম অবস্থায় তা পানাহার থেকে বিরত রয়েছেন, সেই স্রষ্টার নির্দেশেই ‘সবসময়ের জন্য যা হারাম’ তার ধারে-কাছেও একজন মুমিন যেতে পারে কি?! আসুন, আমরা হারামমুক্ত হালাল জীবন গড়ে তুলি, মহান রবের সন্তুষ্টি ও করুণার ওপর ভর করে আখিরাতে জাহান্নাম থেকে নাজাত এবং জান্নাতুল ফিরদাউসের বাসিন্দা হওয়ার টাগের্ট নিয়ে দুনিয়ার বাকি জীবন অতিবাহিত করার জন্য দৃঢ় প্রত্যয় গ্রহণ করি। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে সে তাওফীক দান করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন !